সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:২১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা. হযরতজীর চারপাশের মানুষগুলো (পর্ব-১) সকল তবলিগি মামলা আট সপ্তাহে শেষের নির্দেশ ভারত সুপ্রিম কোর্টের!  যে ৭ শ্রেণীর মানুষ আরশের ছায়া পাবে মূলধারায় ফিরে আসা এক আলে‌মের জবানবন্দি -০১ এক আবেগী মাওলানা ও হযরতজী ইলিয়াস রহঃ ঘটনা
সামনের পথ অজানা, ইচ্ছে করলেও নিজামুদ্দিন যেতে পারছি না : মাওলানা ফারুক সাহেব

সামনের পথ অজানা, ইচ্ছে করলেও নিজামুদ্দিন যেতে পারছি না : মাওলানা ফারুক সাহেব

এক সময়ের নিজামুদ্দিন মার্কাজের বানানো কাকরাইলের আহলে শুরা ছিলেন, তাবলীগের মুরুব্বীদের অন্যতম মাওলানা ফারুক সাহেব। মূলধারার তাবলীগের কাজ থেকে এখন বিচ্ছিন্ন। নিজামুদ্দিন কেন্দ্রীয় আলমী মারকাজ ও বিশ্ব আমীরের বিদ্রোহীদের সাথে অবস্থান। প্রথম দিকে মিজামুদ্দীনের দিকেই ছিলেন, পরে কোন এক অজানায় বিদ্রোহীদের সাথে হাত মেলান। বর্তমান হালতে মেহনতের ভিতর বাহিরের কিছু প্রশ্ন নিয়ে গতকাল মাওলানা ফারুক সাহেবের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম এর নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল্লাহ শাকিল

পাঠকের জন্য সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হল।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আসসালামু আলাইকুম।
মাওলানা ফারুক সাসহেবঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ হুজুর ভালো আছেন?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ ভালো রেখেছেন।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ শাকিল বলছিলাম হুজুর। হযরত মাওলানা আরশাদ মাদানী সাহেব এসেছিলেন দেওবন্দ থেকে, শুনেছেন?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আরশাদ মাদানী সাহেব এসে ছিলেন?

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ এই তো গত পরশুদিন চলে গেলেন। এমনি দুইদিন ছিলেন বাংলাদেশে। মোহাম্মদপুরেএসেছিলেন, ইকবাল রোডে বাইতুস সালাম মসজিদে উনি কিছু সময় কথাবার্তা বলেছেন।
হুজুর আমরা একটা জিনিস জানতে চাচ্ছিলাম, উনাকে দিয়ে বাংলাদেশে একটা ওজাহাতি জোর বা একটা স্টেটমেন্ট নিয়ে নিলে, আমাদের দেশের তাবলীগের যে মওজুদা হালত চলছে, এই ক্রিটিক্যাল অবস্থাটা দূর হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না?

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ এইসব গুলোতো তদবির করা হয় নাই, জানি না।
আব্দুল্লাহ শাকিলঃ যেহেতু বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম তো সবাই জানেন। ওলামায়ে কেরামের সাথে তো আমাদের কাকরাইল হযরতরা সবাই কম বেশি যোগাযোগ রাখেন।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আমার জানা নাই, আমি এখন শুনলাম।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আপনার কি মনে হয়, ওজাহাতি জোর করলে ভালো হতো কি না?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ এটাতো আলোচনার বিষয় কতটুকু ভালো হতো, খারাপ হতো।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ উনরায় তো দেওবন্দ থেকে তেহেরির গুলা দিয়েছেন। তেহেরিরের উপরেই তো বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম রা সকল বক্তব্য পেশ করছে।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ না এগুলো দেওবন্দ গিয়ে আলোচনার বিষয়। এগুলো সব সেখানে গিয়ে আলোচনার বিষয়।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ কিন্তু সেখানে তো গিয়েছিল। আমাদের পাঁচজনের প্রতিনিধি দল গেলেন, আমাদের জুবায়ের সাহেব সহ, মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেব, উবায়দুল্লাহ ফারুক সাহেব ওয়াসিফ ভাই, জিয়া বিন কাসেম সাহেব।
উনারা যে গেলেন, ওখানে গিয়ে আলোচনা এক রকম হলো, বাংলাদেশে এসে পরিবেশ আরেক রকম ঘোলাটে হয়ে গেল। প্রতিবেদনে যেটা লেখা হয়েছে, সেরকম ও তো আমাল হয় নাই।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ এবার তো আবার যাওয়ার কথা।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ জি যাওয়ার কথা। শুনছি জুবায়ের সাহেব নাকি যেতে চাচ্ছেন না, এরকম কিছু শুনেছেন?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আমার জান নাই।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ কিন্তু কিছুদিন আগে বলা হয়েছিল খয়রাবাদী সাহেব ওজাহাতি জোরে বাংলাদেশ আসছেন। পোস্টার করা হলো, মিরপুরে আসবেন। আরশাদ মাদানী সাহেব কে দিয়ে ওরকম কিছু একটা করাতো।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ শুনি নাই, এ ধরনের কোন আলোচনার বিষয় আমার সামনে আসে নাই।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ এগুলো আপনাদের শূরা হযরতদের মধ্যে আলোচনা হয় না?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ এখন তো, কয়েকজন একখানে আছে, কি আলোচনা কোথায় হয় জানিনা।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ গত সপ্তাহে আমাদের মাওলানা জুবায়ের সাহেব হুজুর কাকরাইলে যে জুমা পরালেন। এতায়েতের সাথীদের বারি, উনি এসে জোর করে জুমা পড়িয়ে গেলেন, এ সম্পর্কে আপনার কি মন্তব্য, এটা কি ঠিক হয়েছে? মুসল্লিরা তো সবাই উনার ওপরে নারাজ ছিলেন।

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আমি শুক্রবারে ছিলাম না। উনি তো সব সময় জুমা পড়ায়ে আসতেছেন। এটাতো কার বারি তার প্রশ্ন না, এটা হল উনি জুমা পড়ান।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ জুমা উনি পরান, কিন্তু প্রশাসন তো ওয়াসিফ ভাইকে যেরকম ফায়সালার বারি দেওয়া নিষেধ করেছেন, উনা কেও সে একই রকম নিষেধ করেছেন। কিন্তু উনি তো হেকমত খাটিয়ে জুমা পড়াতে এসে ফায়সালা করে চলে যান।

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ প্রশাসন উনাকে জুমা পড়ানোর অনুমতি দিয়েছেন, তাই উনি জুমা পড়ান।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ উনি জুমা পড়ান ঠিক আছে, কিন্তু পরে প্রশাসন তো ফাইসালা দিয়েছেন, এতায়েতের বারির সময় এতায়েতের সাথীরা নজম গুলো চালাবেন এবং গায়রে এতায়েতের সময়ে গায়রে এতায়েতের সাথীরা নজম গুলো চালাবেন। তারা নিজেরা নিজেরা চালাবে।

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ জুমা তো নজমের মধ্যে শামিল নাই।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ কেন? জুবায়ের সাহেব কি কাকরাইলের নির্ধারিত ইমাম, খতিব। এরকম তো কোনো ফায়সালা নাই কাকরাইলের। যেমন ধরেন মসজিদে একজন বেতনভুক্ত বা মোকাররার করে দেওয়া হয়, ফায়সালা থাকে এলাকার মসজিদে, উনি তো এইরকম নির্ধারিত না।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ উনি তো জুমা পড়ায়ে আসছেন সব সময়।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ পড়ায়ে আসছেন ঠিক আছে, উনাকেই পড়াতে হবে, উনিই খতিব, কাকরাইলে এরকম কিছু তো লেখা নাই।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ এইরকম লেখা নাই, কিন্তু পড়ায়ে আসতেছেন এই আর কি। উনাকেই কাকরাইলের ইমাম বলা হয়।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ কাকরোলের ইমামতি করেন সেটা আমরাও জানি। ইমামের ব্যাপারে যদি মুক্তাদিরা নারাজ থাকে, জোর করে ইমাম সাহেব যদি ইমাম হতে চাই, তার ব্যাপারে যদি ইখতেলাফ উঠে, সে ক্ষেত্রে-
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ উনি শরীয়তের খেলাফ চলবেন, কেন নারাজ থাকবে? নারাজ হবার কি আছে?

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ বিষয় হলো, এখানে বারি চলছিল এতায়েতের সাথীদের। এতায়েতের সাথীরা উনার পিছনে নামাজ পড়তে চান না। উনি জোর করে এসে নামাজ পড়তে গেলেন। অনেক মুসল্লির নামাজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। উনারা জোহরের নামাজ পড়ছেন। কেউ কেউ বাহিরে দৌড়ায় গিয়ে নামাজ পান নাই, জোহরের নামাজ পড়তে হয়েছে। উনি কি এটা ভাল কাজ করলেন?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ এটা আলোচনার বিষয় হলে তখন হবে। এখনো আমি আলোচনা শুনি নাই। যেভাবে পড়ায়ে আসছেন পড়াচ্ছেন।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আমি আপনার কাছে মন্তব্য জানতে চাচ্ছি, এতায়েতের সাথীদের বাড়ির সময় উনি পড়ালেন, সাথীরা তো উনার ওপরে নারাজ, উনার পিছনে নামাজ পড়তে যায় না। এটার ব্যাপারে তো আমাদের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখা হচ্ছে।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আমি অসলে এখন শুনছি। আমার জানা নাই।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ এই জন্য আমি জিজ্ঞেস করছি, এভাবে যদি জবরদস্তি করে কোন আমল করা হয়, তাবলীগের কাজে তো কোন জবরদস্তি নাই। কাকরাইলের মাদ্রাসায় এখন ছাত্র ভর্তি আছে প্রায় দেড়শ এর কাছাকাছি। কিন্তু কাকরাইলে তিন, চারশ ছাত্র আসলো কোথা থেকে।

তিন, চারশ ছাত্র এসে উনাকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখে জুমারা নামাজ পড়ায় নিয়ে তাড়পড় চলে গেল। এগুলো তাবলীগের উসুলের মধ্যে পড়ে কিনা আমি তো বুঝতেছিনা। এগুলো কি তাবলীগ বলে তো মনে হয়?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আমি তো উনার জুমা সম্পর্কে জানিনা। এখন শুনলাম আপনার থেকে কেউ উনার জুমাতে আপত্তি করে, আগে শুনি নায়। আর গত জুমা তো আমি ছিলাম না।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ ওই দিন কিন্তু আমাদের কাছে খবর এসেছে, উনি যখন জুমা পড়াতে ঢুকেন আশেপাশের মানুষজন বলছিল, আপনার পিছনে আমরা নামাজ পড়বো না, আপনার পিছনে আমাদের নামাজ হবে ও না। আপনার উপরে সন্তুষ্ট না, নারাজ। বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলেছেন। এর পরেও উনি ঢুকে গিয়েছেন।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ জানিনা, এই সমস্ত তো আলোচনার বিষয়। তখন একটা সিদ্ধান্ত হবে পড়াবে কি, পড়াবে না। আমি এ সমস্ত আলোচনা শুনি নাই। এখন আমি শুনলাম।

আমি জানতাম উনার উপরে সবাই সন্তুষ্ট। আলেম হিসেবে সবার চাইতে উনি উপযুক্ত।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ হুজুর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে আপনার কি ধারণা? বর্তমানে যে হালত চলছে এর সমাধান কোথায় গিয়ে ঠেকবে?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আল্লাহ তায়ালা সমাধান করলে হবে।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আল্লাহ তায়ালা তো অবশ্যই সমাধান করবেন। কিন্তু আমাদের অবস্থাটা কি?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ কোন রাস্তা, আমার সামনে আমি কিছুই দেখিনা।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আমাদের অবস্থা কি বুখারা, সমরকন্দের দিকে যাচ্ছে কি না?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আওয়াম থেকে ওলামায়ে কেরামের দূরত্ব বাড়ছে কিনা হুজুর?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ বাড়লেও, না বাড়াই তো উচিত।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ না বাড়াই তো উচিত। কিন্তু এখন ওজাহাতি জোর করতে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে বিতর্কিত অবস্থায় পড়ল। মানুষজন তো এখন ওজাহাতি জোরের নাম শুনলে বিরক্ত হয়ে যায়।
মাওলানা ওমর ফারুকঃ শুনলাম সরকার তো এখন ওজাহাতি জোর করতে নিষেধ করেছে।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ কারণ সেখানে যে গীবত শেকায়েত এর মজমা হয় সরকারি ভাবে সেটা নিষেধ করা হয়েছে।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ ঠিক আছে।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ কিন্তু এখন আমাদের আওয়াম দের সামনে নতুন করে একটা বিষয় শুরু করেছে। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে যারা ওয়াজ করেন, উনারা সম্ভবত টাকা পয়সা নিয়ে ওয়াজ করেন। এখন ইনাদেরকে কাজে লাগানো হচ্ছে, সাদ সাহেব সম্পর্কে বক্তব্য বলার জন্য।

সাদ সাহেব দাঃ বাঃ সম্পর্কে আপনার কি মন্তব্য? উনি কি আসলেই, এই সব ভুল বক্তব্য দিয়েছেন? আমি তো ব্যক্তিগতভাবে অনেক জায়গায় তাহকিক করে দেখেছি, উনার ব্যাপারে যেটা উঠানো হয়েছে এ ধরনের কোন বক্তব্য, বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম যেগুলো উঠাচ্ছেন এগুলোর সাথে যেগুলো সবুত দেন অডিও রেকর্ড। এগুলো সব কাটাকুটা।

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ কিভাবে বলে ওলামায়ে কেরাম, এগুলো ভালোভাবে তাহকিক নাই আমার কাছে। এগুলো পিছনে বলতে চাই না। এগুলো বলিও না।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ তাহকিক না থাকলে আপনি কিভাবে সরে গেলেন একদিকে? আপনার তো দুই দিক থেকেই সরে থাকার দরকার ছিল।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ ওলামাদের সাথে আছি, ওলামাদের দিকে আছি, এটা আরকি। ওলামারা বলছেন এটা শুনছি।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ ওলামারা বলছেন ঠিক আছে, কিন্তু ওলামা হলেই যে একশ ভাগ আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল হয়ে গিয়েছেন এটা তো বলতে পারব না আমরা। বা যারা ওলামা না উনারা জাহান্নামে চলে গেছে এটাও তো বলতে পারব না। পরব কি হুজুর?

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ না, তাতো না।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আপনি যে কোন একটা পক্ষ নিয়ে নিলেন, একটা অস্পষ্ট জিনিসের মধ্যে থেকে। এটা কি করে সম্ভব?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ ওলমায়ে কেরাম বলেন, ওলামায়ে কেরাম বিনা তাহকিকে বলেন এটা তো হতে পারে না। এখন যদি স্পষ্ট হয় যে ওলামায়েকেরাম ঠিক না, তখন ওই টা ঠিক না সাব্যস্ত হবে, এই আর কি।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ দেওবন্দ যে তেহরীর গুলো দিয়েছে, এই তেহরীরের মধ্যে তো সাদ সাহেব দাঃ বাঃ কে উনারা বলেন নি যে, খালি এতোটুকু আশঙ্কা করেছে যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে বের হয়ে নতুন একটা দল করার চেষ্টা করছে।

দেওবন্দ তো সাদ সাহেবকে গোমরাহ বলেন নাই বা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে বের হয়ে গিয়েছে। আমাদের দেশের ওলামায়ে কেরাম যে বাড়তি কথাটা বলছে এটার সাথে আপনি কি মিলান।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ যেগুলো বাড়তি কথা,সেগুলো বাড়তি কথায় হবে। সবাই তো সমান কথা বলে না। কেউ আছে বাড়তি কথা বলে, যেটা বাড়তি সেটা বিনা তাহকিক আমি জানি না।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ এই বাড়তি কথার দ্বারা কি তারা গুনাহগার হবে না, নাকি আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর রাজি হয়ে তাদের বাড়তি কথার উপরে ফায়সালা করে দিবে? হকের ফায়সালা করবে।

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ বাড়তি কথা তো, বাড়তি হবে।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ হুজুর উনারা বলেন যে জমহুর ওলামায়ে কেরাম যেদিকে আছে। জমহুর ওলামায়ে কেরাম সব একদিকে কথা বললে কি আল্লাহতালা সেদিকে ফায়সালা করে দিবেন?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ উনি যে সমস্ত কথা বলছেন, উনি নিজেও স্বীকার করেছেন। রুজু করেছেন। আমরা এতটুকুর মধ্যে আছি এর চেয়ে বেশি দরকার নাই। চাই যে আল্লাহ মিলায়ে দেন, সমাধান হয়ে যায়, এটাই কামনা।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ একজন মানুষ যদি সাতবার রুজু করে চার বার লিখিত, তিনবার এলানি, মাফ চাই বান্দার কাছে, সে মাফ হয় না। অথচ আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনি কি আশা রাখেন না যে, একবার সাচ্চা দিলে তওবা করলে আল্লাহ মাফ করবেন।

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ নিশ্চয়ই।

আবদুল্লাহ শাকিলঃ আপনি বান্দা হিসেবে, বান্দাকে সাতবার মাফ চাইছে, কেন মাফ করছেন না। আমার যদি এমন প্রশ্ন হয়।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আল্লাহ তায়ালা মাফ করবে, বান্দার ও মাফের আশা খুলে যাবে। আমি তো এমন দোয়া করি। সব সময়ের জন্য দোয়া করি।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ কিন্তু সাতবার যে রুজু করল, আমাদের হযরতদের মধ্যেও কি কোনো এহসাস হচ্ছে না যে সাত বার রুজু করেছেন এরপরেও কেন উনার সম্পর্কে এরকম কথা বলা হচ্ছে।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ এহসাস হবে ইনশাআল্লাহ, সবই হবে, দোয়া করেন।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আরো কিছুদিন আগে মাওলানা আব্দুল বার সাহেব ময়মনসিংহ গিয়ে বলেন সাদ সাহেব দাঃ বাঃ আমিরের মাতাতে থেকে তিন দিন ও সময় লাগাননি। এ কথা কি সত্য হতে পারে কখনো?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ না, আমার তাহকিক নাই, আমি বলি ও না। এগুলো ভালো লাগে না। কিন্তু আমি ওলামাদের কাছে আছি, ওলামারা বলেন এই।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ হুজুর আপনার অবস্থানটা আমাদের কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার। আপনি যদি আপনার অবস্থান পরিষ্কার করে দিতেন তাও আমাদের জন্য ভাল হত। আমি আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে খুব মহব্বত করি।

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আমি গুনাহগার, পাপী।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আপনি গুনাহগার হলেও আমাদের আকাবির। আপনাকে মহব্বত ও করি। আমরা চাই না একটা ভুল জায়গার ভিতর আপনি থাকেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে চায়না, উনারা অনেক মিথ্যা কথা বলছে।

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ যাওয়ার তো রাস্তা নাই। যতটুকু যেখানে চলা যায় চলছি আর দোয়া করছি।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ সেটা ঠিক আছে কিন্তু হুজুর আমি উনাদের পক্ষ থেকে অনেক ভুল তথ্য পাচ্ছি। আপনি যদি চুপচাপ তাদের সঙ্গে থাকেন, আপনি অন্যায়ের সমর্থনকারী হিসেবে পড়ে যাবেন না, আসাবিয়াত এর মধ্যে পড়ে যাবেন না।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ কিছুটা তো মাওলানা সাদ সাহেব স্বীকার করেছেন, আর আমরাও চাই যে সংশোধন হয়ে যাক, সমাধান হয়ে যাক, এটাই চাই। অতিরিক্ত যেগুলো অতিরিক্ত, পছন্দ করি না।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ হুজুর সাদ সাহেবের মত এরকম একজন উদার লোক পাবেন, যে বিলা তাওয়াজু রুজু করলো, কোনরকম দ্বিধা দ্বন্দ্ব করলেন না।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ ব্যক্তিগতভাবে আমি উনাকে খুবই মহব্বত করি, খুব মহব্বত করি।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ উনি দোষ না করেও দোষ স্বীকার করলেন। আর আমাদের দেশে কি হচ্ছে বলেন?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ সব আল্লাহ সমাধান করে দিবেন, এগুলো বুঝে আসে না।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ অন্যায় কারী কে সমর্থন কারী আসাবিয়াত এর মধ্যে পড়বে কিনা?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ অন্যায় কারী ও নয়, সব তো আর অন্যায় নয়।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ গীবত, সেকায়েত করলে কি অন্যায় হবে না, সাদ সাহেব সম্পর্কে যে গীবত করা হচ্ছে, এগুলো তারা কি অন্যায় এর ভিতরে পড়বে না? কারণ হাকিকতে তো দেখা যাচ্ছে যে যেমন হেদায়েত আল্লাহর হাতে না, এটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে পুরাপুরি, এখনো সে কথা চালাচ্ছে। মুসা আঃ এর ঘটনা কিতাবে আছে। আপনি যদি তাদের সমর্থন করেন, আপনার অবস্হা কি হবে।

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ মিথ্যা যদি প্রমাণিত হয় মিথ্যায় হবে। যতটুকু সমর্থন করা যায় অতটুকু আর কি।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ তাও আপনি আপনার অবস্থান ওদিকে রাখবেন নাকি হুজুর?
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ ওদিকে, কোন দিকেই নয় আসলে। আল্লাহ তায়ালা যেন হকের পক্ষে রাখেন।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ কিন্তু এরা আপনাকে ব্যবহার করছে। আপনি ফায়সালার সময় উনাদের ফায়সালা দিচ্ছেন। ফায়সালার বাড়িতে এক সপ্তাহ উনাদের থাকছে। আমাদের এতায়েতের সাথীদের জন্য যে কি পরিমান জুলুম হচ্ছে।

আপনি কিন্তু আমাদের উপর জুলুম করে ফেলছেন হুজুর। আর আপনি জেনে বুঝে উনাদের দিকে, আসাবিয়াতের দিকে যাচ্ছেন। আমি এটা স্পষ্ট বলব হুজুর আমাকে মাফ করে দিয়েন। আপনার আপনার আব্বার সাথেও আমার সুম্পর্ক ছিল।

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ আপনার বলা একটা জিনিস ও অমূলক নয়।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ হুজুর আমি আপনাকে যা বলছি তা মহব্বতের জন্যই বলছি। খোদার কসম আমি আপনাকে শুরু থেকেই মহব্বত করি, এখনো পর্যন্ত মহব্বত করি, আপনি যে দিকেই থাকেন।

মাওলানা ফারুক সাহেবঃ যাব কি করে, বলেন কোন দিকে থাকবো। সামনের পথতো অজা।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আমি চচ্ছি আপনি হকের দিকে চলে আসেন হুজুর।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ যাব কই?

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আপনি আমাদের এতায়েতের দিকে আসবেন, নিজামুদ্দিন সফর করবেন। আপনি নিজামুদ্দিন কবে যাবেন বলেন আমরা তার জন্য ব্যবস্থা করি। আপনার পাসপোর্ট টা দেন ভিসা করায়। গেলে হযরতজী ও খুশি হবেন।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ দোয়া করেন। আমি যে এদিক সেদিক করি তাও ঠিক। কারন মানুষ যখন যে দিকে থাকে হয়, হয়ে যায়। আমার ভুল নাই এ কথাটা ঠিক না।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ আমি এতটুকু জানি আপনার দিল পুরাপুরি নিজামুদ্দিনের দিকেই আছে।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ দোয়া করেন, পুরোপুরিই আছে। আল্লাহ সব ভালো করে।

আব্দুল্লাহ শাকিলঃ হুজুর নিজামুদ্দিন যাওয়ার ব্যাপারে আপনি ফায়সালা করেন। আপনাকে নিয়ে যাই, আপনার খেদমত করি।
মাওলানা ফারুক সাহেবঃ এমন কথা এখন বলা যাবেনা, একটু সবর, দোয়া। এখন তো নিজামুদ্দিনে যাবার সময় হয়েছে। তাও ইচ্ছে করলেই যেতে পারছি না। আপনারা চুপ থাকেন। কি করবো ভুল তো আছে তা আমি স্বীকার করি। পারিনা, পারিনা। (আক্ষেপ, ব্যাথা ও কষ্টের সুরে)

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com