শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

একফোঁটা চোখের পানি

একফোঁটা চোখের পানি 

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

আল্লাহ তায়ালার কাছে বান্দার চোখের পানির দাম দুনিয়ার যাবতীয় নিয়ামতের চেয়ে বড় দামী। আর আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে কান্না না আসার চেয়ে বদবখতি  জগতে আর কিছু নেই। এই রমজানের শেষ মুহুর্তে আসুন অন্তত আল্লাহর ভয়ে দুফোঁটা চোখের পানি ফেলে নিজেকে কবুল করিয়ে নেই।

আল্লাহ পাক কুরআন পাকে বলেন,

أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ

“যারা মুমিন , তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে , তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি ? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে , অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।”[সূরা আল হাদিদ-১৬]

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআল বলেন,

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ

“যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ারদেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে।” [সূরা-আনফাল-২]

ইসলাম তাই আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে কম হাসতে এবং অধিক কাঁদতে।’ (বোখারি ও তিরমিজি)।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন

, لاَ يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ بَكَى مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ حَتَّى يَعُودَ اللَّبَنُ فِي الضَّرْعِ، وَلَا يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ‘

আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারীর জাহান্নামে যাওয়া এরূপ অসম্ভব যেরূপ দোহনকৃত দুধ পুনরায় পালানে ফিরে যাওয়া অসম্ভব। আর আল্লাহর পথের ধুলা ও জাহান্নামের ধোঁয়া কখনও একত্রিত হবে না’।[তিরমিযী হা/১৬৩৩; মিশকাত হা/৩৮২৮, সনদ ছহীহ। ]

আরেকটি হাদীছে এসেছে, ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি,

عَيْنَانِ لاَ تَمَسُّهُمَا النَّارُ: عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ، وَعَيْنٌ بَاتَتْ تَحْرُسُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ،

‘জাহান্নামের আগুন দু’টি চোখকে স্পর্শ করবে না। এক- আল্লাহর ভয়ে যে চোখ ক্রন্দন করে এবং দুই- আল্লাহর রাস্তায় যে চোখ পাহারা দিয়ে বিনিদ্র রাত অতিবাহিত করে’।[ তিরমিযী হা/১৬৩৯; মিশকাত হা/৩৮২৯, সনদ ছহীহ।]

বুখারীর আরেকটি প্রসিদ্ধ হাদীসে এসেছে, “যে আল্লাহকে স্মরণ করেছে এবং তার ভয়ে কান্না করেছে তাকে আল্লাহর আরশের নিছে স্থান করে দিবেন”। হাদীস ৫৯৯৮।

অন্যত্র আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি যা দেখি তোমরা তা দেখো না। আর আমি যা শুনতে পাই তোমরা তা শুনতে পাও না। আসমান তো চড়চড় শব্দ করছে। আর সে এই শব্দ করার যোগ্য। তাতে এমন চার আঙুল পরিমাণ জায়গাও নেই, যেখানে কোনো ফেরেশতা আল্লাহর জন্য সেজদারত নেই। আল্লাহর শপথ! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে তোমরা খুব কম হাসতে, বেশি কাঁদতে এবং বিছানায় স্ত্রীদের উপভোগ করতে না। বাড়িঘর ছেড়ে পথে-প্রান্তরে বেরিয়ে পড়তে এবং চিৎকার করে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে যে, আল্লাহর শপথ! হায়, আমি যদি একটি গাছ হতাম এবং তা কেটে ফেলা হতো! (ইবনে মাজাহ)।

আল্লাহর ভয়ে নির্গত অশ্রু ফোঁটা আল্লাহ তায়ালার কাছে খুবই প্রিয়। হাদিসে আবু ওমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দুটি ফোঁটা ও দুটি চিহ্নের চেয়ে অধিক প্রিয় আল্লাহর কাছে অন্য আর কিছু নেই। এক. আল্লাহর ভয়ে নিঃসৃত অশ্রু ফোঁটা। দুই. আল্লাহর পথে নির্গত রক্তের ফোঁটা। আর চিহ্ন দুটি হলো আল্লাহর রাস্তার কোনো চিহ্ন ও আল্লাহর দেওয়া কোনো ফরজ আদায় করতে গিয়ে কোনো চিহ্ন।’ (তিরমিজি)।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা সেদিন তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন; যেদিন তার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তন্মধ্যে ওই ব্যক্তি একজন, যে নির্জনে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে; আর তার চোখ থেকে পানি ঝরে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

 হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি; তিনি বলেছেন, ‘দুটি চোখকে দোজখের আগুন স্পর্শ করবে না; প্রথম হলো সেই চোখ যা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে। আর দ্বিতীয় হলো সেই চোখ; যা আল্লাহর পথে (জিহাদে) পাহারায় রাতযাপন করে। (তিরমিজি)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন এ আয়াতটি নাজিল হয়।
أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيْثِ تَعْجَبُوْنَ، وَتَضْحَكُوْنَ وَلاَ تَبْكُوْنَ
অর্থাৎ ‘তবে কি তোমরা এ কথায় বিস্ময়বোধ করছ? হাসছ এবং কান্না করছ না?!’

তখন আহলে সুফফার (একদল সাহাবা) সবাই ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলে কাঁদতে লাগলেন এবং তাদের চোখের পানি গাল বেয়ে বইতে লাগলো।

তাঁদের কান্নার শব্দ শুনে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও কাঁদতে লাগলেন। তাঁর কান্না দেখে আমরাও কাঁদতে লাগলাম।

অতঃপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার ভয়ে কাঁদে; ওই ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। (তাফসিরে কুরতুবি)

কায়েস বিন আবু হাযেম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা রা. স্বীয় স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে হঠাৎ কাঁদতে লাগলেন, তার সাথে তার স্ত্রীও কাঁদতে লাগলেন। আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন কাঁদছ? স্ত্রী বললেন, তোমাকে কাঁদতে দেখে আমারও কান্না চলে এসেছে। স্বামী বললেন, (কান্নার কারণ হল) আমার আল্লাহর এ বাণীটি স্মরণ হল যে, (অর্থ) ‘তোমাদের মধ্যে কেউ এমন নেই, যে জাহান্নামের উপর দিয়ে অতিক্রম করবে না (মারইয়াম : ৭১) আর আমার জানা নেই যে, জাহান্নামের উপর স্থাপন করা পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় আমি (দোযখ থেকে) রক্ষা পাব না পাব না।’-মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদীস ৮৭৮৬

হাদিসে এসেছে, ইরবাজ ইবনে সারিয়াহ (রহ.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার ফজর নামাজের পর আমাদের মর্মস্পর্শী ওয়াজ শোনালেন, যাতে আমাদের সবার চোখে পানি চলে এলো এবং অন্তর কেঁপে উঠল। এক ব্যক্তি বলল, এটা তো বিদায়ী ব্যক্তির নসিহতের মতো মনে হচ্ছে। হে আল্লাহর রাসুল! এখন আপনি আমাদের কী উপদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, আমি তোমাদের আল্লাহভীতির এবং (আমিরের আদেশ) শ্রবণ ও মান্য করার উপদেশ দিচ্ছি। (তিরমিজি ও আবু দাউদ)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবার অন্তরে খোদাভীতি এবং চোখে আল্লাহর ভয়ের অশ্রু দিয়ে ভরে দিন! আমিন।

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি একবার দোযখের কথা স্মরণ করে কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে তোমাকে কাঁদাল? আয়েশা রা. বললেন, আমি দোযখের ভয়ে কাঁদছি। আপনি কি কেয়ামতের দিন আপনার পরিবারের কথা স্মরণ রাখবেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বললেন, তিনটি স্থানে কেউ কাউকে স্মরণ রাখতে পারবে না- এক. মীযানের (আমল পরিমাপক যন্ত্র) নিকট যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার নেকীর পাল্লা ভারী হয়েছে না হালকা, দুই. আমলনামা পেশ করার সময়, যখন বলা হবে আস তোমার আমলনামা পাঠ কর, যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হচ্ছে না পিঠের পিছন থেকে বাম হাতে। তিন. পুলসিরাতের উপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় যখন তা জাহান্নামের উপর স্থাপন করা হবে।’- সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪৭২২

লক্ষ করুন আয়েশা সিদ্দীকার মত নবী পত্নী দিবারাত্রি ইবাদতে মশগুল থাকা সত্ত্বেও আখেরাতের  ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে যাননি বরং রীতিমত কাঁদতেন। অথচ তাঁর জীবন এতই পুতঃপবিত্র ছিল যে, স্বয়ং আল্লাহ তার কাছে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তার ব্যাপারেই কুরআনের দশটি আয়াত নাযিল হয়েছে। বুঝা গেল দোযখের আগুনের ভায়বহতার কথা স্মরণ করে অশ্রুসজল হওয়া স্বতন্ত্র একটি আমল। এটি আল্লাহর অধিক পছন্দনীয় আমল। কুরআনে কারীমের একটি আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন- (অর্থ) যারা তাদের রবের কাছে ফিরে যাবে এই বিশ্বাসে তাদের যা দান করার তা দান করে ভীত কম্পিত হৃদয়ে, তারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজ এবং তারা তাতে অগ্রগামী থাকে।-মুমিনূন : ৬০-৬১

এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আয়েশা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, এই আমলগুলো করে লেকেরা ভীত কম্পিত হবে কেন? তারা কি মদ পান করে কিংবা চুরি করে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বললেন, হে সিদ্দীক তনয়া, এরূপ নয় বরং এরা তারা, যারা রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং দান খয়রাত করে। এতদসত্ত্বেও তারা শঙ্কিত  থাকে যে, সম্ভবত : (কোনো ত্রুটির কারণে) এ আমল কবুল হয়নি। এ ধরনের (লোকই  সৎকাজ দ্রুত সম্পাদন করে এবং তাতে অগ্রগামী থাকে) (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৩৯৭)

ক্রদনরত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ(রাঃ) কে বলেছেন “আমাকে কুরআন পাঠ করে শুনাও” সে বলল “ও আল্লাহর রাসূল, আমি কি আপনাকে তেলোয়াত করে শুনাবো যেটা আপনার কাছেই অবতীর্ণ হয়েছে ? তিনি
বললেন হ্যাঁ, কারন আমি অন্যের কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করি” “আমি সূরা নিসা পাঠ করছিলাম এই আয়াত আসা পর্যন্ত
“আর তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি ডেকে আনব প্রতিটি উম্মতের মধ্য থেকে অবস্থা বর্ণনাকারী এবং আপনাকে ডাকব তাদের উপর অবস্থা বর্ণনাকারীরূপে।”(আন নিসাঃ ৪-৪১) তিনি তখন আমাকে থামতে বললেন। আমি উনার অস্রুশিক্ত চোখ দেখতে পেলাম” (ফাত আল বারি ৮ঃ৭১২)

একদা একজন আনসারী সাহাবী (রাঃ) তাহাজ্জুদের নামাযে খুব কেঁদে বলেছিলেন, জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। তাঁর কথা শুনে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তুমি আজ ফেরেশতাদেরও কাঁদিয়ে ফেলেছ। আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) একদিন খুব কান্নাকাটি করছিলেন। তাঁর কান্না দেখে তাঁর স্ত্রীও কাঁদতে লাগলেন। তিনি স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? স্ত্রী বললেন, যে কারনে আপনি কাঁদছেন। তিনি বললেন আমি এই কারনে কাঁদছি যে, জাহান্নামের উপর দিয়েতো আমাদের যেতেই হবে। জানিনা তখন সে পথ অতিক্রম করতে পারব কিনা। যুরারাহ ইবনে আওফা (রাঃ) একদিন মসজিদে নামায পড়ছিলেন। ক্বিরাতের মধ্যে যখন “যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হবে” পর্যন্ত পৌঁছে, আয়াতটি পাঠ করার সাথে সাথে বেহুশ হয়ে ইন্তেকাল করেন। হযরত খোলায়েদ নামক একজন সাহাবী (রাঃ) একদিন নামায পড়ছিলেন। ক্বিরাতের মধ্যে যখন “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে” এ আয়ত পর্যন্ত পৌছলেন, তখন আয়াতটি তিনি বার বার পড়তে লাগলেন। খানিকক্ষন পর ঘরের এক কোন থেকে আওয়াজ এল তুমি এটা আর কতবার পড়বে? তোমার বার বার পড়ার দরুন এ যাবত চারজন জীন মরে গেছে।

বিখ্যাত বুযুর্গ হযরত ফোযায়েল (রহঃ) বলেন আল্লাহর ভয় যাবতীয় নেক কর্মের দিক নির্দেশ করে। হযরত শিবলী (রহঃ) এর কথা কে না জানে তিনি বলেন, আমি যখনই আল্লাহকে ভয় করেছি তখনই আমার ইলমও হিকমাতের এমন দ্বার খূলে গিয়েছে যা ইতিপূর্বে কখনো খোলেনি। হাদিস শরীফে বর্নিত আছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি বান্দার উপর দুটি ভয় একত্রে দিই না এবং একই সময়ে দুটি বিষয়ে নিশ্চিন্ত করিনা।বান্দা যদি দুনিয়াতে আমার বিষয়ে উদাসীন থাকে , তাহলে আখিরাতে আমি তাকে ভয়ের সম্মুখীন করব। আর যদি দুনিয়াতে আমাকে ভয় করতে থাকে , তাহলে আখিরাতে তাকে আমি নিশ্চিন্ত রাখব। রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয়  করে, প্রত্যেক বস্তু তাকে ভয় করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ভয় করে, প্রত্যেক বস্তু তাকে ভয় প্রদর্শন করে। ইয়াহইয়া ইবনে মোয়ায (রাঃ) বলেন, হতভাগা মানুষ যদি জাহান্নামকে এতটুকু ভয় করত যতটুকু দারিদ্রকে ভয় করে, তাহলে সোজা জান্নাতে প্রবেশ করত।

তাহলে কেন আমরা আল্লাহর ভয়ে আজকে কাঁদি না ? আমরা কাঁদতে পারি না শক্ত হৃদয় এবং দুনিয়ার প্রতি আমাদের অন্তরের আসক্তি থাকার কারনে। তাই আমাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেছে এবং আমাদের চোখগুলো শুকিয়ে গেছে। আমরা আমাদের রব থেকে দূরে সরে গেছি।আল্লাহর স্মরণে অন্তর কখনো কঠিন হয় না। তাই যার এক সপ্তাহ চলে যায় এক ফোঁটা পানি চোখ থেকে ঝরে না তাকে এটা নিয়ে বসা উচিৎ, এটা নিয়া চিন্তা করা এবং আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করা এবং নিজেকে বিনম্র করা উচিত । হয়ত তার অন্তর বিগলিত হবে এবং তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়াবে। এবং যদি অন্তর সিক্ত না হয় তাহলে কুরআন খুলে এর আয়াতসমুহ বুঝে বুঝে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে পড়া উচিত । ফলে সে কাঁদবে ,তার অন্তরে আল্লাহর ভয় আসবে
এবং তার আত্মা বিনম্র হবে,তবেই তো সফলতা। এবং এভাবেও যদি তার অন্তর আগের কঠিন অবস্থায় থাকে,তাহলে তার একটা অন্ধকার রুমে গিয়ে চিৎকার করে কান্না করা উচিৎ তার মরে যাওয়া অন্তরের জন্য।

মানুষের চোখের পানির মর্যাদা আল্লাহ তাআলার নিকট অনেক বেশি। তাই মানুষের উচিত তাঁর ভয়ে বেশি বেশি কান্নাকাটি করা। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে মানুষকে তাঁর সব বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি তাঁর ভয়ে বেশি বেশি কান্নাকাটির করার তাওফিক দান করুন। হে আল্লাহ এই রমজানের উসিলায় আমাদের মনে তোমার ভয় ও মহব্বত সৃষ্টি করে দিন। আমিন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!