শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

‘জুমআতুল বিদা’ অশ্রু ভেজানোর দিন

‘জুমআতুল বিদা’ অশ্রু ভেজানোর দিন

‘জুমআতুল বিদা’ অশ্রু ভেজানোর দিন

তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার পথে। আজ এ মাসের শেষ জুমাবার। আরবিতে একে বলা হয় জুমআতুল বিদা। বা রমজানের শেষ জুমআ। এর আলাদা ফজিলত বা কোন আমল নেই। শুক্রবারের আমলের সাধারণ যত ফজিলত আছে তাই রমজানের শেষ জুমআর ফজিলত ও আমল। নিয়মিত আমলগুলোকে যেন এই শুক্রবারে খাছ করে ভুলে না যাই।

হাদিসে কেবল এমনও বর্ণনা পাওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ (স) জুমআআতুল বিদার খোতবায় ‘আল-বিদা-আল বিদা’ শব্দ উচ্চারণ করতেন।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জবানিতে এ শব্দ শোনার পর সাহাবায়ে কেরাম বিলাপ ধরে কান্না শুরু করতেন। তারা বলতেন রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তাবাহী মাস রমজানকেই মূলত জুমআআতুল বিদায় সম্ভাষণ জানানো হয়েছে। জুমআতুল বিদা থেকেই সাহাবাদের কান্না আর অশ্রুশিক্ত নয়নের চোখ ভেজানো মোনাজাত ও ইস্তেগফার বেড়ে যেত।

পরবর্তী রমজান ভাগ্যে জুটে কিনা এবং রমজানের মতো ক্ষমাপ্রাপ্তির মাসেও আমাদের বরাতে ক্ষমা জুটেছে কিনা- এসব আফসোসেই সাহাবায়ে কেরাম কান্নায় ভেঙে পড়তেন। প্রকৃতপক্ষে জুমআআতুল বিদার আগমন মানেই পুণ্যের মাস রমজানকে বিদায় জানানো।

জুমআতুল বিদা ও সিয়ামি ইস্তেগফারের অশ্রু ঝরানোর দিন আজ। রমজানের অভ্যর্থনার প্রথম দশককে সিয়ামের স্বাগত দশক হিসেবে গণ্য করতেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। একইভাবে শেষ দশক বা শেষ জুমাকে বলতেন জুমআতুল বিদা।
জুমআতুল বিদা অর্থ রমজানের অশ্রুসিক্ত বিদায় দিয়ে আমলের ফসল ঘরে তোলা। এ জুমায় যেমন থাকে বিদায়ী ব্যথা, একইভাবে থাকে ঘরে ফসল তোলার আনন্দের মতো ঈদুল ফিতরের আনন্দ বার্তা।

কেননা সিয়াম সাধকরা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করে ঈদগাহে গেলেই পাবেন মুক্তির ঘোষণা, ক্ষমার ঘোষণা। এজন্যই ঈদুল ফিতরের ঈদগাহকে অনেক মুহাক্বেকিন বলেছেন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাধারণত রমজানের শেষ মুহূর্তে ইস্তেগফারের কথা, বিদায়ী ব্যথার অশ্র“সিক্ত কান্না ও ক্ষমার কথা উল্লেখ করতেন। কেননা শয়তানের বন্দিত্বসহ অবারিত রহমতের ঘোষণা প্রতিটি ক্ষুদ্র আমলের বিনিময়ে বিশেষ ফজিলতের আশ্বাসসহ মুক্তির মহান বিজয় তো রমজানেই রয়েছে। তার বিপরীতে আল্লাহর ঘোষণা জিবরাইলের প্রস্তাবনায় রাসূল (সা.) বলেন, রমজানকে যারা পেল অথচ গোনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না তারা ধ্বংস হোক। এর মাধ্যমে গাফেলদের ধ্বংস চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন অন্তিম লগনে তাই আজ সবারই আলস্যমুক্ত কান্নার দিন। আমরা কেউ তো জানি না মুক্তির সনদ হাতে পাব কিনা।

‘জুমআতুল বিদা’ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শেষ মুহূর্ত। এ যেন তাঁর নৈকট্য লাভ ও গোনাহ মাফের পয়গাম। অশ্রুভেজা কান্নায় নিজেকে পুরে বছরের জন্য আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য সাজানের শপত নেয়ার মুহুর্ত।

মুমিন মুসলমান রমজান মাসের শেষ জুমআকে বিদা ও রমজানের শেষ মুহূর্ত গুলোকে বিদায় জানাবে নামাজ আদায়, ইবাদত-বন্দেগি, ইস্তেগফার ও কান্নাকাটির মাধ্যমে।

সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত তথা সিয়াম, কিয়াম ও তাকওয়ার উপহার নিয়ে এসেছিল যে রমজান। এখন ভাবনা বিষয় হলো এ রমজানের মুসলিম উম্মাহ কতটুকু ফজিলত ও মর্যাদা অর্জনে সফলতা লাভ করেছে।

রমজানের বিদায়ী জুমায় মুমিন মুসলমানের লক্ষ্য হওয়া উচিত হলো কুরআন নাজিলের মাসে কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করে আমলি জিন্দেগি গঠন করা।

কারণ এ রমজানে মানুষের সংবিধান হিসেবে কুরআন নাজিল হয়েছে। আর রমজান এবং জুমআ উভয়টিই উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই রমজান ও শেষ জুমআর যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্ব উপলব্ধি করে তার অধিকার বা হক পালন করা জরুরি।

জামআতুল বিদাজুমাআতুল বিদা বলা হয় পবত্রি রমজান মাসের শেষ জুমআ`কে। এমনিতেই জুমআ`র দিনটি সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে অধিক ফজিলতের দিন। তারপর আবার রমজানের শেষ দশকের মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক।

তাছাড়া জুমআ`র নামাজ সম্পর্কে হজরত সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, `তোমরা জুমআর নামাজে উপস্থিত হও এবং ইমামের নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়াও। কেননা যে ব্যক্তি জুমআর নামাজে সবার পেছনে উপস্থিত হবে, জান্নাতে প্রবেশ ক্ষেত্রেও সে সবার পেছনেই পড়ে থাকবে। (মুসনাদে আহমদ)

রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হজরত সুলায়মান (আ.) জেরুজালেম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘মসজিদ আল-আকসা’ প্রতিষ্ঠা করেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়। এ জন্য প্রতি বছর সারাবিশ্বের মুসলমানরা রমজান মাসের শেষ শুক্রবার ‘আল কুদস’ দিবস হিসেবে উদযাপন করেন। বায়তুল মোকাদ্দাস ইহুদিদের অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করার দাবি জানান।

জুমআতুল বিদা তাই ৩টি বিষয়কে একত্রিত করে শেষ মুহূর্তের করণীয় নির্ধারণে ভূমিকা পালন করে থাকে এবং কর্তব্য মনে করিয়ে দেয়।
এক. ক্ষমা চাও-ক্ষমা পাওয়ার আশ্বাসে নেক আমল করা।
দুই. লাইলাতুল কদরের অন্বেষণে রাত জেগে থাকা।
তিন. সাদাকাতুল ফিতর আদায় করে চূড়ান্ত ক্ষমাপ্রাপ্তির প্রত্যাশায় ঈদগাহে যাওয়া।
নিজস্ব বিনম্র অস্তিত্বের জানান দিয়ে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা। আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, অ-লিল্লাহিল হামদ। অর্থাৎ আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান যাবতীয় প্রশংসা তো তারই।
ইস্তেগফারের সঙ্গে অশ্রু-দানের প্রশস্ত হৃদয় এবং তাকবিরের সঙ্গে ঈদের উদ্দীপনা মিশে গেলে সার্থক হতে পারে সিয়াম। উপার্জিত হতে পারে তাকওয়া। লাভ হতে পারে সফলতা।

জুমআর দিনটিকে মুমিন মুসলমানের জন্য সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই রমজানের শেষ শুক্রবার মুমিন বান্দাকে রমজানের বিদায় বার্তা স্মরন করিয়ে দেয় বিশেষ গুরুতের সাথে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!