শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

তাবলীগ | এটা ইলিয়াস রহ.চালু করা মেহনত নয়!

তাবলীগ | এটা ইলিয়াস রহ.চালু করা মেহনত নয়!

আজকের ঐতিহাসিক ঘটনা যুগে যুগান্তরে ইতিহাস হয়ে থাকবে

তাবলীগ | এটা ইলিয়াস রহ.চালু করা মেহনত নয়

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

 একদিন এক লোক হযরতজী ইলিয়াস রহ কাছে এসে বলল, ‘আপনিতো দিল্লীর পীর, আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমার এই সমস্যা… দূর হয়। তিনি বললেন, ভাই আমি এক নবীওয়ালা মেহনত করি, যে এই মেহনত করবে সেই পীর হয়ে যাবে। এই মেহনতই হল বুর্যুগিওয়ালা কাজ। ইসলাহে নফসের যে চারটি শর্ত আল্লাহর ওলী হওয়ার জন্য, এই চারটি কাজের সমন্নয়ই হল তাবলীগের মেহনত। এজন্য তুমি দ্বীনের জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হও। তোমার দোয়াও কবুল হবে।

আল্লাহর পথের এই অমর দাঈ’র জীবনী নিয়ে কয়েক বছর ব্যাপি লাগাতার গবাষনার পর আমাকে সবচেয়ে যে বিষয়ে অবাক করেছে তা হল, ইলিয়াছ রহ নিজের আবিস্কৃত দাওয়াত -তাবলীগের নামে নতুন কোন মেহনত বা আন্দোলন শুরু করেন নি। বা এরদ্বারা নিজের কোন সিস্টেমের দিকে উম্মাহকে ডাকেন নি। অথবা নিজে গবেষনা করে উম্মতের জন্য নতুন কোন মেহনত চালু করেন নি। বা নিজের দিকে আসার জন্য মানুষকে প্রভাবিত করেন নি। মানুষকে নিজের দরবারে দিকে ধাবিত না করে আল্লাহর দিকে ধাবিত করেছেন। কোন ত্বরিকার দিকে না ডেকে নববী ত্বরিকায় আল্লাহর রাহে বের করেছেন। তাই তাবলীগের মোবাল্লীগরা কখনো বলেন না, আমি অমুক দরবারে যাচ্ছি| বলেন, আমি আল্লাহর রাস্তায় যাচ্ছি। কোন ত্বরীকার মেহনতের কথা না বলে, সরাসরি বলেন, “আমি নবীওয়ালা মেহনত করছি”।

দাওয়াতের কাজের এটাই সবচেয়ে বড় ফজিলত, এই মেহনত কোন ব্যাক্তির চালু করা সিস্টেম নয়। বরং এই মেহনত রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আালাইহি এর নববী মিশনের অনুসরণ। যে মেহনত সম্পর্কে কোরআন ও হাদীসের বর্ণনা সূর্যের চেয়েও পরিস্কার। তিনি কেবল দীর্ঘ সময় ধরে উম্মত ভুলে যাওয়া প্রথম জামানার নবীওয়ালা সাহাবাদের হিরকখণ্ডের মেহনতের নকশা উম্মতের সামনে দু’বারা তুলে ধরেছেন। হযরতজী বলতেন, আমি সব মেহনতই কামিয়াবি হবে না, বরং ঐ মেহনতই কামিয়াবি হবে, যে মেহনত হুবহু রাসুল সা.এর মেহনতের সাথে মিল হবে। আর সব মেহনতওয়ালাই কামিয়াব হবে না, বরং ঐ মেহনতওয়ালা কামিয়াব হবে, যার জিন্দেগী রাসুলের জিন্দেগীর সাথে মিলবে।
বেদাতি- ভণ্ডরা এই জায়গাতেই ভুলটি করে “ইলিয়াসি তাবলীগ”, স্বপ্নেপ্রাপ্ত বা ইলিয়াস ছাবের চালু করা তাবলীগ বলে ট্যাগ লাগাতে চায়। বরং ঐতিহাসিক বাস্তবতা হল, তিনি এরদ্বারা নতুন কোন দল বা জামাত গঠন করেন নি। এমনকি এই কাজের কোন নামও রাখেন নি। ‘ইলাহে কালিমাতুল্লাহ’র এই মেহনতকে মানুষ “তাবলীগ জামাত” নামে মূখে মূখে ডাকতে থাকে। হযরতজী ইলিয়াস রহ বলতেন, “আমি যদি এই মেহনতের নাম রাখতাম তাহলে নাম দিতাম “তাহরিকে ঈমান”। কিন্তু নবীওলা কোন কাজের নাম আমি কি দিব?

এটাতো সমস্ত উম্মতের কাজ। আলাদা কোন সংগঠন, জামাত বা ত্বরীকা নয়। রাসুলের রেখে যাওয়া আমানত। এটা আগেও যে ভাবে ছিল, এখনো সেভাবেই আছে, আগামিতেও এভাবেই থাকবে। এখানে নতুন কিছু সংযোযিত হয় নি খেলাফে সুন্নাহ বা খেলাফে শরিয়াহ। আর হবার সম্ভাবনাও নেই। কারন একাজের উসুলই হল “হায়াতুস সাহাবা রাযিঃ”। এর বাহিরে যাবার সুযোগ নেই। 

ফলে বিশ্বব্যাপি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাতিল ফেরকা ও আঞ্চলিক ভাবে গজিয়ে উঠা নানা ত্বরীকা ও মতবাদগুলো এই জায়গাতেই পরাজিত হয় হকের এই আলমি মেহনতের কাছে। শত অপ-প্রচারের পরেও সকল দেশ, মত, পথ, মাহযাবের মানুষ শামিল হয়েছেন এই দাওয়াতের নবীওয়ালা মেহনতে।
ইলিয়াস ছাব রহ. তো হানফি মাযহাবের ছিলেন। তাহলে তার চালু হওয়া মেহনত শাফি, মালেকি, হাম্বলি, আহলে হাদীস অনুসারী মুসলমানরা কেন করতে যাবে??

কিন্তু তারা নববী মেহনত বলেই করছেন। বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে এই মেহনতে, কে কাটা বিছাতে পারে? কোন সে শক্তি? মিথ্যা প্রোপাগান্ডা করে কিংবা নতুন চালু হওয়া তাবলীগ বলে।
এটা যেমন ইলিয়াস ছাব রহ. চালু করা তাবলীগ নয়, তেমনি এখন কোন ব্যাক্তির চালু করা কাজ নয়। ইসলামেরর শুরুর জামানা থেকে যেভাবে ছিল এভাবেই আছে। তাবলীগের কাজে এর চেয়ে বড় কবুলিয়ত আর কি হতে পারে উম্মতের সকল মাযহাবের মানুষ এই কাজ করছেন আর এক দস্তারখানায় বসে সমগ্র উম্মাহ’র ভ্রাতৃত্বে বন্ধনে খাবার খাচ্ছেন। ইউরোপ আমেরিকা, রাশিয়া, আফ্রিকা আর আরব আজমে এই কাজ তার আপন গতিতেই চলছে।

হযরজীর শেষ জামানা।
একদিন নিযামুদ্দীনের মার্কাজের সকল মুবাল্লীগদের ডাকলেন। বদ্ধগৃহে দরজা লাগিয়ে দিলেন। আর বললেন, আমি জীবন সায়াহ্নে এসে একটি কথা তোমাদের বলে যেতে চাই। তা হল, ” এই মেহনতের দ্বারা সমগ্র উম্মতের ইসলাহ হবে না, আমার আর কোন আস্থা নেই এই কাজের প্রতি। তোমরা দ্বীনের নতুন কোন কাজ করতে পার, যা ভাল মনে কর। ” হযরতজীর শাগরেদ আর বড় বড় আলেম ও মুবাল্লীগরা এমন কথায় কিংকতব্যবিমুঢ়। কি বলবেন আর হযরতজি এতেদিন পরে এসে কি বলেছেন? সবার মাথা নিচ দিকে। চারদিকপ পিনপতন নিরবতা। কেউ ভাবছেন হযরতজীর মাথা খারাপ হল নাকি?
এমন সময়, হযরত মিয়াজি মেহরাব রহ. দাড়িয়ে গেলেন, বললেন, হযরতজী, আপনি এই কাজ ছেড়ে দিলে, এমনকি এখানের সবাই কিংবা গোটা জগতের মানুষ একাজ না করলে, আমি অধম এই নবীওয়ালা কাজের জিম্মাদারি আদায় করতে করতে মরব ইনশাল্লাহ। আপনার কথায়ই কেবল এই কাজ করি না, আপনাকে দেখেও একাজ করি না। এই কাজ কোরআন হাদীস থেকে নিয়ে আমি করছি। এবং কোরআন হাদীসে শপষ নবীর, শ্রেষ্ট উম্মত হিসাবে আমাদেরকে সয়ং আল্লাহ পাক এই কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সবাই মাথা তুললেন, এবং একই কথা বললেন। যে আপনি না করলেও আমরা এই তাবলীগের কাজ করব। ছাহেবজাদা হযরতজী ইউসুফ রহও একই কথা বললেন। তখন হযরতজী বললেন, “এখন আমি আশস্থ হলাম তেমরা আমি ইলিয়াসের তবলীগ কর না, তোমরা নবী সা.এর তাবলীগ করছ। আল্লাহর বাতলানো কাজ করছ। আমার কথায় নয়, কেরআন হাদীস থেকে বুঝে এই কাজ করছ।
হে আল্লাহ, আমাদেরকে কবুল কর। আমিন

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!