শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

বিদায়ের সুর বাজে মুমিন হৃদে

বিদায়ের সুর বাজে মুমিন হৃদে

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

আল্লাহর মেহেরবানীতে এবছর রমজানের পুরো মাস ছিলাম তাবলীগ নিুজের পাঠকদের সাথে। সূখ দু:খে যে কোন পরিস্থিতিতে করোনাকালের রমজানে প্রতিদিন রমজান বিষয়ক একটি লেখা ক্ষুদ্র জ্ঞানে লেখার চেষ্টা করেছি। রমজানে সাথীরা বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে, ছিলেন। মসজিদ ও মারকাজের আমল বন্ধ থাকায় অনেকেই নিয়মিত এই দরস থেকে উপকার পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আল্লাহ লেখক পাঠক সবাইকে এখলাসের সাথে এর উত্তম বদলা দান করুন। আমিন। ভুল ভ্রান্তি কিছু হয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি রাব্বে করিমের দরবারে। দেখতে দেখতে রমজানের একেবারে শেষপর্যায়ে আমরা। আজকের পর আর মাত্র একটি রোজা শেষে বিদায় নিচ্ছে রমজান।

বিদায় শব্দটির সঙ্গে কষ্ট জড়িয়ে আছে। যে কোন বিদায় অনুভূতিতে নাড়া দেয়। আর রমজান তো এসেছিল রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের প্রাচুর্য নিয়ে। এ থেকে আমরা বঞ্চিত হবো, এরকম ভাবতেই কষ্ট হয়।

পবিত্র মাহে রমজানের আগমনে মুমিনের হৃদয়ে যেমন আনন্দের বন্যা বয়ে যায়; তদ্রুপ রমজান বিদায়লগ্ন মুমিনদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে যায়। তাই সবাই বাঁধভাঙা চোখের পানি দিয়ে তাকে বিদায় জানায়। রমজান আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। আমরা কি পেরেছি রহমতের বৃষ্টিতে অবগাহন করতে, মাগফিরাতের সাগরে ভাসতে, আমরা কি পেয়েছি নাজাতের সুবাতাস।

রমজান তো তাকওয়া অর্জনের মাস অর্থাৎ খোদাভীতি লাভ। আমরা কি পেরেছি খোদাভীতি হতে। আল্লাহর ভয়ে সব রকম অন্যায়, অপকর্ম, লোভ ছাড়তে পেরেছি কি? তবে রমজান থেকে আমাদের অর্জন কি?

রমজান তো সহনশীল ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষা কি আমরা গ্রহণ করতে পেরেছি, না রমজান আসা-যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলো।

নিজেকে শুধরে নেয়ার সময় ছিল রমজান। আমরা কি আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি। অর্থাৎ লোভ-লালসা, গিবত, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, আত্ম-অহঙ্কার, মিথ্যা বলা, কার্পণ্য ইত্যাদি থেকে মুক্ত হতে পেরেছি।

এই রমজানে কুরআন এসেছে আমাদের কল্যাণের জন্য। কুরআনকে কতটুকু ভালোবাসতে পেরেছি। অর্থাৎ এ থেকে কতটুকু আমলে নিতে পেরেছি। মুক্তির মাধ্যম কিন্তু কুরআন। এর আলোকে নিজেকে আলোকিত করতে হবে।

আল্লাহকে পাওয়ার আর একটি মাধ্যম হলো দান। দান হলো পূণ্যের কাজ। অন্য সময়ের চেয়ে রমজানে এক পূণ্যে ৭০ থেকে ৭০০ গুণ বেশি সওয়াব। এর থেকে আমরা কি লাভ করেছি। টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ, জ্ঞান-বুদ্ধি সবই তো আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া। তার সন্তুষ্টির জন্য কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করলাম।

নিজের সকল ক্ষমির জন্য তওবা ইস্তেগফার করে আল্লাহর কাছে নিজের কমজোড়িকে পেশ করি। যতটুকোই আমরা রমজানের কল্যান লাভ করেছি তা আমরা নিজেদের জীবনে কতোটা ধারন করে বাকি সময় লালন করতে পারব এটি এখন বড় বিষয়

রমজানের মাসজুড়ে কল্যাণ কামনার পর মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য কি হওয়া উচিত?রমজানের আমলভরা দিনগুলো বিদায় নেয়ার পর মুমিনের আমল তো এক দিনের জন্যও শেষ হওয়ার কথা নয়। যিনি রমজান মাসের মালিক, তিনি তো রমজান পরবর্তী বাকি মাসগুলোর ও মালিক। আল্লাহ তাআলা- ‘আসমান জমিন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে মাসগুলোর সংখ্যা হল বার। তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস।’ (সূরা আত ত্বাওবাহ : আয়াত ৩৬)

সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য হল, তাঁরা রমজান মাসে যে সব নেক আমলের অভ্যাস গঠন করেছে; সেই সব নেক কাজগুলো বন্ধ না করে নিয়মিত তা চালু রাখা। আল্লাহ বলেন, ‘মৃত্যু আসা অবধি তোমার প্রতিপালকের ইবাদাত করতে থাক।’ (সুরা হিজর : আয়াত ৯৯)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে ঐ আমল, যা নিয়মিত করে যাওয়া হয়; যদিও বা তার পরিমাণ কম হয়।’ এ জন্য অন্য জায়গায় বিশ্বনবি বলেন, ‘তোমার ঈমানকে খাঁটি কর; অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে। সুতরাং নেক কাজ সামান্য সময়ের জন্য বন্ধ না করে নিয়মিতভাবে করা।বিদায় নিল সবরের মাস, সংযমের মাস, ত্যাগের মাস। এই সবর, সংযম, ত্যাগ হচ্ছে মু’মিনের সম্বল। বলাই বাহুল্য, এ মাসে মুসলমান অনেক প্রচেষ্টা ও শ্রম দিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করেছে, তেমনি পরের মাসগুলোতেও যেন সেই প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম অব্যাহত থাকে। বান্দার আমল-আখলাক এমন হওয়া উচিত যে, সে যেন পবিত্র রমজান মাসই অতিবাহিত করছে।রোজার মাস বিদায় নেয়ার পর যারা রমজানের মতো প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজসহ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, হালাল কাজ গ্রহণ এবং হারাম কাজকে বর্জণ করে। তবেই আল্লাহর পক্ষ থেকে রমজানের মতোই অবতীর্ণ হবে অফুরন্ত রহমত, বরকত, মাগফিরাত এবং নাজাত।রমজান মাসে সব রোজাদারেরই নামাজ ও নেক আমলের প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক থাকে।

রমজানের ইবাদাতের এ উৎসাহ প্রত্যেককেই ধরে রাখতে হবে। বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করার চেষ্টা করা। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামতের ময়দানে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেয়া হবে। সুতরাং যার নামাজের হিসাব সঠিক হবে, তার অন্যান্য আমলও সঠিক বিবেচিত হবে। নচেৎ পরকালের বিপদের সীমা থাকবে না। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, আবু দাউদ)

এই রমজানের প্রচণ্ড পরিশ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে সিয়াম-সাধনার পর আমরা যেন আবার রমজান পূর্ববর্তী দিনগুলোতে ফিরে না যাই। আমরা উদাসিনতা পরিহার করি। পরকালের সফরের জন্য পথের সম্বল তৈরিতে কিছু সময় আল্লাহর পথে ব্যয় করি। বছরের বাকি ১১ মাস রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগাই। আগামী রমজান প্রাপ্তির আশায় আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাই।

সবার জন্য আগামী রমজান কবুল করুন।। সবাইকে সবসময় ন্যায় ও কল্যাণের কাজে নিয়োজিত থাকার তাওফিক দান করুন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!