সোমবার, ২৯ Jun ২০২০, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

শুধু নিজের দিকে নয়, গোটা জাতির দিকে চেয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে

শুধু নিজের দিকে নয়, গোটা জাতির দিকে চেয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে

শুধু নিজের দিকে নয়, গোটা জাতির দিকে চেয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে — সৈয়দ মবনু;

দেশের মানুষ লকডাইনে বন্ধি। বন্ধ সকল ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্যবসা করে ঘরভাড়া, দোকানভাড়া, বিদুৎ-গ্যাস বিল দেওয়া অসম্ভব হয়, এখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে এগুলো দেওয়া কি সম্ভব? বড় প্রতিষ্ঠান আর সরকারী ফান্ডে হয়তো টাকা আছে, তারা তাদের কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন।

কিন্তু ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর কি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বেতন দেওয়া সম্ভব? অনেক বাড়ি থেকে কাজের লোকদের বিদায় দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ওদের আয় না থাকলে তারা বাঁচবে কি দিয়ে? অনেক সম্মানিত এবং ব্যক্তিত্ববানেরাও জীবনের প্রয়োজনে লজ্জা ভেঙে ইনবক্সে কিংবা মোবাইলে সাহায্যের আবেদন করছেন, যা খুবই দুঃখজনক।

বস্তির মানুষেরা বস্তিতে কীভাবে গিজাগিজি করে থাকে, সেখানে কি সামাজিক ব্যবধান রক্ষা করে থাকা সম্ভব হচ্ছে? বস্তিতে একটা রোমে সাত-আটজন থাকে, তাদের পক্ষে কি সারাদিন ঘরে বসে থাকা সম্ভব? এগুলো এখন ভাবার সময় এসেছে। দেশের পরিচালকদের এগুলো ভাবতে হবে। মরে যাবো, মরে যাবো, একটা সুর সবার মুখে।

কিন্তু লক ডাইনে পরিস্থিতি এমন হচ্ছে যে, শেষ পর্যন্ত আমাদের সামনে দুটি পথ থাকবে-
১. হয় লকডাইন ভেঙে করোনাকে চ্যালেঞ্জ করে মরে মরে বেঁচে যাওয়া।
২. লকডাইনে থেকে অর্থের অভাবে মরে যাওয়া।

মরার প্রতি আমাদের মনে এত ভয় হয়েছে যে, আমরা জীবন-মত্যু যে আল্লাহর হাতে তা ভুলে আতংকিত হয়ে আছি। আমরা তো কোরআন তেলাওয়াত করি এক অক্ষরে দশ নেকি পাওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা কি কোরআন বুঝি বা কোরআনের কথা কিংবা ওয়াদাকে আল্লাহর কথা বা ওয়াদা বলে বিশ্বাস করি? কোরআনে কি বলা হয়নি-‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না। প্রত্যেকের মৃত্যুর জন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। (সুরা আল ইমরান)?

কিংবা যারা মৃত্যু থেকে পালিয়ে ‘বায়তুল্লাহ’র হজ্ব-ওমরা কিংবা তোয়াফ ছেড়েছেন, ছেড়েছেন মসজিদের জামায়াত আর ঈদগাহের ঈদ তাদের উদ্দেশ্যে কি কোরআন বলেনি,-‘তোমরা যেখানেই থাকনা কেন মৃত্যু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই, যদি তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভেতরও থাক, তবুও। (সুরা নিসা)?

যদি কোরআনে আল্লাহর কথা হয়, যদি আল্লাহর ওয়াদা সত্য হয় কিংবা যদি আমরা এগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করি তবে কেন মৃত্যুর ভয়ে আমরা সবাই অতংকিত? মরতে তো আমাকে একদিন হবেই। হোক তা আজ কিংবা কাল। কমপক্ষে আল্লাহর বিশ্বাসটা বুকে নিয়ে মরি। কিন্তু কে দেবে আমাদের বুকে এই বিশ্বাসের শক্তি সঞ্চয় করে?

যারা কোরআন-হাদিস বুঝেন এবং বুঝান তারাই যদি হয়ে যান আতংকিত তবে আমরা যাবো কোথায়? তাদের উচিত ছিলো ঈমানের শক্তিতে আমাদের ঈমানকে জাগিয়ে তোলা।

আমাদের আজকে ভাবতে হবে, আমরা কি কোরআন-হাদিস বুঝিনি? আমরা কি কোরআন-হাদিস থেকে ঈমানের জ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ? আমরা কি কোরআন-হাদিস অনুযায়ি পূর্ণাঙ্গ ঈমান অর্জনে ব্যর্থ? কৌশল কৌশল বলতে বলতে আমরা ঈমানহারা হয়ে যাচ্ছি না তো?

কৌশল বা সতর্কতা ভালো। কিন্তু কাপুরুষতা কিংবা ঈমানশূন্য হওয়া ভালো নয়। ঈমানকে জাগিয়ে দেখুন, ভয় চলে যাবে। আর ভয় চলেগেলে এই রোগ ইনশাল্লাহ আপনাকে আমাকে কাবু করতে পারবে না।

মনোবিজ্ঞানের পাঠগুলো পড়লে স্পষ্ট হবে মনের বিশ্বাস কত শক্তিশালীি চিকিৎসা। শুধু নিজেদের অবস্থা দেখে বিবেচনা না করে সর্বসাধারণের দিকে বিবেচনা রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com