বুধবার, ০১ Jul ২০২০, ০১:০৩ অপরাহ্ন

৭সাওয়াল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কওমী মাদরাসা খোলে দেওয়া জরুরী: মাওলানা জিয়া বিন কাসেম

৭সাওয়াল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কওমী মাদরাসা খোলে দেওয়া জরুরী: মাওলানা জিয়া বিন কাসেম

৭সাওয়াল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কওমী মাদরাসা খোলে দেওয়া জরুরী: মাওলানা জিয়া বিন কাসেম

তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম; জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান দেশের বরেন্য শীর্ষ আলেমেদ্বীন মাওলানা জিয়া বিন কাসেম বলেছেন, আগামী ৭সাওয়াল থেকেই অনন্য বছরের মতো কওমী মাদরাসাগুলো স্বাস্থ্য বিধি মেনে খুলে দেয়া হোক।

গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি আরো বলেন, স্কুল কলেজ আর কওমী মাদরাসার অবস্থা এক নয়। দেশের অধিকাংশ কওমী মাদরাসা হলো আবাসিক। ছাত্ররা এখান থেকে বের হবে না। ফলে স্বাস্থ্য বিধি বা কোয়ারেন্টাইন মেনে চলতে কোন সমস্যা নেই।

মাওলানা জিয়া বিন কাসেম মনে করেন, দেশের সব কিছু যেখানে স্বাভাবিক করে দেয়া হয়েছে সেখানে কওমী মাদরাসাগুলো বন্ধ রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই। দেশের তিন লক্ষ কওমী শিক্ষকদের সাথে তাদের ১৫/২০লক্ষ মানুষের পরিবার জড়িত। এটি অনেক বড় অর্থনৈতিক বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন করোণাকালে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে। সরকারী স্কুল কলেজের শিক্ষকরা সরকারী বেতন পাচ্ছেন। এভাবে মাদরাসা বন্ধ থাকলে কওমী শিক্ষকদের পরিবার পরিজনদের অবস্থা কী হবে এটিও দেখতে হবে। সবার কথা বেভেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

মারকাজুল উলুম আশ শরীয়্যাহ সাভারের মুহতামিম মাওলানা জিয়া বিন কাসেম বলেন, দেশের ২৫হাজার কওমী মাদরাসায় ৩০লক্ষ শিক্ষার্থীদের বডিং এর সাথে এদেশের অর্থনীতির বেশ বড় সম্পর্ক। এর সাথে অন্তত লাখ লাখ মানুষের জীবন জীবিকার সম্পর্ক রয়েছে।

এই চিন্তাশীল আলেম আরো বলেন, এর চেয়ে বড় বিষয় হলে কওমী মাদরাসার পড়া লেখার অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। বার্ষিক পরিক্ষার পূর্ব মুহুর্তে মাদরাসা বন্ধ দিতে হয়েছে। মাদরাসার পড়া লেখায় একটি ধারাবাহিককতা আছে। ধরেন হিফজের একটি ছেলের তিন চার মাস পড়া লেখা বন্ধ থাকলে সে পেছনের সবকিছু ভুলে যাবে। তাকে আবার নতুন করে পড়া শুরু করতে হবে। মাদরাসায় নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহাত, হাদীসের দরস ও তালিমের বরকতে আল্লাহ তাআলা এই দেশকে করুণা মুক্ত রাখতে পারেন।

মাওলানা জিয়া বিন কাসেমের মতে, কওমী মাদরাসার ৩০লক্ষ ছাত্র যদি মাদরাসায় থাকে তাহলে স্বাস্থ্যঝুকি কম থাকবে এরা বের হবে না, নতুবা ৩০লক্ষ ছাত্র অবসরে হাটবাজারে যাবে ঝুকিতো আরো বাড়বে বলে মনে করেন জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড এর চেয়ারম্যান মাওলানা জিয়া বিন কাসেম।

তিনি সর্তকতামূলকভাবে এটিও বলেছেন, প্রয়োজনে অতিরিক্ত সর্তকতামূলক  মাদরাসাগুলোতে ছাত্র ভর্তির সময়ই করোণা টেস্ট করে ভর্তি করা যেতে পারে। কোন ছাত্র আক্রান্ত হলে ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পর ভর্তি হতে পারে। এভাবে মাদরাসাগুলোকে আমরা ঝুকি মুক্ত রাখতে পারি। প্রয়োজনে মাদারাসায় বিশেষ রুম আইসোলেশন সেন্টার হিসাবে থাকতে পারে। প্রতি ক্লাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রাখতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যেতে পারে। যাতে করে কেউ পরবর্তীতে কওমী মাদরাসাকে কেন্দ্র করে করুণার রাজনীতি না করতে পারে। আমি আশা করি এরকম সর্তকতার সাথে মাদরাসা চালু করলে ইনশাআল্লাহ কোন ঝুকি থাকবে না।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com