রবিবার, ২৮ Jun ২০২০, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

হারিয়ানা আদালতের রায় ঐতিহাসিক বিজয়ের সূচনা: মাওলানা আরশাদ মাদানী

হারিয়ানা আদালতের রায় ঐতিহাসিক বিজয়ের সূচনা: মাওলানা আরশাদ মাদানী

হারিয়ানা আদালতের রায় ঐতিহাসিক বিজয়ের সূচনা:

মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী

তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম: করোনায় আটকা পড়া বিদেশীদের নিয়ে হারিয়ানা প্রদেশে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের আইনি লড়াইয়ে তাবলীগের পক্ষে রায়কে ঐতিহাসিক বিজয়ের সূচনা বলেছেন সদরে জমিয়ত সাইয়েদ আরশাদ মাদানী। ৫৭জন বিদেশী তাবলীগের সাথীকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রিয় খরচে দেশে ফেরত পাঠাতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হারিয়ানা আদালত। ভারতের জাতীয় দৈনিকগুলো বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সাথে সংবাদ শিরোনাম করেছে। উর্দু দৈনিক হিন্দ নিউজ ও মিল্লাত টাইমস, থেকে অনুবাদ করেছেন সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ..

ফরেন এক্ট আইনের আওতায় তাবলীগ জামাতের উপর আরোপিত সমস্ত বিধি নিষেধকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে এবং হরিয়ানা সরকারকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জামাতে আসা সকল বিদেশীকে দেশে পাঠানোর জন্য গতকাল সরকারকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে হারিয়ানা আদালত।

মিল্লাত টাইমসের প্রধান শিরোনাম

৫৭জন বিদেশিকে ২রাএপ্রিল তাদের হেফাজতে নিয়ে গিয়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে করোনা ছড়ানোর অভিযোগ এনে  এফআইআর দায়ের করেছিল মেওয়াত পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর-এ মহামারী ও বিদেশী আইন লঙ্ঘনের বিধানের অধীনে মামলা করা হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে। বিদেশি জামাতগুলিকে আসামী হিসাবে অভিযুক্ত করে পুলিশ সকল বিধানের অধীনে আদালতে একটি চ্যালেঞ্জ দায়ের করেন হারিয়ানা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাব্বির আহমদ কাসেমী। আইনি লড়াইয়ে মেওয়াতের নোহা জেলার তালাবন্ধায় আটকা পড়া বিদেশি জামাতগুলির বিষয়ে নোহের সিজিএম জায়ান্টের আদালত গতকাল একটি বড় রায় ঘোষণা করেছে।

আরও পড়ুন: নিজামুদ্দীন নিয়ে অপপ্রচার: সরকারকে ২সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলল সুপ্রিমকোর্ট

৫৭জন বিদেশী এবং একজন ভারতীয় তরজুমানকে ১৮৮ অনুচ্ছেদের অধীনে সরকারী আদেশ লঙ্ঘনের জন্য পুলিশ দোষি প্রমানের চেষ্টা করেছিল। গতকাল আদালত তাদের সবাইকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষনা দিয়ে মুক্তি দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ১১ জন, শ্রীলঙ্কার ২৪ জন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৫ জন, বাংলাদেশ থেকে ১১ জন, থাইল্যান্ড থেকে ৫জন এবং নেপালের একজনকে। উল্লেখ্য যে, তাবলীগী জামায়াতের এই সমস্ত লোকজন লকডাউনের আগেই মেওয়াতের বিভিন্ন গ্রামে জামায়াতে এসেছিল। তাদের মধ্যে মধ্যে স্বামীসহ পাঁচ জন বাংলাদেশী মহিলাও ছিলেন।

নোহ়া বার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভোকেট শওকত আলী আদালতে ফরেন আইন নিয়ে আদালতে আলোচনা করেন। আদালতের সামনে বিদেশি জামাতগুলিকে রক্ষা করতে তিনি বলেছেন, যে মেওয়াতের এই জামাতগুলি কোনও বিদেশী আইন লঙ্ঘন করেনি বরং পুলিশ দ্বারা আরোপিত বিদেশী আইন এবং মহামারী বিধানগুলি ভুল ছিল। তাদের কাছে মূল পাসপোর্ট এবং ভিসা রয়েছে। তারা মহামারী আইন লঙ্ঘন করেনি। সিজিএম বিশাল আদালত অ্যাডভোকেট শওকত আলীর যুক্তি বহাল রেখে সব বিধান খণ্ডন করেছেন। আদালত সরকারকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সব জামাতকে তাদের দেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

উর্দু টাইমস এর শিরোনাম

এদিকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর সভাপতি মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী বলেছেন যে বিদেশী জামাতগুলো সকল রাষ্টিয় বিধি বিধান অনুসারন করেই ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিল। তাদের সাথে ভারত সরকারের এমন আচরণে একজন মুসলিম হিসাবে আমরা লজ্জিত। বিশ্বের কাছে ভারতের উদার নীতিকে খাটো করে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এমন আচরণ। এটি আজকের নতুন ট্রেন্ড নয়। সারা দুনিয়ার লাখ লাখ মুসলমান তাবলীগের মাধ্যমে দ্বীন শিখতে নিজামুদ্দীন মারকাজে শত বছর ধরে আসছে। বছরের পর বছর ধরে একই উপায়ে তাবলীগে তারা বিভিন্ন জামাতের সাথে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে যায়, সুতরাং তাদের পক্ষে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া লজ্জা জনক ও নিন্দনীয় । তাবলীগে আসা বিদেশিদের জন্য নোহের আদালতের যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছি আমরা তার প্রশংসা করি। এটিকে আমরা গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি। করোণা নিয়ে ষড়যন্ত্রের এটি ঐতিহাসিক বিজয়ের সূচনা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: মাওলানা সাদ কান্ধলভীর কোন ক্ষতি করা হলে এর পরিনাম ভয়াবহ হবে: মাওলানা আরশাদ মাদানী

মাদানী আশা করেন, যে নোহের আদালতের মতো দেশের অন্যান্য প্রদেশের আদালত ও সুপ্রিম কোর্ট তাদের অতিথি হিসাবে বিবেচনা করবে এবং নম্র মনোভাব গ্রহণ করবে। আমরা আল্লাহর প্রসংশা করছি এমন বিজয়ে। আশা করি যে এই জামাতগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য যে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দ প্রথম থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রদেশে এই বিদেশী জামাতগুলোর জন্য তাদের দূতাবাসগুলির সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগ রেখেছিল এবং জমিয়তে ওলামা-ই-হিন্দ এবং অন্যান্য বিজ্ঞ আইনজীবীরা এই মামলার পক্ষে লড়াই করছেন। মাওলানা মাদানী বলেছেন সাম্প্রদায়িক টার্গেট নিয়ে মিডিয়া তাবলিগী জামায়াতের বিদেশী সদস্যদের করোনার ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মিথ্যা অভিযোগে দায়ী করেছিল, আমরা তা নিয়ে আইনি লড়াই করছি। সারা দেশে ১৬৮০ জন বিদেশি তাবলীগী রয়েছেন। কেবল দিল্লিতেই, বাকি ৯০৬ জন। আরশাদ মাদানী আরো বলেন, দেশের অন্যান্য প্রদেশেও রয়েছেন। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তাদের কষ্টকে দূরীভূত করতে এবং বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে তাবলীগ জামাতকে স্বমহিমায় আবার মেহনত করতে পারে।

জমিয়তে উলামা-ই-মেওয়াতের সদর মাওলানা সাব্বির কাসমী ও জমিয়াত নেতারা ২রা এপ্রিল থেকে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানির নির্দেশে, সমস্ত বিদেশী জামাতকে সহায়তা প্রদান এবং তাদের যত্ন ও প্রত্যাবাসন পক্রিয়া ও আইনী লড়াইয়ে মূল ভুমিকা পালন করেন। জমিয়ত নেতা আফতাব আহমেদ, মুফতী জাহিদ এবং শামসুদ্দিন প্রাক্তন কংগ্রেস মন্ত্রী ও নোহর বিধানসভার সদস্যগণ প্রথম থেকেই সমানভাবে এই লড়াইয়ে জড়িত ছিলেন ।

মাওলানা সাব্বির কাসমী বলেছেন যে, এ ব্যাপারে জমিয়তে ওলামার সভাপতি মাওলানা সৈয়দ দরশাদ মাদানীর সরাসরি নির্দেশে তারা কাজ করছিলেন। তিনি জানান সকল জামাতের লোকদের তাদের পাসপোর্ট এবং অন্যান্য নথি জামিয়াত উলামায়ে হিন্দ-এর দিল্লির প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে সেখান থেকে বাকি ব্যাবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন: ট্রেন থামিয়ে নিজামুদ্দীনের সাথীদের ভালবাসায় শিক্ত করলেন মাহমুদ মাদানী

এক্ষেত্রে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর সদর মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানীর নির্দেশে একদিকে দেশের অন্যান্য অংশে বিদেশী দলগুলোর প্রত্যাবাসনের জন্য প্রবাসী দূতাবাসগুলির সাথে যোগাযোগ করে তৎপরতা তীব্র করা হয়েছে। আজ মাওলানা সাব্বির কাসমি, শওকত আলী অ্যাডভোকেট ও মুফতি জাহিদ হুসেন পলাউ হোস্টেলে গিয়ে তাবলীগী জামায়াতের সকল মানুষের কাছে আদালতের রায়ের কপি ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নথি হস্তান্তর করেছেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com