মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২০, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

ঈমানী চেতনায় ফিরানো ছাড়া মুক্তির কোন পথ হতে পারে না

ঈমানী চেতনায় ফিরানো ছাড়া মুক্তির কোন পথ হতে পারে না

ঈমানী চেতনায় ফিরানো ছাড়া তাদের মুক্তির কোন পথ হতে পারে না

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

আমি রোহাঙ্গা ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে দেখেছি শত শত যুবক নামাজ বিহীন। মসজিদ বিমূখ। দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের ঈমানী চেতনা বিলুপ্ত। এমনকি যারা মসজিদে আসেন একেক নামাজের পর সবাইকে বসিয়েছি। ঈমানী মোজাকারা করেছি। তারা হাউমাউ করে কেঁদেছেন ঠিক, কিন্তু তাদের এই মসিবত থেকে উত্তোরনের কি পথ, তা তারা জানেন না।

আমি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে শত শত যুবককে দেখেছি ত্রানের জন্য লাইনে দাড়াতে। জড়ো হয়ে মানুষের কাছে হাত পাততে। সাময়িক পেটের খিদা নিবারনে ব্যস্থ থাকতে। তাদের কোন স্বপ্ন নেই। কোন নেতা বা সিপাহসালার নেই। ফলে তারা জানেনা তাদের কি করতে হবে। কি করা উচিত। তাদের আগামির দিন বদলের মেহনত কোথা থেকে শুরু করতে কবে। কিভাবে করতে হবে।

রোহিঙ্গা যুবকদের আমি জিজ্ঞাসা করেছি, এভাবে কতদিন চলবে? সামনে তোমরা কি করতে চাও? তোমাদের উপর এই যে নিপিড়ন এথেকে মুক্তির পথ কী? কোন পথে তোমাদের বিজয় আসবে? তোমরা কি করলে জেগে উঠবে? তোমাদের জাগরনের জন্য কি প্রযোজন? কোন চেতনা তোমাদের নিরাপত্তা ও শান্তি দিতে পারে?
তাদের কেউ আমাকে কোন জবাবা দিতে পারে নি! তাদের সামনের পথ জানা নেই।

দিকভ্রান্ত লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান।জীবনের লক্ষ্য অজানা। তাদের সামনে জান্নাত নেই। নেই দুনিয়ার বিজয়ের কোন পথ জানা। জানা নেই শাহাদতের মর্যাদা। তামন্না নেই জান্নাতি জীবনের। নববী পথ তাদের অচেনা। সাহাবাদের সংগ্রামের ইতিহাস তারা ভুলে গেছে। সুন্নাহ থেকে তারা দূরে। আল্লাহর কুদরতের ইয়াকীন তাদের জানা নেই। তারা জানানে এই উম্মতের সাথে বাস্তবতার খেলাফ আল্লাহর গায়বী মদদ ও নুছরতের কথা।

ফলে জীবনের মায়ায় বৃদ্ধা, নারী, শিশুদের সাথে যুবকরাও পালিয়ে এসেছে অজানা, অচেনা এক পথে। তারাও জিহাদের সম্মাননজনক জীবনের বদলে বেঁচে নিয়েছেন শরণার্থীর জিল্লতি। মরনপণ লড়াইয়ের বদলে তারা আছে তাবুতে অমানবিক এক কষ্টের লড়াইয়ে। যে লড়াইয়ের শেষ কোথায় তাদের জানা নেই…

আরকানের লাখ লাখ শরণার্থীদের মাঝে তালিম, তরবিয়ত, ঈমান, আমলের ফিকিরের পাশাপাশি দাওয়াত ও তাবলীগের হাজার হাজার সাথী জান-মালের নুসরত করেছেন।তাবলীগের দা’য়ীরা চাচ্ছেন তাদের হারানো চেতনা ফিরে আসুক। ঈমানের বারুদে তারা আবার স্ফুলিঙ্গ ছড়াক। দুনিয়াজুড়ে বৃস্তিত উম্মাহর এই দরদী কাফেলা যুগে যুগে যেখানেই উম্মত ঈমান আমলের মেহনত ভুলে বিপদের সম্মূখিন হয়েছে সেখানেই নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে দ্বীনের মেহনত করে তাদের ঈমানী চেতনাকে জাগ্রত করার চেষ্টা করেছে।

গত কয়েক বছর ধরে শিরিয়ার লাখ লাখ শরণার্থী যখন জার্মানে শরনার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিল, তখন তাদের মাঝে মুসলমানদের একমাত্র দ্বীনী কাফেলা হিসাবে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে তাবলীগ জামাত। জার্মানে শিরিয়া শরণার্থী শিবিরে মসজিদ, মাদরাসা (ধর্মিয় স্কুল) সহ দ্বীনী ও আর্থিক কাজ করছে ইউরোপ, আমেরিকা ও আরবের তাবলীগ জামাত কাজ করছে। বাংলাদেশের মতো সেখানে আলেম উলামাদের ব্যাপক ত্রান কার্যক্রম ও দ্বীনী ফিকিরের সুযোগ নেই। মজলুম মুসলমান ও তাদের সন্তানদের খ্রিষ্টান মিশনারীর হাত থেকে বাঁচাতে একমাত্র ভরসা তাবলীগের পরিকল্পিত কাজ।

গত কয়েকমাস আগে বাংলাদেশের একটি জামাত জার্মান শরণার্থীদের মাঝে কাজ করে এসেছে। তারা কারগুজারীতে বললেন, তুরস্কের লোকজন যেন সোনার মানুষ। রক্তে সাহাবাদের উচ্ছাস। তাদের এই বিপদসংকুলন মুহুর্তে দ্বীনী লাইনে একটি মেহনত করলেই, একটু ঈমানী মোজাকারা করলেই জিন্দেগীর রোখ বদলে দিতে প্রস্তুত। তারা বলছেন, তাদের পূর্বপুরুষ সাহাবাদের পথ ও দ্বীন থেকে দূরে সরে পড়ার কারনেই তাদের উপর এই মসিবত। ঈমান আর নামাজকে তারা আকঁড়ে ধরে আবার দ্বীনের পথে চলতে চান, ঈমানের বলে বলিয়ান হতে চান।

বিপদের মুহুর্তে মানুষকে আল্লাহর দিকে রুজু করা সহজ হয়। তখন তাদের দোয়া কবুল হয়। তাই দুনিয়ার মানুষের বিপদের মুহুর্তে ঈমানের কথা, রবের কথা, চেতনার কথা শুনিয়ে আল্লাহর পথে ফেরান দা’য়ীরা। বাংলাদেশের বন্যা সহ বিশ্বব্যাপি যেকোন দুর্যোগ ও মসিবতে তারা কাজ করেন পরম মমতায়। এটাই ছিল নবীদের সিফত। সাহাবাওয়ালা মেহনতের নমুনা।

“রো‌হিঙ্গা‌দের দূরাবস্থার করুণ ট্যাজিডি অ‌নেক কথা লেখা যা‌বে। এসব লেখা লে‌খে হৃদ‌য়ের কান্না বাড়‌বে বৈ কম‌বেনা। বরং এই সংকট থেকে তাদের উত্তোরনের পথ দেখাতে হবে।

খোদার কসম, ঈমানী চেতনায় তাদের ফিরানো ছাড়া, ঈমানের বলে বলিয়ান করা ছাড়া তাদের মুক্তির কোন পথ হতে পারে না। তালিম তরবিয়ত ছাড়া তাদের জীবনের মুক্তির কোন পথ দেখানো সম্ভব নয়। তাদের শুনাতে হবে, হায়াতুস সাহাবার গল্প। হেকায়তে সাহাবার জান্দাদিল সাহাবীদের আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গের সেই বিজয়ের ইতিহাস। স্থায়ীভাবে তাদের আত্মার খিদা মিঠানো প্রযোজন। এজন্য প্রযোজন তাদের পাশে থেকে দীর্ঘ মেয়াদী ঈমানী মেহনতের। যে পরিবেশ থেকে তারা বঞ্চিত যুগ যুগ ধরে।

দাওয়াতের মেহনতে, বদল হোক তাদের চেতনা। ফিরে আসুক তারা ঈমানের রাজপথে। বিজয়ের পথে, হেরার আলোতে স্বর্ণালি সূখের আলিঙ্গনে…
কবুল কর দয়া

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com