শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ছাত্র দিয়ে ভরা হচ্ছে টঙ্গীর মাঠ

প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ছাত্র দিয়ে ভরা হচ্ছে টঙ্গীর মাঠ

 

ষ্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগনিউজ বিডিডটকম।

আগামী ৩০শে নভেম্বর বৃহঃবার থেকে টঙ্গীর ময়দানে মূলধারার তাবলীগ জামাতের ৫ দিনের জোড় অনুষ্ঠিত হওয়ার  কথা।কিন্তু মাঠ দখলের জন্য সরকারের নির্দেশ অমান্য করে এখনো হাজার হাজার মাদরাসার ছাত্র এনে মাঠে প্রবেশ করানো হচ্ছে।

এই জোড়কে বানচাল করতে গত কয়েক দিন যাবত মাদরাসার ছাত্র দিয়ে সশস্ত্র পাহাড়া বসিয়েছেন তাবলীগের মূলধারাচ্যুত লোকজন।এ নিয়ে গতকাল টঙ্গীর ময়দান উদ্ধারের দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তাবলীগের সাধারণ সাথীরা।বিষয়টি গতকাল থেকেই জোড়ালো ভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।এমন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এভাবে মাদরাসার কোমলমতি শিশু-কিশোরদের লেলিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার ঝড় উঠে।

এ প্রেক্ষিতে গতকাল প্রশাসন উভয় পক্ষকে নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, রাতের ভিতর মাদরাসার ছাত্ররা ময়দান ত্যাগ করবে।কিন্তু ফের মাঠ দখলের জন্য সরকারের নির্দেশ অমান্য করে আজ  সকাল থেকে আবার হাজার হাজার মাদরাসার ছাত্র এনে মাঠে প্রবেশ করানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গতকাল রাজধানীর সোগুন বাগিচায় “ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিট (ডিআরইউ) সাগর- রুনি মিলনায়তন ‘ সাংবাদিক সম্মেলনে মূল্ধারার সাথীদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এড.ইলিয়াস মোল্লা। বক্তব্যে বলেন, তাবলীগের শতবছরের নিয়মের বাহিরে এসে একান্তভাবে বাধ্য হয়ে আজ এই সাংবাদিক সম্মেলন করতে হচ্ছে। আপনারা জানেন, তাবলীগ জামাত সারা বিশ্বের একটি শান্তিপ্রিয় অহিংস দ্বীনী অরাজনৈতিক সংঘ। দীর্ঘদিন ধরে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা দিল্লীর কেন্দ্রীয় মারকাজের অধিনে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। যার সাথে আমাদের দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সম্পর্ক।  বাংলাদেশের গর্বের ধন এই বিশ্ব ইজতেমাকে এদেশ থেকে পাকিস্তানে সড়িয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ফলে আজ আমাদের পিঠ জুলম নির্যাতন সহ্য করতে করতে একেবারে দেয়ালে লেগে গেছে।

তাবলীগের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু লোক আলেমদের ভুল তথ্যদিয়ে তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে নানান ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার করে আসছে। সারা দেশে নিজামুদ্দিন অনুসারী তাবলীগের মূলধারা সাথীদের গাশত, তালিম ও জামাতে যেতে বাঁধা দিচ্ছে। যা আমাদের নাগরিক অধিকার হনন ও ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করা ও হস্তক্ষেপের শামিল। দেশের একজন সুনাগরিক হিসাবে আমরা স্বাধীনভাবে আমাদের ধর্মীয় কাজ করতে কোন প্রকার বাঁধা ও সহিংসতা এড়াতে আমরা সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বিশ্ব ইজতেমার আগে প্রতি বছর ইজতেমা সফল করতে ৫দিনের জোড় অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী ৩০শে নভেম্বর শুক্রবার থেকে টঙ্গির ময়দানে দাওয়াত ও তাবলীগের পুরানো সাথীদের ৫দিনের জোড় অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। উক্ত জোড়ে সারাদেশের অন্তত ৬ লক্ষ তাবলীগের তিন চিল্লার সাথী অংশ গ্রহন করবেন।

আপনারা নিশ্চয় জানেন, বিগত ৬০বছর যাবৎ দিল্লীর নিজামুদ্দিন মারকাজ ও কাকরাইলের মুরুব্বীদের তত্বাবধানে এই জোড় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিগত ১বছর আগে এই জোড়ের ফায়সালা হয়েছে। বাংলাদেশের তাবলীগের মূলধারার মুরুব্বীগন এই বছরের ৫দিনের জোড় করার ব্যাপারে চুড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

কিন্তু, সম্প্রতি দুঃখজনক সংবাদ হল, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে এসেছে যে, উক্ত  ৫দিনের জোড়কে বানচাল করতে,  বিগত কয়েকদিন  যাবৎ টঙ্গীর ময়দান পাহারার নামে ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে কওমী মাদরাসার কোমলমতি ছাত্রদের লাঠি-সোটাসহ টঙ্গির ময়দানে জড়ো করা হয়েছে।

কোন সংঘাতময় কাজে এভাবে শিশু কিশোরদের ব্যবহার করা সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, মানবিক ও শিশু আইনে মারাত্বক অপরাধ, অন্যায় ও গর্হিত কাজ বলে বিবেচিত। ৫দিনের তিনচিল্লার সাথীদের জোড়ের দিন কোনভাবেই টঙ্গীতে ছাত্রদের থাকার সুযোগ নেই। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশের  তাবলীগের সাথীরা যথা নিয়মে টঙ্গীর ইজতেমার ময়দানে পৌছবে।

এতে করে যদি মাদরাসার ছাত্রদের কেউ রাজনৈতিক হীনস্বার্থে উস্কে দিয়ে সেদিন কোন প্রকার, দুঃঘটনা বা সংঘর্ষ  বা সংঘাত  ঘটায়, তাহলে  এর দ্বায়ভার অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কওমী মাদরাসা  শিক্ষাবোর্ড,  মাদরাসার উস্তাদ, মুহতামিম, কতৃপক্ষকসহ মূলধারাচ্যুত মুরুব্বিদেরই নিতে হবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com