শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

ফিরে আসুন ভাই! বুকে আগলে নিব; মুফতী নাঈম ছাহেব রহ. আপনার প্রেরণা হতে পারেন

ফিরে আসুন ভাই! বুকে আগলে নিব; মুফতী নাঈম ছাহেব রহ. আপনার প্রেরণা হতে পারেন

ফিরে আসুন ভাই! বুকে আগলে নিব;
মুফতী নাঈম ছাহেব রহ. আপনার প্রেরণা হতে পারেন
==============================
কোটি কোটি উম্মতকে কাঁদিয়ে মুফতি নাইম রহিমাল্লাহু চলে গেলেন। বাংলাদেশের হাতেগোনা গভীর ইলমি জানাশুনা ব্যাক্তি ও তাবলীগের মূলধারার সাথীরা ছাড়া এপ্রজন্মের অনেক আহলে ইলমরাও তাকে চিনেন না। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রচীণতম, সুসিদ্ধ ও বৃহৎ কওমী মাদরাসা জামেয়া বিন নূর টাউন করাচীর মুহতামিম।

তাবলীগের সাথীরা তাকে গভীরভাবে চিনতেন,কারণ তিনি প্রকাশ্যে সোজাসাপ্টা গর্বের সাথে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমীর হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দামাত বারাকাতুহুম এর ইমারতের পক্ষে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর ছিলেন। তার জীবনের শেষ ভিডিও ছিল “সাদ সাহেবের পক্ষে দাড়ানো মুসলিম উম্মাহর ঈমানী কর্তব্য”। হযরতজীর ইমারতের পক্ষে তার অসংখ্য ইলমি দালিলিক বয়ান রয়েছে।

বাংলাদেশের কতিপয় অপরিনামদর্শী আলেমরা যখন হযরতজীর ইতাআত করা সাথীদের জানাজা না পড়ার বহু তর্জন গর্জন দিয়েছিলেন, সেখানে মুফতী নাঈম সাহেবের জানাজা পড়ালেন শায়খুল ইসলাম মুফতী ত্বকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম। আর জানাজায় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল পাকিস্তানের সমকালীন ইতিহাসের বিরল ঘটনা। যা দেখে আমাদের দেশে অনেক আলেমই চমকে উঠেছেন। তিনি আবার কে ছিলেন?

মুফতী নাঈম ছাহেবের মতো এতো বড় একজন ইলমি ব্যাক্তির জন্য কোনও দুঃখ প্রকাশ নেই এক শ্রেণি তাবলীগের কর্মী ও আলেমের। আলেম আলেম বলে যারা মায়া কান্না করেন তাঁরা যে এসব দেখে না এমন না। তাঁরা দেখে এবং মানসিক দিক থেকে দুর্বল হতে থাকে মুখলিস একটি শ্রেণি।

তারা নিজেদের প্রশ্ন করেন যে, “নাইম সাহেবদের মাইনাস করে একেমন জমহুরিয়াতের কথা বলে মাঠে নামালেন আমাদের? আমরা তো জানি সারা দুনিয়ার আলেম আমাদের সাথে। কিন্তু কয়েকদিন পর পর কিছু আলেমদের মৃত্যুর খবর শুনে হাপিত্যেশ করা ছাডা উপায় থাকে না। কলা ঝুলিয়ে মুলা দেখালো কেন?”

আল্লামা ইউসুফ মুতালা রহ, পীর মুফতী ইফতেখারুল হাডান কান্ধালভী রহ. পীর হযরত মাওলানা তালহা কান্ধালভী রহ গন শুধু এক একজন ব্যক্তি নন বরং তাঁরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ভিত্তি।

এসবের প্রশ্ন গুরু ঠাকুরদের করলে সাফ বলে দেন যে, যে ইমামের পেছনে একতেদা করেন তাদেরকে বিনা প্রশ্নে একতেদা করে যান, বেশি প্রশ্ন করা নিষেধ আছে, হাশরের দিনে বলবেন উলামাদের সাথে ছিলাম,ব্যস্। যদি ভক্তরা বলে বসেন হুযুর বুঝায় দেন, প্রতিত্তোরে বলে দেন ঐটা উলামারা বুঝবেন। আপনারা শুধু শুনবেন আর মানবেন।”

এমন গাজাখুরি কথা কি শিক্ষিত শ্রেণিরা খায়? অবশ্যই খায় না। ভিতরে ভিতরে সংসয়ে টলতে থাকে।

হাটহাজারি কেলেংকারী সমূহ যখন মাঝে মধ্যে উদয় তখন সংসয় মনা সাথী ভেতরে ভেতরে ফুসে উঠে। “হায় হায়, সাধারণ একটি মাদরাসার মোহতামিম হওয়া নিয়ে কত্ত রাজনীতি, কত্ত হালুয়া রুটির ভাগাভাগি, ইনারা কেমনে তাবলীগের ইজারাদার বনে বসলো?

একদিকে এমন বাঙালি জমহুর আলেম, আর অন্যদিকে দুনিয়া জুড়ে মুফতী নাঈম ছাহেবদের মতো মুখলেস সেরে তাজ বিশ্বখ্যাত আলেমগন। কোন দিকে যাবো। উলামাদের মেনেই যদি তাবলীগ করতে হয়, তবে কি এদেরই মানতে হবে?

এমন প্রশ্ন নিয়ে বাংলাদেশের হাজারো মুখলিস শুরাওয়ালা সংশয়ে টলমল করছেন আর কেউ কেউ মূলধারায়, দেওবন্দিয়তের মূল শেকড়ে ফিরে আসার রাস্তা খুঁজছেন। ভাবছেন কোন মুখে আসবেন? কখনও ভাববেন না।

আমরা রাস্তা বন্ধ করিনি।
করবোও না।

বরং ইস্তেকবাল করে বুকে আগলে নিবো। সারা দেশে ইতোমধ্যে সে ইস্তেকবাল শুরু হয়েগেছে। কয়েকটি জেলার শুরার ফিরে এসেছেন আপন মেহনতে।দাওয়াত ও তাবলীগে।

কতোদিন হলো এক দস্তরখানায় বসি না। আলাপ চারিতায়, মোজাকারায় আপনাকে সাথীরা পায় না। ফিরে আসুন। ইউনিয়নে-হালকায় তাকাজা নিয়ে ঘুরবো ফিরবো, ইনশাআল্লাহ।

ফিরে আসুন।বুকে আগলে নিব ভাই…

আল্লাহ হক বুঝার ও হকের উপর আমাদের দৃঢ় থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com