শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
আমীরবিহীন শূরা প্রদ্ধতির বৈধতা শরীয়তে নেই: পাকিস্তানের শীর্ষ আলেমদের ঐতিহাসিক ফতোয়া

আমীরবিহীন শূরা প্রদ্ধতির বৈধতা শরীয়তে নেই: পাকিস্তানের শীর্ষ আলেমদের ঐতিহাসিক ফতোয়া

আমীরবিহীন শূরা প্রদ্ধতির বৈধতা শরীয়তে নেই পাকিস্তানের শীর্ষ আলেমদের ঐতিহাসিক ফতোয়া

জামিয়া আরাবিয়া আহসানুল উলূম বিননূর টাউন করাচির ঐতিহাসিক ফতোয়া

 

বরাবর,

ইফতা বিভাগ

জামিয়া আরাবিয়া আহসানুল উলূম বিননূর টাউন করাচি

প্রশ্ন : মুফতিয়ানে কেরাম নিম্নোক্ত মাসআলায় কি মতামত পেশ করবেন-

১. দ্বীনে শরীয়তে কি এমন কোন শূরার বাস্তবতা পাওয়া যায়, যাতে স¦য়ংসম্পূর্ণ কোন আমীর নেই, বরং পর্যায়ক্রমিকভাবে একের পর এক সিদ্ধান্তদাতা (ফায়সাল) হবে এবং সকল বিষয়ের সমাধান দিবে?

২. শরীয়তের দৃষ্টিতে আমীরই মূল নাকি শূরা যদি আমীরই মূল হয় তাহলে শরীয়তে আমীর ব্যতীত অন্য কোনো শূরা বানানোর হক রয়েছে কি?

৩. শরীয়তে আমীর হওয়ার কয়টি পদ্ধতি রয়েছে, যদি একাধিক আমীর হওয়ার কোন পদ্ধতি  থেকে থাকে তাহলে অনুগ্রহ করে সেগুলোকে স্পষ্ট করবেন কি?

৪. যদি কোন ব্যক্তি জোরপূর্বক মুসলমানদের আমীর হয়ে যায় তাহলে তাকে ইমারত থেকে সরানো বৈধ আছে কি? যদি বৈধ না হয়ে থাকে তাহলে উক্ত আমীরের ইতাআত (আনুগত্য ও মান্য করা) বৈধ কি?

৫. ফেতনার যামানায় যখন মুসলমানদের কোন দ্বীনি জামাতে মতানৈক্য হয়ে দু’দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং উভয়পক্ষেই উক্ত কাজের পুরোনো সাথী, নেককার, মুত্তাকি, পরহেযগার লোক থাকে তখন সাধারণ মুসলমানদের জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে কী কর্মপন্থা ও হুকুম হবে? তারা দু’পক্ষের কোন পক্ষের অনুসরণ এবং আনুগত্য করবে?

Ñআবু তাহের মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ

মক্কা মুকাররমা

উত্তর :

হামদ ও সালামের পর উপরে উল্লিখিত প্রশ্নসমূহের উত্তর  বোঝার আগে একটি ভূমিকা জেনে নেয়া দরকার। তারপর আমরা মূল উত্তর জানব।

জ্ঞাতব্য যে, যে কোন জামাত বা প্রতিষ্ঠানের আমীর বা শূরার নির্বাচন (চাই সেটা স্থায়ী হোক বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য) এ জন্য হয়, যেন উক্ত জামাত বা প্রতিষ্ঠানের কাজ-কর্ম (চাই সেটা রাষ্ট্রেই হোক) সর্বোত্তম পদ্ধতিতে চালানো যায় আর অধীনস্থ লোকেরা পরস্পরে মুহাব্বত-ভালোবাসার সাথে দ্রুতগতিতে কাজ চালিয়ে নিয়ে যায়, আর এরই ফলে উক্ত জামাত বা প্রতিষ্ঠান তার উদ্দেশ্যে সহজেই সফল হতে পারে, জামাতের সাথীদের মেহনত-মুজাহাদার ভালো থেকে ভালো ফলাফল বের হয়, সেই জামাত বা সংগঠন ফুলে ফলে ভরে উঠে আর উত্তরোত্তর উন্নতি লাভ করতে থাকে, সাথে সাথে অন্যদের জন্যও আদর্শ হয়।

উপরোক্ত আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আমীর হোক বা শূরা সদস্য, যদি তারা নিজের প্রসিদ্ধি এবং পদের লোভকে সামলে একনিষ্ঠতার সাথে জামাত বা প্রতিষ্ঠনের মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানের উপকারার্থে সঠিক ফিকিরে ও সঠিক পন্থায় কাজ করতে থাকে তাহলে উভয়টাই স্ব স্ব স্থানে গুরুত্বের দাবি রাখে। জামাতের লক্ষ্য হাসিলে ইঞ্জিনের কাজ দেয়, এর মধ্যে পরস্পরে একটিকে অপরটির প্রতিপক্ষের রূপ দিয়ে একটিকে ‘আসল’ অপরটিকে ‘আসল না’ বলা এবং এতে ইন্ধন দেওয়া যে কোন জামাত বা প্রতিষ্ঠানের মূল কাঠামোকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর। আর এ ধরনের কাজ বা কর্মপন্থাকে উক্ত জামাত বা প্রতিষ্ঠানকে তার মূল লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দেয়া এবং অহেতুক কাজে লাগিয়ে দেওয়ার পায়তারা ছাড়া অন্য কিছু বলে আখ্যা দেওয়া যায় না।

দাওয়াত ও তাবলীগের নামে যে তাবলীগি জামাত সকল মানুষের; বিশেষ করে মুসলমানদের (মাকসাদে হায়াত) জীবনের লক্ষ্যকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং বাস্তবে তার উপর উঠিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে, আর এ জামাত তার উন্নত উসূল ও কানুুন এবং স্বীয় লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিমগ্ন থাকার সাথে সাথে সবধরনের মতানৈক্য ও মতপার্থক্যতে পতিত হওয়া থেকে বিরত থাকা সু প্রসিদ্ধ, এরকম একটি মহৎ জামাতে আমীর এবং শূরা সদস্য এর গুরুত্বকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি করা, যার ফলশ্রুতিতে গ্রুপিং বা দলাদলি হয়ে যাওয়া খুবই আশ্চর্যজনক বিষয়। বিষয়টি আশঙ্কাজনক তো বটেই; ষড়যন্ত্রের প্রথম মারহালা অথবা কারো কুদৃষ্টির প্রভাব বলে মনে হচ্ছে, যা গভীর চিন্তার বিষয় এবং তা সংশোধনেরও দাবিদার।

উপরোক্ত ভূমিকার পর এখন আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো-

১.    আমীরবিহীন মজলিসে শূরার কোন অস্তিত্বই হতে পারে না, বরং আমীর থাকা অত্যাবশ্যক।  মজলিসে শূরা যদি স্বতন্ত্র কোন বুনিয়াদের উপর হয় আর শূরা সদস্যগণ আমীরের পক্ষ থেকে পূর্ব  ফায়সালাকৃত হয়, তাহলে তার জন্য স্বতন্ত্র বুনিয়াদের উপর আমীরও পূর্ব থেকে নির্বাচিত হতে হবে, আমীর নির্ধারণ ছাড়া প্রথম থেকেই ‘আরকানে শূরা’ বা শূরা সদস্য নির্বাচন করা, অতঃপর পর্যায়ক্রমে আমীর নির্বাচন করে করে তাকে জামাত বা প্রতিষ্ঠান চালানো বিষয়ক সিদ্ধান্তের অধিকার দেওয়া কুরআন, সুন্নাহ, পুরো ফিকহে ইসলামী ও ইসলামী ইতিহাসের কোথাও পাওয়া যায় না। কোন রাষ্ট্র , প্রতিষ্ঠান, জামাত, সংগঠন কোথাও এর কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না, এমনকি যুক্তি বা আকলও এটাকে সমর্থন করে না, এজন্য এ ধরনের কর্মপন্থা পরিত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি।

হ্যাঁ, যদি কোন সাময়িক সমস্যা দেখা দেয় এবং অস্থায়ীভাবে কোন পরামর্শের প্রয়োজন হয় যেখানে স্বতন্ত্র কোন শূরা সদস্যও নেই, তখন সমস্যা সমাধানের জন্য কারো কোন বিশেষ যোগ্যতা দেখে তাকে অস্থায়ী আমীর এবং সিদ্ধান্তদাতা নির্ধারণ করা হলে এতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু কোন জামাত বা প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় শূরা বানিয়ে জামাত চালানোর জন্য পর্যায়ক্রমে আমীর ও ফায়সাল নির্ধারণ করা ‘ইমারত আলা মিন হাজিন নাবুওয়্যাহ’ তথা নববী তরীকার ইমারত নীতিয়, অর্থাৎ আমীর বানানোর সুন্নত তরীকার খেলাফ।

২.    আমীর হলো মাথার মতো আর শূরা বা কার্যনির্বাহী কমিটি হলো হাত, পা ও অন্যান্য অঙ্গের মতো আর উভয়টিই স্ব স্ব স্থানে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমীরের কাজ হলো, যে কোন বিষয়কে ভালো ভাবে দেখবে, শুনবে, বুঝবে এবং যে বিষয়গুলো পরামর্শের দাবিদার সেগুলোর জন্য স্বতন্ত্র বা অস্থায়ীভাবে শূরা সদস্য নির্ধারণ করবে, এমনকি নির্ধারণের পরও যদি কাউকে অনুপোযোগী মনে কওে, তবে তাকে পদচ্যুত করবে, সেখানে অন্য লোককে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং পরামর্শের দাবিদার বিষয়গুলো নিয়ে সকল শূরা সদস্য বা যাদেরকে মুনাসেব মনে করে তাদের সাথে পরামর্শ করে প্রতিষ্ঠান ও জামাতের অধিক উপকারী বিষয় লক্ষ্য রেখে হুকুম প্রদান করবে, পুরা জামাতকে এর উপর চালানের চেষ্টা করবে। শূরা সদস্যগণের উপর জরুরি হলো, আমানতদারিতার সাথে রায় দিয়ে আমীরের সাহায্য করা আর অধীনস্থদের কাজ হলো, নিয়ম-কানুন মান্য করার সাথে সাথে নিজের জিম্মাদারি বা দায়িত্ব মনে করে সমস্ত হুকুম মানা, নিজেদের ব্যক্তিগত চিন্তা নিয়ে না চলা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস শরীফে এরশাদ ফরমান, তোমাদের জন্য সেই ব্যক্তির কথা শোনা ও মানা আবশ্যক যাকে আল্লাহ তাআলা তোমাদের যাবতীয় বিষয়াদির জিম্মাদার বানিয়েছেন, চাই সে হাবশী গোলামই হোক না কেন। (বায়হাকী ৬/৬৬)

অন্য হাদীসে আছে আনাস ইবনে মালেক [রাযি.] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শুনো আর মানো, যদিও তোমাদের উপর এমন কোন হাবশী গোলামকে আমীর নির্ধারণ করা হয় যার মাথা কিসমিসের মতো। (সহীহ বুখারী, পৃষ্ঠা ১৩৩)

আরেক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে

জামাতকে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্নতা পরিত্যাগ করো। কেননা একাকী ব্যক্তির অপরজন শয়তান হয়ে থাকে।

এ সামান্য ব্যাখ্যার পর প্রত্যেক বিবেকমান মানুষের কাছে একথা স্পষ্ট হয় যে, আমীর এবং তার হুকুম মান্য করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এটাও স্পষ্ট হয় যে, আমীর আসল আর বাকি লোকেরা চাই শূরা সদস্যই হোক না কেন আমীরের আদেশের অধীনস্থ। এজন্য আমীরের ফায়সালার পর কোন শূরা সদস্যের আলাদা করে শূরা বানানো অনধিকার চর্চা ও শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ হওয়া ছাড়াও যে কোন জামাতের জন্য ক্ষতিকর ও প্রাণনাশকারী বিষের সমতুল্য

৩.    নববী সীরাত ও ইতিহাসের যাবতীয় কিতাব অধ্যয়ন করে খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে আমীর বানানোর কয়েকটি পদ্ধতি আমরা দেখতে পাই। যথা :

১ম পদ্ধতি : সব মানুষ এক ব্যক্তির ব্যাপারে একমত হয়ে তার হাতে বায়আত করবে এবং তাকে আমীর নির্ধারণ করে নিবে যে, আজ থেকে তিনি আমাদের আমীর। যেমন : হুজুর সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর সকল সাহাবা [রাযি.] প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর [রাযি.] এর উপর একমত হয়েছিলেন।

২য় পদ্ধতি : আমীর নিজেই কাউকে যোগ্য ও পুরো জামাতের জন্য উপযোগী হওয়ার ভিত্তিতে নিজের পর আমীর নির্ধারণ করবে, যাতে প্রতিষ্ঠান ও জামাতে বিশৃঙ্খলা না হয় । যেমন : হযরত আবু বকর [রাযি.] ইন্তেকালের পূর্বে হযরত উমর [রাযি.] কে মুসলমানদের আমীর বানিয়ে ছিলেন।

৩য় পদ্ধতি : আমীরের ইন্তেকাল হয়ে যাওয়া বা এরকম কোন পরিস্থিতিতে ‘আহলে হল ওয়াল আকদ’ [গণ্যমান্য ব্যক্তিরা] পরস্পরে পরামর্শ করে কোন এক ব্যক্তিকে পুরো জামাত বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো মনে করে আমীর নিযুক্ত করবে। যেমন : হযরত উমর ফারুক [রাযি.] ইন্তেকালের পূর্বে কয়েকজন সাহাবীর একটি জামাত বানিয়েছিলেন যারা তার ইন্তেকালের পর পরামর্শ করে আমীর নির্ধারণ করবে।

সুতরাং সাহাবায়ে কেরামের সেই জামাত উমর [রাযি.] এর ইন্তেকালের পর হযরত উসমান গনী [রাযি.] কে মুসলমানদের আমীর নির্ধারণ করেন।

৪র্থ পদ্ধতি : যদি জোরজবরদস্তি করে কোন ব্যক্তি মুসলমানদের আমীর হয়ে যায় আর মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেয়, তখন যদি তাকে সরানোর দ্বারা বিশৃঙ্খলা বা পুনরায় জামাতের ক্ষতি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে তাহলে তাকেই আমীর মেনে নিতে হবে। যেমন : দুররে মুখতারে আছে, ইমাম দু’ভাবে হয় : (১) গণ্যমান্যদের বায়আত হওয়ার দ্বারা, (২) ইমামের হুকুম, তার দাপট ও প্রভাবের ভয়ে প্রজা/অধীনস্থদের মধ্যে বাস্তবায়ন হয়, আর যদি লোকেরা এমন ইমামের হাতে বায়আত হয় যার প্রভাবে ত্রুটির কারণে তার হুকুম বাস্তবায়ন হয় না তাহলে সে ইমাম হিসেবে গণ্য হবে না। সুতরাং যদি সে ইমাম হয়ে যায়, অতঃপর জুলুম করে আর তার শক্তি ও সামর্থ থাকে তাহলে সে অপসারিত হবে না। কেননা শক্তি প্রয়োগ করে সে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসতে পারে। সুতরাং এতে কোন ফায়দা নেই। (৪/২৬৩)

রদদে মুহতারে আছে, বাইআতের মাধ্যমে যেমন ইমাম হয় তেমনিভাবে পূর্ববতী ইমাম কতৃক খলিফা বানানোর দ্বারাও ইমাম হয়ে যায়। এমনিভাবে জোরপূর্বক ও প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়েও ইমাম হয়ে যেতে পারে। যেমন : শরহুল মাকাসেদে উল্লেখ রয়েছে, মুসায়ারাতে উল্লেখ রয়েছে, ইমাম গঠন খলিফার নিজের পক্ষ থেকে কাউকে নির্ধারণের দ্বারা হয়, যেমন হযরত আবু বকর [রাযি.] করেছেন, অথবা উলামা বা গুণীজনদের এক জামাতের বাইআতের দ্বারা হয়। (৪/২৬৩)

৪.    যদি কেউ জোরপূর্বক মুসলমানদের আমীর হয়ে যায় এবং তাকে সরালে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দেয় তাহলে অনন্যোপায় হয়ে তাকে মান্য করা হবে। তবে যদি তার কোন সিদ্ধান্ত কুরআন-সুন্নাহ ও দ্বীনের বিরোধী হয় তাহলে শুধু ঐ বিষয়টিকে মানা যাবে না।

ফতোয়ায়ে শামীতে আছে, সুতরাং যখন সে ইমাম হয়ে যায় এবং জুলুম করে, যদি তার শক্তি-সামর্থ থাকে তাহলে সে পদচ্যুত হবে না। কেননা শক্তি ও দাপটের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার চলে আসতে পারে, এজন্য এটা উপকারী নয়। (৪/২৬৩)

এমনিভাবে কুতবুল মিল্লাত হযরত শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভী [রহ.] তার সুপ্রসিদ্ধগ্রন্থ হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাতে লিখেন, …অতঃপর যদি কোন ব্যক্তি এ সমস্ত গুণে গুনান্বিত না হয়, তবে লোকদের উপর বিজয়ী হয়ে যায় তাহলে এমন ব্যক্তির উপরও দুঃসাহস দেখিয়ে বিরোধিতা না করা চাই, এজন্য যে, (প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে,) ঐ ব্যক্তি লড়াই-ঝগড়া ছাড়া খেলাফত (ইমারত) থেকে পদচ্যুত হবে না, আর এ বিশৃঙ্খলা ইমারতের ঐ উপকারিতার মোকাবেলায় বেশি ভয়াবহ যা ইমারতের দ্বারা হাসিল হবে। কোন এক সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে আরজ করলেন, আমরা কি সেসব ফাসেক-ফাজের ইমামদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না! যতক্ষন সে তোমাদের মাঝে নামাজ কায়েম রাখে। তিনি আরো বলেছেন, হ্যাঁ, ওই সময় (যুদ্ধের হুকুম হবে) যখন তোমরা তার মধ্যে স্পষ্ট কুফর দেখতে পাও, আর তার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এর দলীল থাকে।

যেমন সহীহ বুখারীর এক হাদীসে আছে, ইবনে উমর [রাযি.] হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, স্বীয় আমীর ও তত্ত্বাবধায়কের কথা শোনা আর মানা অত্যাবশ্যক, যতক্ষণ কোন গোনাহের হুকুম না দেওয়া হয়, যখন সে কোন গোনাহের হুকুম দেয় তখন তার কথা শোনা ও মানা যাবে না।

যেমনটি ফতোয়ায়ে শামীতে উল্লেখ রয়েছে, ইমামের ইতাআত করা ওয়াজিব, চাই সে ন্যায় নিষ্ঠাবান হোক বা জালেম হোক, যতক্ষণ সে শরীয়তের বিরোধিতা না করে।

৫.    যতক্ষণ বিবদমান দুই জামাত এক না হবে ততক্ষণ সাধারণ মুসলমানদের উচিত, উভয় জামাতকে পুরোপুরি সম্মান করা। কারো বিরুদ্ধে মুখ খোলা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকা। এ ধরনের বিশৃঙ্খলার সময় পরস্পরে মতানৈক্য ও নিজের বুঝের উপর সিদ্ধান্ত না করে কেন্দ্রীয় আমীর ও জামাতের অনুসরণ করা। অহেতুক গিবত-শেকায়েত, হিংসা-বিদ্বেষ ও বড়দের দোষচর্চা পরিহার করে নিজেদের কাজে মনোযোগ দেওয়া। এতেই দ্বীন-দুনিয়ার হেফাজত রয়েছে।

মুফতি মুহাম্মদ নাঈম

মুহতামিম, জামিয়া আরাবিয়া আহসানুল উলূম বিননূর টাউন করাচি

২৫ জুুমাদাল উলা, ১৪১৪ হি.

২১ জানুয়ারি ২০২০ খ্রী

 

সত্যায়ন

মুফতী যারওয়ালী খান

মুফতীয়ে আজম পাকিস্তান

২৫ জুুমাদাল উলা, ১৪১৪ হি

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com