শুক্রবার, ১৮ Jun ২০২১, ০৯:২৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজ এডমিনদের নিয়ে মাশোয়ারার  বাংলাদেশে আরবি বিস্তারের মহানায়ক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা) দেওবন্দে গেলেন হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. মনসুরপুরীকে নিয়ে সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনি নদভির স্মৃতি চারণ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম আমার একান্ত অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম : মাহমুদ মাদানী মানসুরপুরীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের গভীর শোক প্রকাশ দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম সাইয়েদ কারী মাওলানা উসমান মানসুরপুরী আর নেই
প্রসঙ্গ ৭১ থেকে ২০২০ কওমীঙ্গন: ইতিহাসের এক মহানায়ক

প্রসঙ্গ ৭১ থেকে ২০২০ কওমীঙ্গন: ইতিহাসের এক মহানায়ক

প্রসঙ্গ ৭১ থেকে ২০২০ কওমীঙ্গন:
ইতিহাসের এক মহানায়ক

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ : একজন বিদগ্ধ আলেম আল্লামা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ। যিনি ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী( রহঃ) এর সুযোগ্য খলিফা। দারুল উলুম দেওবন্দের সুর্য সন্তান তিনি। আজকের দিনে আল্লামা মাসউদের নামটি আমি আবার পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করতে চাই।

গতকাল দীর্ঘ ৫মাস পর আবার কওমী মাদরাসা সরকারী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুলে দেয়া হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার ইতিহাসে এতো দীর্ঘ সময় সর্বত্র কওমী মাদরাসা বন্ধের নজির নেই। কওমীর ২২লাখ ছাত্রেরশিক্ষা জীবন এক বিরাট বিপর্যয়ে পতিত হয়েছিল। লাখো কওমী উস্তাদ বেকারত্ব আর অভাবের গ্লানীতে চরম মানবতার জীবন যাপন করতে চেয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা এর সার্বিক দিক নির্দেশনা ও পরামর্শে বাংলাদেশ সরকার স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রেখেই দেশের সকল কওমী মাদরাসা খুলে দিয়েছে।

দেশের দূর্নীতিগ্রস্থ পচনধরা বোর্ড বেফাক বারবার কোন কাজ না করে ক্যাডিড নিতে চাইলেও এবার সে পথ রুদ্ধ হয়েছে। গতকালের প্রজ্ঞাপনের শুরুতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ (জাতীয় দ্বীনী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ) এর আবেদনের পেক্ষিতে ‘স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করে নিম্নে বর্ণিত শর্তে (প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বিভাগের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে) বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ (জাতীয় দ্বীনী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ) এর কওমী মাদরাসাসমূহের কিতাব বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু ও পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।’

বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ (জাতীয় দ্বীনী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ) এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা। তার নির্দেশনায়ই জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সহ-সভাপতি ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ ও মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ এবং বোর্ডের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা মুুজিবুর রহমানসহ অনন্যরা সরকারের উচ্চমহলে যোগাযোগ করে কওমী মাদরাসা খুলার ব্যাবস্থা করেন।

এটাই ইতিহাস। তিনি কাজ শুরু করেন। পরে অন্যরা সে পথে হাঁটেন। তিনি গাছ লাগান, অন্যরা ফল ভোগ করেন পরম তৃপ্তির সাথে। তিনি যা কয়েক বছর আগে চিন্তা করেন, তার বিরোধিতাকারীরা সমালোচনার তীর নিক্ষেপ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে সে কাজেই ঝাঁপ দেন নিঃসংকোচে একটা সময় পর। তিনি যা আগে বুঝেন, অন্যরা বুঝেন ঠিকই তবে তা কয়েক বছর পরে।

আল্লামা ফরিদউদ্দীন মাসউদ হাফিজাল্লাহ অনেক দিন আগে আপনি বলেছিলেন, মানুষ একদিন আমাকে বুঝবে ,যেদিন মানুষ ওদের আসল চেহারা দেখতে পাবে । আমি তো আগেই আমার সমালোচকদের ক্ষমা করে দিয়েছি।

তিনি কাজ শুরু করেন আর আবেগী, হুজুগী মৌলবীর দল তখন বুঝে না বুঝে তার কাজের বিরোধীতা করাকেই কাজ মনে করেন। কিছুদিন পর সেই বিরোধীতাকারীরা আবার তার দেখানো পথেই চলতে থাকেন। তার কাজটা শত বাঁধা প্রতিকূলতা আর সমালোচনা ডিঙ্গিয়ে সফলভাবে হয়ে গেলে, এর ফায়দা লুটতে জমহুরদের তখন পিছিয়ে থাকতে দেখা যায় না আবার এরাই কয়েকদিন পর নিমকহারামের মতো তার বিরোদ্ধে লাগামহীন অপপ্রচার ও মিথ্যাচার শুরু করে গুরুদের নির্দেশে।

বলছিলাম, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা.-এর কথা। তিনি যখন ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়, দেশের স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করেন। তিনি কওমীর এমন এক মনীষা যার জীবন যৌবন নির্স্বাথ কওমীর জন্য বিলিয়ে দেয়েছেন।

দেশ স্বাধীনের পর রাজধানীর অধিকাংশ মাদরাসা-মসজিদ যখন বন্ধ ছিল, তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আমরা তো মুক্তযুদ্ধ করেছি। পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, জিতেছি। তাহলে মাদরাসা বন্ধ হয়ে থাকবে কেন? মসজিদে আজান হবে না কেন? বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, মসজিদে আজান দিন, মাদরাসার দরজা আপনারা খুলে দিন। আমরা মুসলমান। হযরত কাজী মুতাসিম বিল্লাহ রহ. ও আল্লামা ফরীদ মাস্ঊদ তখন পায়ে হেঁটে হেঁটে আলেমদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। মসজিদ ও মাদরাসার দরজা খুলে দেন। এই সত্যাসত্য গল্পের পরতে পরতে আছে আল্লামা মাসঊদের অবদান। বাংলার জমহুর আলেম সমাজকে ঘুরে দাঁড়াতে একজন সিপাহসালার ছিলেন আল্লামা মাসঊদ।

আজকের ২০২০সালে বাংলার জমহুরদের পতনের বেলাভুমি থেকে টেনে তুলতে মহান সিপাহসালার হয়েই ভূমিকা রাখলেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

আল্লামা মাসঊদ যখন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দাওয়াত দিয়ে এনে কওমি সনদের জোড় দাবী জানালেন। তখন কওমির সেই জমহুর আলেমদের পক্ষ থেকে বৃবিতি এল, “স্বীকৃতি দিলে লাখ লাখ লাশ পরবে।” অবশ্য এতে আল্লামা মাসঊদ পিছপা হননি। স্বজাতির কাছ থেকে এমন বাঁধা তিনি সর্বদাই অতিক্রম করেছেন। তাই আপনাদের জমহুরিয়তের ঠুনকো হুংকারকে পরোয়া না করে আল্লামা মাসউদ তার কাজ শুরু করলেন। পরে হল কী! আপনারা ঠিকই অর্থাৎ যারা বিরোধী ছিলেন তারাই আবার তার সাথে, তার দেখানো পথে গনভবনে সদলবলে গেলেন, খেয়ে দেয়ে, হেসে মেতে কওমি সনদের সরকারী স্বীকৃতি নিয়ে এলেন। এখন সেই ফল ভোগে আপনারা জমহুররাই আনন্দ মিছিল করেন রাজপথে। মধ্যখানে খামাকা তাঁর বিরোধীতা করে আবোল তাবোল পাগলের প্রলাপের মতো দালাল দালাল বলে তাকে গালাগালি করে নিজের ঈমান আমলের ক্ষতি করলেন।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে যে যাই বলুন, তিনি একজন প্রাজ্ঞ আলেম। এটা তো আপনারা সবাই মানছেনই। তার চিন্তার ধারে কাছে এদেশে বিচক্ষন আরেকজন আলেম নেই তার মত। এও বলেন আপনারাই। তাই তাকে কখনো পরাজিত হতে হয় নি।

তিনি যখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একলাখ আলেমের ফতোয়া নিয়েছেন তখন এই জমহুর আলেমরাই তাকে দালাল বলে চিহ্নিত করেছেন। গুলশানের ঘটনার পর সবাই স্বীকার করেছেন, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ যদি একলাখ আলেমের ফতোয়া না নিতেন তবে সম্পূর্ণ দোষ প্রথমেই চলে আসতো মাদরাসাগুলোর উপরে। তিনি জঙ্গিবাদের তকমা থেকে এবং কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে দেশি বিদেশিদের চক্রান্তকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তার সংগৃহিত এ ফতোয়ার কারেণই সরকারের উচ্চ মহল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন ‘কওমি মাদরাসয় জঙ্গি নেই’ একথা বলতে বাধ্য হয়েছে। পরে অাবার আপনারা আপনাদের কাজ করলেন। কী করলেন! যে জঙ্গিবাদ বিরোধী ফতোয়ার জন্য আল্লামা মাসঊদকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করলেন, সেই আপনারাই কিছুদিন পর বেফাক আর হেফাজতের পক্ষ থেকে গরীবের লাখ লাখ টাকা লুট করে ও উচ্চ মহলের উপটোকন নিয়ে অবশেষে জঙ্গিবাদ বিরোধী মানববন্ধন, সভা, সমাবেশ, মিছিল করলেন সারা দেশে। শেষে বুঝেছেন। তবে একটু পরে, জল ঘোলা করে।

শাপলা চত্তরে যেদিন হেফাজতের সমাবেশ। সেদিন হেফাজতের তের দফায় জামাত কানেকশনের অভিযোগে আল্লামা মাসউদ তের দফার সঙ্গে জামায়াত বিরোধীতার কথা উল্লেখ করে তাদের সতর্ক করেছিলেন। ফলাফলে তারা আল্লামা মাসঊদকে বানাল হেফাজত বিরোধী। পরে শাপলার ক্রাকডাউনের পর হেফাজত নেতাদের আন্ডারগ্রাউন্ড লেনদেনের পাল্টা পাল্টি বক্তব্য কিন্তু ঠিকই বেরিয়ে আসে। বেরিয়ে আসে জামায়াত কিভাবে কিছু মোনাফেকদের ব্যবহার করেছিল সেদিনের সমাবেশ। জমহুর আলেমদের ব্যবহার করে হেফাজতের লাশের সিঁড়ি বেয়ে ক্ষমতায় যেতে চেয়ছিল এই স্বাধীনতা বিরোধীরা ।

অথচ, হেফাজতের উপর সারা দেশে হাজার হাজার মামলা আজ আল্লামা মাসঊদের প্রচেষ্টাতেই নিস্ক্রিয়। এ কথা স্বীকার না করলেও কোনও সমস্যা নেই। ইতিহাস এটাই। এটা সংরক্ষিত থাকবে।

আল্লামা আহমদ শফি দা.বা. শাপলা চত্বরের ঘটনার পরে জামায়াত-বিএনপি জোটের খপ্পর থেকে তার পরামর্শে বেরিয়ে এদেশের অসংখ্য মাদরাসাকে যেভাবে রক্ষা করেছিলেন, তেমনি আল্লামা মাসঊদ সর্বদা জাতীর অতন্দ্র প্রহরীর হয়ে হাজারো বিরোধীতার স্লাইকোনের মোকাবেলায় রক্ষা করেছেন আলেম, উলামা এবং মাদরাসাগুলোকে।

সৈয়দ মবনু ভাইয়ের ভাষায়, ”মাওলানা মাসঊদের মধ্যে আমি দেখি স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বিচক্ষনতা ও যোগ্যতা”। মাওলানা আজাদকে নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকার পরও এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, তিনি ভারতের জন্য যে শিক্ষানীতি ও পদ্ধতি চালু করেছিলেন তা গোটা ভারতবর্ষের কোন দেশ’ই আজ পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারেনি। আমার বিশ্বাস! মাওলানা মাসঊদ কওমী মাদরাসার জন্য এমন একটি সিলেবাস তৈরির যোগ্যতা রাখেন যার মধ্যে ঈমান-আকিদা যেমন পূর্ণাঙ্গরূপে থাকবে, তেমনি থাকবে দুনিয়ার সাথে প্রতিযোগিতা করার মতো যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা।

এভাবেই আল্লামা মাসঊদের দেখানো পথেই বাংলাদেশের জমহুর আলেমরা বারবর হেঁটেছেন বা হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। আজকেও হাটছেন আগামিতেও তার দেখানো পথেই এই গলাবাজরা হাটবেন। কারন তিনি চিন্তাশীল সৎ আলাহওয়ালা, আর আপনাদের নেতারা অপরিনামদর্শী ও অসৎ। আর আল্লাহর গায়বী মদদ নুসরত সততা আর আমানতদারীর সাথে।

আল্লামা মাসউদ সাহেবের এমন কিছু ঈর্ষনীয় গুনাবলী রয়েছে, যা এই বাংলাদেশের বর্তমান আলেম সমাজের কারো নেই। তিনি এমন কিছু প্রতিভা নিয়ে এই পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ করেছেন, যা কল্পনাতীত।

এক, তিনি তুখোড় মেধাবী একজন আলেম, ছাত্র জীবন থেকে তিনি অসম্ভব মেধার অধিকারী ছিলেন। দারুল উলুম দেওবন্দের এ যাবত কালের সব চেয়ে মেধাবী মুখ তিনি। তাঁর তীক্ষ্ন মেধার কাছে কেউ মুখ তোলার মত কোন ছাত্র সে সময় ছিল না। আজো পর্যন্ত তাঁর মত বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী আলেম এদেশে বিরল। ছাত্র জীবনেই দেওবন্দের উস্তাদদের থেকে তিনি গভীর ভালবাসা লাভ করে ছিলেন। সেই থেকে আজো পর্যন্ত ফরীদ উদ্দিন মাসউদ সাহেবের দারুল উলুম দেওবন্দের সাথে নিবিড় সম্পর্ক। এখনো দারুল উলুম দেওবন্দের উস্তাদগণ বাংলাদেশী আলেমদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মুল্যায়ন করে ফরীদ সাহেব কে।

দুই,, তিনি স্পষ্টবাদী। হক হক্কানিয়্যাতের উপর অটল অবিচল থাকেন সব সময়। বাতিলের ব্যাপারে আপোসহীন। কখনো বাতিলকে প্রশ্রয় দেন না। এদেশে যত বাতিল শক্তি আছে, সকল বাতিলের ব্যাপারে তাঁর বলিষ্ঠ কন্ঠ গর্জে ওঠে।

তিন,, ফেরকায়ে মওদুদীয়্যাত এর ব্যাপারে ফরীদ সাহেব কোন সময় নমনীয় হন না। মওদুদী মতবাদ এবং তার অনুসারীদের ব্যাপারে ফরীদ উদ্দিন মাসউদ সাহেবের স্পষ্ট বক্তব্য। ফেরকায়ে মওদুদীয়্যাত ও তার অনুসারীদের চরম বিরোধীতা করেন।আমাদের দেশের কোন কোন আলেম মওদুদীয়্যাতের ব্যাপারে নমনীয় হলেও, ফরীদ সাহেব কখনো নমনীয় নয়।

চার,, তিনি বহু গ্রন্হ প্রণেতা,, আল্লামা মাসউদের লিখনীতে সাংঘাতিক ধার। একজন নামকরা কলম সৈনিক তিনি। তাঁর লেখা অনেক বই রয়েছে। তিনি ছাত্র জীবন থেকে লেখালেখি করেন। তাঁর বইয়ের প্রসংসা সর্ব মহলে।আল্লামা মাসউদ সাহেবের আরবী ভাষায় লেখা একটি কিতাব বর্তমান মিশরের খ্যাতনামা বিশ্ব বিদ্যালয় জামেয়া আজহারে পড়ানো হচ্ছে।তার লিখিত অনেক বই বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

পাঁচ,, তিনি একজন খ্যাতিমান শায়খুল হাদীস,, যেরকম তিনি মেধাবী আলেম, আবার তিনি জাঁদরেল মুহাদ্দিস। তাঁর দরসের মান এত উচ্চ পর্যায়ের, যারা তাঁর দরসে বসেছে, একমাত্র তারাই বলতে পারবে। বর্তমান সময়ে এমন প্রখর পান্ডিত্যের অধিকারী আলেমের সংখ্যা বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। কী আরবী সাহিত্যে কী উর্দু আর কী বাংলা ভাষা সাহিত্যে! সর্বত্র তার সমান দখল। তিন ভাষায় তিনি কিতাব লিখেছেন। তার লিখিত কিতাবের উর্দু তরজমা করেছেন মুফতী ত্বকী উসমানী দা.বা.। তিনিই একমাত্র ব্যাক্তি যখন ইসলামি ফাউন্ডেশনের মহা পরিচালক ছিলেন তখন আমাদের আকাবিরদের লেখা শত শত ইলমি ও ঐতিহাসিক কিতাব বাংলা অনুবাদ করিয়ে সরকারীভাবে প্রকাশ করেছেন।

ছয়,, তিনি একজন সু বক্তা,, হাদীসে আছে, “ওয়া ইন্না মিনাল বয়ানে লা ছিহরা” কিছু লোকের বয়ান আছে,জাদুর মত”। ঠিক আল্লামা মাসউদ সাহেবের বয়ন গুলো জাদুর মত। যেই তাঁর বয়ান শুনবে, সে তাঁর ভক্ত হয়ে যাবে। বাঙ্গালী আলেমদের মধ্য এতো সুন্দর ভাষায় গুছালো কথা বলা আলেম বিরল। গনভববে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে যখন তিনি কওম আর কওমী নিয়ে বক্তব্য দেয়া শুরু করলেন তখন একমাত্র তার কথা বলার সময় জমহুর সকল আলেমরা আবেগে উচ্চাসিত মারহাবা মারহাবা দেয়া শুরু করলেন।

সাত,, তিনি একজন খাঁটি আল্লাহর ওলী, ইলমে তাছাউফের লাইনে তিনি চরম শিখরে। সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী( রহঃ) থেকে খেলাফত লাভ করেছিলেন। জুহদ, মুজাহাদায় শীর্ষে তিনি। বহু তাঁর গুণ গ্রাহী, শুভাকাংখি। তিনি তার দুষমনকে ক্ষমা করে দেন, তীল পরিমান প্রতিষোধ নেননা সুযোগ থাকার পরেও। তিনি তার বিরোধীদের উপর বারবার দয়া ও এহসানের হাত প্রসারিত করেন। তিনি তার সমালোচক কোন ব্যাক্তির গীবত করেন না। একমাত্র তার জন্য দেওবন্দের মাদানী মঞ্জিল ফেদায়ে মিল্লাতের খাছ খামরা খুলে দেয়া হয়। শায়খের বিচানায় থাকে থাকতে দেয়া হয় পরম সম্মানের সাথে।

আট, আকাবির আছলাফের বাস্তব নমুনা তিনি। আকাবির দেওবন্দ যেভাবে চলেছেন, ঠিক সেই পদাঙ্ক অনুসরণে আল্লামা মাসউদ। এখনো পর্যন্ত দারুল উলুম দেওবন্দের ওলামায়ে কেরাম বলে থাকেন, বাংলাদেশে দেওবন্দীয়্যাত বোঝার মত আলেম দুইজন, একজন আল্লামা কাজি মু’তাসিম বিল্লাহ, আরেকজন আল্লামা মাসউদ।তাই দেওবন্দের শতবার্ষিকী সম্মেলনে বাংলাদেশের হাজারো আলেমের বিরোধীপূর্ণ দস্তখতকে প্রত্যাখান করে দারুল উলুম দেওবন্দ বাংলাদেশ থেকে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে সম্মানীত অতিথি করে মর্যাদাবান করে।

নয়,, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লাখো আলেমের ফতোয়া ,, আল্লামা মাসউদ সাহেব সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে লাখো আলেমের ফতোয়া সংগ্রহ করেছেন। যে ফতোয়া বিশ্বব্যাপি সমাদৃত হয়েছে। আলেমদের উপর থেকে জঙ্গীবাদের তকমাকে স্থায়ীভাবে মুছেছেন।

দশ,, মুসলিম জাহান সহ গোটা দুনিয়ার ইসলামী স্কলারদের মধ্যে তাঁর ব্যাপক গ্রহন যোগ্যতা রয়েছে। বাংলাদেশী আলেম হিসেবে তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যার অল বিশ্বের ইসলামী স্কলারদের সাথে বিশাল সখ্যতা।আল্লামা ফরদ উদ্দীন মাসঊদ একজন বিশ্ব বিখ্যাত আলেমেদ্বীন ও উম্মাহর রাহবার। তাকে সম্মানসূচক খানায়ে কাবার ভিতরে নামাজ পরার মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তার লিখিত কিতাব মিশরের আল আজহার থেকে আরবীতে প্রকাশিত হয়েছে। তাকে দেখলে তাবলীগের বিশ্ব আমীর হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. জড়িয়ে ধরে আবেগে কপালে চুমোখান। তার মর্যাদা বিশ্বব্যাপি। গোটা মিল্লাত তাকে মান্য করে পরম শ্রদ্ধার সাথে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com