বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

সীরাত দাঈ জীবনের একমাত্র আর্দশ

সীরাত দাঈ জীবনের একমাত্র আর্দশ

সীরাত দাঈ জীবনের একমাত্র আর্দশ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ, প্রতিটি নড়াচড়া ও ইশারা, সর্বোপরি জনতায় ও নির্জনতায় তাঁর একেকটি ভাব ও ভাষার নমুনা পৃথিবীতে রয়েছে! রাসুলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবুওয়াতি জীবন, আমলি জিন্দেগী, তায়াল্লুক মায়াল্লা, তাকওয়া, দাওয়াত, জীহাদ, খেলাফতের প্রতিটি মুহুর্ত সীরাতে বিদ্যমান। তাঁর উঠাবসা, চলাফেরা, জীবনযাপন, পোশাক-পরিচ্ছেদ, খানা-পিনা ও চেহারা-সূরত ইত্যাদি সকল কিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা সীরাতের পাতায় পাতায় রয়েছে। সীরাত সংকলকগণ অত্যন্ত আমানতদারির সাথে তা সংরক্ষণ করেছেন এবং আজো সীরাতের সংকলন, চর্চা ও অধ্যয়ন অব্যাহত রয়েছে।
দাঈ জীবনের মূল আর্দশই হলো সীরাতের অনুসরণ করে কদম কদম পথ চলা। দাওয়াতবও তাবলীগের বর্তমান বিশ্ব আমীর শায়খুল আরব ওয়াল আজম, শায়খুল হাদীস হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলভী দা.বা. বলেন, প্রত্যেক মেহনতই সফল হবে না, বরং ঐ মেহনত সফল হবে যার মিল রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মেহনতের সাথে মিল থাকবে। আর সকল মেহনত ওয়ালাই কামিয়াবী হবে না, বরং সে ব্যাক্তিই সফলকাম হবে যার জিন্দেগীর মিল রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জিন্দেগীর সাথে মিল থাকবে। আর রাসুলের জীবনের সাথে মিল রেখে অনুসরন করে চলার নামই হলো সীরাত। তিনি আরো বলেন, কাজকে (দাওয়াতি মেহনত) সীরাতের উপর চালাও।
উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত যে, সীরাতে নববী সর্বযুগীয় একটি মু‘জিযা। সীরাতে নববী আল্লাহ তায়ালার হিকমত ও প্রজ্ঞার নিদর্শন এবং কুরআনে কারীমের জীবন্ত ব্যাখ্যা। কুরআনের যে কোনো ধরনের আয়াত আপনি নেবেন তাতেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পয়গাম্বরী সীরাত ও তার নবুওতী মাকামের নমুনা দেখতে পাবেন। এই বাস্তবতাকেই মা আয়েশা রাযি. নিজের ভাষায় বর্ণনা করেছেন- كان خلقه القرآن -মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৫৩০২
আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে মুসলমানদেরকে রাসূল ও রিসালাতের উপর বিশ্বাস স্থাপনের সাথে সাথে তার পূর্ণ অনুসরণ ও আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর ও রাসূলের আনুগত্য কর এবং সতর্ক হও; যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে জেনে রাখ যে, স্পষ্ট প্রচারই আমার রাসূলের কর্তব্য।-সূরা মায়িদা আায়াত নং ৫
” বল, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর।-সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ৩
হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ রহ বলতেন, সীরাত চর্চা ও সীরাতের অনুসরণ যখন তোমরা ছেড়ে দিবে তখন তোমাদের কাজ রুছুম রেওয়াজে পরিণত হবে। বিহ্যিক ইসলামের নাম থাকলেও ভিতরে তা প্রাণহীন নির্জিব হয়ে পড়বে। এজন্য সকল কাজে সীরাতকে সামনে রেখে চলাই হলো আমাদের কাজের বুনিয়াদী উসুল। ”
কেন সীরাতকে অনুসরণ করব? আমরা যখন সীরাত অধ্যয়ন করব তখন জানতে পারব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন ছিলেন একজন সৎ ও বিশ্বস্ত মানুষ, তেমনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠতম দাঈ ও অভিভাবক। কেমন ছিল তার জীবনাচারআও আখলাক। কপমন ছিল শত্রুু ও মিত্রের সাথে ব্যাবহার। কেমন ছিল দাওয়াতি ভাষা, মেজাজ ও কর্ম কৌশল। তিনি যেমন ছিলেন একজন ধৈর্যশীল ও শোকরগুজার বান্দা, তেমনি ছিলেন বিরাট শান ও মর্যাদার অধিকারী এক মহাপুরুষ। যেমন ছিলেন একজন উত্তম ও অকৃত্রিম বন্ধু, তেমনি ছিলেন একজন আদর্শ পিতা ও স্বামী। যেমন ছিলেন ইবাদতগুজার ও রাত জাগরণকারী, তেমনি ছিলেন মুজাহিদ ও সফল সেনাপতি। তিনি ছিলেন এক তুলনাহীন ন্যায়পরায়ণ নেতা এবং ছিলেন রাজনৈতিক ময়দানের সুঅভিজ্ঞ ‘শাহসোয়ার’ এবং একজন সমাজসেবক । যেমন ছিলেন একজন কোমল স্বভাবের দাঈ তেমনি ছিলেন একজন সাহসী বিচারক ও রাষ্টনায়ক।
সর্বোপরি তিনি ছিলেন গভীর চিন্তাশীল এক মানুষ। তিনি ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বগুণের অধিকারী, তিনি ছিলেন একজন সাহসী,পরমুখাপেক্ষীহীন, ধৈর্যশীল, শোকরগুজার, অল্পেতুষ্ট, ত্যাগী, বিনয়ী, দানশীল ও সকল মানবিক গুণের অধিকারী। যেন তাঁর ব্যক্তিত্ব বিশ্ব মানবতার জন্য একটি আয়না, যাতে দেখে দেখে সকল মানুষ নিজের ভেতর-বাইরকে ঠিক করে নিতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যখন প্রথম অহী নাযিল হল তখন তাঁর জীবন-সঙ্গিনী খাদিজা রাযি. বলেছিলেন-‘‘আল্লাহ তায়ালা কক্ষনো আপনাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়ান, দুর্বলের ভার বহন করেন, মেহমানের সম্মান করেন।’’-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩
তাঁর চরিত্রের প্রশংসা কুরআনে এভাবে এসেছে-তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।-সূরা আলকলাম (৬৮)
আজকের দাঈরা বিশ্বব্যাপি দাওয়াতি কাজে যদি সীরাতের আলোকে পথ চলেন, সীরাতের ভাষায়, মেজাজে কথা বলেন। সীরাতের ভিত্তিতে মতপার্থক্য লালন করেন। সীরাত হোক মুমওন জীবনের একমাত্র পাথেয়। দাঈ জীবনের আর্দশ। সীরাতের উপর দাওয়াত, তালিম, তাজকিয়া, তিজারাকে নিয়ে চলেন তাহলে এই পৃথিবী মুসলিমদের পদ চুম্বন করতে বাধ্য হবে। যদি বর্তমান বিশ্ব বাস্তবিক পক্ষেই বস্ত্তগত উন্নয়নের সাথে সাথে চারিত্রিক ও আত্মিক উন্নতি চায় এবং মানুষকে একটি নিরাপদ ও সুন্দর জীবন উপহার দেওয়ার স্বপ্ন দেখে তাহলে অবশ্যই রাসূলের সীরাতের অনুসরণের কোন বিকল্প হতে পারে না৷ মুসলিম উম্মাহর আজকের সকল সংকট সমাধানে একমাত্র সীরাতের আলোকে পথচলাই হতে পারে একমাত্র কার্যকরী পদক্ষেপ।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com