বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১১:০৭ অপরাহ্ন

দেওবন্দের ফতোয়া ও একটি পর্যালোচনা: কার ফতোয়ায় কে গোমরা!

দেওবন্দের ফতোয়া ও একটি পর্যালোচনা: কার ফতোয়ায় কে গোমরা!

দেওবন্দের ফতোয়া ও একটি পর্যালোচনা: কার ফতোয়ায় কে গোমরা!

মাসিক আত তাহকীক, নভেম্বর সংখ্যা : দারুল উলুম দেওবন্দের কিছু ফতোয়া নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে দেওবন্দের কথিত চেতনাধারীরা বেশ হৈচৈ করছেন। বলছেন পুরানো ফতোয়াকে তাবলীগের মূলধারার সাথীরা নতুন করে প্রচার করছেন। এটি একটি আশার কথা যে তারা অনেক জল গোলা করে অবশেষে পুরানো ফতোয়া বলে স্বীকৃতী দিচ্ছেন। এটিও কম কিসের। তবে দারুল উলুম দেওবন্দের ওফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যতক্ষন পর্যন্ত এই ফতোয়া আপলোড থাকবে সেটি চলমান ফতোয়া বলেই গন্য হয়। কোন ফতোয়া যদি পরিবর্তন হয় তা ওয়েবসাইট থেকে ফতোয়া বিভাগ সরিয়ে নেয়। অনেকে এসব ফতোয়ায় দারুল উলুম দেওবন্দের সীল ব্যাবহারের কথা বলছেন, তাদের অবগতির জন্য বলছি, ওয়েবসাইটে দৈনন্দিন জিজ্ঞেসা ও ফতোয়ায় কোন সীল ব্যবহার করা হয় . এখানে আপলোড মানেই এটি অনুমদিত। কেবল যেসব ফতোয়া বা পর্যালোচনা বাহিরে কাউকে প্রয়োজনে প্রিন্ট করে পাঠানো হয় তাই সীল দেয়া হয়। প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েব সাইট সম্পর্কে যারা অবগত তারা এটিই ভাল করেই বুঝেন। নেট ইন্টারনেট থেকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তিতে শিকার অজ্ঞদের বুঝানো হয়তো কঠিন। আল্লাহ তাদের সহি বুঝ ও হেদায়ত দান কর।

প্রথম ফতোয়াটি ২০১৬সালের অগাস্ট মাসে দারুল উলুম দেওবন্দ দিয়েছিলেন, তার ও দুই মাস আগে, মানে জুন মাসে মাওলানা আহমদ লাট এবং মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা সাহেব নিজামুদ্দিন মারকাজ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। সেই জন্য এই ফতোয়া দিয়ে পরিষ্কার প্রমাণ হয়, যে দারুল উলুম দেওবন্দের কথা অনুযায়ী, মাওলানা সাদ সাহেব আহলে হক এবং বর্তমানে যারা নিজামুদ্দিন মারকাজ পরিচালনা করছেন তারাও আহলে হক ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ধারক বাহক। এটি মাত্র কয়েকদিন আগে দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা বা. মিডিয়াকেও বলেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
তারপরেও যারা দারুল উলুম দেওবন্দের নাম ভাঙ্গিয়ে বাংলাদেশে মাওলানা সাদ কান্ধালভীর অনুসারীকে গুমরা প্রমানে ব্যাস্ত! খোদার কী শান আজ তারাই দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া অনুযায়ী গোমরা। কার ফতোয়ায় কে গোমরা!! এত কঠিন ফতোয়া দেওবন্দ থেকে দেয়ার পরেও কী আপনারা থামবেন না। নিজের বিবেক আপনাদের দংশন করেনা। কি করার ছিল! আর কী করছেন আপনি!!
দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে একই বিষয়ে ২০২০ সালে আবার ফতোয়া চাওয়া হলে দারুল উলুম দেওবন্দ সেই পুরনো ফতোয়া যেটা ২০১৬ সালে দেওয়া হয়েছিল, সেই ফতোয়া কেই ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন করে পাবলিশ করে এবং সেই ফতুয়ার রেফারেন্স নতুন করে উল্লেখ করে।
এই আলোচিত ফতোয়া গুলো আত তাহকীকের সেপ্টেম্বর সংখ্যায় সংক্ষিপ্তকারে ছাপা হলো, আগামি সংখ্যায় স্ববিস্তারে পাবেন। যে কেউ লিংকে ডুকে দেখে নিতে পারেন। কথা হল, এই সকল ফতোয়াগুলো তাবলীগের আমীর বিহীন আলমী শূরা ও ইমারত দন্ধের পরে দেয়া। এসব ফতোয়ায় দেওবন্দের অবস্থান স্পষ্ট করা আছে।
আপনারা দারুল উলুম দেওবন্দের নামে আর কত মিথ্যা অপবাদ দিবেন? প্লীজ এবার থামুন!অন্যথায় দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া অনুযায়ী আপনি পথভ্রষ্ট।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com