সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০, ১২:০২ অপরাহ্ন

লেখনীর মাধ্যমেও দাওয়াত দেওয়া উচিত : হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস র.

মালফূযাত থেকে: একদিন এক স্নেহের পুত্রকে (মাওলানা ইউসুফ তখন রচনা ও লেখালেখির কাজে বিশেষ ব্যস্ততা ছিরেন) লক্ষ্য করে বলেন, বর্তমান সময় পর্যন্ত আমার পছন্দ ছিল না যে, তাবলীগী কাজের বিষয়ে বেশি পড়া-লেখা হোক এবং লেখনীর মাধ্যমে এর দাওয়াত দেওয়া হোক; বরং আমি তা নিষেধ করে এসেছি।

কিন্তু এখন আমি বলি, লেখা উচিত। তুমিও খুব লেখ।

তবে এখানে অমুক অমুককে আমার এই কথা জানিয়ে তাদের মতামতও নিও। (মাওলানা যাদের নাম বলেছিলেন তাদেরকে তাঁর কথা জানিয়ে মশোয়ারা চাওয়া হলে তারা এই মত প্রকাশ করলেন যে, এ বিষয়ে এ পর্যন্ত যে নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে সেটিই বলবৎ থাকুক। আমাদের মতে এটিই উত্তম) হযরত মাওলানাকে তাঁদের মতামত জানানো হলে তিনি বললেন, ‘প্রথমে আমরা ছিলাম একদম সঙ্গীসাথীহীন অবস্থায়। আমাদের কথা কারো বুঝেই আসত না। ঐ সময় এটাই জরুরি ছিল যে, আমরা নিজেরা সশরীরে যেয়ে মানুষের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করি এবং নিজেদের বাস্তব কর্মের দ্বারা আমাদের কথা বোঝাই। ঐ সময় যদি লেখনীর দ্বারা ব্যাপকভাবে এই দাওয়াত দেওয়া হত তাহলে মানুষের উল্টো-সিধা বোঝার এবং নিজেদের সেই বুঝমতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আশঙ্কা ছিল। তদ্রূপ এই দাওয়াত কারো কিছুটা মনে ধরলে নিজেদের বুঝ মতো উল্টো-সিধা প্রয়োগের চেষ্টা করত। এরপর ফলাফল ভুল হলে আমাদের স্কিমকেই ত্রুটিপূর্ণ বলত। এজন্য লেখনীর মাধ্যমে লোকদের কাছে আমাদের দাওয়াত পৌঁছুক তা উত্তম মনে করিনি।

কিন্তু আল্লাহ তাআলার ফযল ও করমে, তাঁর নুসরতে এখন হালতের পরিবর্তন ঘটেছে। আমাদের অনেক জামাত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে কাজের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিয়েছে। এখন লোকেরা আমাদের কাজের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে আমাদের কাছে আসছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এত মানুষ দিয়েছেন যে, যদি বিভিন্ন এলাকায় তাকাযা তৈরি হয় এবং কাজ শেখানোর জন্য জামাতের প্রয়োজন হয় তাহলে জামাত পাঠানো যাবে। তো এ অবস্থাতেও প্রাথমিক সঙ্গীহীন অবস্থার প্রতিটি অংশকে ধরে রাখা ঠিক নয়। এ জন্য আমি বলি, লেখনীর মাধ্যমেও দাওয়াত দেওয়া উচিত। (মালফূযাত : ১৩৯)

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com