শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ০৪:৫০ অপরাহ্ন

প্রসঙ্গ: বুলন্দশহর ইজতেমা, দেওবন্দ তার ফতোয়া বুঝেনি, বুঝেছি আমরা

প্রসঙ্গ: বুলন্দশহর ইজতেমা, দেওবন্দ তার ফতোয়া বুঝেনি, বুঝেছি আমরা

তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম|  এতোকিছুর পরও মাওলানা সা’দ দা.বা.-এর কাজের সাথে জুড়ে  থাকার কারণ উপলব্ধি করতে হলে আমাদের ইতিহাসের আশ্রয় নিতে হবে। এ কথা পরিষ্কার, আমরা আকাবিরের জীবন থেকে নজীর খুঁজি, তুলনা করি না। নিতান্তই পাগল না হলে কেউ সাহাবায়ে কেরামের সাথে তুলনা দিতে যাবে না। অবশ্য আজকাল যেহেতু বাংলাদেশের আলেমরা একেঅপরকে পাগল আখ্যা দিচ্ছেন, তাই আগেই দায়মুক্তি দিয়ে নেয়া ভাল।

হযরত উসমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু। সাধারণ মানুষের মাঝে তৃতীয় শ্রেষ্ঠতম মানব। আজকাল যেভাবে মাদরাসার ছাত্ররা কাকরাইল মসজিদ ঘেরাও করে রেখেছে, সেযুগেও মুনাফিক আর ফেতনাবাজরা হযরত উসমান (রাদি.) কে ঘেরাও করে রেখেছিলো। তিনি কিন্তু পারতেন সবকিছু ছেড়েছুড়ে মদিনার বাইরে চলে যেতে। কিন্তু তিনি মৃত্যুর মুখেও দায়িত্ব ত্যাগ করে যাননি।

চতুর্থ শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি হযরত আলী (রাদি.)। তিনিও তাঁর খিলাফতে অনাস্থা প্রকাশ পাওয়ার পরও কার্যভার ছেড়ে দেননি। এখন কেন যাননি, কেন ছাড়েন নি এসব আলোচনার একে তো এখানে প্রয়োজন নেই, দ্বিতীয় এসব আলোচনা করতে গেলে পা হড়কানোর ঝুঁকি থাকে। এখানেও কিন্তু খান্দানের কথা চলে আসে। অবরোধের এক পর্যায়ে হযরত উসমান (রা.) কে রক্ষা করতে হযরত আলী (রা.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুই নাতিকে পাঠান। তাঁদের দেখে সেদিন আর কেউ পা বাড়াতে সাহস পায়নি। পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ফেতনার সূচনা একদিন পিছিয়ে গিয়েছিলো পবিত্র রক্তের বাহক, স্রেফ খান্দানের কারণে।

মাওলানা সা’দ সাহেবকে সরিয়ে দিয়ে আমরা কি আরো একটি ভয়াবহ বিপর্যয় টেনে আনছি না?

‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি’ কিংবা ‘দুধের দেওবন্দের চেয়ে ঘোলের দেওবন্দের আজ্ঞা বেশি’- গোটা পরিস্থিতিই আজ এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের কথা চিন্তা করুন। মাওলানা সা’দ সাহেবের বিরুদ্ধে তখন সদ্য জারী হওয়া ফতওয়া। দারুল উলূম দেওবন্দ এই ফতওয়া প্রদান করেছে। মাওলানা সা’দ সাহেবের সুস্পষ্ট কোন রুজুও নেই, দেওবন্দ তখনো কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি। যদিও তওবা তো কেবল রাব্বুল ইজ্জাতের কাছে। এবং, দেওবন্দ তাঁকে বাঁধাও দেয়নি বাংলাদেশের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে। দেওবন্দ তাঁকে ইজতেমায় বয়ান করতে নিষেধ করেনি। দেওবন্দ তাঁকে কোটি মানুষকে সাথে নিয়ে মুনাজাত করতেও নিষেধ করেনি। তখনোও না, এখনও না। এবছর ভারতের সবচে বড় ভূপাল ইজতেমায় মাত্র দিনকয়েক আগে মাওলানা সা’দ সাহেব অংশগ্রহণ, বয়ান ও মুনাজাত করে এসেছেন। গতকাল থেকে বুলন্দ শহরে ৫কোটি মানুুুুষের  আলমী ইজতেমা শুরু হয়েছে। দেওবন্দ কোন কিছুতেই তাঁকে নিষেধ করেনি। নিষেধ তবে করলো কারা?

যে দেওবন্দ উম্মতের তরে তাঁর বিরুদ্ধে ফতওয়া দিয়েছে, সেই দেওবন্দের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য তাঁকে বাঁধা দেয়া ও নিষেধ করা। ইতিহাস সাক্ষী, দেওবন্দ কখনো তাঁর দায়িত্ব আদায়ে, কর্তব্য পালনে পিছপা হয়নি। দেওবন্দ মনে করেছে মাওলানা সা’দ সাহেবের বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে হবে, দেওবন্দ করেছে। দেওবন্দ মনে করেনি মাওলানা সা’দ সাহেব ইজতেমায় অংশগ্রহন করতে পারবেন না, দেওবন্দ নিষেধ করেনি। করলো তবে কারা?

আমরা। আমরা করেছি। দেওবন্দ তাঁর নিজের ফতওয়া বুঝেনি, বুঝেছি আমরা। দেওবন্দ তাঁর ফতওয়ার আজ্ঞা পালন করেনি, করেছি আমরা। আর তা করছি দেওবন্দের নামে।

দেওবন্দের অপমান, দেওবন্দের প্রতি অনাস্থা, অশ্রদ্ধা আর তাচ্ছিল্য প্রকাশ করলেন কে? দেওবন্দের অনাপত্তি মেনে-অনুসরণ ইজতেমায় যোগ দিতে এসে হযরত মাওলানা সা’দ কান্ধলবী দা.বা. নাকি দেওবন্দের নাম ভাঙিয়ে তাঁকে আটকে আমরা আমাদের ছেলেদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছি একজন আহলে হক আলেমে দীনের বিরুদ্ধে। এর পরিণাম কখনোই ভাল হওয়ার নয়, কখনোই না।

বাংলাদেশে এক আলেমের অপর আলেমকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করার রেওয়াজ আছে। তারপরও অর্পিত দ্বীনি দ্বায়িত্ব পালণার্থে অবাঞ্ছিত অঞ্চলে সবাই যায়। বলাবাহুল্য, ঘোষনা দেয়া সেই আলেমেদ্বীন নিজেও চাননা কেউ সত্যিই অপরজনকে প্রতিহত করুক, কখনোই চাননা কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মাঠে নামুক। সদ্য বিভক্ত হওয়া একটি রাজনৈতিক দলের বিভাজনের হাওয়া সবে তখন বইতে শুরু করেছে। একপক্ষের দুই কর্মী একদিন কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আলাপ করছিলো। বলছিলো, পার্টি অফিস আমাদের দখলে। ‘উনি’ যদি পার্টি অফিসে আসেন তবে পা ভেঙ্গে দেবো। ঐযে, মুখের আড় ততোদিনে ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু সে কখনোই এটা করতে সাহস পেতো না। তার ভেতর থেকেই জিনিসটা আসত না। কারণ সেই ‘উনি’ একজন আলেম। কিন্তু আজ, সে এরচেয়ে বড় একজন আলেমের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে গেছে। তার সেই আড়টা ভেঙ্গে গেছে। এখন সে সত্যিই ঘৃন্যকাজটা করতে অগ্রসর হতে পারে, অন্তত তার সুকোমলবৃত্তি এখন আর তাকে বাঁধা দিবে না।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!