শুক্রবার, ২০ নভেম্বর ২০২০, ০২:১৬ অপরাহ্ন

ফেতনার সময় সতর্ক থাকা চাই

ফেতনার সময় সতর্ক থাকা চাই

তাবলীগ নিউজ বিডি:

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَبْقَى مِنَ الْإِسْلَامِ إِلَّا اسْمُهُ، وَلَا يَبْقَى مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا رَسْمُهُ، مَسَاجِدُهُمْ عَامِرَةٌ وَهِيَ خَرَابٌ مِنَ الْهُدَى، عُلَمَاؤُهُمْ شَرُّ مَنْ تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ مِنْ عِنْدِهِمْ تَخْرُجُ الْفِتْنَةُ وَفِيهِمْ تَعُودُ-
অর্থ : হযরত আলী রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, ভবিষ্যতে মানুষের সামনে এমন একটা যুগ আসবে যখন নাম ব্যতিরেকে ইসলামের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, আল-কুরআনের আক্ষরিক তিলাওয়াত ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। তাদের মসজিদগুলো হবে বাহ্যিক দিক দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হবে হেদায়াতশূন্য। আর তাদের আলেমগণ হবে আকাশের নিচে জমিনের উপরে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। কারণ তাদের মধ্য থেকে ইসলাম/দ্বীন সম্পর্কে ফিতনা প্রকাশ পাবে। অতঃপর সেই ফিতনা তাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে। (বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান অধ্যায়)

আলোচ্য হাদীসের ব্যাখ্যা :
এ হাদীসের মধ্যে রাসূল সা. মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে চারটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। আর তা হলো নিম্নরূপ :
১. لَا يَبْقَى مِنَ الْإِسْلَامِ إِلَّا اسْمُهُ : ইসলামের নামটা ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকবে না। বর্তমানে চার দিকে নব আবিষ্কৃত জিনিসকে দ্বীনের নামে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে আর বেদআত করে নিজেকে হকের ঝাণ্ডাবাহী মনে করা হচ্ছে। মিথ্যা বলে এটাকে ইসলামের নামে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। নাম ছাড়া ইসলাম আজ বহুদূরে। যারা ইসলামের মূল চেতনাকে আঁকড়ে থাকতে চাচ্ছেন তাদেরকে উল্টো মারধর করা হচ্ছে।

২. وَلَا يَبْقَى مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا رَسْمُهُ : আল-কুরআনের আক্ষরিক তিলাওয়াত ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। আল-কুরআন বিশ্ব মানবতার হেদায়েতের একমাত্র গ্রন্থ। পৃথিবীর যে কেউ হেদায়াত পেতে চাইলে তাকে আল-কুরআনের ছায়াতলে আসতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
إِنَّ هَذَا الْقُرْآَنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا
অর্থ : নিশ্চয় এ কুরআন এমন এক পথ দেখায় যা সবচেয়ে সরল এবং যে মু’মিনগণ নেক আমল করে তাদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।
আজ ইসলামের নামে কুরআন বিক্রি করে খাওয়া হচ্ছে। লাখ টাকা ছাড়া কুরআনের তাফসিরে বক্তা হেদায়াত বিলাতে আসেন না। এতে স্পষ্ট, তাদের সুর আর তেলাওয়াতের অক্ষর ছাড়া ইসলামের মূল দাবি ও তাকাজা থেকে ক্রমশ বিচ্যুতি ঘটছে।

৩. مَسَاجِدُهُمْ عَامِرَةٌ وَهِيَ خَرَابٌ مِنَ الْهُدَى : মসজিদগুলো হবে বাহ্যিক দিক দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ, সুরম্য ইমারতবিশিষ্ট কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হবে হেদায়াতশূন্য।
রাসূল সা. এর জামানায় মসজিদ ছিলো সকল কাজের কেন্দ্রবিন্দু। মসজিদ ২৪ ঘণ্টা আমলের দ্বারা আবাদ থাকত। সাহাবায়ে কেরামের জীবনাদর্শ ছিল মসজিদমুখী। আজ দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের দ্বারা বিশ্ব আমীর হযরতজী মাওলানা সা’দ কান্ধলভী হাফিজাহুল্লাহ চাচ্ছেন, দুনিয়ার সকল মসজিদ যেন মসজিদে নববীর মতো হয়ে যায়। উম্মত যেন মসজিদমুখী হয় সাহাবাদের মত। অপরদিকে আরেকদল আলেম-উলামার দোহাই দিয়ে মসজিদকে বিরান করতে তৎপর। মসজিদ থেকে আল্লাহর রাস্তার জামাতকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। দাওয়াত, তা’লীম, ইস্তিকবালসহ মসজিদ আবাদির মেহনত নিজেরাও করছে না, উল্টো অন্যদের বাঁধা দিচ্ছে।

৪. عُلَمَاؤُهُمْ شَرُّ مَنْ تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ مَنْ عِنْدَهُمْ تَخْرُجُ الْفِتْنَةُ وَفِيهِمْ تَعُودُ : আর তাদের আলেমরা হবে আকাশের নিচে জমিনের উপরে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। কারণ তাদের মধ্য থেকে ইসলাম/দ্বীন সম্পর্কে ফিতনা প্রকাশ পাবে। অতঃপর সেই ফিতনা তাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে।
এক শ্রেণীর আলেম শুধু দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে দ্বীন শিক্ষা করবে, তারা সমাজে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন বক্তব্য প্রদান করবে। এ বক্তব্যে সাধারণ মানুষ সঠিক ইসলাম থেকে সরে যাবে এবং বিভ্রান্তিতে পতিত হবে।
মুসলিম জাতির আদর্শিক পিতা হযরত ইবরাহীমের আ. আদর্শ অনুসরণ করত রাসূল সা. একটি সুসংগঠিত জাতি তৈরি করেছিলেন। আমরা আজ সে আদর্শ থেকে উদাসীন হয়ে নানা দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছি। এ যেন আল-হাদীসের বাস্তব উদাহরণ। রাসূল সা. বলেছেন-
إِنَّ بَنِى إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِى عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِى النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِىَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِى
অর্থ : বনী ইসরাঈলরা ৭২টা দলে বিভক্ত হয়েছিলো আর আমার উম্মত ৭৩টা দলে বিভক্ত হয়ে যাবে। এর মধ্যে ১টি দল ছাড়া সব দল জাহান্নামে যাবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, সে দল কোনটি? রাসূল সা. বললেন, আমি আমার সাহাবীদের নিয়ে যে কাজ করেছি এ কাজগুলো যারা করবে তারাই হবে জান্নাতি। (সুনানে আত-তিরমিযি)
এ সকল দলগুলো তৈরি হয়েছে খোলাফায়ে রাশেদীনের পর থেকে অদ্যাবধি সমাজের এক শ্রেণীর আলেমগণের মাধ্যমে। একমাত্র যারা রাসূল সা. ও সাহাবাদের আমল ও জীবনাদর্শকে আঁকড়ে থাকবে তারাই এই ফেতনার সময় হকের সাথে জমে থাকতে পারবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com