রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৪১ অপরাহ্ন

একনজরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী

একনজরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী

একনজরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী

নাম মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বাবা আবদুল্লাহ, মা আমিনা বিনতে ওয়াহাব, দাদা আবদুল মুত্তালিব, দাদি ফাতিমা বিনতে আমর, নানা ওয়াহাব ইবনে মান্নাফ ও নানি বারা বিনতে আবদুল ওজজা।
জন্ম ৫৭০ সাল (১২ রবিউল আউয়াল)। জন্মের আগেই বাবা মারা যান। তাঁর জীবনকাল প্রায় ৬৩ বছর।
১-৫তম বছর : মা আমেনা ও দুধমাতা হালিমার ঘরে কাটান। সপ্তম দিনে খাতনা করা হয় অথবা খাতনা করা অবস্থায় জন্ম নেন। ৪ বছর বয়সে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়।
৬-৭তম বছর : মা আমেনা মারা যান। দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন।
৮-৯তম বছর : দাদা আবদুল মুত্তালিব মারা যান। চাচা আবু তালেব তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন।
১০-১১তম বছর : দ্বিতীয়বার বক্ষ বিদীর্ণ করা হয় তাঁর।
১২-১৪তম বছর : তিনি সিরিয়া যান চাচার সঙ্গে। এখানে বুহায়রা নবী বলে স্বীকৃতি দেয় তাঁকে।
১৫-১৬তম বছর : ফুজ্জার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কিন্তু তিনি কারও প্রতি আঘাত হানেননি।
১৭-২২তম বছর : হিলফুল ফুজুল শান্তিসংঘে যোগ দেন তিনি। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ৫টি শপথ নেন।
২৩তম বছর : খাদিজা রাযি. এর সঙ্গে পরিচয় ও তার ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব নেন।
২৪তম বছর : তিনি সিরিয়া সফর করেন খাদিজার ব্যবসার উদ্দেশ্যে।
২৫তম বছর : খাদিজার রাযি. সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়।
২৬-৩০তম বছর : আল আমিন উপাধি লাভ। বড় মেয়ে জয়নবের রাযি. জন্ম।
৩১-৩৫তম বছর : হাজারে আসওয়াদ পুনঃস্থাপনে নেতৃত্ব দেন।
৩৬-৩৭তম বছর : বালক আলীর রাযি. দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। হেরা গুহায় ধ্যানে মগ্ন হন। নবীজির বড় ছেলে কাশেমের জন্ম হয়।
৩৮-৪০তম বছর : নবুয়ত লাভ/পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু।
৪১-৪৩তম বছর : গোপনে ইসলাম প্রচার। আরকামের রাযি. বাড়িতে প্রচার কেন্দ্র স্থাপন। অনেকেরই ইসলাম গ্রহণ।
৪৪তম বছর : আত্মীয়দের মাঝে ইসলাম প্রচার। ১৫ জন সাহাবিকে আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দেন। এ সময় সুমাইয়া রাযি. শহীদ হন।
৪৫তম বছর : প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার। কাবাঘরে নামাজ আদায়।
৪৬-৪৮তম বছর : তিনি চাঁদকে দ্বিখ-িত করেন। শিয়াবে আবি তালেবে বয়কট (অবরোধ) অবস্থায় কাটান। খাবারের অসহনীয় কষ্ট হয় এ সময়।
৪৯-৫০তম বছর : চাচা আবু তালেব মারা যান। প্রিয় স্ত্রী খাদিজাও রাযি. মারা যান। নবীজি তায়েফে দাওয়াত দেন। মদিনায় ইসলাম প্রচার শুরু করেন। এ সময় আকাবার প্রথম ও দ্বিতীয় শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
৫১তম বছর : তাঁর মেরাজ সংঘটিত হয়। ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। তৃতীয়বার বক্ষ বিদীর্ণ করা হয় তাঁর। আকাবার তৃতীয় শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
৫২তম বছর : তিনি মদিনায় হিজরত করেন। এ বছর থেকে হিজরি সাল গণনা করা হয়। পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদিনা সনদ’ রচনা করেন এ বছরই।
৫৩তম বছর : মসজিদে নববি প্রতিষ্ঠা হয়। জুমার নামাজ ফরজ হয়। ৩টি খ-যুদ্ধাভিযান পরিচালিত হয়। আয়েশার রাযি. সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
৫৪তম বছর : কোরবানি ওয়াজিব হয়। কেবলা পরিবর্তন হয়। রোজা, জাকাত ফরজ হয়। ঈদের নামাজ চালু হয়, সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয়। জিহাদের নির্দেশ সংবলিত প্রথম আয়াত নাজিল হয় (সূরা হজ : ৩৯)। বদর যুদ্ধসহ ৫টি যুদ্ধ নবীজি পরিচালনা করেন। ফাতেমার রাযি. বিয়ে হয়। নবীকন্যা রুকাইয়া রাযি. মারা যান।
৫৫তম বছর : ওহুদসহ ৩টি যুদ্ধ ও ২টি খ-যুদ্ধ পরিচালিত হয়। উত্তরাধিকারসংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয়। হাফসা ও জয়নাবের রাযি. সঙ্গে নবীজির বিয়ে সম্পন্ন হয়। নবীকন্যা উম্মে কুলসুমের রাযি. সঙ্গে ওসমানের রাযি. বিয়ে হয়।
৫৬তম বছর : নবীজি উম্মে সালামাকে রাযি. বিয়ে করেন। দুইটি যুদ্ধসহ ৪টি খ-যুদ্ধাভিযান হয়।
৫৭তম বছর : খন্দকসহ ৫টি যুদ্ধ ও একটি খ-যুদ্ধ পরিচালিত হয়। ওজু ও তায়াম্মুমের বিধান নাজিল হয়। জয়নব বিনতে খুজায়মা ও জোহায়রিয়ার রাযি. সঙ্গে নবীজির বিয়ে হয়। আয়েশার রাযি. বিরুদ্ধে ইফকের ঘটনা ঘটে। সূরা মুনাফিকুন নাজিল হয়।
৫৮তম বছর : ৩টি যুদ্ধ ও ১১টি খ-যুদ্ধাভিযান পরিচালিত হয়। হুদায়বিয়ার সন্ধি সংঘটিত হয়। নবীজির দোয়ায় বৃষ্টি শুরু হয়। নবীজি মারিয়া কিবতিয়াকে রাযি. বিয়ে করেন। ইসলামের অনেক বিধানসংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয় এ বছর।
৫৯তম বছর : খায়বারসহ ৩টি যুদ্ধ ও ৫টি খ-যুদ্ধ হয়। নবীজি উম্মে হাবিবা, মাইমুনা ও সাফিয়া রাযি. কে বিয়ে করেন। নবীজি ওমরাহ করেন।
৬০তম বছর : মক্কা বিজয় সংঘটিত হয়। মুতা, হুনাইনসহ ৪টি যুদ্ধ ও ১০টি খ-যুদ্ধাভিযান হয়। নবীপুত্র ইবরাহিমের রাযি. জন্ম হয়। নবীকন্যা জয়নবের রাযি. মৃত্যু হয়।
৬১তম বছর : হজ ফরজ হয়। তাবুক যুদ্ধসহ ৩টি খ-যুদ্ধাভিযান সংঘটিত হয়। নবীকন্যা উম্মে কুলসুমের রাযি. মৃত্যু হয়।
৬২তম বছর : নবীপুত্র ইবরাহিমের মৃত্যু হয়। নবীজি হজ করেন। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ ‘বিদায় হজের ভাষণ’ দেন তিনি। আল কোরআনের সর্বশেষ আয়াত নাজিল হয় (সূরা মায়েদা : ৩)। ২টি খ-যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
৬৩তম বছর : একটি খ-যুদ্ধ হয়। নবীজি অসুস্থ হয়ে যান। মাথাব্যথা ও জ্বর হয়। কয়েক দিন কাটে। আবার সুস্থ হন। হুঁশ থাকে আবার চলে যায়। এসব সময়ে তিনি দোয়া, উপদেশ ও ইসলাম প্রচার করেন। এরপর তাঁর মৃত্যু ঘটে (হিজরি একাদশ, ১২ রবিউল আওয়াল, সোমবার, সকাল বেলা)। আয়েশার রাযি. ঘরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়, এখানেই তাঁর কবর রচিত হয়।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com