মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

মুনাফিকদের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র যুগে যুগে-৪

মুনাফিকদের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র যুগে যুগে-৪

মুনাফিকদের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র যুগে যুগে-৩

মাওলানা হাকীম সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

হযরত উমর (রা) মৃত্যুবরণ করার ফলে একটা করুণ সংকটের মুখে ছিল মুসলিম বিশ্ব। সেই সময় যিনি খেলাফতের হাল ধরেন তিনি হযরত উসমান জুন্নুরাইন (রা)। সাহাবীদের মধ্যে ধনীতম এ মহান মানুষটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে এত দান করে গিয়েছিলেন যে ইসলামি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে সেসব কাহিনী। কিন্তু তবুও ভর দুপুরে দুষ্কৃতিদের এতটুকু হাত কাঁপেনি তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করতে। তার লাশ মেবারক রাতে অন্ধকারে গোপনে দাপন করেন মাত্র কয়েকজন।  গোটা মদীনা ছিল বিদ্রোহীদের দখলে। জমহুর কায়েম হয়েছিল সেদিন এক মুনাফিক ষড়যন্ত্রে আহলে বাইত ও খলিফাতুল মুসলিমিনের বিরোদ্ধে।

অথচ খলিফা নির্বাচিত হবার পর এই মহান মানুষটি রাজকোষ থেকে কোনো বেতন নিতেন না। কারণ তাঁর নিজেরই যথেষ্ট অর্থ ছিল, আর কোনো অর্থ তাঁর দরকার পড়ত না। তবে মানুষের দেয়া উপহার তিনি সাদরে গ্রহণ করতেন, যেমনটা করতেন নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা)।

উসমান (রা) এর স্ত্রী ছিলেন হযরত রুকাইয়া (রা) যিনি ছিলেন নবী (সা) এর কন্যা। কিন্তু তিনি যখন মারা যান, তখন নবী (সা) তাঁর আরেক কন্যা উম্ম কুলসুম (রা)-কেও উসমান (রা) এর কাছে বিয়ে দেন, এতটাই পছন্দ করতেন তিনি উসমান (রা)-কে। নবী বংশের দুজন আলো তাঁর স্ত্রী হয়ে ঘরে আসে। এজন্য উসমান (রা) এর এক উপাধি ছিল ‘জুন্নুরাইন’ যার অর্থ ‘দুই আলোর অধিকারী’। হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমার একশটি মেয়ে থাকতো আর এভাবে মারা যেত একশটি মেয়েকেই আমি উসমান গনির কাছে বিয়ে দিতাম। রাসুল আরো বলেছেন, জান্নাতে সব নবীরই সাথী থাকবে, আমার সাথী থাকবে উসমান।  সেই উসমানকে হত্যা করা ফরজ মনে করেছিল রাসুলেরই উম্মতের বড় এক অংশ।  কত কটিন ছিল মিনাফেক ষড়যন্ত্র। সাহাবা যুগে মুনাফেক চক্রান্ত এত গভীর হলে আজকের দুর্বল উম্মত নিয়ে মুনাফেকটা কতো ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

তিনি যেদিন খলিফা হন সেদিন ছিল ৬৪৪ সালের ৬ নভেম্বর। এ শাসনকাল চলেছিল ৬৫৬ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত। চলুন আমরা সংক্ষেপে জেনে নেই কেমন গিয়েছিল তাঁর শাসনকাল।

খলিফার বিরুদ্ধে সেদিনের আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের মধ্য দুটি নাম অন্যতম। এই দুটি চরিত্র হলো..

(১)আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাহ: এ কাজে তারা যোগ্যতম ব্যক্তি হিসেবে প্রথম নিয়োগ করল ইয়েমেনের সানআ’ অধিবাসী ইয়াহুদী আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাহ কে। সে ছিল অত্যন্ত চালাক ও ধূর্ত্ মানুষকে মিথ্যা কথা বুঝাতে অতি পারদর্শী বক্তা। কুট-কৌশলে অতুলনীয়। সে হযরত উসমান (রা.) এর খেলাফত আমলে লোক দেখানো মুসলমান হয়ে মদীনায় বসবাস করত লাগল। আর অবস্থা পর্যবেক্ষন এবং অতি গোপনে চক্রান্তের জাল বিছাতে লাগল। এখন ইতিহাস থাকে মুনাফেক হিসাবে চিহ্নিত করলেও তখন সে সাধারন মুসলমানের বড় অংশের নেতা হয়ে উঠেছিল। অতপর সে আহলে বাইতের প্রতি অতিরিক্ত মুহাব্বত দেখিয়ে মদীনাবাসী তথা সকলের অতি আস্থাভাজন হতে লাগল। এরপর হযরত আলী(রা.) এর নাম নিয়ে হযরত উসমান (রা.) এর বিরুদ্ধে মদীনাবাসীকে উত্তেজিত করতে আরাম্ভ করল। সে বলতে লাগল আমরা আহলে বাইতের সাথে। অথচ হযরত উসমান নিজেই ছিকেন আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত।  নবিজীর দুই মেয়ের জামাতা তিনি।  এটি ছিল মুনাফেকদের বড় হাতিয়ার সাধারন মানুষকে ব্লেকমেিল করার।

সে হযরত উসমান (রা.) এর নামে কিছু মিথ্যা অপবাদ প্রচার শুরু করলো। তার বিরোদ্ধ বরবড় ৩০শটি অভিযোগ এনে সাধারন মানুষকে ক্ষেপিয়া তুলা হল। স্থানে স্থানে বড় বড় অজাহাত সম্মেলন করা হলো। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই মদীনায় খলীফার বিরুদ্ধে এক বিরাট দলের মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে গেল। অতপর সে বসরা, কুফা, দামেশক সহ অনেক মুরুত্বপূর্ণ স্থানে সফর করে শেষে মিশরে পৌছল। এ ব্যক্তি যেখানেই গিয়েছে বিভিন্ন কৌশলে হযরত উসমান (রা.) এর বিরুদ্ধে একটা দল সৃষ্টি করেছে।

(২)মারওয়ান ইবনে হাকাম: এরকম সঙ্গীন মূহুর্তে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার সাথে যোগ দিল আরেক ধুর্ত স্বার্থবাদী মারওয়ান ইবনে হাকাম। সে বনু উমাইয়া গোত্রের লোক ছিল। খলীফার সরলতার সুযোগে এবং অতি ভক্তির মাধ্যমে কৌশলে খেলাফতের উচ্চ কর্মকর্তার পদে অধিষ্ঠিত হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। একেবারে খেলাফতের কেন্দ্র বিন্দুতে সে চলে গেল। খলিফার বিশ্বস্ত  সেক্রেটারী হয়ে উঠলো। সেখানে বসে অতি সংগোপনে খোদ খলীফার সীল মোহর ব্যবহার করে মিথ্যা চিঠি রাজ কর্মচারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্নানে পাঠাতে লাগল। তার উদ্দেশ্যে ছিল হযরত উসমান (রা.) এর পর হযরত মু’আবিয়া (রা.) কে খলীফা পদে বসিয়ে উমাইয়া বংশীয়গনকে খেলাফতের স্থায়ী মসনদে বসিয়ে আজীবন রাষ্টীয় ক্ষমতা ও আর্থিক সুবিধা ভোগ করা। এতে যদি খোদ হযরত উসমান (রা.) শহীদ হয় হোক, তারও পরওয়া সে করত না। তার এ কাজে বনু উমাইয়ার অনেক ধূর্ত ব্যক্তি সহযোগীতা করে।

আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাহ এবং মারওয়ান ইবনে হাকাম ও তাদের এজেন্টরা বিভিন্ন জায়গার সাহাবায়ে কেরাম, সরদার ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিকট বিরতীহীনভাবে হযরত উসমান (রা.) এর নামে  অপপ্রচার চালাতে চালাতে অবস্থা এপর্যায়ে পৌছাল যে চতুর্দিকে উত্তেজিত জনতার বিরাট বিরাট বিরোধী দল প্রস্তুত হয়ে গেল।  এবং তারা হযরত উসমান (রা.) কে হত্যা করা ইসলাম ও খেলাফতের হেফাজতের জন্য সর্ববৃহৎ খিদমত মনে করল। 

এই মুহুর্তে এক জুমার দিন খলীফা উসমান (রাঃ) মিম্বরে দণ্ডায়মান অবস্থায় খুতবা প্রদান করছিলেন। তাঁর হাতে একটি লাঠি ছিল, যার উপর ভর দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) খুতবা প্রদান করতেন। বিদ্রোহী লোকদের একজন দাঁড়িয়ে গেল। সে খলীফাকে গালি দিল এবং তাকে আক্রমণ করলো। সে উক্ত লাঠিটি কেড়ে নিলো এবং উসমান (রাঃ) এর ডান হাঁটুর উপর জোরে আঘাত করলো। এতে তিনি গুরুতর আহত হলেন ।

অবশেষে ৩৪ হিজরী সনে হযরত উসমান (রা.) কে হত্যা করার জন্য কুফা, বসরা, মিশর ইত্যাদি স্থান হতে মুসলমান বিদ্রোহীদের বিরাট এক দল মদীনায় আগমন করল। তাদের সিদ্ধান্ত ছিল হয় উসমান (রা.) কে পদচ্যুত করে হযরত আলী (রা.), হযরত তালহা (রা.) অতি কষ্টে তাদেরকে বুঝাতে সমর্থ হলেন যে, তোমরা উসমান (রা.) এর ব্যাপারে যা কিচু শুনে এসেছ তা ঠিক নয়, খলিফার দুধ ভাই মিশরের গভর্ণর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ (রা.) কে অপরসণ করে তার স্থলে হযরত মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর (রা.) কে মিশকেরর গভর্ণর বানাতে হবে। হযরত উসমান (রা.) তাদের দাবী মেনে নিলেন।

যখন তারা খুশিমনে নতুন গভর্ণর হযরত মুহাম্মদ ইবনে আবু বরক (রা.) কে সাথে নিয়ে ফিরতে ছিল। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাহ এবং মারওয়ান ইবনে তাকাম অন্য চাল চালল। মাওয়ান ইবনে হাকাম হযরত উসমান (রা.) এর সই জাল করে এবং তাঁর সীল মোহর লাগিয়ে একটি চিঠি লিখে হযরত উসমান (রা.) এর অজ্ঞাতে তাঁরই উট এবং গোলামের মাধ্যমে মিশরের গভর্ণর আব্দুল্লাহ ইবনে সা’দের (রা.) নিকট এমন ভাবে পাঠাল যে, সে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর এবং তার সঙ্গে মিশর অভিমুখে চলা বিদ্রোহ ত্যাগ করে প্রত্যাবর্তনকারীদের নিকট ধরা পরে গেল। তারা উক্ত মিথ্যা সরকারী চিঠি বহন কারীকে তল্লাশী করে সে চিঠি খানা পেল । যাতে লেখা ছিল মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ও তার সঙ্গীরা মিশরে পৌছা মাত্রই তাদেরকে হত্যা করবে। ব্যাস অবস্থা পাল্টে গিয়ে নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে গেল।

তারা প্রতিশোধ করে মদীনা হামলা করল। এবং দেয়াল টপকে উসমান (রা.) এর বাড়িতে প্রবেশ করল। তখন তাদের নেতৃত্বে ছিলেন  হযরত মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর (রা.)। তিনি গিয়ে হযরত উসমান (রা.) এর দাড়ি টেনে ধরলেন। হযরত উসমান (রা.) বললেন, আজ তোমার পিতা হযরত আবু বকর (রা.) জীবিত থাকলে, তুমি কি আমার সাথে এরূপ ব্যবহার করতে? ইহা শুনে হযরত মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর (রা.) লজ্জিত হয়ে ফিরে চলে গেলেন।

উসমান (রা) গৃহবন্দী হয়ে পড়লেন। ঘরের চারপাশে বিদ্রোহীরা। যত দিন যেতে লাগলো, তত বিদ্রোহী জড়ো হতে লাগলো বাহিরে, আগুনও ধরিয়ে দিল। মদিনা থেকে অনেক স্থানীয় মানুষ মক্কায় হজ্ব করতে গিয়েছে আগেই। তাই কাছের মানুষও কম উসমান (রা) এর। বিদ্রোহীরা বুঝতে পারলো, হজ্ব শেষ হয়ে গেলেই পুরো সাম্রাজ্য থেকে আসা হাজিরা উসমান (রা) এর পক্ষে মদিনা ছুটে আসবে, এর আগেই যা করার তা করতে হবে। উসমান (রা) এর অনুসারীরা তাদের বিরুদ্ধে লড়ার অনুমতি চাইলো। কিন্তু তিনি মানা করলেন। এক মুসলিম আরেক মুসলিমের রক্ত ঝরাতে পারে না। কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা) এবং আলী (রা) এর দুই পুত্র হাসান (রা) ও হুসাইন (রা) গেট বন্ধ করে পাহারা দিতে লাগলেন।

৬৫৬ সালের ১৭ জুন। যখন বিদ্রোহীরা দেখলো গেটে ভালোই পাহারা আছে, তখন মিসরীয় বিদ্রোহীরা প্রতিবেশীর বাড়ির দেয়াল বেয়ে উপরে উঠে ভেতরে নেমে পড়ল। গেটের পাহারা দেয়া সাহাবীরা জানলেনও না কী হলো। বিদ্রোহীরা উসমান (রা) এর কক্ষে চুপে চুপে ঢুকে পড়ল। তখন রোজা রাখা উসমান (রা) কুরআন পড়ছিলেন , তিনি যখন সুরা বাকারার ১৩৭ নং আয়াতে পৌঁছালেন, তখন বিদ্রোহীরা সজোরে মাথায় আঘাত করল। উসমান (রা) এর স্ত্রী নাইলা নিজের দেহ দিয়ে উসমান (রা)-কে রক্ষা করতে গেলেন, হাত উঁচু করে তরবারির আঘাত ঠেকাতে গেলেন। নাইলা-র আঙুলগুলো কেটে গিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। এরপরের আঘাতেই শহিদ হলেন উসমান (রা)। তাঁর দাসেরা তাঁকে বাঁচাতে গেলে একজন নিহত হয়, আর আরেকজন এক বিদ্রোহীকে মারতে সক্ষম হয়।

বিদ্রোহীরা উসমান (রা) এর লাশ বিকৃত করতে চেষ্টা করল। কিন্তু তাঁর স্ত্রী নাইলা আর উম্ম আলবানিন লাশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করতে চাইলেন, তারা চিৎকার করতে থাকলেন। বিদ্রোহীরা পালিয়ে যাবার সময় ধনী উসমান (রা) এর বাসা লুট করে যায়, এমনকি মেয়েদের নেকাব পর্যন্ত নিয়ে যায়। যখন গেট থেকে সাহাবীরা এসে পৌঁছালেন ততক্ষণে সব শেষ, তারা কিছু করতে পারলেন না। তাদের আঘাতে হাসান (রা)  আহত হন।

টানা তিন দিন উসমান (রা) এর লাশ পড়ে ছিল বাসায়। নাইলা তখন হযরত আলী রাযি কে নিয়ে  তাঁর দাফন দেবার চেষ্টা করলেন। তাদের সাথে মাত্র ১২ জন কাছের মানুষ পাওয়া গেল। গোধূলির সময় লাশ নিয়ে যাওয়া হলো, কোনো কফিন বা খাটিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁকে কোনো গোসল দেয়া হয়নি, কারণ ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী শহীদদের কোনো গোসল নেই। কাফনের কাপড়ও পরানো হয়নি। যে কাপড়ে তিনি মারা যান, সে কাপড়েই তাঁকে কবরে নিয়ে যাওয়া হয়।

আলী (রা), হাসান (রা), হুসাইন (রা) ও অন্যরা লাশ বহন করলেন। রাতের আঁধারে নাইলা পেছন পেছন আসছিলেন একটি কুপিবাতি নিয়ে। কিন্তু সেটাও নিভিয়ে দিতে হলো যেন বিদ্রোহীরা টের না পায়। নাইলার সাথে একমাত্র অন্য যে নারী ছিলেন তিনি আয়শা (রা)।

মদিনার জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে পৌঁছানোর পর দেখা গেলো বিদ্রোহীরা টের পেয়ে সেখানে হাজির। তারা মুসলিম কবরস্থানে উসমান (রা)-কে দাফন করতে দেবে না। নিরুপায় হয়ে তাঁকে দাফন করা হলো পেছনের ইহুদী কবরস্থানে। [পরবর্তীতে উমাইয়া খলিফারা এই দুই কবরস্থানের প্রাচীর ভেঙে দুই কবরস্থান এক করে ফেলেন, যেন উসমান (রা) মুসলিম কবরস্থানে শায়িত হতে পারেন।]

জানাজা পড়ালেন জাবির (রা)। অতি সংগোপনে দ্বীনের এই সূর্যকে কবরে নামালেন হযরত আলী রাযি। দাফনের পর আয়শা (রা) ও নাইলা কিছু বলতে চাইলেন, কিন্তু নীরবতা বজায়ে রাখবার জন্য তাদের চুপ থাকতে হলো। নীরবেই চলে গেলেন উসমান (রা)

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com