মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০২:২৫ অপরাহ্ন

সাকিব আল হাসানের জন্য ভালবাসা…

সাকিব আল হাসানের জন্য ভালবাসা…

সাকিব আল হাসানের জন্য ভালবাসা…

মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

 
প্রিয় সাকিব আল হাসানকে মোবারকবাদ। সাথে বন্ধুবর মুফতী উসামা ইসলামকে। যিনি গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় সাকিব এর সাথে কথা বলেছেন। আল্লাহ তাদের সকল প্রচেষ্ঠা ও ইসলামের জন্য ভালবাসাকে করুন। সাকিবকে আমি যতটুকেতা জানি তিনি র্ধমর্কম অনেক ভালবাসেন। উসামা ভাইর সাথে বহুবার তাবলীগে, হজে ,উমরায় ও ইজতেমায় গিয়েছেন। সময় পেলেই শরঈ মাসআলা মাসায়েল জিজ্ঞাসা করেন।সেটি চমৎকারভাবে আজ ভিডিওতে প্রকাশ করলেন।
সাকিব আল হাসানের পুরো ভিডিওটি  মোটামুটি ভালো লেগেছে৷ তার ভিডিওর ভালো লাগা কয়েকটি পয়েন্ট আমি তুলে ধরছি:
১- নিজে একজন প্রকৃত মুসলিম এবং এ নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন বলে এ বিষয়ে প্রথমেই কথা শুরু করেছেন৷
২- নিজে পূজো উদ্বোধন করেন নি, তবে প্রদীপ জ্বালিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন৷এটাকে সরল স্বীকারোক্তি বলেই আমরা ধরে নেবো৷
৩- মুসলমানরা সবাই এক থাকার আহবান জানিয়েছেন৷ সবচে ভালো লেগেছে যে, ক্রীড়া জগতের একজন টপ সেলিব্রিটি হয়েও মুসলিমদের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তিনি অনুভব করেন৷ এক থাকলে যে মুসলমানরা শক্তিশালি থাকবে, এক না থাকলে দুর্বল হয়ে যাবে, সেই অনুভূতিও জানিয়েছেন৷
৪- ইসলাম সম্পর্কে কম জানেন৷ তবে জানার আগ্রহ আছে বলে জানিয়েছেন৷ শুধু তাই না, কেউ যদি তাকে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান দানের ব্যাপারে অগ্রসর হয়, তাকে তিনি ইনভাইট করবেন৷ সাদরে গ্রহণ করবেন৷
৫- যারা তার নামের পূর্বে বা শেষে শ্রী শ্রী ইত্যাদি হিন্দুয়ানি শব্দ জুড়ে দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে নিজের ভেতরকার ক্ষোভ প্রকাশ না করে এতে যে ইসলামের ক্ষতি হয়েছে, সেটা বলেছেন৷ ইসলাম সম্পর্কে খুব কম জানাশোনা লোকটি যদি এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে, আমরা জেনেও কেন একজন মুসলমানকে নাম বিকৃত করে ডাকব? বিশেষ করে ভিন্ন ধর্মের নিদর্শন-জাতীয় শব্দ?
৬- তিনি বারবার সবার কাছে বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন৷
৭- ভবিষ্যতে এ জাতীয় প্রোগ্রামে না যাওয়ার সংকল্প করেছেন৷ আল্লাহ তার সংকল্পে অবিচল থাকার তাওফীক দান করুন৷
 
সাকিব আল হাসান এর বক্তব্য খুব মনোযোগ দিয়ে শুনেছি । তার কথা আমার কাছে অনেকটাই যৌক্তিক মনে হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যায় খুবই বিনয় প্রকাশ করেছেন । তিনি উম্মাহর একজন সদস্য, এবং দ্বীন জানার আরো বেশী আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।আমাদের উচিৎ হবে তার জন্যে দুয়া করা, এবং তাকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য বা ছবি প্রকাশ না করা। আর কারো কোন ক্রুটি অশালীনভাবে হাইলাইট করা কি আদৌ ইসলামের শিক্ষা? সেটিও ভেবে দেখা দরকার।হাদীসে এসেছে, অজ্ঞতার যুগের সেরা ব্যক্তি ইসলামী যুগেও সেরা হতে পারেন যদি তি দ্বীন বুঝেন।
সাকিবকে নিয়ে আমরা সেই স্বপ্নই দেখি।
মহান আল্লাহ বলেছেন
فَمَن تَابَ مِن بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ إِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অতঃপর যে তওবা করে স্বীয় অত্যাচারের পর এবং সংশোধিত হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। [ সুরা মায়েদা ৫:৩৯
 
তবে যারা সাকিবের নাম বিকৃত করে শ্রী শ্রী…ইত্যাদি বলেছিলেন এবং তাঁর ছবি বিকৃত করেছেন, তাঁকে গালমন্দ করেছেন-তারা নিজেদেরকেই ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারেননি। যারা তার বক্তব্য না শুনেই তাকে ইসলাম ত্যাগী বলেছেন তারা সীমালঙ্ঘন করেছেন।
কারো কোনো ভুল হলেই এক শ্রেণীর লোক তাকে নিয়ে ট্রল, গালমন্দ এবং নাম ও ছবি বিকৃতি ইত্যাদি আরম্ভ করেন। নিজেদের এসব ভ্রান্তকর্মের মাধ্যমে আদতে তারা ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করছেন; অবশ্য তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করছেন নিজের।
মহান আল্লাহ বলেছেন…
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ جَآءَکُمۡ فَاسِقٌۢ بِنَبَاٍ فَتَبَیَّنُوۡۤا اَنۡ تُصِیۡبُوۡا قَوۡمًۢا بِجَہَالَۃٍ فَتُصۡبِحُوۡا عَلٰی مَا فَعَلۡتُمۡ نٰدِمِیۡنَ
হে ঈমানদারগণ, যদি কোন ফাসিক তোমাদের কাছে কোন সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা যাচাই করে নাও। এ আশঙ্কায় যে, তোমরা অজ্ঞতাবশত কোন কওমকে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন-‘মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীল ও গালিগালাজকারী হয় না।’-জামে তিরমিযী হাদীস : ২০৪৩
মহান আল্লাহ বলেছেন-‘তোমরা পরস্পরকে মন্দ নামে ডেকো না’। (সুরা হুজরাত, আয়াত ১১)
রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, তোমাদের কেউ যদি কাউকে ফাসেক বলে, কিংবা কাফের বলে অথচ লোকটি এমন নয়, তাহলে যা সে বলেছে সেটা তার উপর বর্তায়। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৬৯৮}
সুবহা-নাল্লাহ! কতো কঠিন বিষয়! মহান আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ধারণ করার তাউফীক দান করুন।
Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com