রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন

‘অহেতুক কাজ পরিত্যাগ করা ইসলামের সৌন্দর্য’

‘অহেতুক কাজ পরিত্যাগ করা ইসলামের সৌন্দর্য’

দৈনন্দিন জীবনে কত কাজই তো আমরা করি। কিন্তু সব কাজ আমাদের উপকার বয়ে আনে না। বরং অনেক সময় তা ক্ষতির কারণ হয়। তাই হিসেব কষে কাজ করাই বুদ্ধিমানের পরিচায়ক। অহেতুক কথাবার্তা, বেফাঁস মন্তব্য এবং অযথা সময় নষ্ট করা মোটেও কাম্য নয়।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আমরা অহেতুক কাজ বেশি করে থাকি। যেখানে সেখানে বেফাঁস মন্তব্য করতে আমাদের বিবেকে বাঁধে না। ফেসবুকের কমেন্ট-বক্সে অশ্লীল কথাবার্তা ও গালাগালির একপ্রকার প্রতিযোগিতা দেখা যায়। একজন মুসলমানের কাজকর্ম কখনো এমন হওয়া কাম্য নয়। গালি কখনোই মুসলমানের ভাষা হতে পারে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না। একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাকে মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ। যারা এ ধরনের আচরণ হতে নিবৃত্ত না হয় তারা সীমা লঙ্ঘনকারী।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত: ১১)

আল্লাহ তাআলা সময়-সুযোগ আমাদেরকে দিয়েছেন। তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে। নইলে কেয়ামতের দিন কড়ায়-গন্ডায় সময়ের হিসেব দিতে হবে। তাই ইসলামের অন্যতম মূলনীতি হলো, অহেতুক কথা-কাজ পরিত্যাগ করা। যেখানে সেখানে অনুমান-নির্ভর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যা কানে আসে তা-ই বলে দেওয়া মিথ্যা হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ (মুসলিম, হাদিস: ৫)

পরচর্চা করা, অপবাদ রটানো, মিথ্যা বলা এবং গুজব ছড়ানো অহেতুক কাজের অন্তর্ভুক্ত। তাই এসব থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। ইসলাম নির্দেশিত অবশ্যপালনীয় কর্তব্যগুলো যথাযথভাবে পালন করতে হবে। বিরত থাকতে হবে সকল অনৈতিক ও অবৈধ কাজ থেকে। মনের প্রশান্তি ও সার্বিক কল্যাণ এতেই নিহিত। বিরক্তি ও হতাশা থেকে মুক্তি পেতে হলে অহেতুক কাজ পরিত্যাগ করার বিকল্প নেই। এ কারণেই এটিকে হাদিসে ইসলামের সৌন্দর্য বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘অহেতুক কাজ পরিত্যাগ করা ইসলামের সৌন্দর্য।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com