রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

ছাত্রজীবনে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ রাহ.

ছাত্রজীবনে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ রাহ.

হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ রাহ. তালেবে ইলম যামানায় অনেক বেশী মেহনত করেছেন। মুতালাআ এবং অধ্যায়েনের মাঝে ডুবে থাকতেন। অর্ধরাত পর্যন্ত পড়াশুনায় মগ্ন থাকা সাধারণ ছিল বিষয়। শুরু থেকেই লেখালেখির আগ্রহ ছিলো এই জন্যই তালিবে ইলম-জীবনেই হাদীস বর্ণনাকারী ও তাবেয়ীদের আহওয়াল এবং তাদের পরিচয় ও জীবনীর উপর মেহনত আরম্ভ করেছিলেন।

বিভিন্ন ইলম ও ফনের বিশেষত হাদীস ও ফিকহের কিতাব সংগ্রহ করার প্রচুর  আগ্রহ ছিল। দিল্লীর কিতাব ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কুতুবখানার সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখতেন। ভালো ও মুফিদ কিতাব পাওয়া মাত্রই খরিদ করে নিতেন। কখনও কখনও নিজের সংগৃহীত কিতাব সম্পর্কে হযরত শাইখ যাকারিয়া রাহ.কে অবগত করতেন এবং তার কুতুবখানার জন্যও সংগ্রহ করার জন্য সুপারিশ করতেন। এ ধরনের একটি চিঠি এখানে পেশ করা হল। এই চিঠি লেখার সময় তার বয়স ছিল ষোল বছর।

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে আমি ভালো আছি এবং আল্লাহর কাছে কামনা করি আপনিও ভালো থাকুন। পর সংবাদ এই যে, আমি আজ দিল্লীর আসাহহুল মাতবে’ থেকে মুসলিম শরীফের একটি নুসখা, যার হাশিয়াতে ইমাম নববীর অতুলনীয় শরাহটি রয়েছে, পাঁচ রুপি দিয়ে খরিদ করেছি। আগামী রবিবারের মধ্যে এর মূল্য আট রুপি হয়ে যাবে। যদি মুনাসিব মনে করেন, তাহলে আপনার কুতুবখানার জন্যও সংগ্রহ করতে পারেন। মিশকাত শরীফও ছাপা হয়েছে, যার মূল্য দুই রুপি এবং বাইযাবি শরীফ ছাপা হয়েছে, মূল্য দুই রুপি, তিবী, বুখারি শরীফ এর মূল্য পাঁচ রুপি আট আনা, জালালাইন দুই রুপি। এখন যদি আপনি মুনাসিব মনে করেন তাহলে সংগ্রহ করতে পারেন। আর যদি মুনাসিব মনে না করেন তাহলে নাও নিতে পারেন। আপনার ভালো-মন্দ আমাকে জানাবেন এবং চাচাজানের খেদমতে আমার সালাম পেশ করে দুআর কথা বলবেন। মাওলানা আব্দুল কাদের ছাহেবের খেদমতে সালাম পেশ করে দুআর কথা বলবেন। অন্য সবাই ভালো আছে। ভাবীকে আমার সালাম দিবেন এবং আমার জন্য দুআ করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে জাযায়ে খায়র দান করুন। ষ

বান্দা মুহাম্মদ ইউসুফ

৭-৩-১৯৩২ ঈ., জুমাবার

মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী শৈশব থেকেই শেখার প্রতি চরম আগ্রহ ছিল। সাধারণ ছেলেদের এতো তিনি নিজের দায়িত্ব থেকে গাফেল থাকতেন না। খেলাধুলায় নিজের সময় নষ্ট করাকে পছন্দ করতেন না। যখন ফিক্হ ও হাদীসের কিতাব আরম্ভ করেননি, তখনও সাহবায়ে কিরামের আলোচনা, আল্লাহর রাস্তায় তাঁদের বাহাদূরী ও ত্যাদের ঘটনাবলীর ব্যাপারে গভীর আন্তরিকতা ছিল। এ সম্পর্কে যে কোন কিতাব পেলে অত্যান্ত আগ্রহের সাথে তা অধ্যয়ন করতেন। যে সব কিতাবে সাহাবায়ে কিরামের কষ্ট-ক্লেশ ও সাধনার আলোচন পেতেন, ছোট বেলা থেকেই তা বড় আগ্রহের সাথে পাঠ করতেন। যখন ফিকহ ও হাদীসের শিক্ষা আরম্ভ হয় তখন এ মুবারক ইলমের মাঝে পূর্ণভাবে ব্যস্ত হয়ে যান। দিনের কোন অংশ এমন পাওয়া যেত না যে, তিনি খালি বসে আছেন। কোন না কোন কিতাব হাতে থাকত। তিনি এমন কোন কাজ পছন্দ করতেন না যার কারনে লেখা-পড়ার মাঝে ক্ষতি হয়।

শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া রহ. এ সময়ের ঘটনা এভাবে উল্লেখ করনে:
‘‘দিল্লীর লোকেরা চাচাজান (হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ.)- এর ওপর অনেক আগ্রহ দেখিয়ে বলতেন, বিবাহ-শাদীর অনুষ্ঠানে ছেলেকে নিয়ে আসবেন। কিন্তু মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ সাহেব লেখাপড়ায় এতেঠ ব্যস্ত থাকতেন যে, এটা তাঁর নিকট নিতান্ত অপছন্দনীয় মনে হত। অনেক সময় এমন হত যে, ঐ সময় আমার দিল্লিতে যাওয়া হত। তখন যাওয়ার সাথে সাথে মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ সাহেব আমার থেকে ওয়াদা নিয়ে নিতেন যে, ‘‘ভাই সাহেব! আমাকে কিন্তু অমুক জায়গায় যেতে বলবেন না।” চাচাজান কখনও আমাাকে বলতেন, ইউসুফকেও সাথে নিয়ে নাও, তখন আমি একথাই বলতাম যে, আমার আসার সাথে সাথেই সে আমার থেকে এ ওয়াদা নিয়ে নিয়েছে, যেন আমি তাঁকে সেখানে যেতে না বলি।”

নূহ এলাকার বাসিন্দা হফেয মুহাম্মদ সিদ্দীক সাহেব, যিনি ছোট বেলা থেকেই মাওলানা ইউসুফ রহ. সঙ্গে বিভিন্ন কাজে শরীক ছিলেন, তিনি মাওলানা ইউসুফ রহ. অধ্যয়নের ব্যস্ততা সম্পর্কে বলেন:
“হযরত মাওলানা সাহেব মসজিদের দক্ষিণ পাশের্^র কামরায় লেখাপড়া করতেন। গভীর রাত্র পর্যন্ত অধ্যয়ন করতেন। শেষ রাত্রে শয়ন করতেন। সকালে নামাযের সময় হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. হাউযের পার থেকে ডাক দিতেন। ঐ ডাকে মাওলানা জ¦ী বলে উঠে যেতেন। স্বয়ং মাওলানা নিজেই বলতেন যে, আমি লেখাপড়ায় এতেঠ ব্যস্ত থাকতাম যে, কম্বল পা থেকে সরে কোথায় চলে গেছে, টেরই পেতাম না।”

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com