বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন

পবিত্র মসজিদ ও ইজতেমার ময়দান দখলের এই উগ্রতার শেষ কেথায়?

পবিত্র মসজিদ ও ইজতেমার ময়দান দখলের এই উগ্রতার শেষ কেথায়?

এএএকাজী মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন |তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

সূরা ৬ আনআম আয়াত-১৫৯ : ইন্নাল্লাজিনা র্ফারাকু দীনাহুম ওয়াকানু শিয়াআন লাসতা মিনহুম ফিশাইইন ইন্নামা আমরুহুম ইল্লাল্লাহি সুম্মা ইউনাব্বিউহুম বিমা কানু ইয়াফআলুন।

 

অর্থ্যাৎ :- নিজেদের ধর্মকে যারা খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত করে ফেলছে এবং দলে দলে বিভক্ত হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আপনার কোনো সংশ্রব নেই। তাদের বিষয়াদি আল্লাহর হাওলায় রয়েছে, অতঃপর তিনি তাদের কৃতকর্মগুলো জানিয়ে দেবেন।

 

দীর্ঘদিনের প্রথানুযায়ী ফেনী জেলার সাপ্তাহিক শব-গুজারি হয় ফেনী মারকাজ আলীয়া মাদ্রাসা মসজিদে। এদিন ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা তবলিগের সাথীরা একত্র হয় এবং রাইবেন্ড গ্রুপ আসরের পর থেকে মসজিদের ভেতরে দখল নিয়ে বয়ান করতে থাকে। এদিকে নিজামুদ্দিন গ্রুপ মসজিদের ভেতরে জায়গা না পেয়ে বারান্দার উত্তর পাশে শূরা কমিটির মুরব্বি হাফেজ মাওলানা নুরুদ্দীন, ডাক্তার জুলফিকারসহ (এমবিবিএস) অপরাপর সাথীরা বসে ভেতরের বয়ান শুনছিল এবং মাশওয়ারা করেছিল মাগরিব বাদ কে এলান করবে এবং কে বয়ান করবে?

 

হঠাৎ মসজিদের ভেতর থেকে রাইবেন্ড গ্রুপ স্লোগান দিতে দিতে বারান্দায় এসে নিজামুদ্দিন গ্রুপকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে লাগল। খবর পেয়ে একশ গজের মধ্যে অবস্থিত ফেনী মডেল থানা থেকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। জানা যায় আগের বৃহস্পতিবারও নিজামুদ্দিন গ্রুপকে মসজিদে জায়গা দেয়া হয়নি। ঘটনার দিন নিজামুদ্দিন গ্রুপ আগেভাগে এসেও মসজিদের ভেতরে জায়গা না পেয়ে বারান্দার উত্তর পাশে অবস্থান নিলে কেউ কেউ বলেন তাদের বের করে দেয়ার জন্য।

 

ওসি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এবং মসজিদের ভেতরে এসে মিম্বরে দাঁড়িয়ে রাইবেন্ড গ্রুপকে লক্ষ্য করে বললেন এখানে যারা উপস্থিত সবাই ফেনী এলাকার ভাই ভাই, অন্য কেউ তো নেই, আমরা শান্তি চাই, ইসলাম শান্তির ধর্ম। শান্তি চাই কিনা? তাহলে সবাই সোজা লাইন করে একে একে বের হয়ে যান। তারপর বারান্দায় এসে নিজামুদ্দিন গ্রুপের সঙ্গেও শান্তির আলোচনা করেন। তখন শূরার সাথীরা বলেন আমরা তো বসে আছি, স্লোগানও দিচ্ছি না, আর কাউকে বাধাও দিচ্ছি না। ওসি অনুরোধ করলেন শান্তির জন্য আপনারাও লাইন করে একে একে বাইরে চলে যান। সবাই বাইরে চলে গেলে মসজিদ খালি হল। পুলিশ সময় মতো না এলে ভয়ানক একটা কিছু ঘটার সম্ভাবনা ছিল। ইত্যবসরে মাগরিবের আজান হলে দুই গ্রুপের অনেকেই আবার নামাজের জন্য মসজিদে এলো। নামাজ শেষে প্রথমে ওসি সবাইকে বাইরে চলে যাওয়ার অনুরোধ করল এবং নির্দেশ দিল এশার নামাজের সময় এলাকার মুসল্লি ছাড়া বহিরাগত কেউ মসজিদে প্রবেশ করবেন না। প্রশাসনিকভাবে মাদ্রাসা মসজিদে সমাবেশ উভয়পক্ষের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হল।

 

বাইরে থাকা সাধারণ সাথীরা চিৎকার করে ছি-ছি ধিক্কার দিচ্ছিল তবলিগের মুরব্বিদের এবং দু-একজনকে কাঁদতেও দেখা গেছে। এ হল আজকের মুসলমানদের হাল-হাকিকত। পাঁচ মাস বিদেশ সফর করে ফেরত আসা তবলিগের সাথীদের থেকে জানা যায় বিদেশে এসব কিছু নেই, গ্রুপিং শুধু বাংলাদেশে, নিজামুদ্দিন সফরকারী সাথীদের থেকেও জানা যায় ভারতেও কোনো গ্রুপিং নেই। রাইবেন্ড পাকিস্তানে গঠিত ‘আলমী শূরার’ প্রভাবে বাংলাদেশে ওলামা গ্রুপ সৃষ্টি হল। আলেমদের বুঝান হল মাওলানা সাদ, ইহুদি, নাসারা ও রাশিয়ার দালাল এবং শরিয়তবিরোধী বয়ান করেন। আজ ২০-২৫ বছর ধরে মাওলানা সাদ বিশ্ব তবলিগ পরিচালনা করলেন, এখন ২-১ বছরের মধ্যে দালাল হয়ে গেলেন?

 

ওয়া’তাসিমু বিহাবলিল্লাহি জামিআঁও ওয়ালা তার্ফারাকু (সূরা আলে এমরান, আয়াত-১০৩), ওয়ালা তাকুনু কাল্লাজিনা তার্ফারাকু ওয়াকতালাফু মিমবা’দি মাজা আহুমুল বাইয়েনাতু, ওয়া উলাইকা লাহুম আজাবুন আজীম (সূরা আলে এমরান আয়াত-১০৫)

 

এবং তোমারা আল্লাহর রুজ্জুকে (দ্বীনকে) দৃঢ়ভাবে ধারণ কর, এমনভাবে যে, তোমরা পরস্পর একতাবদ্ধও থাক এবং পরস্পর বিছিন্ন হইও না।

 

আর তোমরা ওইসব লোকের মতো হইও না, যারা পরস্পর পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং মতবিরোধ করেছে, তাদের কাছে স্পষ্ট বিধানগুলো পৌঁছার পর, আর তাদের জন্য ভীষণ আজাব রয়েছে।

 

মুসলমান-মুসলমানকে মসজিদে ঢুকতে দেবে না, মসজিদ থেকে বের করে দেবে। তবলিগ জামাত ঘরে ঘরে গাস্ত করে আমজনতাকে মসজিদমুখী করবে আর জিদাজিদির কারণে মুসল্লিদের পুলিশ মসজিদ থেকে বের করে দেবে? হুজুরে পাক (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী- উম্মতের ৭৩ কাতারের মধ্যে ৭২ কাতার জাহান্নামে যাবে, আলেমরা বেশি যাবে জানার পরও কারও আজকের আলেমদের কোনো ভয় নেই। হে আল্লাহ মুসলমানকে হেফাজত করুন, সুসংঘটিত তবলিগ জামাতকে আবার এক করে দিন।

 

লেখক : ফেনীর তিন চিল্লার  সাথী।সৌজন্যে, যুুুুগান্তর

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com