শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১, ১১:১১ অপরাহ্ন

ফিরে আসুন আত্মহননের এই পথ থেকে…

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আত তাহকীক ডিসেম্বর সংখ্যা এখন বাজারে

ফিরে আসুন আত্মহননের এই পথ থেকে…

সম্পাদকীয়। মাসিক আত তাহকীক; ডিসেম্বর ২০২০: সম্পাদকীয়

করোনার প্রকোপতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় তাবলীগ জামাতের ৫ দিনের জোড় ও বিশ্ব ইজতেমার তারিখ এই মুহূর্তে করা যাচ্ছে না। ইজতেমার তারিখ হলে এর চল্লিশ দিন আগে ইনশাআল্লাহ পাঁচ দিনের জোড় সারাদেশে একসাথেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন কাকরাইলের মুরুব্বিগণ। যাতে করে পূর্বের তরতিবে একই নেহাজ সারাদেশের তাবলীগের কাজ চলতে পারে।


পাঁচ দিনের জোড় না হলেও জোড়ের পূর্বনির্ধারিত তারিখ ১৩ নভেম্বরে সারাদেশ থেকে খুরুজের যে জামাত বের হয়েছে তা অবাক করার মতো। লকডাউনের পর থেকে সারাদেশে ৩ হাজারের বেশি জামাত আল্লাহর রাস্তায় চলছে। তাবলীগ একটি মেহনতের নাম। একটি কুরবানীর নাম। নিজের বিবি-বাচ্ছা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রিয়বস্তু ত্যাগের নাম। সাহাবারা তা করে এই উম্মতকে শিখিয়েছেন। এটি কোন বয়ান, ওজাহাত আর পেশিশক্তির উত্তাপ ছড়ানো ও বড় মজমা করে শো-ডাউন করার নাম নয়। যারা মেহনত করবে, তারাই ময়দানে টিকে থাকবে আর যারা কেবল কথা বলবে ও বাঁধা দিবে, তারা এমনি একসময় কান্ত ও নিস্তেজ হয়ে ফিরে যাবে। এটি আজ প্রমাণিত সত্য। সারা দেশের চিত্র আমাদের চোখের সামনে।

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আত তাহকীক ডিসেম্বর সংখ্যা এখন বাজারে

উম্মতের দ্বীনের তলব নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় চলনেওয়ালা কালেমার এই ফেরিওয়ালাদের গায়ে হাত দিতেও তাদের কলিজা কাঁপছে না। এতে বরং নিজেরই দুনিয়া-আখেরাত বরবাদ করছেন। নিজেরাই নিজেদের ঈমান, আমল ও সামাজিক অবক্ষয়রে মূলোৎপাটন করছেন। এটি যত দ্রুত বুঝবেন ততো মঙ্গল হবে। আর এটিও মনে রাখবেন, যারা নববী এই মেহনতকে নিজের জান-মাল, বিবি-বাচ্ছা ও দুনিয়ার সবকিছু থেকে বেশি মহব্বত করে জান-মালের বাজি লাগায়, তাদেরকে বাঁধা দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। আল্লাহ তার দ্বীনের এই কাজকে একদল জানবাজ মুজাহিদদের কুরবানীর নজরানায় টিকিয়ে রাখবেন ইনশাআল্লাহ।

কিন্তু বুকভরা কষ্ট নিয়ে অতি পরিতাপের সাথে বলতে হয়, আমাদের মুহিব্বিন কথিত আলমী শূরার দাবিদারগণ উম্মতের জান-মাল সময়ের সহীহ ব্যবহারের জন্য মেহনত না করে উল্টো দেশের নানান জায়গায় যেখানে তাদের লোকবল বা প্রভাব বেশি, এমন কিছু মসজিদ থেকে তাবলীগ জামাতকে এখনো মারধর করে বের করে দিচ্ছেন নির্লজ্জভাবে। এমন একটি জুলুমের কাজ, অন্যায় গর্হিত কাজ করতে বিবেকেও বাঁধছে না।

এই বাধাঁর ফলে জামাতে চলা সাধারণ সহজ-সরল আল্লাহর রাস্তার মেহমানদের চোখের পানি আর আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদের কারণে হয়তো আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠছে। যেখানে স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আলানীনই বলছেন, ‘তারচেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ঘরে আসতে মানুষকে বাঁধা দেয়।’ এমন অন্যায় কাজের ফলে ইসলাম বিরোধী শক্তি ও আহলে হকদের বিরোধীতাকারীরাও কিন্তু দ্বীনী কাজে বাঁধা প্রদানে উৎসাহিত হচ্ছে।  যা সামগ্রিকভাবে ইসলামের জন্য তিকর। এতে করে ইসলামকে, হককে বিকশিত করার পথ ক্রমশ সংকোচিত হয়ে আসবে। এর দায় আপনাকেই নিতে হবে।


বাঁধা দেয়া কোন সমাধান নয়। আল্লাহর নবীর আদর্শ হলো, মেহমান কাফের হলেও একরাম করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে কাফেরদেরকে থাকতে দিয়েছেন। আর উনারাতো মুসলমান। আপনার মুসলিম ভাই। উনারা আপনার মসজিদে দ্বীনের মেহমান হিসেবে গিয়েছেন। তাদের তিনদিন ইকরাম করেন। কোন কথা থাকলে তাদের মহব্বতের সাথে তুলে ধরুন। কোন ভুল কথা বললে কুরআন-হাদীস থেকে শোধরে দিয়ে দ্বীনী দায়িত্ব পালন করুন।

মুসলমানকে তাড়িয়ে দেয়া, মারধর করা খোদার কসম! কোন দ্বীনী খেদমত হতে পারে না।


আরো কষ্টের বিষয় হলো, এসব অন্যায় কাজে ব্যবহৃত হচ্ছেন কিছু অবুঝ আলেম। একসময় আহলে হকদের এই নববী মেহনতকে থামানোর জন্য বেদআতি, আটরশি, মাইজভান্ডারি কিংবা আলা হযরতের সমর্থকরা বাংলাদেশে কাজ করত। তাবলীগের মেহনতের সাথীদের এসব ঘটনা পুরনো। কীভাবে হেকমতের সাথে এসব পরিস্তিতির মোকাবেলা করে দ্বীনের মেহনত করতে হয় তারা তাও বেশ ভালই জানেন। বরং এমন আত্মঘাতী উগ্রতার কাজে সাধারণ ও শিতি মানুষ ও তরুণ সমাজ তাবলীগ জামাতকে মসজিদ থেকে বের করায় ভূমিকা গ্রহণকারীদের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এতে করে অনেক জায়গায়ই বাঁধা দানকারীরা সাধারণ মানুষের হাতে চরমভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হটচ্ছন। এমন খবরও কোনভাবেই সুখখর নয়। আমাদের মুহিব্বিন অবুঝ এই ভাইদের অপমানেও আমাদের দিল কাঁদে।

কোন বিবেক সম্পন্ন মানুষ এমন জুলুম ও অন্যায়ের কাজ করতে পারে না। এছাড়া খোদ দারুল উলূম দেওবন্দ স্পষ্ট বলেছে, নিযামুদ্দীন অনুসারী তাবলীগ জামাতকে মসজিদে বাঁধা দেয়া যাবে না। জনাব বলবেন কী? আপনি কাকে মানছেন? উলামায়ে দেওবন্দকে না আটরশী মাইজভান্ডারিকে?

কাউকে বাঁধা দেয়া খোদার কসম! কখনো হযরতজী ইলিয়াস [রহ.] কিংবা আহলে দেওবন্দের আদর্শ হতে পারে না। উগ্রতা ও বাড়াবাড়ি কখনো ইসলামের সঠিক পথ হতে পারে না। এই পথ কখনো অনুসরণ করেনি হযরত সাহাবায়ে কেরাম কিংবা আমাদের সালফে সালিহিনগণ। আপনি আপনার কাজ করুন। আপনার কাজ যদি মকবুল হয়, এটি এমনি জগতময় ছড়িয়ে পড়বে, মানুষ কবুল করবে। অন্যের কাজে বাঁধা দেয়া এটাতো কাজ নয়।
প্লিজ হযরতগণ! এবার থামুন। চোখ খুলে দেখুন আর বিবেককে জিজ্ঞেস করুন, কী করার ছিল আর নবীর এতিম উম্মতের সাথে কী জুলুমের আচরণ করছেন! তাবলীগের সাথে লাগার পর থেকে আমাদের অঙ্গনে শায়খুল ইসলামের ম”ত্যুসহ একের পর এক কতোটা ভয়ঙ্কর পরিণিতি আর বিপর্যয়ে উলামায়ে কেরাম আজ পতিত। এই আত্মঘাতী কাজ থেকে ফিরে না এলে সামনে আরো খারাপ সময় হয়তো অপো করছে। এটি মনে রাখবেন, মজলুমের বদদোয়া খোদা কখনো ফিরিয়ে দেন না। আর ‘শুনা কথা’ অপপ্রচার না করে দ্বীনের মেহনতের হাকীকী কাজে মনযোগী হোন। আল্লাহ আপনার জীবনকে প্রশান্তিতে ভরে দিবেন। দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত করবেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com