শনিবার, ১২ Jun ২০২১, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজ এডমিনদের নিয়ে মাশোয়ারার  বাংলাদেশে আরবি বিস্তারের মহানায়ক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা) দেওবন্দে গেলেন হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. মনসুরপুরীকে নিয়ে সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনি নদভির স্মৃতি চারণ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম আমার একান্ত অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম : মাহমুদ মাদানী মানসুরপুরীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের গভীর শোক প্রকাশ দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম সাইয়েদ কারী মাওলানা উসমান মানসুরপুরী আর নেই
ফিরে যাই মদীনায়:মুফতী মুহাম্মাদ আইয়ুব কাসেমীর কলাম

ফিরে যাই মদীনায়:মুফতী মুহাম্মাদ আইয়ুব কাসেমীর কলাম

ফিরে যাই মদীনায়

মুফতী মুহাম্মাদ আইয়ুব কাসেমী

ধর্মের নামে কাদা ছোড়াছুড়ি এ দেশে নতুন কিছু নয়। যুগযুগ ধরে এ সংস্কৃতি নিয়েই এক শ্রেণির মানুষ দিব্যি আরামে তরতর করে করে গজিয়ে উঠছে। নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে তারা শুধু  নাস্তিক আর নাস্তিক দেখেন। প্রশাসনে নাস্তিক, ক্ষমতায় নাস্তিক,আদালতে নাস্তিক। সবশেষে দেশটা ই নাস্তিক!

এই সব হাস্যকর বিষয়ে মাঠে ময়দানে আলোচনা করে আজকাল আবার অনেকে পবিত্র ধর্ম ইসলামের হিরো আলম। যারা সবখানে রক্ত দিতে এবং বন্যা বইয়ে ফেলতে সিদ্ধহস্ত। আজকাল বাংলার আনাচে কানাচে এমন অনেক মাওলানা সাহেব আছেন যাদের বক্তব্যের অনেকাংশ জুড়ে থাকে ” রক্তের বন্যা বইয়ে দেব,নাস্তিকদের চামড়া তুলে নিব” ধাওয়া দিলে ফালানোর ফথ ফাবেনা” আওয়ামিলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ সবাই নাস্তিক ” রক্ত যখন দিব তখন রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিব” ইত্যাদি ইত্যাদি। দেশময় রাত-দিন যারা এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন তাদের দাবী অনুসারে তারা ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করেন, জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান বলে নিজেদের উপস্থাপন করেন।

ভরাট গলায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওয়ারিশ বলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন। এখন কথা হচ্ছে তাঁরা যে ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন বা শ্রেষ্ঠ নবীর শ্রেষ্ঠ ওয়ারিশ বলে পরিচয় দেন সে ধর্মে বা নবীজীর সুমহান আদর্শে এভাবে রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়া বা জনমনে উস্কানিমূলক উগ্রবাদী বয়ান পাওয়া যায় কি-না তা দেখতে আমাদের একটু নবীজীর পবিত্র জীবনীতে ফিরে যেতে হয়।

১. মক্কা বিজয়ের দিন  আউস গোত্রপতি হযরত সা’দ বিন উবাদা (রাঃ) আবু সুফিয়ানকে লক্ষ করে বললেন ” আল ইয়াউমু ইয়াউমুল মালহামাহ” তথা আজ রক্তপাতের দিন। এ সংবাদ হুজুর (সাঃ) এর কানে পৌঁছতেই তিনি হযরতের সা’দের কাছ থেকে ঝান্ডা নিয়ে তাঁর ছেলেকে দিয়ে দিলেন আর বললেন “আল ইয়াউমু ইয়াউমুল মারহামাহ” আজ তো ক্ষমার দিন,ভালবাসার দিন,রহমের দিন। ( বুখারী শরীফ,কিতাবুল মাগাজী, হাদিস নংঃ৪০৩০)

২. রাসূলের (সাঃ) কাছে সংবাদ আসল কালিমা পড়া সত্ত্বেও উসামা ইবনে যায়েদ এক লোককে হত্যা করেছে। মহানবী (সাঃ)  হযরত উসামাকে ডেকে ঘটনার সত্যতা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন সে তো মৃত্যু ভয়ে কালিমা পড়েছিল। হুজুর (সাঃ)  তাঁর দিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, “আফালা শাক্বাক্বতা আ’ন ক্বলবাহু” তুমি কি তার হৃদয় চিরে দেখেছ? (সে আল্লাহর ভয়ে কালিমা পড়েছিল নাকি মৃত্যুর ভয়ে? ) বুখারী শরীফ -হাদিস নং ৬৮৭২) মাত্র দুটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করলাম।

প্রিয় পাঠক! কষ্ট হলেও হাদীসের বিশাল রত্নভান্ডার এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনী অধ্যয়ন করে দেখতে পারেন। হাজার বার পড়তে পারেন বারবার ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরে আসবেন তথাপি ও কোথাও পাবেন না যে,ইসলাম রক্তপাতের ধর্ম, রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়ার ধর্ম। তবে হ্যা, সবখানে যে জিনিসটা আপনার চোখে পড়বে সেটা হচ্ছে ইসলাম মানবতার ধর্ম, শান্তির ধর্ম।

আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ পাক সমগ্র মানব জাতির জন্য রহমাতুল্লীল আ’লামিন তথা বিশ্ব শান্তির দূত হিসাবে পাঠিয়েছিলেন। সুতরাং যারাই আজ শান্তির ধর্মের ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করবেন তাঁরাই সচেষ্ট হবেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে।

ধর্মের নামে কাউকে দূরে ঠেলে দেওয়া, জাহান্নামে পাঠিয়ে দেওয়ার অধিকার আল্লাহ পাক কোন নবী রাসূলকে পর্যন্ত দেননি তাহলে আমি কোন ছার? সুতরাং আসুন নববী শিক্ষার আলোকে একটি সুন্দর দেশ গড়ি। নিজে ভালো থাকি অপরকেও ভালো রাখি। প্রকৃত মুসলমান হয়ে সমাজে আত্মপ্রকাশ করি।সুন্দর সোনালী দেশ গড়ি।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com