শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন

কান্ধলা খান্দান: একটি এলান ও সত্যের সাক্ষদান

কান্ধলা খান্দান: একটি এলান ও সত্যের সাক্ষদান

কান্ধলা খান্দান: একটি এলান ও সত্যের সাক্ষদান

মাওলানা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.

অনুবাদ: সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

(এটি হযরত মাওলানা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ) এর বিশেষ লিখনি । যাতে বাংলা ওয়ালি মসজিদ (নিজামুদ্দিন দিল্লির) আধ্যাত্বিক অবস্থা , আকীদা সংরক্ষণ ও মূল আর্দশ এবং মূল র্কমপন্থআর ব্যপারে আলোকপাত করা হয়েছে । সাথে সাথে দাওয়াতে তাবলীগের প্রতিষ্টাতা হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর মাকাম ও মর্যাদাকে স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ইলিয়াস রহ. এর রক্তধারা ও বংশধারার চিন্তা চেতনাকে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হয়েছে এবং কান্ধালার র্স্বাথক উত্তরপুরুষ আলি মিয়া নদভী রহ. এর শাগরেদে খাছ ও খলিফা র্বতমান হযরতজী মাওলানা মুহাম্¥দ সাদ কান্ধলভী দা.বা. এর চিন্তা চেতনা কী তা স্পষ্ট করেছেন আপন শায়েখ। যার প্রভাব দাওয়াতের চিন্তাা চেতনার উপর বিস্তৃত হয়েছে যে দাওয়াত কে একত্ববাদ শরীয়াত ও সুন্নতের অনুসরণের নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে সুতরাং এই সুক্ষ বিষয় কে এড়িয়ে যাওয়া মুবাল্লগিদের জন্য সমুচিত হবে না। হযরতের এই লিখনী ১৯৯৫ইং ১৪১৬হিঃ তে জনসম্মুখে প্রকাশ পায় যেটা ২৫শে সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ইং মাসিক তামীরে হায়াত পত্রিকায় ছাপানো হয় । )

এটা একটি বাস্তব সত্য যে তাবলীগ জামাত বর্তমান সময়ের এক পরিশ্রমী দীনী জামাতে ও আন্দোলনের নাম যার মাধ্যমে মানুষ দীনের শিক্ষা অর্জন ও প্রধান করে। যে জামাতের হাজার হাজার সাথীদেরকে একই সময়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় এক শহর থেকে অন্য শহরে মোট কথা যেখানেই কোন মুসলমান থাকার সম্ভাবনা থাকে সেখানেই তাবলীগ জামাত তাদের মেহনত ও পরিশ্রম নিয়ে পৌছে যায় । তারা নিজেদের উসুলের গন্ডি থেকে (যে নিয়মিত তাবলীগ জামাতের বানী হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. নিজের শরয়ী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে কুরআন ও হাদিস থেকে আবিষ্কার করেন) মানুষদের কে দীনের প্রাথমিক বিষয়গুলো এবং ঈমানকে নবায়ন করা ও তার উপর অটল থাকা এবং শরীয়তের হুকুম আহকাম মেনে চলা এবং মুসলমানদের ইকরাম ও সম্মান করা আল্লাহ তায়ালার যিকিরে মাশগুল থাকা অহেতুক কাজ কর্ম থেকে বিরত থাকা সম্পর্কে শিক্ষা দিয়ে থাকেন।

এবং এটাও বাস্তব সত্য যে আল্লাহর রাস্তায় তাদের এই মেহনত কুরবানি ইখলাস ও তাওয়াককুলের বরকতে তাদের নিজেদের ও দীনী লাইনে অনেক উন্নতি ও দ্বীনের অনেক জরুরি বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন হয় এবং সাথে সাথে তাদের দাওয়াত ও মেহনতের কারনে কোটি কোটি মানুষের দ্বীনের লাইনে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয় এবং মসজিদ সমূহ আবাদ হয় তালীমের হালকা তৈরি হয় মানুষের সভাব চরিত্রের মাঝেও বিপুল পরিমাণ পরিবর্তন হয় দ্বীনি শিক্ষার পতি মানুষের জযবা ও আগ্রহ বৃদ্দি পায়।

তাবলীগ জামাতের এই উজ্জ্বল ফলাফল যেমন অনস্বীকার্য ঠিক তেমনিভাবে এই বা¯বতা ও অনস্বীকার্য যে যুগ যুগ ধরে কালের বিবর্তনে ইসলাম ও মুসলমানদের উপর যে সব জাহেলি আগ্রাসন ও নতুন নতুন ফিৎনা মুসীবত চেপে বসেছে তাবলীগ জামাত ও তার বাইরে নয় বরং তাবলীগ জামাতে যে সমস্ত ফিৎনা আবির্ভাব হচ্ছে তা এর চেয়ে দীগুন ও ভয়াবহ। এই সব ফিৎনা থেকে বেচে থাকার একটাই রাস্তা তা হলো তাবলীগ জামাতের মূল উসুল ও বুনিয়াদি হিদায়তকে আঁকড়ে ধরা ও তার উপর অটল থাকা। সুতারং ফিৎনার মোকাবিলায় আমাদেরকে জামাতের মূল উসুল , হিদায়াত ও র্কমপন্থাকে সাথে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আর দাওয়াত দ্বারা যে ঈমানী জযবা দিলে সৃজন হবে তা উম্মতে মুসলিমাকে এই সকল ফিৎনা থেকে বেচে থাকার প্রতি সহায়ক হবে।

তাবলীগ জামাতের মূল আকীদা বিশ্বাস:
তাবলীগ জামাতের মূল আকীদা বিশ্বাস হল তারা খালেস একত্ববাদে বিশ্বাসী এবং শিরিক ও বেদাত থেকে বেচে থাকে শরীয়ত ও সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসরণ করে । এর বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে চাইলে এই জামাতের প্রথম দ্বায়ী মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর বংশীয় ও আধ্যাত্বিক সম্পর্ক ও ব্যক্তগত শিক্ষা তারবীয়াতি তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ সম্পর্কে অবগত হওয়া জরুরি। কারণ একজন মানুষের আকীদাহ বিশ্বাস ও আদর্শের মাঝো বড় প্রভাব বিস্তারকারী হল তার বংশীয় সম্পর্ক ।অনুরুপ ভাবে মানুষের আধ্যাত্বিক সম্পর্ক শিক্ষা এবং তার বড়ে ওঠার পরিবেশ ও তার আকীদাহ বিশ্বাসে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করে থাকে এটা একটি স্বীকৃত বিষয়।

সুতারাং এ ধারাবাহিকতায় হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর মায়ের বংশের প্রথম ব্যক্তি যিনি কান্দালা বংশের রচয়িতা তিনি হলো মাওলানা মুফতি ইলাহি বখশ কান্ধলভী রহ. (মৃত ১২৪৫হিঃ)যিনি হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভীর অন্যতম শিষ্যদের একজন তিনি তার সময়ের মুরুব্বি হওয়া সত্বেও ৬৫ বছর বয়সে নিজের শায়খের খলিফা হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ রহ. (মৃত ১২৪৬হিঃ)এর হাতে বায়াত গ্রহন করেন এবং নিজে শরীঈ জ্ঞান ও আধ্যাতিকতায় পূর্ণতা লাভ করা সত্বেও হযরত সায়্যিদ সাহেবের ভালবাসায় নিমজ্জিত হয়ে উনার শিক্ষা ও দাওয়াতের আনুগত্যকে স্বীকার করে নেন । যার সব থেকেই বড় উসুল ও প্রধান শিক্ষা ছিল খাটি একত্ববাদের শিক্ষা ও তার দাওয়াত দেওয়া এবং শিরক ও বেদাত থেকে বেচে থাকা ।

পরবর্তীতে এই বংশের আধ্যাত্বিক সম্পর্ক ছিল হযরত মাওলানা হজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রহ. এর সাথে ও মাওলানা রশীদ আহমদ গাংগুহী রহ. এর সাথে এবং উনার বিশেষ খলিফা হযরত মাওলানা খলিল আহমদ সাহারানপুরী রহ. এর সাথে। এই সমস্ত মশায়েখ একত্ববাদ ও সুন্নতের অনুসরণে সায়্যিদ আহমদ শহীদ রহ. ও সায়্যিদ ইসমাঈল শহীদ রহ. এর মাযহাবের উপর ছিল।

শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ. এর সাড়া জাগানো কিতাব ” তাকবীয়াতুল ঈমান ” (যেটা একত্ববাদের বিশ্বাস ও শিরকের খন্ডনের ব্যপারে এক অনন্য ও অতুলনীয় কিতাব) এর ধারক বাহক ও তার প্রতি নিষ্ঠাবান ছিলেন। মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর ভাতিজা বংশের উজ্জ্বল নক্ষত্র শায়খুলহাদীস মাওলানা যাকারিয়া রহ. আমাকে উক্ত কিতাব আরবিতে অনূদিত করার পরামর্শ দেন এবং এর জন্য আমাকে বার বার জোর তাগিদ দেন অত:পর আমি পবিত্র মদিনা শরীফে থাকাবস্থায় তার অনুবাদ করা শুরু করি । হিন্দুস্থান এসে এর কাজ শেষ করি এবং এই কিতাবে কিছু উপকারী টিকা ও কিতাবের আলোচনার সমর্থনে বড় বড় মশায়েখদের বক্তব্য ও বৃদ্ধি করি অত:পর এটি যখন ছাপানো হয় তার একটি পান্ডুলিপি জামিয়া ইসলামিয়া মদিনা তায়্যিবার এক সিনিয়র শিক্ষকের নিকট পেশ করা হয় যিনি আকিদাহ গত ভাবে সালাফি ছিলেন উনি এই কিতাব অধ্যায়ন করার পর অনেক প্রভাবিত হলেন এবং বললেন এটাতো একত্ববাদের একটা মেশিনগান অর্থাত এই কিতাবটি খালেস একত্ববাদের উপর লেখা হয়েছে ।

এই আকীদাহ ও বিশ্বাস এই জামাতের সকল জিম্মাদার তথা মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর প্রতিটি বংশধরদের মাঝে বিশেষ করে যারা মারকায নিজামুদ্দিনের সাথে সম্পর্ক রাখে তাদের মাঝে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধমান ছিল আছে ও থাকবে ইনশাআল্লাহ।

একদা মাওলানা ইলিয়াস রহ. আমাকে সম্মোধন করে বললেন যে মাওলানা আমরা এখনো হযরত সয়্যিদ সাহেব রহ. এর আকীদার ছায়াতলে আছি। তিনি সায়্যিদ আহমদ শহীদ রহ. এর জীবনী নিয়ে লেখা আমার কিতাব “সায়্যিদ আহমদ শহীদ রহ. এর জীবনী ” পড়ে বললেন যে উনার জীবনী আমার যতটুকু জানা ছিল তার থেকে অতিরিক্ত কোন কিছু বৃদ্ধি পায়নি উনার জীবনী সম্পর্কে আমরা আমাদের বংশের মুরুব্বি ও আমাদের নানিদের কাছ থেকে আগেই শুনেছি।

ইতিহাসের এই দৃশ্যায়ন আধ্যাত্বিক ও বংশীয় পরাম্পরা কে উল্লেখ করার কারণ এটাই যে তাবলীগ জামাতের চিন্তা চেতনা ও এই জামাতের আমীর ও জিম্মাদারদের চিন্তা চেতনার মাঝে খালেস একত্ববাদ সুন্নতের অনুসরণ বেদাতকে খন্ডন ও দ্বীনের সঠিক শিক্ষা ও দাওয়াতের বিশ্বাস সবসময় বিদ্যমান রয়েছে বরং তা তাদের শিরা উপশীরায় স্থান করে নিয়েছে

সুতরাং তাদের দিকে এমন কোন আকীদাহ বিশ্বাস বা এমন কোন কথা ও কাজের ঈঙ্গিত করা যাবে না যা একত্ববাদের পরিপন্থী বা তার সাথে সাংঘর্ষীক হয় । আর যে সমস্ত মানুষ তাদের কে আহলে ইলমের সামনে কোন বাতিল আকীদার দিকে ধাবিত করে তাদেরকে সন্দেহপূর্ণ কারার চেষ্টা করেতে চাচ্ছে তারা আল্লাহ তায়ালা কে ভয় করা দরকার যিনি দৃশ্য অদৃশ্যে সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত ও হিসাব নিকাসের দিনের খেয়াল রাখা উচিত।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com