শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০২:০১ অপরাহ্ন

ইজতেমার আসল মাকসাদ হলো খুরুজ ফি সাবিলিল্লাহ

ইজতেমার আসল মাকসাদ হলো খুরুজ ফি সাবিলিল্লাহ

ইজতেমার আসল মাকসাদ হলো খুরুজ ফি সাবিলিল্লাহ

 

আত তাহকীক ডেস্ক: জানুয়ারি মাস। এই সময়টি ইজতেমার মৌসুম। প্রায় অর্ধশতাব্দি ধরে প্রতি বছর বাংলাদেশের টঙ্গীর ময়দানে দাওয়াত ও তাবলীগের বিশ্ব মারকাজ নিজামুদ্দীনের মুরুব্বিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবছর বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে জোড় ইজতেমার তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে। তাবলীগের আলমী ইজতেমা এর ৪০ দিন আগে ৫ দিনের জোড় গতানুগতিক কোন বড় বার্ষিক সমাবেশ নয়; কিংবা লোক দেখানো অথবা মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ও কিশোরদের এনে মাঠ ভরে, লোকে লোকারণ্য করে কোন শোডাউন প্রদর্শন নয়।
ইজতেমা একটি মেহনতের নাম। ৫ দিনের জোড় একটি মেহনত শেখার নাম। যে মেহনত এই উম্মতকে সৃষ্টির মূল মাকসাদ, যে মেহনত দিয়ে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে নিস্পাপ মাসুম নবীদের প্ররণ করেছিলেন। যে মহান মেহনতের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম রাযিআল্লাহু আনহুমদের তৈরি করেছিলেন। যে মহনতকে জীবনের মাকসাদ বা মূল মন্ত্র হিসেবে বেছে নিয়ে নবী ও সাহাবাগণ জান-মাল ও সময়ের বাজি লাগিয়ে দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে গিয়েছিলেন। নিজের বিবিকে বিধবা করেছেন। বাচ্চাদের ইয়াতিম করেছেন। ধন-সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। জীবনের সবকিছু ছেড়েছেন ও ত্যাগ করেছেন; কিন্তু নবীওয়ালা এই জিম্মাদারীকে মুহূর্তের জন্য ভুলে যাননি।

এই দাওয়াত ও তাবলীগের নবীওয়ালা মেহনত ও সাহাবাওয়ালা কুরবানীকে আবার দুবারা দুনিয়াতে জিন্দা করাই তাবলীগের জোড় এবং ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য। মেহনত করতে করতে সারা দুনিয়া থেকে একদল মানুষ ইজতেমার ময়দানে জড়ো হবে। সেখান থেকে আবার বিদায় হজ্বে রাসূলের ইজতেমার অনুকরণে উম্মত নিজের জান-মাল-সময় নিয়ে সারা দুনিয়ায় দ্বীনকে জিন্দা করার জন্য বেরিয়ে যাবে। আল্লাহভুলা বান্দাকে আল্লাহর সাথে জুড়বে। ইসলামকে মানবজাতির সামনে তুলে ধরবে। ঈমানী আন্দোলন নিয়ে সারা দুনিয়ায় বিপ্লবের আওয়াজ ছড়িয়ে দিবে। ঈমান ও আমলের উপর সকল উম্মতকে তুলবে। যাদের হাতে আল্লাহ তাআলা এই মেহনতের বদলে জমিনের খেলাফতি দান করবেন, যেভাবে পূর্ববর্তীদেরকে দান করেছেন।

তাই ইজতেমা যখনই হোক, ইজতেমার মেহনতে যেন আমরা কোন কমি না করি। হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওমরা ও মক্কায় সমাবেশ না করেই মদ্বীনায় ফিরে এলেন। বাহ্যিকভাবে এটাকে পরাজয় বা ব্যথর্তা মনে হলেও আল্লাহ তাআলা উমরা না করাকেই ‘ফতহুম মুবিন’ বা মহা বিজয় বলেছেন। এটি সীরাতের একটি শিক্ষা। সবর ও সময়ের পালাবদলে আল্লাহ তাআলা তার মুমিন বান্দাদেরকে কাজের পরিবেশ তৈরি করে দেন, দিন বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ দান করেন।

তাই আলেম হই আর সাধারণ সাথী হই- সবার জিম্মাদারী হলো, তাবলীগের মেহনতকে জিন্দেগীর মেহনত বানিয়ে করা। সবর ও শুকুরের সাথে বিশ্ব মারকাজ, বিশ্ব আমীর ও কাকরাইলের আহলে শূরাদের মাশওয়ারা মোতাবেক সকল তাকাযায় নিজের কুরবানীকে আগে বাড়ানো। বড়দের পরামর্শে সকল জযবা ও আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে দিনের জন্য জান-মাল ও সময়ের বাজি লাগানো আমাদের জিম্মাদারী। যে কুরবানী করবে, আল্লাহ তার দ্বারা কাজ নিবেন, তাকে আগে বাড়াবেন। এজন্য কুরবানী আর ইতাআত- এই দুই জিনিসের উপর আমাদের উঠতে হবে। আল্লাহর রাস্তায় সফর আর কুরবানীকে বাড়িয়ে দেয়াই দাওয়াতের কাজের মূল বুনিয়াদ, এর দ্বারা সুন্নতের পাবন্দি, দ্বীনের হাকীকত ও আল্লাহর সাথে তাআল্লুক পয়দা হবে। উম্মত যখন এই মেহনতকে হক আদায় করে করবে তখন আল্লাহ তাআলা জমিনের সকল ফেতনা-ফাসাদকে ইনশাআল্লাহ খতম করে দিবেন। আল্লাহ আমাদের বোঝার তাওফিক দান করুন। আমীন।

বাংলা ভাষার গুরুত্ব
বাংলাদেশে আল্লামা নাদভীর একটি ভাষণ থেকে
আমার সুচিন্তিত পরামর্শ এই যে, আপনারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে আঁকড়ে ধরুন এবং নিজেদেরকে বাংলা ভাষার বিরল প্রতিভা রূপে গড়ে তুলুন। আপনাদের হতে হবে আলোড়ন সৃষ্টিকারী লেখক ও সাহিত্যিক ও বাগ্মী বক্তা। সাহিত্যের সব শাখায় থাকতে হবে আপনাদের দৃপ্ত পদচারণা। লেখনী হতে হবে এমন রস-সিক্ত ও সম্মোহনী শক্তির অধিকারী, যেন ধর্ম-বিমুখ শিক্ষিত তরুণ সমাজও ভিন্ন শিবিরের সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের পরিবর্তে আপনাদের সাহিত্যকর্ম নিয়েই মেতে ওঠে; বিভোর হয়ে থাকে। দুটি শক্তির হাত থেকে আপনাদেরকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে আনতে হবে। অমুসলিম শক্তির হাত থেকে এবং অনৈসলামী শক্তির হাত থেকে। আলহামদুলিল্লাহ! হিন্দুস্তানী আলেম সমাজ শুরু থেকেই এদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছিলেন। তাই উর্দু ভাষা ও সাহিত্য এখন তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ এ কথা বলতে পারে না যে, মাওলানা উর্দু জানে না, কিংবা টাকশালী উর্দুতে তাদের হাত নেই। এখনো হিন্দুস্তানী আলেমদের মধ্যে এমন লেখক, সাহিত্যিক ও অনলববর্ষী বক্তা রয়েছেন যাদের সামনে দাঁড়াতে অন্যদের সংকোচ বোধ হবে। বাংলাদেশে আপনাদের তাই করা উচিৎ। দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমার এ উপদেশ আপনারা লিখে রাখুন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি উদাসীনতা আলেম সমাজের জন্য জাতীয় হত্যার নামান্তর। কেননা ভাষা ও সাহিত্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক প্রাধান্য অর্জন ছাড়া এ যুগে কোন সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয়।
আপনাদের এখানে কোলকাতা থেকে অশ্লীল সাহিত্য এসেছে, অশ্লীল; তবে উন্নত। আর তাতে রয়েছে ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংসের সমস্ত মাল-মশলা। সরলমনা তরুণ সমাজ পোগ্রাসে তাই গিলছে। এর পরিণতি কখনোই শুভ হতে পারে না।
সুতরাং সাহিত্যের ময়দান দখল করুন এবং পূর্ণ শক্তিতে দখল করুন। আল্লাহ সাক্ষী, প্রতিবেশী ভাইদের প্রতি আমি আমার দায়িত্ব পূর্ণ করেছি।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com