শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১, ১০:২৭ অপরাহ্ন

তাবলীগী মেহনত : ঈমান বৃদ্ধির মেহনত

তাবলীগী মেহনত : ঈমান বৃদ্ধির মেহনত

তাবলীগী মেহনত — ঈমান বৃদ্ধির মেহনত”

 খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ
“তাবলীগে গেলে কেন মানুষের ইসলাহ হয়? জামাতে কোন কামেল শায়খ নেই। জামাতের সাথীদের বেশিরভাগই নতুন। দুয়েকজন সাথী আগেও চিল্লা-তিন চিল্লা দিয়েছেন। নিজেরা এখনও আমলে মজবুত হতে পারেন নি। গুনাহও পুরোপুরি ছাড়তে পারেন নি। এই পুরোনোদেরই একজন জামাতের জিম্মাদার। নিজের বদআমলের কথা স্মরণ করে তিনি লজ্জ্বিত। কেন যে এ বোঝা তাঁর মতো অপদার্থ একজনের ঘাড়ে পড়লো -এই চিন্তায় তিনি হয়রান।
তাঁকে আমীর বানানো হয়েছে। অথচ তার যোগ্য তিনি নন। নিজের এই অযোগ্যতার কথা বলে বলে তিনি আল্লাহর কাছে কাঁদতে থাকেন। সাথীদের হিদায়াতের জন্য দোয়া করতে থাকেন। নিজের কমজোরির কথা ভেবে তিনি ভয় পান। নিজের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। নিজের কোন দূর্বলতা পাছে সাথীদের নজরে পড়ে যায়, তার জন্য ভীত থাকেন।
সাথীরা অনেকেই আগে ঠিক মতো নামাজও পড়তেন না।দ্বীনের ব্যাপারে অজ্ঞই বলা চলে। ব্যবসা-চাকরি নিয়ে পড়ে থাকতেন। কিন্তু জামাতে আসার পর থেকে তারা পাক্কা নামাজী। তারা জামাতে আসার পর থেকেই শুনে আসছেন, আমীর সাহেবকে মানতে হবে। ইজতিমায়ী আমালগুলোতে জুড়া লাগবে। আর মসজিদের মধ্যেই নিজেকে আঁকড়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
সাথীরা আমীর সাহেবকে মানার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ তো থুথু ফেলতেও আমীর সাহেবকে বলে যান।
জামাতে এক আমালের পর অন্য আমাল। আমলের মধ্যে বৈচিত্র। তাই একঘেঁয়ে মনে হয় না। নিয়মিত শেষ রাতে উঠা হচ্ছে। কান্নাকাটি রোনাজারির কারনে মনে হয় কোন আল্লাহওয়ালা বুজুর্গের খানকাহ।তাসবীহাত ও তিলাওয়াত করতে করতে ফজরের জামাতের সময় হয়ে যায়। নামাজের পর ঈমান-আমলের বয়ান চলতে থাকে। তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের কথা। মওতের কথা, কবরের কথা। বিচার দিবসের ভয়াবহতার বর্ণনা। জান্নাত ও জাহান্নাম।
অন্তরে ভয় জাগে। চোখে অনুতাপের অশ্রু নামে। সুন্নতের মুজাকারার কারণে খাওয়া-দাওয়া-ঘুম সুন্নত মতো করার চেষ্টা চলছে। সুন্নত মতো না হলে মনে কষ্ট লাগে।
কিছুক্ষণ পরই তালীম শুরু হয়। রাসুলের হাদীসের নূর অন্তরে রেখাপাত করে। ঈমানের বিভিন্ন শাখাপ্রশাখা, ইলম ও যিকরের গুরুত্ব, আখলাক, ইখলাস ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি হতে থাকে।
ছয়নম্বর বলতে বলতে বিষয়গুলোর গুরুত্ব অন্তরে সৃষ্টি হতে থাকে। পারস্পরিক ভাল আচরণ ও মহব্বতের এক প্রশিক্ষণ চলতে থাকে।
কম খাওয়া, কম ঘুমানো, কম কথা বলা ও বাইরে কম ঘুরাফিরার কারণে নফস দমতে থাকে। আমীরের ইতাআতের প্রশিক্ষণ মন মতো চলার অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে থাকে।
লম্বা একটা সময় এভাবে একটা আমালের পরিবেশে থাকা, দাওয়াত দিতে গিয়ে মানুষের খারাপ আচরণে সবর করা, খেদমতে অংশগ্রহন আস্তে আস্তে আখলাকেও পরিবর্তন আনতে থাকে।
এভাবে তাবলীগে লম্বা একটা সময় নিয়মানুবর্তিতার সাথে কাটানো জামাতবন্দী জীবন অনেক আমলে অভ্যস্ত করে তোলে। সামান্য সময়ে ধারণার বাইরে পরিবর্তন সূচিত হয়। ইসলাহর ক্ষেত্রে এত সংক্ষিপ্ত সময়ে সাধারণ হতে সাধারণ মানুষের এত অগ্রগতি আসলেই বিরল।
এভাবে ইসলাহর প্রাথমিক পর্যায় অতিক্রম করার পর সাথী যদি কোন আল্লাহওয়ালা আলিমের সোহবত পায়, আধ্যাত্মিক রোগসমুহ সম্পর্কে অবগত হয়, তার চিকিৎসা জেনে নেয়, নিজের ইসলাহর ফিকরে লেগে থাকে এবং আলিমগনের কাছে জেনে জেনে জীবন সাজাতে থাকে আর মৃত্যু পর্যন্ত দাওয়াতের এই কাজে লেগে থাকে, তাহলে তার দ্বীনি তরক্কি এক ঈর্ষণীয় পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। তার জন্য দুনিয়া আখিরাতে ইন শা আল্লাহ নেমে আসতে পারে সত্যিকারের শান্তি ও সাফল্য।
তাবলীগের প্রথম জমানার মেহনত ঠিক এমনই ছিলো। এখনও এভাবেই চলার হিদায়াত দেয়া হয়। আমরা যেন দাওয়াতের এই মোবারক মেহনত যথাযথভাবে বুঝতে পারি, আল্লাহ তায়ালা সেই তৌফীক দান করুন।
আমীন
মুফতি  খোন্দকার   আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক : মারকাযুদ দাওয়াহ
Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com