শুক্রবার, ০৯ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

লাইলাতুন নিসফে মিন শা’বান

লাইলাতুন নিসফে মিন শা’বান

মিসবাহ উদ্দীন জুবাযের: পবিত্র লাইলাতুল বরাত, এ রাতেই মুসলিম উম্মাহ ইবাদত বন্দেগিতে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখে। হাদিসে এ রাতের ফজলিত, মর্যাদা ও করণীয় সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা রয়েছে-
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন শাবান মাসের অর্ধেক হয়ে যায়, অর্থাৎ ১৪ তারিখ দিনের পর রাত আগমন ঘটে, তখন তোমরা সেই রাতে জাগরণ করো আর পরের দিন রোজা রাখো।
শবে বরাত ছাড়াও এ মাস হলো রমজানের রোজার রাখার জন্য নিজেদের তৈরির মাস।কেননা এ মাসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধারে রোজা রেখেছেন। আবার শাবান মাসের মধ্য রজনীতে যেমন ইবাদতের কথা বলেছেন, ঠিক তেমনি পরের দিন রোজা পালনের কথাও বলেছেন।
হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ তাআলা এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। বান্দার খুব কাছের আসমানে এসে মানুষকে ডেকে ডেকে বলতে থাকেন, তোমাদের মধ্যে কেউ পাপী আছ? যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থন করবে, আর আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো।
এভাবে আহ্বান করতে থাকবেন আর তা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা ও মুক্তি চাইতে বলবেন, যে বান্দা ওই রাতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে আহ্বান করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে সে রাতে কাঙ্ক্ষিত জিনিস দান করেন। আর তা চলতে থাকবে সুবহে সাদেক পর্যন্ত।
তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে অনেকে এ রাতকে ঘিরে প্রচণ্ড রকম বাড়াবাড়ির আশ্রয় নেয় হালুয়া-রুটি, আতশবাজি, আলোকশজ্জা, সন্ধ্যা রাতে রুসুম-রেওয়াজ, হৈ-হুল্লুড় ও পাড়ায় মহল্লায় ঘোরাঘুরির আয়োজন করে আবার সন্ধ্যা রাতে পাপ মোচনের নিয়তে গোসল করাসহ ইত্যাদি বাড়াবাড়ি করে থাকে।যা “লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান”-এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রিয়নবী (স.) ঘোষিত আমলগুলো যথাযথ আদায় করা জরুরি, বান্দার জন্য হাদিসের উপর যথাযথ আমলই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি ব্যতিত প্রিয়নবী (স.) এর ঘোষণার মধ্য শাবানের রাতে ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তা’আলা ঘোষিত ক্ষমা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।
Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com