রবিবার, ১৩ Jun ২০২১, ১২:২৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজ এডমিনদের নিয়ে মাশোয়ারার  বাংলাদেশে আরবি বিস্তারের মহানায়ক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা) দেওবন্দে গেলেন হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. মনসুরপুরীকে নিয়ে সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনি নদভির স্মৃতি চারণ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম আমার একান্ত অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম : মাহমুদ মাদানী মানসুরপুরীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের গভীর শোক প্রকাশ দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম সাইয়েদ কারী মাওলানা উসমান মানসুরপুরী আর নেই
রমজানের ফাজিলত ও আমল : হয়রতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী

রমজানের ফাজিলত ও আমল : হয়রতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী

রমজানের ফাজিলত ও আমল:

হয়রতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী

হামদ ও সানার পর;

হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। রজব ও শাবানে তিনি রমজানের অধীর অপেক্ষায় থাকতেন। রমজানের আগমনের জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম শাবান মাসের (দিন তারিখের হিসাবের) প্রতি এত অধিক লক্ষ্য রাখতেন যা অন্য মাসের ক্ষেত্রে রাখতেন না। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস্সল্লামের কাছে শাবান মাসের রোজা সবচেয়ে বেশি প্রিয় ছিল।
রাসুল (সা.) শাবান মাসের হিসাব খুব গুরুত্বের সাথে রাখতেন। তিনি প্রতিটি দিন তারিখ গুণে রাখতেন। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَحَفَّظُ مِنْ شَعْبَانَ مَا لاَ يَتَحَفَّظُ مِنْ غَيْرِهِ ثُمَّ يَصُومُ لِرُؤْيَةِ رَمَضَانَ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْهِ عَدَّ ثَلاَثِينَ يَوْمًا ثُمَّ صَامَ

“রাসূল্লাাহ (সা.) শাবান মাসের হিসাব এতো গুরুত্ব সহকারে রাখতেন যে, অন্য কোন মাসের হিসাব ততোটা গুরুত্ব দিয়ে রাখতেন না। অতঃপর তিনি রমাযানের চাঁদ দেখেই রোযা পালন করতেন। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে তিনি শাবান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করতেন। এরপর রোযা রাখতেন।” –

ولم أره صائما من شهر قط أكثر من صيامه من شعبان، كان يصوم شعبان كله كان يصوم شعبان إلا قليلاً. হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস্সল্লাম বছরের অন্য কোনো মাসে
রাসুলুল্লাাহ (সা.) যখনই কোন নতুন মাসের চাঁদ দেখতেন, এমনকি রমযানের চাঁদ দেখলেও নিচের দুআটি করতেন।

“‏اللهم أهله علينا بالأمن والإيمان والسلامة والإسلام، ربي وربك الله، هلال رشد وخير‏”

আবার আমরা রমজানের প্রস্তুতি বলতে বুঝি, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। সদাইপত্র কিনে নাও! রমজানের জন্য খাদ্য মজুদ কর! এটাই আমাদেও রমজানের প্রস্তুতি। এটাও ঠিক নয়। কেননা, রমজানের অন্যতম শিক্ষা তো হল, ভোগের প্রস্তুতি নয়; ত্যাগের প্রস্তুতি নেয়া। ‘সাওম’ তো বলা হয়, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি ত্যাগ করাকে। অথচ আমরা ত্যাগের প্রস্তুতি না নিয়ে ভোগের প্রস্তুতি নিয়ে থাকি.


কিছু কিছু সলফে সালেহীন হতে বর্ণিত আছে যে, তারা ৬ মাস আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন আল্লাহ তাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছান। রমজানের পর পাঁচ মাস দোয়া করতেন যেন আল্লাহ তাঁদের আমলগুলো কবুল করে নেন। তাই একজন মুসলিম তার রবের কাছে বিনয়াবনতভাবে দোয়া করবে যেন আল্লাহ তাআলা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ রেখে, উত্তম দ্বীনদারির সাথে রমজান পর্যন্ত হায়াত দেন।


বিশিষ্ট সাহাবি হযরত সালমান ফারসি বলেন, একবার শাবান মাসের শেষ দিন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্য এক গুরুগম্ভীর বয়ান প্রদান করলেন। ওই কয়ানে প্রিয়নবী (সা.) বলেন, হে লোক সকল! তোমাদের উপরে এক মহান মাস! এক কল্যাণময় মাস!

রাসুলুল্লাহ (সা.) একদা শাবান মাসের শেষ দিনে সাহাবায়ে কিরামকে লক্ষ করে মাহে রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলেন, ‘তোমাদের প্রতি একটি মহান মোবারক মাস ছায়া ফেলেছে। এ মাসে সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম একটি রজনী আছে। যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো নেক আমল দ্বারা আল্লাহর সান্নিধ্য কামনা করে, সে যেন অন্য সময়ে কোনো ফরজ আদায় করার মতো কাজ করল। আর এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো ফরজ আদায় করে, সে যেন অন্য সময়ের ৭০টি ফরজ আদায়ের নেকি লাভ করার সমতুল্য কাজ করল। এটি সংযমের মাস আর সংযমের ফল হচ্ছে জান্নাত।

 

একবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম রমজান আগমণ উপলক্ষে সাহাবায়ে কেরামকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের নিকট একটি বরকতপূর্ণ মাস এসেছে, এই মাস আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি দেন, তোমাদের প্রতি রহমত নাযিল করেন, তোমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন, তোমাদের দোয়া কবুল করেন। আরো বলেন,
يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى تَنَافُسِكُمْ فيه
‘আল্লাহ তাআলা এই মাসে তোমাদের তানাফুস দেখেন।’
তানাফুস বলা হয়, পরস্পর প্রতিযোগিতা করা এবং একে অন্যের চাইতে আগে বেড়ে যাওয়াকে। সুতরাং হাদিসটিতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে, এ মাসে নেক আমল ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে একে অন্যেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। প্রত্যেকেই চেষ্টা করব যে, আমি বেশি বেশি ইবাদত করব। ক্লাশ-পরীক্ষার সময় যেমনিভাবে প্রতিটি বাচ্চা ফাস্ট হওয়ার চেষ্টা করে অনুরূপভাবে আমাদেরও চেষ্টা থাকবে বেশি বেশি ইবাদত করব।

এই রমজানকে কেন্দ্র করেই জিবরাইল আলাইহিসসালামের একটা বদদোয়া আছে, যে বদদোয়ার সঙ্গে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম  ‘আমীন’ বলেছেন, স্থানটা ছিল মসজিদে নববি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম ছিলেন মিম্ববের প্রথম ধাপে। জিবরাইল আলাইহিসসালাম বদদোয়া করে বললেন, بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ ، فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ ‘যে ব্যক্তি রমজান পেল অথচ নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না, সে আল্লাহ তাআলার রহমত থেকে দূরে সরে যাক।’ আর আল্লাহর তাআলার রহমত-বঞ্চিত হওয়াটাকেই পরিভাষায় ‘গজব’ বা লানত বলা হয়। প্রতি উত্তরে নবীজি ﷺ বললেন, ‘আমীন’

অপর বর্ণনায় এসেছে, জিবরাইল আলাইহিসসালাম বলেছিলেন, رَغِمَ أَنْفُ عَبْدٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ لَمْ يُغْفَرْ لَهُ ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে রমযান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম বলেন, তখন আমি বললাম, আমীন।

একটু অন্তরটাকে নাড়া দিন। অনুভতিকে জাগ্রত করুন যে, যে বিষয়ে জিবরাইল আলাইহিসসালামের মত ফেরেশতা বদদোয়া করেছেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম ‘আমীন’ বলেছেন। সে বিষয়টা কতটা নাজুক ও হৃদয়স্পর্শী হতে পারে। এমনিতে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম-এর নেকদোয়া কিংবা বদদোয়া আল্লাহ তাআলার কাছে মকবুল, সেখানে আবার যুক্ত হয়েছে মসজিদে নববি–যা দোয়া কবুলের অন্যতম স্থান হিসেবে আমরা সকলেই জানি। সুতরাং রমজান পাওয়ার পরেও যে ব্যক্তি গুনাহ মাফ করতে পারবে না; না জানি সে কত বড় বদ নসিব!

রমজানে প্রথমত আমরা, পরিপূর্ণ আদব ও শর্ত পালন করে সুন্নত মোতাবেক রোজা রাখব। রোজায় পানাহার ও কামাচারের ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা তো আছেই। এ ব্যাপারেও বাধ্যবাধকত থাকতে হবে যে, শরীরের কোন অঙ্গ থেকে যেন কোন গুনাহ না হয়। রোজাদার ব্যক্তির চোখও রোজাদার হবে, জবান রোজাদার হবে, কান রোজাদার হবে, লজ্জাস্থান রোজাদার হবে, মন-মস্তিস্কও রোজাদার হবে। এভাবে আমরা মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত রোজাদার হয়ে যাব। এজন্যই হাদীস শরীফে এসেছে,
الصَّوْمُ جُنَّةٌ مَا لَمْ يَخْرِقْهَا
‘রোজা মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা না ভেঙ্গে ফেলে।’
উদ্দেশ্য হচ্ছে, রোজা শয়তান থেকে মানুষকে হেফাজত করে। কেউ আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন জিনিস দ্বারা তা ভেঙ্গে যায়? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম উত্তর দিলেন, মিথ্যা এবং পরনিন্দা দ্বারা।
অপর হাদীসে রয়েছে,
رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلَّا الْجُوعُ والعطَشُ
‘অনেক রোজাদার তাদের রোজার দ্বারা ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত থাকা ছাড়া অন্য কোন ফায়দা হয় না।’
কেন? কারণ রোজা রাখে যাদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া বৈধ নয় তাদের দিকেও দৃষ্টি দেয়।
রোজা রাখে, অন্য মানুষের প্রতি অপবাদ দেয়, মিথ্যা বলে, ধোঁকা না দেয়া। মুসলমানকে হেয় না করা, খাটো করে না দেখা, কারো সাথে ঝগরা না করা। রমজানে পরস্পরকে মহব্বত করা। কেউ শক্ত কথা বললে, বা গালি দিলে কিংবা ঝগড়া বিবাদ করতে চাইলে বলে দেয়া আমি রোজাদার। তাই তোমাকে এর উত্তর দিতে পারছি না। কষ্ট পেলে ক্ষমা করেে দেয়া।  ঝগড়া, গিবত, ধোকা  এ ধরণের রোজা আল্লাহর কাছে কোন বিনিময় পায়না। রোজার হাকীকত তার অর্জন হবে না।
এজন্যই হাদীসে এসেছে,
ليسَ الصيامُ منَ الأكْلِ والشرْبِ ، إِنَّما الصيامُ منَ اللغوِ والرفَثِ
‘রোজা কেবল পানাহার থেকে বেঁচে থাকার নাম নয়; বরং রোজা অনর্থক এবং অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকার কারণে হয়।’
অনুরূপভাবে অন্যত্র রোজাদার সম্পর্কে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ وَالْجَهْل فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
‘যে রোজাদার মিথ্যা এবং নিজের আমলের ভেজাল ছাড়ে না, আল্লাহ তাআলার তার ক্ষুধার্ত এবং তৃষ্ণার্ত থাকার কোন প্রয়োজন নেই।’
এখন এই মাসে উপার্জন করতে হবে। আল্লাহর ওলীরা এ মাসে আরাম-আয়েশকে বিদায় জানাতেন। আমরাও বিদায় বলে দিবো। একটু ভাবুন, বছরের এগার মাস তো আমরা নিজেদের মতো ঘুমাই, জাগি। অন্তত একমাস এমন হতে হবে যাতে আমরা অনেক কম ঘুমাবো। ইবাদত করতে করতে যদি চোখ ঘুমের কারণে ছটফট করে, যদি শরীর ক্লান্ত হয়ে যায় তাহলে ভালো কথা।
প্রত্যেক রোজাদারের অন্তরে দু’টি অবস্থা থাকতে হবে। একটি হচ্ছে, তার ভিতরে ভয় থাকবে। দ্বিতীয় হচ্ছে, তার ভিতরে আশা থাকবে। ভয় করবে যেন আমার রোজা ফিরিয়ে দেওয়া না হয় এবং আশাও রাখবে যে, আল্লাহ তাআলা যখন তাওফিক দিয়েছেন তখন তিনি খালি হাতে ফিরিয়ে দিবেন না। কারণ, কোন দানশীল বাদশাহ কাউকে ডেকে খালি হাতে ফেরত দেন না। যাকে দেন না তাকে দরজায়ই আসতে দেন না। দরজা থেকে খালি হাতে ফেরত দেওয়া দানশীলের মর্যাদাপরিপন্থী। সুতরাং অফুরন্ত ক্ষমতা ও করুণার অধিকারী রাজাধিরাজ মহান আল্লাহ যখন আমাদেরকে রমজানের রোজা রাখার এবং ইতিকাফ করার তাওফিক দিয়েছেন তখন আমরা তাঁর রহমতের দরবারে এই আশাবাদই ব্যক্ত করব যে, তিনি আমাদের জন্য কল্যাণের ফয়সালা করবেন। আমাদের প্রতি ক্ষমার দৃষ্টিতে তাকাবেন।
 রোজা হলো রমজানের প্রধান আমল। রোজার পুরস্কার অসীম। আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে দিবেন। আবার শরয়ীত সম্মত সমস্যা ছাড়া রোজা না রাখার শাস্তিও ভয়াবহ।  রোজা রাখার উদ্দেশ্যে ভোর রাতে খাবার খাওয়ার নাম সেহরি। সেহরি খাওয়া সুন্নত।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেহরিতে এক চুমুক পানি হলেও পান করতে বলেছেন। আরো বলেন,যারা সেহরি খায় ও পান করে তাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা রহমত করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য উত্তম দোয়া করেন।  তবে কখনো সেহরি না খেতে পারলে এই অজুহাতে রোজা না রাখা কিছুতেই বৈধ নয়।  সূর্য ডোবার পর রোজা সমাপ্ত করার জন্য যে পানাহার তাই ইফতার। খেজুর, কিসমিস বা পানি দিয়ে ইফতার করা উত্তম। সূর্য ডোবার পর ইফতার করতে দেরি না করা উত্তম ও সওয়াবের কাজ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন মনুষ ততদিন পর্যন্ত কল্যাণের পথে থাকবে যতদিন পর্যন্ত তারা শীঘ্র শীঘ্র ইফতার করে।  রোজাদারকে ইফতার করানো খুবই উত্তম কাজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায় তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়, জাহান্নাম থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয় এবং সে রোজদারের সমপরিমাণ সওয়াব পায় আর রোজাদারের সওয়াবও কম করা হয় না।
তারাবীহ পড়া সুন্নত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারাবীকে সুন্নত করে দিয়েছেন। তারাবীহতে কুরআনুল কারীম ধারাবাহিকভাবে তিলাওয়াত করা বা শোনাও সুন্নত।রমজান কুরআন নাজিলের মাস। কুরআনের সম্মানেই এ মাসের সম্মান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য মাসের তুলনায় কুরআনের তিলাওয়াত এ মাসে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতেন। কুরআনের দাওর করা: দাওর মানে পরস্পরকে শুনানো। প্রতি রমজানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং জিবরাঈল আলাইহিসসালাম একবার পূর্ণ কুরআন দাওর করতেন। তবে জীবনের শেষ রমজানে দুবার দাওর করেছেন।কুরআন হলো মানুষের কাছে আল্লাহর পয়গাম, বান্দার প্রতি প্রভূর পয়গাম । কী আছে এই পয়গামেকে ন  তা জানা অন্তত জানতে চেষ্টা করা সবার কর্তব্য। আর রমজানেই যেহেতু এর প্রেরণের সূচনা তাই এ মাসই তা বুঝতে সচেষ্ট হওয়ার উত্তম সময়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে বেশি বেশি নফল ইবাদত করতেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রমজানের একটি নফল অন্য মাসের একটি ফরজের সমতুল্য। রাত-জাগা ইবাদত আল্লাহর খুবই প্রিয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব মাসেই রাত জেগে ইবাদত করতেন। তবে রমজানে এর পরিমাণ বেড়ে যেতো বহুগুণ।  নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তোমরা শবে কদর তালাশ করো। হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন রমজানের শেষ দশক শুরু হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমর কষে নিতেন। সারা রাত ইবাদত,যিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকতেন।  হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের লোকজনকেও জাগিয়ে দিতেন,যাতে তারাও এসব রাত্রির বরকত লাভ করতে পারে।  কর্মচারীর চাপ কমানো: রমজান উপলক্ষ্যে কর্মচারী বা অধিনস্তদের কাজের চাপ কমানো উচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এ মাসে যে ব্যক্তি তার অধিনস্তদের কাজ হালকা করে দিবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন।দানশীলতা নবী চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সব সময়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভাবি অসহায়দের দান সদকা করতেন। আর রমজানে এর পরিমাণ বেড়ে যেতো বহুগুণে। তাঁর রমজানের দানকে হাদীসে কল্যাণবাহী প্রবল বায়ুর সাথে তুলনা করা হয়েছে।  রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করা সুন্নত। হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওফাত পর্যন্ত সর্বদা রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন।
হযরতজী গত রমজান মাসে নিজামুদ্দীন মারকাজে হায়াতুস সাহাবার পর রমজান নিয়ে কয়েকটি তাকরিরের সারাংশ।
অনুবাদ: সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ
Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com