শনিবার, ১৯ Jun ২০২১, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজ এডমিনদের নিয়ে মাশোয়ারার  বাংলাদেশে আরবি বিস্তারের মহানায়ক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা) দেওবন্দে গেলেন হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. মনসুরপুরীকে নিয়ে সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনি নদভির স্মৃতি চারণ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম আমার একান্ত অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম : মাহমুদ মাদানী মানসুরপুরীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের গভীর শোক প্রকাশ দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম সাইয়েদ কারী মাওলানা উসমান মানসুরপুরী আর নেই
রমজানে ঘরকে আমলের দ্বারা সাজাই: সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম

রমজানে ঘরকে আমলের দ্বারা সাজাই: সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম

রমজানে ঘরকে আমলের দ্বারা সাজান

হযরত সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম দা.বা.

ইসলাম কোনটিকে বলে। ইসলাম বলে নিজেকে আত্মসমর্পণ করা। কার কাছে? সৃষ্টিকর্তা, নিজের মালিক ও খালিকের কাছে পরিপূর্ন ভাবে সমর্পিত হওয়ার নামই হলো ইসলাম। সেই আল্লাহর কাছে যে আত্মসমর্পিত হলো সে ইসলামে দাখিল হলো। যারা আত্মসমর্পিত হতে পারে নাই, তারা ইসলামে আসতে পারে নাই।

এজন্য রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কাতে দাওয়াত দেয়া শুরু করলেন, তোমরা এক আল্লাহর এবাদত কর, আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল, যখন এই কথার উপর যারা আত্মসমর্পিত হতে পেরেছে তারাই ইসলামে দাখিল হয়েছে। আর যারা এই আত্মসমর্পণ করতে পারে নাই তারা মুশরিক কাফের রয়ে গেল।

আবু জাহাল, আবু লাহাব তাদের জন্যতো সহজ ছিল, ভাতিজা এতো করে বলছে একবার কালেমা পরে নেই। কিন্তু পড়তে পারেনি, কারণ তারা কালেমার মানে/অর্থ জানত। যা এখন আমরা মুসলমান হয়েও জানি না। ওরা জানতো আমি যদি কালেমা পড়ে নেই তাহলে আমি আর মনমতো চলতে পারব না। এটি তারা জানতো বলেই কালেমা পড়তে পারে নি। এটাতে তারা রাজি ছিল না। আজ আমরা কালেমাও পড়ি আবার মনমতোও চলি।

এজন্য একটি বিষয় বারবার আমার দীলে চাচ্ছে, আমরা যারা কালেমা পড়েছি তারা যেন সাচ্চা ইসলামে দাখিল হই। পেছনের সমস্ত গোনাহের জন্য খালেছ দিলে তওবা করে নেই। তওবাকে আল্লাহ খুব পছন্দ করে। যেন দিল থেকে তওবা করে নেই। এমন না যে মুখে ইস্তেগফার করে নেই কিন্তু দীল রাজি না। আর একবার আস্তাগফিরুল্লাহ দীল থেকে বললে এটি কবুল হয়ে যাবে। এর সাথে দিলের সম্পর্ক লাগবে। তওবাকে এমন এক জিনিস , আল্লাহ তায়ালা তওবাকে পছন্দ করেন, তওবা করনেওয়ালাকেও পছন্দ করেন। কোন সময় এটাকে এতো বেশি পছন্দ করেন যে, গোনাহগুলোতো মাফ করেনই বরং প্রত্যেক গুনাহের বদলায় একটি করে নেকীর লিখিয়ে দেন।

এজন্য দেখেন হালত কোন সময় ভাল হয় কোন সময় খারাপ হয়। ভালো হালত হয়, যখন আমল ভালো হয়। আল্লার পক্ষ থেকে তখন রহমত আসে, বরকত আসে, শান্তি আসে, আর আমল যখব বিগড়ে যায় তখন আল্লাহর তরফ থেকে আযাব আসে। এখন যে মহামারি এসেছে এটি বুঝতে হবে আমলের পরিণাম ফল।  আমাদের আমল এতো বেশি বিগড়ে ছিল, ফলে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাব এসেছে।

হাদীসে এসেছে, তিনটি জিনিস আল্লাহর আযাবকে দূরে সড়িয়ে দেয়।
১. মসজিদকে আবাদ করা, মসজিদে আমল করা, যাওয়া আসা করা। মসজিদে সময় দেয়া।
২. পরস্পরে মিল মহব্বত করা। এক মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে মনমালিন্য হতে পারে, কথা কাটাকাটি হতে পারে কিন্তু তিন দিনের বেশি নয়, তার আগে একে অপরকে ক্ষমা করে দেয়া উচিত, মাফ করে দেয়া উচিত। মনে কারো প্রতি সংকীর্ণতা রাখা ঠিক নয়। ওমুক ভাল না এটি বলা যাবে না। মুসলমান হবে উদার। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেন মক্কাওয়ালারা কতো কষ্ট দিল। কিন্ত যখন উনি মক্কা জয় করলেন, আর উনার হাতে পুরো ক্ষমতা চলে এসেছে। নবিজী চাইলে যা ইচ্চে করতে পারতেন। তখন জিজ্ঞেস করলেন,তোমরা আমার কাছে কী আশা করো। তখন মক্কাওয়ালারা বললো আপনিতো কারিম ইবনে কারিম। আপনি দয়ালু এবং আপনার বাপ দাদাও দয়ালু ছিলেন। বললেন যাও সবাইকে মাফ করে দিলাম। আজ বদলা নেয়ার দিন নয়, ঘোষনা দিলেন আজ ক্ষমার দিন। এজন্য একে অপরকে মাফ করে দেয়া এটি আল্লাহর আযাবকে দূরে সড়িয়ে দেয়।
৩. আর তৃতীয় বিষয় হলো শেষ রাতে উঠে আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া, তওবা করা রোনাজারি করা। এই তিনও জনিস যদি আমরা করতে পারি তাহলে ইনশাআল্লাহ এই মহামারি থাকবে না। এটি নিজেও করি। অন্যকে করতেও উৎসাহী করি।

আর এখন যে কথাটি হযরতজী মাওলানা সাদ সাহেব বলছেন, যেহেতো আমরা বাইরে যেতে পারছি না। তাই আমরা নিজের ঘরে আমলের পরিবেশ বানাই। আমলের দ্বারা সাজাই। এতোদিন ঘরের পরিবেশ কী ছিল? এদিকে গান হচ্ছে,টিভি চলছে,এই হচ্ছে সেই হচ্ছে। এখন এসব কিছু বন্ধ করে দিয়ে আমরা নামাজ তেলাওয়াত,জিকির, কুরআন তেলাওয়াত, ঈমানী মজলিসের পরিবেশ তৈরি করি। এই পবিত্র বরকতময় মাসে যখন এতগুলোনঘর থেকে এতগুল ভাল আমল উপরে উঠবে, তখন উপর থেকে আল্লাহর খায়েরের ফায়সালা আসবে।

এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দাওয়াত। একে অপরকে দাওয়াত দেয়া। কয়েকজন মিলে দাওয়াত দেয়া। নিজেদের ভিতর ঈমানী মজলিস কায়েম করা। আল্লাহ জিহবা দিয়েছেন, এটি নিয়ে কতো কাজ করি, কেবল দাওয়াত দেই না।অথচ এটি বানানোই হয়েছে আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকার জন্য,
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَ إِلَ ٱللَّه ِ
তার কথার চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে।

আজ থেকে রমজানুল মোবারক শুরু। হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য সাবান থেকে সবাইকে তৈরি করতেন।দেখ তোমাদের সামনে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মাস আসতেছে। আর বলেছেন, বদবখত/ নিকৃষ্ট ঐলোক যে রমজান মাস পেয়ে গুনাহকে মাফ করাতে পারলো না। এজন্য আমরা আরো বেশি করে আমলে লাগবো। মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকবো। জিকির কুরআন তেলাওয়াত এর বেশি করে এহতেমাম করা।

রমজানে আল্লাহর দিকে চাই। রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের। আল্লাহর কাছে বেশি করে রহমত চাই। আজ পুরো উম্মত পেরেশান। পুরো দুনিয়া পেরেশান, কী মুসলিম অমুসলিম। এজন্য আল্লাহর কাছে রহমত চাই।

দ্বীতিয় দশদিন মাগফিরাতের। দ্বীতিয় দশদিনে আল্লাহর কাছে এরকম মাফ চাই যেন আল্লাহ আমাদের সকল গোনাহকে মাফ করে দেন

তৃতীয় দশদিন নাজাতের। এমনভাবে আমল করি,যেন আল্লাহ আমাদের সকল গোনাহ থেকে পাকসাফ করে নাজাত দিয়ে দেন। আল্লাহ যেন কবুল করেন এবং তাওফিক দান করেন।

হযরতের এই বয়ানটি অনুলিখন করেছেন, তাবলীগ নিউজ বিডির সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com