শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

ফতোয়াবাজির যে ইতিহাস পড়লে আৎকে উঠতে হয়

ফতোয়াবাজির যে ইতিহাস পড়লে আৎকে উঠতে হয়

কেবল বিশ্ব ইতিহাস নয়, এই উপমহাদেশের ইতিহাসের দিকে চোঁখ দিলেও দেখা যায়, জামানার বিচক্ষন, দুরদর্শী মুজাদ্দেদ আলেমরা সবসময়ই স্বগোত্রের লোকদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। স্বগোত্রের আহলে হক আলেমদের দ্বারা বা তাদের ভুল ফতোয়া কিংবা এখতেলাফি/ মতানৈক্যের কারনে, আকাবির হযরাতদের অনেক সেরেতাজ আলেমরা কতোটা নির্মম নির্যাতিত হয়েছিলেন তা পাঠ করলে আৎকে উঠতে হয়। নির্যাতন এমনভাবে হয়েছে যে, আমীরে হিন্দ শাহ ওয়ালী উল্লাহ মোহাদ্দিসে দেহলভী রহ হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত কাটা হয়েছিল ফতোয়া দিয়ে। তিনিই আজ আমাদের আকাবির। আমাদের এলেম ও তাসাউফের প্রধান বাতিঘর। সব আকাবিরদের সুতিকাগার থাকে ঘিরেই। এজামানায় এমন নির্যাতন কারো উপর কল্পনাও করা যায় না। সেক্ষেত্রে আজ যারা মাওলানা সাদ কান্ধালভিরর বিরোধীতা করছেন তা কিছুই না।

ইতিহাস এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে সবার স্থান হয় না। যুগ-জমানা পাল্টে দেয়া ব্যক্তিরাই সেখানে স্থান পায়। এজন্য তাদের উপর দিয়ে বারোধীতার স্লাইকোন চলে। ধর্য্যের সাথে যারা এসব মোকাবিলা কনে যান, তারাই একদা ইতিহাস হন। আমরা ইতিহাসের পাতায় সে সব ইতিহাসে কেবল পড়েছি, কিন্তু আমরা এজামানায়ও এমন একজন আকাবিরকে পেয়েছি যিনি জুলুমে স্বীকার হয়েছেন তাদের মতোই। এর রাজসাক্ষি হচ্ছে আমাদের প্রজন্ম। আকাবিরদের মতোই তার জীবনী এভাবে পাঠ করবে আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম। শুনাতে পারব পরবর্তি প্রজন্মকে এযুগের এমন এক মজলুম মনীষার কথা।

উপমহাদেশের অন্যতম মুহাদ্দিস যফর আহমাদ উসমানী রহ:বলেন
ان الرجل لا يبلغ درجة الصديقين حتي يرميه سبعون صديقا مثله بالكفر والزندقةوهكذا سنةالله في اولياإه
মানুষ তখনই সর্বোচ্ছ বুযুর্গ হয়,যখন তার মত কম্পক্ষে আরো ৭০জন বুযুর্গ বলবে,আরে ওতো কাফের মুরতাদ।আওলিয়ায়ে কেরামের বেলায় এটিই আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম। (ই’লাউস সুনান 3/28) (মুকাদ্দমায়ে মুসনাদে ইমাম আজম 1/38)

নিজের অজ্ঞতা দূর করুন। আমি কঠিন কোন কিতাবের নাম বলছিনা, বেফাকের নেসাব ভুক্ত মেশকাত জামাতের ‘দেওবন্দ আন্দোলন ইতিহাস ঐতিহ্য ও অবদান’ গ্রন্থ খুলে দেখেন। যারাই উম্মতের জন্য কাজ করেছেন, তাদের প্রায় সবারর বিরোদ্ধেই নানান ফতওয়া দেয়া হয়েছে। আরো শুরু থেকে দেখলে ইমাম আবু হানীফা রহ. থেকে শুরু করে ইমাম বুখারী রহ. সহ কে বাদ পড়েছেন দেখুন।

কে যেন বলেছিলেন, ওলীদের দুইটি স্তর আছে।
(১) মাকামে ওয়ীলায়াহ,
(২) মাকামে নবুওয়াহ।
যারা মাকামে ওয়ীলায়াতে থাকেন তারা সর্বজন নন্দিত হন, দুনিয়ার কুটচাল থেকে মুক্ত থেকে খানকায় বসে দ্বীনের খেদমত করেন। আর যারা মাকামে নবুওয়াতে থাকেন, তাদের জাতির বেশির ভাগ মানুষই পছন্দ করে না। কিন্তু জাতির জন্য তাদের ত্যাগই সবচেয়ে বেশি। তারা সমালোচনায় রক্তাক্ত চামড়া খুলে মেলে দেন সমালোচকদের মাথার উপর রোদের তাপ থেকে বাঁচাতে…। এমন যুগের নকীব, জামানার মুজাদ্দেদ উলামায়ে কেরাম আগেও যেমন এমন ফতোয়াতে স্বীকার হয়েছেন তেমনি আজো তারা সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। তাদের বিবরণ বিস্তারিত লিখলে বেশ বড় একখানা কিতাব লেখা যাবো।

হাদীসে ক্বুদসীতে ‘আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন ,
من عادي لي وليا فاذنته الحرب
যারা আমার কোন ওলীর সাথে সত্রুতা রাখবে ,তাদের সাথে আমার যুদ্ধ চলবে ,অতএব যাদের সাথে আল্লাহ পাকের যুদ্ব চলবে তাদের আর খয়রিয়ত নেইl
আরেকটি বর্ননা এই যে -তোমরা ঈমানদারদের দূরদৃষ্টি কে ভয় কর , কারন তারা তো আল্লাহ পাকের নূরের আলোকে দেখতে পায়l

ইতিহাস অামাদের যে চমকপ্রদ তথ্যটি দিচ্ছে তা হলো, মানুষ এসব ফতোয়াবাজ বা বিরোধীতাকারী ফরৎনাবাজ লোকদের মনে রাখেনি। কিন্তু জুলুমে শিকার ব্যক্তিগণের নাম ইতিহাসের পাতায় জ্বল জ্বল করছে। শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী রহ. মাওলানা কাসেম নানুতাবি রহ. মাওলানা স্যায়িদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধি রহ. অাল্লামা ইকবাল রহ. মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, মাওলানা জামাল উদ্দিন আফহানী রহসহ অসংখ্য যুগের নকীবদের উপর উপমহাদেশে সময়ে সময়ে ভয়ংকর কুফরি ফতোয়া আরোপিত হয়েছে। তাদের উপর কে বা কোন কোন প্রতিক্রিয়াশীল ওলামা ফতোয়া দিয়ে ঘায়েল করতে চেয়েছেন সেটি অাজ অার কেউ মনে রাখেনি।

আরেক ভাবে বললে, যাদের নামই ইতিহাসে পরবর্তীতে সোনালী কালিতে লেখা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই এই পরিবেশ মোকাবেলা করেছিলেন। হুজুগী ফেৎনা আর নানান সমালোচনার কটিন পাহাড় অতিক্রম করে তারা অমর হয়েছেন। ইমাম বুখারী রহ. তো শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ তাআলার কাছে যাওয়ার আর্জী পেশ করেছেন। মিশকাতের শরাহ মিরকাতুল মাফাতিহের মাকতাবায়ে রশীদিয়া সংস্করনে ইমাম বুখারীর জীবনী দেয়া আছে। সংক্ষেপে এতো সুন্দর আলোচনা আর দেখিনি। পড়ে দেখুন, চোখ দিয়ে অঝোর ধারার কান্না বের হবে।

এভাবেই। যুগে যুগে এসবই ঘটেছে। এবং ঘটবে। ফেৎনাবাজরা হারিয়ে যাবেন যুগের অন্তলোকে। আর চিন্তাশীল যুগ শেষ্ট মনীষা গন যাদের বিরোধীধীতা করা হয়েছিল, নানান বাহানা আর গায়েল করার ফতোয়া নামক হাতিয়ার ব্যবহার করে, তারাই ইতিহাসে অমর হয়ে রবেন যুগ যুগান্তরে। আকাবিরদের ইজ্জত হননের নষ্ট খেলায় মেতে উঠেছিল স্বগোত্রের লোকজন তারাই একদিন ঘৃনীত হয়ছে ইতিহাসের কাটগড়ায়। আর যারা স্রোতের সাইক্লোন মোকাবিলায় পাহারসম ধর্য্য নিয়ে তাদের আনুগত্য করে গেছেন শত আক্রমনের মোকাবিলায় তাদেরকেই আজ শ্রদ্ধা করা হয়, শ্রদ্ধা করবে আগামি পৃথিবী।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!