মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজ এডমিনদের নিয়ে মাশোয়ারার  বাংলাদেশে আরবি বিস্তারের মহানায়ক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা) দেওবন্দে গেলেন হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. মনসুরপুরীকে নিয়ে সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনি নদভির স্মৃতি চারণ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম আমার একান্ত অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম : মাহমুদ মাদানী মানসুরপুরীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের গভীর শোক প্রকাশ দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম সাইয়েদ কারী মাওলানা উসমান মানসুরপুরী আর নেই

রোজা আনন্দ ও সংযমের মোহনা

রোজা আনন্দ ও সংযমের মোহনা

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লা

রমযানুল মুবারক। বছরের বার মাসের সর্বাধিক মর্যাদাশীল ও মহিমান্বিত মাস। এ মাসে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীম নাযিল করেছেন, যা সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব এবং মানবজাতির হেদায়েতের দিশারী। এমাসে মুমিনের জন্য যেমন অসংখ্য ফজিলত ও প্রাপ্তির সুসংবাদ আছে তেমনি আছে সংযমের এক অনন্য শিক্ষা। রোজা যেন মুমিন বান্দার আনন্দ ও সংযমের এক অনন্য মোহনা।

এ মাস কুরআন নাযিলের মাস। খায়র ও বরকতের মাস। তাকওয়া অর্জনের মাস। জান্নাত লাভের আনন্দের মাস। নেকীতে অগ্রগামী হওয়ার মাস। নেকী হাছিলের মাস। গুনাহ বর্জন করার মাস। ক্ষমা লাভের মাস। প্রবৃত্তির লাগাম টেনে ধরার মাস। সংযম-সাধনার মাস। ভ্রাতৃত্ব চর্চার মাস। সহানুভূতির মাস। দেহমন শুদ্ধ ও পবিত্র করার মাস। পবিত্র মাহে রমযান সেই আনন্দ ও সংযমের বার্তা নিয়ে আসে।

আল্লাহর হুকুমে দিনের সংযম আর সন্ধ্যার ইফতারের মুহুর্তের আনন্দ-এ যেন ইসলামের প্রেমময় প্রতিচ্ছবি। আর এই অনাবিল আনন্দ যেন সেই পরম আনন্দেরই পরম ইশারা, যা আল্লাহ মুমিনকে আখিরাতে দান করবেন। নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘রোযাদার দুটি আনন্দ উপভোগ করে। যখন সে ইফতার করে তখন ইফতার খাবার গ্রহণ তাকে আনন্দিত করে আর যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাত করে তখন তার রোযা তাকে আনন্দিত করে।’-সহীহ বুখারী

এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আল্লাহ পাকের রহমত ও করুণা বান্দার প্রতি অধিক নিবিষ্ট হয়, নেক ও কল্যাণের দিকে ধাবিত হওয়া সহজ হয়। জাহান্নামের কপাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। গুনাহের তাড়না দমিত হয়। এ মাসে শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকে। তার ওয়াসওয়াসা ও কুমন্ত্রণা নিষ্ক্রিয় হয়। এ মাসে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্ত করে থাকেন জাহান্নামের আগুন থেকে। অতএব এ মাস হল আল্লাহমুখী হওয়া, তাঁর প্রিয়পাত্র হওয়া, তাকওয়া হাছিল করা এবং গুনাহ থেকে পাক-ছাফ হয়ে তাঁর নৈকট্য অর্জনের মোক্ষম সময়। আল্লাহকে পাওয়ার অনাবিল আনন্দের মাস। আল্লাহর গোলামিতে নিজেকে আত্মসমর্পিত করে সংযত হওয়ার মাস।

প্রত্যেক নেক আমলের বিভিন্ন ফজিলত ও ছওয়াব রয়েছে, যা দ্বারা মহান রাব্বুল আলামীন আমলকারীকে পুরস্কৃত করবেন, কিন্তু রোজার বিষয়টি একেবারেই স্বতন্ত্র। কারণ রোজার বহুবিধ প্রতিদান ছাড়াও এ বিষয়ে একটি অতুলনীয় ঘোষণা রয়েছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

كُلّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ، الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعمِائَة ضِعْفٍ، قَالَ اللهُ عَزّ وَجَلّ: إِلّا الصّوْمَ، فَإِنّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ.

মানুষের প্রত্যেকটি আমল বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। একটি নেকী (ছওয়াব) ১০ গুণ থেকে (ক্ষেত্র বিশেষে) ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : কিন্তু রোজার ব্যাপারটি ভিন্ন। কারণ রোজা আমার জন্য। সুতরাং তার প্রতিদান আমি নিজেই প্রদান করব। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫১/১৬৪; সহীহ বুখারী, হাদীস ১৮৯৪

এ হাদীসে দু’টি বিষয় প্রণিধানযোগ্য :

১. রোযা ছাড়া অন্যান্য সব আমলের ছওয়াব বৃদ্ধির ব্যাপারে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। তা হল ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত। এটি সাধারণ নিয়ম। আল্লাহ তাআলা চাইলে বিশেষ ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশিও প্রদান করতে পারেন। তবে সাধারণত সব আমলের ছওয়াব এ নীতির মাধ্যমেই নির্ণিত হয়। কিন্তু রোজার বিষয়টি স্বতন্ত্র। কারণ এর ছওয়াবের নির্ধারিত কোনো সীমারেখা নেই; বরং আল্লাহ তাআলা নিজে এর ছওয়াব প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরিমাণ যে কত হবে তা একমাত্র তিনিই জানেন।

রোজার এত বড় ফযীলতের একটি বাহ্যিক কারণ এও হতে পারে যে, রোযা ধৈর্য্যরে ফলস্বরূপ। আর ধৈর্যধারণকারীদের জন্য আল্লাহ তাআলার সুসংবাদ হল-

اِنَّمَا یُوَفَّی الصّٰبِرُوْنَ اَجْرَهُمْ بِغَیْرِ حِسَابٍ.

ধৈর্য ধারণকারীগণই অগণিত সওয়াবের অধিকারী হবে। -সূরা যুমার (৩৯) : ১০

২. সকল ইবাদত আল্লাহর জন্য। রোযার বহুবিধ বিশেষত্বের কারণে শুধু তাকেই নিজের জন্য খাস করে নিয়েছেন এবং বলেছেন- ‘রোজা তো আমারই জন্য’। তাই রোযার প্রতিদান তিনি নিজেই দান করবেন এবং বে-হিসাব দান করবেন বলে তিনি রোযাদারকে সুসংবাদ দান করেছেন। -লাতায়িফ ১৬৮-১৭০

হাদীস শরীফে রোযাদারের জন্য বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার ও প্রতিদানের কথা বিবৃত হয়েছে। সেগুলোর কয়েকটি নিম্নে তুলে ধরছি :

১. রোজা কিয়ামতের দিবসে সুপারিশ করবে

হাদীস শরীফে এসেছে-

الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يَقُولُ الصِّيَامُ: أَيْ رَبِّ، مَنَعْتُهُ الطّعَامَ وَالشّهَوَاتِ بِالنّهَارِ، فَشَفِّعْنِي فِيهِ، وَيَقُولُ الْقُرْآنُ: مَنَعْتُهُ النّوْمَ بِاللّيْلِ، فَشَفِّعْنِي فِيهِ ، قَالَ: فَيُشَفّعَانِ.

রোজা ও কুরআন মাজীদ কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে আল্লাহ! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে পূর্ণ বিরত রেখেছি। তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতপর তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৬২৬; আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ১৪৬৭২; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩/৫১৯

২. রোজা জাহান্নামের আগুনের ঢাল ও দুর্গ
হাদীস শরীফে এসেছে-

الصِّيَامُ جُنّةٌ، وَحِصْنٌ حَصِينٌ مِنَ النّارِ.

রোজা জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণের জন্য একটি ঢাল এবং দুর্গ। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯২২৫

 

৩. রোজাদার জান্নাতের রাইয়ান নামক শাহী তোরণ দিয়ে প্রবেশ করবে

এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-

إِنّ فِي الجَنّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرّيّانُ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصّائِمُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ.

জান্নাতে রাইয়ান নামক একটি শাহী তোরণ আছে, যা দিয়ে একমাত্র রোযাদারগণই প্রবেশ করবে। অন্য কেউ সে তোরণ দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (আর যে ব্যক্তি সে রাইয়ান গেট দিয়ে প্রবেশ করবে সে আর কখনো

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com