শনিবার, ১৯ Jun ২০২১, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজ এডমিনদের নিয়ে মাশোয়ারার  বাংলাদেশে আরবি বিস্তারের মহানায়ক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা) দেওবন্দে গেলেন হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. মনসুরপুরীকে নিয়ে সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনি নদভির স্মৃতি চারণ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম আমার একান্ত অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম : মাহমুদ মাদানী মানসুরপুরীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের গভীর শোক প্রকাশ দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম সাইয়েদ কারী মাওলানা উসমান মানসুরপুরী আর নেই
রমজানে কুরআন তেলাওয়াতে আমাদের কর্মপরিকল্পনা

রমজানে কুরআন তেলাওয়াতে আমাদের কর্মপরিকল্পনা

রমজানে কুরআন তেলাওয়াতে আমাদের কর্মপরিকল্পনা

মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ;

রমজান মাসের সাথে কুরআনুল কারিমের গভীর সর্ম্পক রয়েছে। কারণ এই মাসেই পবিত্র কুরআন লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাইল (আঃ) এর সঙ্গে রমজানের প্রত্যেক রাতে কুরআন মাজিদ একে অপরের কাছে শুনাতেন।

হাদিস শরিফে আছে, হজরত জিবরাইল আমিন রমজানের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাতে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাত করতেন এবং তাকে কুরআন শরিফ পড়ে শোনাতেন। (বুখারী শরিফ, হাদিস নং-১৯০২)

এক হাদিসে আছে, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (শুআবুল ঈমান, হাদিস নং-৩/৩০৫-৩০৬)

সারা বছর যে পরিমাণ কুরআন তেলাওয়াত হয় তার চেয়ে বহুগুণ তেলাওয়াত পবিত্র রমজান মাসে হয়। এ মাসের রাতগুলোতে তারাবি নামাজ এবং তারারিব নামাজে কুরআন তেলাওয়াত বিধিবদ্ধ হয়েছে।

কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অত্যাধিক সাওয়াব লাভ করার জন্য রমজানই হচ্ছে মোক্ষম সময়। কুরআন শরীফের বিশেষত্ব হচ্ছে, একটি হরফ তেলাওয়াতে দশটি নেকি হাসিল হয়। রমজানের বিশেষত্ব হচ্ছে, একটি নেকি দশ থেকে সাতশত পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

এখন ধরুন আপনি মাহে রমজানে কুরআন শরীফের একটি হরফ তেলাওয়াত করলেন। দশটি নেকি পেলেন। অতঃপর রমজানের কারণে তা দশ থেকে সাতশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং রমজানের কারণেই এই নফল ইবাদতটি আল্লাহর দরবারে ফরযের মর্যাদায় গণ্য হচ্ছে। সুতরাং, যারা মাহে রমজানে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করেন নিঃসন্দেহে তারা অফুরন্ত-অগণনীয় সাওয়াবের অধিকারিই হয়ে থাকেন।

রমজান ও কুরআন’ এই দুইয়ের বিশেষত্বকে এক সুথোয় গাঁথা যায় শুধুমাত্র একটি মাধ্যমে। তা হলো, ‘রমজান মাসে কুরআন তেলাওয়াত করা’। দৈনিক প্রতি নামাজের পরে ৪পৃষ্টা করে পড়লে ৩০দিনে একটা খতম হয়ে যাবে। প্রতি নামাজের পরে ৮পৃষ্টা করে তেলাওয়াত করলে পুরো রমজানে দুই খতম হয়ে যাবে। ৫ওয়াক্ত নামাজের পরে ১২ পৃষ্ঠা করে পড়লে ৩খতম কুরআন তেলাওয়াত একজন মুমিন বান্দা খুব সহজেই করে নিতে পারেন।

শাইখুল হাদিস যাকারিয়া কান্দলোভী (রহ.) রমজান মাসে কুরআন তেলাওয়াত প্রসঙ্গে তার কন্যাদের কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন আমি ফাজায়েলে রমজানের একাধিক স্থানে এবং ফাজায়েলে কুরআনেও এ বিষয়টি লেখেছি যে, আমাদের পরিবারের মহিলাদের মধ্যে বিশেষ করে আমার কন্যারা সন্তান-সন্ততি ও সংসারের নানা ঝামেলা সত্ত্বেও এই মুবারক রাতগুলো বিভিন্ন (মাহরাম) হাফেজে কুরআনের পেছনে নামাজে কাটিয়ে থাকে এবং দিনের বেলা কমপক্ষে ১৪/১৫ পারা কুরআন তেলাওয়াত করে। তাদের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা চলতে থাকে যে, কে কত বেশি কুরআন তেলাওয়াত করতে পারে।(আকাবিরদের রমজান, ৬৩-৬৪)

অতএব আমাদের প্রত্যেকের উচিত রমজানে অধিক পরিমাণে কুরআন লোওয়াত করা। অন্তত পক্ষে একবার হলেও কুরআন শরিফ খতম করা। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি, তাবে-তাবেয়ি, ও সালফে সালেহীনের জীবনী আলোচনা করলে দেখা যায় যে, তারা এবং পরিবারের সদস্যগণ প্রত্যেকে রমজানে বহুবার কুরআন মাজিদ খতম করতেন।

এ কারণে সালাফগণ রমযানে কুরআনের প্রতি বিশেষ মনোযোগ ও দৃষ্টি দিতেন। তাঁরা কুরআনের মাঝে যেন ডুবে যেতেন। কুরআন তেলোয়াকে তাঁরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন।

হযরত ওসমান বিন আফফান রা. প্রতিরাতে এক খতম কুরআন তেলোয়াত করতেন। এটা ছিল হযরত যিননুরাইন রা.এর হরহামেশার আমল। তাহলে অনুমান করা যায়, রমযানে হযরতের কুরআন খতমের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেত।

হযরত আসওয়াদ বিন এযিদ রহ. রমযানের প্রতি রাতে দু‘খতম কুরআন পড়তেন। মুসাব্বিহ বিন সাঈদ রহ. মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী রহ. সম্পর্কে বলেছেন, তিনি রমযানের প্রতি দিবসে এক খতম করে কুরআন তেলোয়াত করতেন।

ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি রমজান মাসে কুরআন শরীফ মোট ৬১ (একষট্টি) খতম দিতেন। 

. ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি রমজান মাসের প্রতি রাতে ১খতম কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতেন। (আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া

সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়ি এই পবিত্র মাসে তুলনামূলক অধিক পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াতে যত্নবান হয়েছেন। এমনকি মুসলিম উম্মাহর পূর্ণবান রমণীগণের জীবনীতেও পাওয়া যায় যে, তারাও এ মাসে তেলাওয়াতের ব্যাপারে কোন অংশে পিছিয়ে ছিলেন না।

হযরত কাতাদা রা. প্রতি সপ্তাকে এক খতম করে কুরআন পড়তেন। এটা ছিল তাঁর সারা বছরের আমল। রমযান মোবারক এলে এর পরিমাণ অনেক বেড়ে যেত। প্রতি তিন দিনে তিনি এক খতম করে কুরআন পড়তেন। আর শেষ দশকে প্রতিরাতে এক খতম করে পড়তেন।

ইমাম যুহরি রহ. রমযান এলে হাদিসের পাঠদান বন্ধ করে দিতেন। এমনকি আহলে ইলমদের সাথে ওঠা-বসাও ছেড়ে দিতেন। তিনি এ সময় মুসহাফ তথা কুরআন শরিফ দেখে দেখে সারাক্ষণ তেলোয়াত করতে থাকতেন।

.আব্বাসী খলিফা মামুন রমাদ্বানে ৩৩ বার কুর’আন খতম করতেন।.এরকম প্রকাণ্ড সাম্রাজ্য সামলিয়েও একটা লোক এতবার কুর’আন খতম করত, অথচ আমরা…! আফসোস।.

 ইমাম আবুল কাসিম আব্দুল কারিম আল কাযউইনী(রাহ.), আত তাদউইন ফি আখরাবি কাযউইন: ৪/৩]
ইবনে রজব হাম্বলি রহ. লিখেছেন, তিনদিনে কম সময়ে কুরআন খতমের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, বিশেষ ফজিলতপূর্ণ সময়গুলো ও স্থানসমূহে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। যেমন রমযান মাস। মুক্কা মুকাররমা। এসব সময়ে ও স্থানে যত বেশি সম্ভব কুরআন তেলোয়াত করা চাই। যাতে উক্ত সময় ও স্থানের ফজিলত পুরাপুরি অর্জিত হতে পারে। এই একই কথা বলেছেন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. ও ইসহাক রহ. প্রমুখ বুযুর্গ ব্যক্তিগণ।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com