শনিবার, ১৯ Jun ২০২১, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজ এডমিনদের নিয়ে মাশোয়ারার  বাংলাদেশে আরবি বিস্তারের মহানায়ক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা) দেওবন্দে গেলেন হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. মনসুরপুরীকে নিয়ে সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনি নদভির স্মৃতি চারণ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম আমার একান্ত অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম : মাহমুদ মাদানী মানসুরপুরীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের গভীর শোক প্রকাশ দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম সাইয়েদ কারী মাওলানা উসমান মানসুরপুরী আর নেই

রমজানে ইফতার এক মহা নেয়ামত

রমজানে ইফতার এক মহা নেয়ামত

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

রমজানুল মোবারকে মুমিন রোজাদার বান্দার জন্য সবচেয়ে আনন্দের সময় হলো ইফতার. আল্লাহর সন্তুষ্টি মুমিনের জীবনের লক্ষ্য। আনুগত্যে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, তাই মুমিনগন ইবাদতে আনন্দ লাভ করেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি খুশি—একটি ইফতারের সময়, অপরটি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।’ (মুসলিম)। ভোর থেকে সারা দিন ‘সাওম’ পালন শেষে রোজাদার সূর্যাস্তের পর প্রথম যে পানাহারের মাধ্যমে উপবাস ভঞ্জন করেন, তাকে ‘ইফতার’ বলে। যে খাদ্য বা পানীয় দ্বারা ইফতার করা হয়, তাকে ‘ইফতারি’ বলা হয়।

ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা উত্তম। ইফতারের আগে ইফতারি সামনে নিয়ে অপেক্ষা করা এবং যথাসময়ে ইফতার করা সুন্নাত। ইফতারি সামনে নিয়ে দোয়া করলে সেই দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে রোজাদারের দোয়া আল্লাহর কাছে এতই আকর্ষণীয় যে আল্লাহ তাআলা রমজানের সময় ফেরেশতাদের উদ্দেশে ঘোষণা করেন, ‘রমাদানে তোমাদের পূর্বের দায়িত্ব মওকুফ করা হলো এবং নতুন দায়িত্বের আদেশ করা হলো, তা হলো আমার রোজাদার বান্দাগণ যখন কোনো দোয়া মোনাজাত করবে, তখন তোমরা আমিন! আমিন! বলতে থাকবে।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)।

আনন্দের মুহূর্ত। সারাদিনের অনাহারি আর কর্মব্যস্ত শরীর এ সময় ফুরফুরে হয়ে ওঠে। প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে দেহ-মন। সামনে নানা রকম খাবারের আইটেম। মুড়ি, বুট, পেঁয়াজু, বেগুনি আর নানা স্বাদের ফলের শরবত যেন বেহেশতি আবহ তৈরি করে। গৃহিণীরা বাসায় তৈরি করে ইফতারের হরেকরকম পদ।

রোজাদারের জন্য ইফতার এক অন্যরকম আনন্দের মুহূর্ত। সারাদিনের অনাহারি আর কর্মব্যস্ত শরীর এ সময় ফুরফুরে হয়ে ওঠে। প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে দেহ-মন। সামনে নানা রকম খাবারের আইটেম। মুড়ি, বুট, পেঁয়াজু, বেগুনি আর নানা স্বাদের ফলের শরবত যেন বেহেশতি আবহ তৈরি করে। গৃহিণীরা বাসায় তৈরি করে ইফতারের হরেকরকম পদ। গৃহকর্তা বাইরে থেকে আসার সময় এটা-সেটা আনতেও ভুল করেন না। সবকিছু সামনে নিয়ে চলতে থাকে মুয়াজ্জিনের আজানের প্রতীক্ষা। কখন মিনারে ধ্বনিত হবে আল্লাহু আকবর। ফাঁকে ফাঁকে ঘড়ি দেখা আর মুখে মুখে দোয়া-দুরুদ পড়া।

হাদিসে পাকে ইফতারের এই আনন্দ আর প্রতীক্ষার কথাই গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে। নবীজী (সা.) বলেছেন, ‘ইফতারের সময় কোনো দোয়া বাতিল করা হয় না। ইফতারের সময় দোয়া খুব তাড়াতাড়ি কবুল হয়।’ -বায়হাকি

এ হাদিসটি এ কথাই প্রমাণ করে, ইফতারের সময় বাজে কাজকর্মে লিপ্ত না হয়ে ইফতার সাজিয়ে বসে থাকা এবং দোয়া-দুরুদ পড়তে থাকা রোজাদারের জন্য অবশ্য কর্তব্য। তিরমিজি শরিফের একটি হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের প্রত্যেক রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বহু জাহান্নামিকে মুক্তি দেন।’

অন্যকে ইফতার করানো ব্যাপারেও হাদিসে পাকে এসেছে সওয়াবের কথা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সে তার পূর্ণ সওয়াব পাবে। যদিও ইফতারটি হয় একটি খেজুর কিংবা একগ্লাস পানির দ্বারা।

ব্যয়বহুল বাহারি ইফতারের আয়োজন না করে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, নিকটজন, গরিব–মিসকিন, দরিদ্র অসহায়দের ইফতারের বিষয়ে যত্নবান ও সচেতন হওয়া বাঞ্ছনীয়। পথশিশু, ছিন্নমূল ও পথিকদের ইফতারের ব্যবস্থা করাও কর্তব্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইফতার মাহফিল ও ইফতার পার্টির আয়োজন না করে গরিব–অসহায়দের দান–খয়রাত করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তৃপ্তিসহ পেট পুরে পানাহার করল, তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত যাপন করল, সে মুমিন নয়।’ (মুসলিম)।

হালাল খাদ্য ও হালাল উপার্জন রোজা, নামাজ ও যাবতীয় ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। তাই ইফতার ও সাহ্‌রিতে থাকতে হবে বৈধ উপার্জনের হালাল খাবার।

 

ইফতারের দোয়া
হাদিসে ইফতারের সময় পাঠ করার বেশ কয়েকটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দোয়া হলো-

ক. হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-

اللَّهُمَّ لَكَ صُمْنَا وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْنَا فَتَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সুমনা ওয়া আলা রিজকিকা আফতারনা। ফাতাকাব্বাল মিন্না। ইন্নাকা আনতাস্ সামিউল আলিম। -দারা কুতনি : ২৩০৩

অর্থ : হে আল্লাহ! তোমাকে সন্তুষ্ট করার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করেছি। অতএব, এ রোজা ও ইফতার তুমি কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সব কিছু শোন ও জান।

খ. ইবনে উমর (রা.) বলেন, নবী (সা.) যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

উচ্চারণ : যাহাবায যমা-উ ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ। -আবু দাউদ : ২৩৫৯

অর্থ : পিপাসা মিটেছে, শিরাগুলো সতেজ হয়েছে। আল্লাহ চাহে তো সওয়াবও লেখা হয়েছে।

ইফতারের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত দোয়া হলো-

اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلى رِزْقِكَ أفْطَرْتُ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।

অর্থ : হে আল্লাহ! একমাত্র তোমার জন্যই রোজা রেখেছে এবং তোমার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করছি।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com