মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ১০:০৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজ এডমিনদের নিয়ে মাশোয়ারার  বাংলাদেশে আরবি বিস্তারের মহানায়ক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা) দেওবন্দে গেলেন হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. মনসুরপুরীকে নিয়ে সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনি নদভির স্মৃতি চারণ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম আমার একান্ত অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম : মাহমুদ মাদানী মানসুরপুরীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের গভীর শোক প্রকাশ দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম সাইয়েদ কারী মাওলানা উসমান মানসুরপুরী আর নেই
মাগফিরাতের এই সময়ে, আসুন অনুত্প্ত হৃদয়ে কান্ন করি

মাগফিরাতের এই সময়ে, আসুন অনুত্প্ত হৃদয়ে কান্ন করি

মাগফিরাতের এই সময়ে, আসুন অনুত্প্ত হৃদয়ে কান্ন করি

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

আল্লাহতায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে রহমতের দশক শেষ করে আমরা এখন রমাজানুল কারিমের মাগফিরাতের দশকে প্রবেশ করেছি আলহামদুলিল্লাহ। আজ মাগফিরাতের দ্বিতীয় দিন। রমজানের এই মুহূর্তগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দাওয়াত ও আমলকে জমা করে আল্লাহর কাছে দোয়ার মাধ্যমে পেশ করতে হবে। নিজেকে পুরো উম্মতকে নিয়ে রোনাজারি করতে হবে। বিশেষ করে বর্তমান করোণার মহামারি ও মসিবত থেকে মানবজাতিকে বাঁচাতে মাফ চাইতে হবে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে ক্ষণে ক্ষণে।

আল্লাহ রমজানের মাগফিরাতে একেক মুহুর্তে অগণিত মানুষকে মাফ করে দিবেন। মাগফিরাতের দশকে প্রতিটি মুমিনের কামনা থাকে আল্লাহপাক যেন আমাকে মাগফিরাত দান করেন। নিজেকে কবুল করে নেন। আমার দেশ ও দেশের মানুষের জন্য, আমার পরিবার পরিজন, মুসলিম উম্মাহর জন্য আসুন অনুত্পত হৃদয়ে  চোখের পানি ফেলে দোয়া করতে হবে।

নেট, ইন্টারনেট, স্যোসাল মিডিয়া, এদিক সেদিকে চোখ না দিয়ে তেলাওয়াত, তাসবিহাত ও আমলের দিকে গভীরভাবে মনযোগী হওয়া দরকার। দাওয়াত ও আমলকে নিজ গৃহে জিন্দা করি। ঈমানের এক মাহল বানাই। ঈমানী হালকা করে বাচ্চাদের ঘরে তরবিয়ত করি, সাথে বাবা মার খেদমত, স্ত্রীর কাজে সহযোগীতাও আল্লাহর ক্ষমা লাভের অপূর্ব সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। পতিবেশির প্রতি দয়া ও সহযোগীতা হতে পারে দোয়া কবুলের বড় জড়িয়া।

এছাড়া প্রতিটি মুমিন হৃদয় এ মাসে যেমন লাভ করে আল্লাহপাকের জান্নাতের প্রশান্তি তেমনি তার আধ্যাত্মিক বাগান এ মাসে নানান ধরণের ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে ওঠে। আমরা যদি আমাদের পরিবারগুলোকে জান্নাত সদৃশ বানাতে চাই তাহলে পবিত্র এ রমজানের অবশিষ্ট দিনগুলোকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে হবে।

প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য সে যেন কেবল নিজেই মুত্তাকি না হয় বরং সে নিজে এবং পরিবারের সকলকে যেন পুণ্যবান-মুত্তাকি করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে দাওয়াতের দ্বারা। সব ধরণের পাপ ও খারাপ থেকে রক্ষা পেতে পুরো পরিবারকে সঠিক ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।

মানব প্রেম, উম্মাহর দরদ, সুন্নাহ পরিপালনে একনিষ্ঠতা, সীরাত চর্চায় একাগ্রতায় ঘরে দাওয়াত ও ঈমানী মাহাল তৈরি করতে হবে । পরিবার পরিজনের মাঝে ৬সিফাতের মোজাকার ও আমল চালু করব। আমল যত মজবুত হবে আল্লাহর ক্ষমা ততো আমাদের দিকে প্রসারিত হবে।

মাগফেরাতের এই দশকে মুসলিম উম্মাহ আল্লাহতালার নিকট ক্ষমা লাভে রোনাজারি, কান্না-কাটি করবে। মাগফিরাতের দশকে ক্ষমা লাভের একটি দোয়াও আমরা বেশি বেশি করতে পারি। চোখের পানি ফেলে নিজের জন্য পুরো উম্মতের জন্য দোয়া করব। উম্মতের ঐক্য আর নাজাতের দোয়া করবো।  দাওয়াতের মেহনতকে যেন গোটা মানবজাতির হিদায়ত হিসাবে আম করে দেন আর আমাকে হেদায়তের জড়িয়া হিসাবে কবুল করেন এই দোয়া করব। গোটা মুসলিম উম্মাহর মাগফিরাতের জন্য দোয়া করব।

কান্না ও রোনাজারিতে অশ্রু বিসর্জন দিব রোজার প্রতিটিমুহূর্তে। আর আল্লাহ কাছে বার বার প্রার্থনা করবে-
اَللَّهُمَّ حَبِّبْ إلَيَّ فِيْهِ الْإحْسَانَ، وَكَرِّهْ فِيْهِ الْفُسُوْقَ وَالْعِصْيَانَ، وَحَرِّمْ عَلَيَّ فِيْهِ السَّخَطَ وَالنِّيْرَانَ، بِعَوْنِكَ يَا غَيَاثَ الْمُسْتَغِيْثِيْنَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইয়্যা ফিহিল ইহসান; ওয়া কাররিহ ফিহিল ফুসুক্বা ওয়াল ইসইয়ান; ওয়া হাররিম আলাইয়্যা ফিহিস সাখাত্বা ওয়ান নিরানা বিআওনিকা ইয়া গিয়াছাল মুসতাগিছিন।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আজ আমার কাছে সৎ কাজকে প্রিয় করে দাও; অন্যায় ও নাফরমানিকে অপছন্দনীয় করে দাও; তোমার রহমতের ওসিলায় আমার জন্য তোমার ক্রোধ ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হারাম করে দাও। হে আবেদনকারীদের আবেদন শ্রবণকারী।’

আল্লাহর দরবারে আমাদের প্রার্থনা থাকবে তিনি যেন আমাদের দোয়া গ্রহণ করে আমাদেরকে ক্ষমা করে দেন। আসলে রমজানের রোজা হলো গুনাহ মাফ এবং মাগফিরাত লাভের মধ্য দিয়ে চিরশান্তি, চিরমুক্তির একটি সুনিশ্চিত ব্যবস্থা, অতি নির্ভরযোগ্য সুযোগ। নিজেকে কবুল করিয়ে নেয়ার বড় মওকা। নিজের পাপকে ক্ষমা করিয়ে নেয়ার সুবর্ণ সুযোগ।

কিন্তু যে এ সুযোগের সদ্ব্যবহার না করে তার ধ্বংস অনিবার্য, তার বিপদ অবশ্যম্ভাবী। রমজান এমন একটি মাস, যে মাসের সাথে অন্য কোন মাসের তুলনা চলে না। পবিত্র কোরআন করিমে বর্ণিত হয়েছে, ‘রমজান সেই মাস যে মাসে নাযিল হয়েছে কোরআন যা মানবজাতির জন্য হেদায়াতস্বরূপ এবং হেদায়াত ও ফুরকান অর্থাৎ হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয়ক সুস্পষ্ট প্রমাণাদিস্বরূপ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাসকে পায় সে যেন এতে রোজা রাখে’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)।

প্রত্যেক রোজাদারকে গভীরভাবে মনে রাখতে হবে যে, রোজা আদায়ের অর্থ কতগুলো বিষয় থেকে বেঁচে থাকা ও কতগুলো বিষয়কে বর্জন করা। এর মাঝে বাহ্যিকতার কোন আমল নেই। অন্য যে কোন ইবাদত মানব দৃষ্টে ধরা পড়ে কিন্তু রোজা এমন এক ইবাদত যা শুধু আল্লাহই দেখতে পান, যার মূল শিকড় রোজাদার ব্যক্তির হৃদয়ে লুকায়িত তাকওয়ার সাথে সংযুক্ত।

রোজার এই প্রশিক্ষণ বাকি ১১মাস যেন আমাকে পাপমুক্ত পবিত্র জীবন লাভের শক্তি যোগায়। রমজান যেন সারা বছর আমার ঈমান আমল ও দাওয়াতের মাঝে শক্তি যোগায়।

আমরা যদি আল্লাহপাকের আদেশ নিষেধ পরিপূর্ণভাবে প্রথমে নিজেরা পালন করে জীবন অতিবাহিত করি এবং পরিবারের সবাইকে দাওয়াতের মাধ্যমে সেভাবে গড়ে তুলি, পরিবার পরিজন, মহল্লায় দাওয়াতের মাহল তৈরি করে নূরে জলমল জরে সাজিয়ে নেই তাহলে আমাদের চারপাশ জান্নাতি আবহে পরিণত হতে পারে।

নিজেদের পরিবারগুলোকে জান্নাতি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করাতে চাইলে পবিত্র রমজানে নিজের গুনাহকে ক্ষমা করানোর কোন বিকল্প নেই। আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে মাগফিরাত ও নাজাতের দশক থেকে পরিপূর্ণ হক আদায় করে মেহনত করার তৌফিক দান করুন, আমিন।

Facebook Comment
Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com