রবিবার, ১৩ Jun ২০২১, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজ এডমিনদের নিয়ে মাশোয়ারার  বাংলাদেশে আরবি বিস্তারের মহানায়ক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা) দেওবন্দে গেলেন হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. মনসুরপুরীকে নিয়ে সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনি নদভির স্মৃতি চারণ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম আমার একান্ত অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম : মাহমুদ মাদানী মানসুরপুরীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের গভীর শোক প্রকাশ দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম সাইয়েদ কারী মাওলানা উসমান মানসুরপুরী আর নেই

আসুন সেজদায় অবনত হই

আসুন সেজদায় অবনত হই

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের সর্বোত্তম মাধ্যম হলো ‘সেজদা’। সেজদা আদায়ের মাধ্যমেই মানুষ দ্রুত আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার সবচেয়ে নৈকট্য অর্জনের সৌভাগ্য লাভ করে। বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার জন্য সেজদা আদায় করে তখন তার মাঝে কোনো আমিত্ব ও আহংকার থাকে না। সিজদার দ্বারা আল্লাহপাক পরম আনন্দ পান, খুশি হন। কেননা সিজদার মাধ্যমে আল্লাহপাকের কাছে নতিস্বীকার করার নম্রতা এবং বশ্যতা প্রকাশ পেয়ে থাকে। রমজানের মাগফিরাতের মুহুর্তে আল্লাহর সকল আযাব থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে ও তার মাহবুব বান্দার কাতারে শামিল হতে আসুন সেজূাবনত হই। বেশি বেশি করে সেজদা করি।

কেয়ামতের আগে যে ভয়াবহ কিছু আযাব আসমান থেকে নাজিল হবে তাখন ঐসব মানুষই আযাব থেকে পরিতাণ পাবেন যারা সেজদাবনত থাকবেন। সেজদায়র মানুষরাই শেষ জামানায় সকল ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। এজন্য এই মুহুর্তে অধিক পরিমান সেজদার দ্বারাই আল্লাহর নিরাপত্তা ও মাগফিরাত লাভ হতে পারে।

সিজদা হলো ইতাআতের সবোর্চ্চ স্থর।আর এই ইতাআাতকে অস্বীকার করার কারণেই মাহবুব আজাজিল ফেরেশতা অভিশপ্ত মরদুদ শয়তানে পরিণত হয়েছে। সব ইবাদতের মধ্যে সিজদার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সিজদা হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত।

সেজদা প্রতিপালকের দরবারে বন্দেগী ও উপাসনার সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত। মানুষ সেজদাবনত অবস্থায় একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সব কিছুকে ভুলে যায়। নিজেকে এ মহান সত্ত্বার নিকট সমর্পণ করে এবং তারই নৈকট্যপ্রাপ্ত হয়।

হাদীসে আছে, সেজদার ন্যায় মানুষের কোন কাজই শয়তানকে অধিক ব্যথিত করে না। অপর একটি হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সাহাবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যদি চাও কিয়ামতের মহান আল্লাহ তোমাকে আমার সাথে একত্রিত করেন, তাহলে মহামহিম ও অদ্বিতীয় আল্লাহর উদ্দেশ্য সেজদাকে দীর্ঘায়িত কর।”

আমরা সুদৃঢ় আকিদা পোষণ করি যে, সেজদা শুধুমাত্র এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর সত্তা ব্যতিত অন্য কারও জন্য জায়েয নয়। কেননা সেজদা বন্দেগী ও উপাসনার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। আর উপাসনা বা ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যই নির্ধারিত। সেজদা একমাত্র আল্লাহকেই করা যায়। তার কুদরতি পায়েই মুমিন বান্দা কপালকে লুটিয়ে দিয় আনুগত্য ও বিনয়ের চরম প্রকাশ ঘটায়।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, “আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়।”

সেজদা বিনয়ের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ যা শুধুমাত্র বিশ্বস্রষ্টার জন্য নির্ধারিত। তওহীদ বা একত্ববাদের অন্যতম অর্থ হচ্ছে ইবাদতের ক্ষেত্রে একত্ববাদের বিশ্বাস। সেজদা হচ্ছে ইবাদতের সর্বোত্তম রূপ।

হাদিসে পাকে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেজদা আদায়ের ফজিলত বর্ণনা করে বলেছেন, আল্লাহ তাআলার অধিক সেজদা আদায়ের মাধ্যমেই মানুষ চিরস্থায়ী জান্নাত লাভ করবে।

হজরত মা’দান বিন আবি তালহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘(আমি) আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আজাদকৃত দাস সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, ‘আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। (অথবা বললাম, ‘আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় আমলের কথা বলে দিন)কিন্তু তিনি উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইলেন। পুনরায় আমি একই আবেদন করলাম। তবুও তিনি নিরব রইলেন। আমি তৃতীয়বার আমার আবেদনের পুনরাবৃত্তি করলাম। উত্তরে তিনি (হজরত সাওবান) বললেন-এ ব্যাপারে আমি আল্লাহর রাসুলকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি আল্লাহর জন্য অধিক সেজদা করাকে অভ্যাসে পরিণত করে নাও। কারণ যখনই তুমি আল্লাহর জন্য একটি সেজদা করবে; তখনই আল্লাহ তার (ওই সিজদার) বিনিময় তোমাকে একটি মর্যাদায় উন্নীত করবেন এবং একটি গোনাহ মোচন করবেন।’ (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

–হজরত উবাদা বিন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে শুনেছেন, প্রিয়নবী বলেছেন, ‘প্রত্যেক বান্দাই; যখন সে আল্লাহ জন্য একটি সেজদা করে তখনই তার বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য একটি সাওয়াব লেখেন; তার একটি গোনাহ ক্ষমা করে দেন এবং তাকে একটি মর্যাদা উন্নীত করে দেন। অতএব তোমরা বেশি বেশি করে (আল্লাহর জন্য) সেজদা কর।’ (ইবনে মাজাহ, সহিহ তারগিব)

হজরত রাবিয়াহ বিন কাব বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুলেরে (খেদমতে তার) সঙ্গে রাত যাপন করতাম; তার অজুর পানি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস হাজির করে দিতাম।
একদিন তিনি আমাকে বললেন, ‘তুমি আমার কাছে কিছু চাও।’ আমি বললাম, ‘আমি জান্নাতে আপনার সংস্পর্শে থাকতে চাই।’ তিনি বললেন, ‘এ ছাড়া আর কিছু?’ আমি বললাম- ‘ওটাই (আমার বাসনা)।’ প্রিয়নবি বললেন, ‘তাহলে অধিক অধিক (আল্লাহর) সেজদা করে (নফল নামাজ আদায়ে) এ ব্যাপারে আমার সহায়তা করা।’ (মুসলিম, আবু দাউদ)

আল্লাহ আমাদেরকে তার কুদরতি পায়ে সেজদা আদায়ের মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের মর্যাদা লাভ করার তাওফিক দান করুন এবং এর দ্বারা চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংস্পর্শ লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com