শুক্রবার, ১৮ Jun ২০২১, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজ এডমিনদের নিয়ে মাশোয়ারার  বাংলাদেশে আরবি বিস্তারের মহানায়ক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা) দেওবন্দে গেলেন হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. মনসুরপুরীকে নিয়ে সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনি নদভির স্মৃতি চারণ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম আমার একান্ত অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম : মাহমুদ মাদানী মানসুরপুরীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের গভীর শোক প্রকাশ দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম সাইয়েদ কারী মাওলানা উসমান মানসুরপুরী আর নেই
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ

চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ

সৌদি আরবের আদলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করছে সরকার। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) অধীনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে মসজিদগুলো তৈরি করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। চলতি মাসেই প্রথমধাপে দেশের ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব মডেল মসজিদ উদ্বোধন করবেন এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও উদ্যোক্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের দিনক্ষণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি মিললে আগামী ৭ থেকে ১৩ জুনের মধ্যে মসজিদগুলো নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

উল্লিখিত বিষয়ের সত্যতা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান দুলাল এমপি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতি ও উদ্বোধনের দিনক্ষণ চেয়ে তার কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখনও জবাব মেলেনি।

‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নজিবর রহমান বলেন, যে ৫০টি মসজিদ প্রস্তুত করা হয়েছে সেগুলো হলো ঢাকার সাভার উপজেলা; ফরিদপুরের মধুখালী ও সালথা; কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও কুলিয়ারচর; মানিকগঞ্জের শিবালয়; রাজবাড়ী সদর; শরীয়তপুর সদর ও গোসাইরহাট; বগুড়ার সারিয়াকান্দি, শেরপুর ও কাহালু; নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা; পাবনার চাটমোহর; সিরাজগঞ্জ সদর, রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা; দিনাজপুরের খানসামা ও বিরল; লালমনিরহাটের পাটগ্রাম; পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও সদর উপজেলা; রংপুর সদর, পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, সদর উপজেলা ও বদরগঞ্জ; ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর; জামালপুরের ইসলামপুর, জামালপুর সদর; ময়মনসিংহের গফরগাঁও এবং তারাকান্দা; ভোলা সদর; ঝালকাঠির রাজাপুর; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও নবীনগর; চাঁদপুরের কচুয়া; চট্টগ্রাম জেলা সদর, লোহাগড়া, মিরসরাই ও সন্দ্বীপ; কুমিল্লার দাউদকান্দি; খাগড়াছড়ির পানছড়ি; নোয়াখালীর সুবর্ণচর; খুলনা জেলা সদর; চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর; কুষ্টিয়া জেলা সদর ও সিলেট দক্ষিণ সুরমা। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে যেমন বাংলাদেশ হতো না, তেমনি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে এদেশে এত সুন্দর দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ নির্মাণ হতো না। এসব মসজিদে ইসলামি সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি জ্ঞানার্জন ও গবেষণার সুযোগ থাকছে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা ও গাড়ি পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, আধুনিক সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ এসব মসজিদে থাকছে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে পাঠাগার, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, পবিত্র কুরআন হেফজ বিভাগ, শিশুশিক্ষা, অতিথিশালা, পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, গণশিক্ষা কেন্দ্র ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বি ও সি-ক্যাটাগরির উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকার মডেল মসজিদগুলোতে ৯০০ জন একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। উপকূলীয় এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বন্যায় এসব মসজিদের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ এগুলোর নিচতলা ফাঁকা থাকবে। প্রথমতলা ডুবে গেলেও যেন সমস্যা না হয়, সেভাবে অবকাঠামো গড়ে উঠবে। লাইব্রেরি সুবিধাও থাকবে মসজিদগুলোতে। প্রতিদিন ৩৪ হাজার পাঠক একসঙ্গে কুরআন ও ইসলামিক বই পড়তে পারবেন। ইসলামিক বিষয়ে গবেষণার সুযোগ থাকবে ৬ হাজার ৮০০ জনের। ৫৬ হাজার মুসল্লি সব সময় দোয়া, মোনাজাত করাসহ তসবিহ পড়তে পারবেন। মসজিদগুলো থেকে প্রতি বছর ১৪ হাজার হাফেজ তৈরির ব্যবস্থা থাকবে। আরও থাকবে ইসলামিক নানা বিষয়সহ প্রতি বছর ১ লাখ ৬৮ হাজার শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা। ২ হাজার ২৪০ জন দেশি-বিদেশি অতিথির আবাসন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে প্রকল্পের আওতায়। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তিন ক্যাটাগরিতে হওয়া জেলা পর্যায়ে চার তলাবিশিষ্ট মসজিদ এ-ক্যাটাগরি, উপজেলার তিন তলাবিশিষ্ট বি-ক্যাটাগরি এবং উপকূলীয় এলাকায় চার তলাবিশিষ্ট সি-ক্যাটাগরি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ৫৬০টির মধ্যে জেলা পর্যায়ে ৬৯টি, উপজেলা পর্যায়ে ৪৭৫টি ও উপকূলীয় অঞ্চলে ১৬টি রয়েছে। এগুলোর এ-ক্যাটাগরির প্রতিটির আয়তন প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট, বি ও সি-ক্যাটাগরির মসজিদের আয়তন ৩০ হাজার বর্গফুট।

জেলা সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্মাণাধীন মসজিদগুলোতে একসঙ্গে ১ হাজার ২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদগুলো নির্মিত হলে সারা দেশে প্রতিদিন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ২০০ পুরুষ ও ৩১ হাজার ৪০০ নারী নামাজ আদায় করতে পারবেন। ২০১৬ সালের ৩ থেকে ৭ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব সফর করেন। ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী সৌদি বাদশাহর সঙ্গে আলোচনায় দেশব্যাপী মডেল মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরে সহযোগিতার প্রস্তাব করলে সৌদি আরব তাতে সম্মতি দেয়। সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী এই মডেল মসজিদের নকশা তৈরিসহ সামগ্রিক বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল অনুমোদন দেয় একনেক। ৯ হাজার ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকার এই প্রকল্পে সৌদি সরকার দিবে ৮ হাজার ১৬৯ কোটি ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বাকি ৮৯২ কোটি ৬১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিবে সরকার। প্রকল্প সময়কাল ধরা হয় ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পে অর্থ সহায়তা না দেয়ার কথা জানানো হয়। পরবর্তীতে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রকল্প কিছুটা কাটছাঁট করে ব্যয় ধরা হয় ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com