শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

আফগানিস্তানে আলমী ইজতেমা; মুসলিম বিশ্বের মিলন মেলায় পরিণত হবে

আফগানিস্তানে আলমী ইজতেমা; মুসলিম বিশ্বের মিলন মেলায় পরিণত হবে

আফগানিস্তানে আলমী ইজতেমা:

মুসলিম বিশ্বের মিলন মেলায় পরিণত হবে

বিশেষ প্রতিনিধি: আগামী ১২ই আগষ্ট ২০২১ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিশ্ব মারকাজ নিজামুদ্দিনের তত্বাবধানে আলমী ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। আফগানিস্তান তাবলীগ জামাতের আমীর খাঁন জামান জালালাবাদ মারকাজের মুরুব্বীগনের পক্ষে থেকে উক্ত ইজতেমায় মুসলিম উম্মাহকে শরীক থাকারা আহব্বান জানিয়েছেন। উক্ত ইজতেমায় তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমীর শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলভী সহ ভারত ,পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আরব বিশ্বের মুরুব্বিগন উপস্তিত থাকতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে এবং আফগানিস্তান স্বাগতিক দেশ হিসাবে সেভাবেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করছে।
গতকাল জালালাবাদ মারকাজের পক্ষ থেকে মুসলিম বিশ্বের প্রতি দাওয়াত জানিয়ে একটি আমন্ত্রন পত্র পাঠানো হয়। এত উল্লেখ করা হয়,
“প্রতি-বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ ও দাওয়াতের সাথীবৃন্দ,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু

পরকথা,দাওয়াত ও তবলিগের মেহনত সকল উম্মাতে মুহাম্মাদিয়া( সাঃ) এর জিম্মাদারি। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জাত খতমে নবুওয়াতের তোফায়েলে এ উম্মতকে এ মহান জিম্মাদারি দ্বারা সন্মানিত করেছেন। নিজামুদ্দিন বিশ্বমারকাজের তত্বাবধানে নবীওয়ালা এ কাজ সারা বিশ্বে এক নেহাজে চলে আসছে। তারই সোনালি ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে দেশী বিদেশী মেহমানদের উপস্থিতিতে আলমী ইজতিমা অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।
তাই জালালাবাদ আলমী মারকাজের তরফ থেকে আমরা উক্ত ইজতিমায় আপনাদের উপস্থিতি কামনা করে বিনীত দাওয়াত পেশ করছি;যেন দীনে ইসলাম বিশ্বময় ছড়িয়ে যায় এবং তবলিগের নিশান আফগানিস্তান সহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে সমুন্নত হয়ে যায়।
কাবুল ইজতিমার তারিখঃ৩মুহাররাম ১৪৪৩মোতাবেক,১২ আগষ্ট ২০২১
উক্ত ইজতিমায় আমরা সারা দুনিয়ার সকল মেহমানকে স্বাগত জানাচ্ছি।
বিনীত
জালালাবাদ মারকাজের মুরুব্বীগনের পক্ষে –
খাঁন জামান
(আমীরে তবলীগ,অল আফগানিস্তান)

এদিকে ঢাকার কাকরাইল মসজিদ থেকে একটি জামাত আফগানে তাবলীগের কাজ করে এসেছে। জামাতের আমীর -ডাঃ নাফিস মুস্তাফিজুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের জামাত গত ১১/৩/২০২১ ইং আফগানিস্তান পৌঁছে। কাবুল এয়ারপোর্ট থেকেই জালালাবাদ,আফগানিস্তানের মুল মারকাজ পর্যন্ত আমাদের জামাতের অভাবনীয় এস্তেকবাল হয়।জালালাবাদ পুরানোদের জোড়ে নিজামুদ্দিনের হজরতগণ দুইদিন ফজরবাদ বাংলাদেশ জামাতের আমলের ফায়সালা করেন। জোড় থেকে ১২৪ চিল্লা /তিন চিল্লার জামাত বের হয়। এরপর জালালাবাদ শহরের দুটি হালকায় আমরা কাজ করি। এরমাঝে তোরাবোরা পর্বতের পাশে “গনি খেইল প্রাদেশিক মারকাজে” আমাদের তশকিল হয়। এখানে প্রায় পাচ হাজারের মজমা জড়ো হলে আমরা পাচ কাজ, মসজিদ আবাদির মেহনতের মুজাকারা সহ নগদ তশকিল করি। এ দেশে সাথীরা পাচ আমল ও মসজিদ আবাদির মেহনত বুঝতে দারুণ পিপাসিত এবং জমিন অনেক উর্বর। এখান থেকে সাল সহ নগদ জামাত তৈরি হয়।

তিনি সেই সফরের অভিজ্ঞতা আরো বলেন, ”কুনার”প্রদেশে আমাদের ৭দিনের তশকিল হয়। কুনারে সাতদিনে আমরা আট জেলায় কাজ করি। জেলাগুলো আয়তনে বড় হলেও বাংলাদেশের কোন কোন গ্রাম বা ইউনিয়নের সমান এর জনসংখ্যা। এক একটি জেলায় পাঁচশত থেকে হাজারের উপর তিনচিল্লার সাথি রয়েছে। কোন কোন জেলায় তবলিগে যায়নি,এমন মানুষ প্রায় নেই বললে চলে। জেলাগুলোতে কাজের কারগুজারি,মুজাকারা ও আমবয়ান, তিন ভাগে মেহনত হয়। সাতদিনে প্রায় ৬৬ জামাত নগদ তৈরি হয় এবং প্রায় বিশজন ওলামা হজরত সাল ও দ্বিতীয় সালের জন্য নগদ তশকিল হন। উল্লেখ্য, এমন ওলামা হজরতও সালের জন্য নগদ তৈরি হন,যিনি একাধারে বোখারী, মুসলিম, সুনানে আবি দাউদ,হায়াতুস সাহাবা সহ বড় বড় কিতাবের “হাফেজে হাদিস”।এবং তারা বাংলাদেশে আসার জোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

আফগান ইজতেমার আমন্ত্রনপত্র

ডাঃ নাফিস মুস্তাফিজুর রহমান আরো জানান, আমরা জেলার সরকারি অফিস,থানা,হসপিটাল,স্কুল মাদরাসাগুলোতে ব্যাপক গাশত করি। প্রতিটি জায়গায় বাংলাদেশ জামাতকে বিপুল এস্তেকবাল ও একরাম করা হয়। এবং লম্বা সময় দিয়ে ডি সি,এস পি,জর্জ সহ উর্ধতন কর্মকর্তাগণ আমাদের কথা শেনেন,তাশকিল হন ও সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্হাপনা গ্রহণ করেন।
প্রাদেশিক গভর্নর ও পার্লামেন্ট স্পিকার নিজ বাস ভবনে আমাদেরকে দাওয়াত দিয়ে আফগানিস্তানের “সর্বোচ্চ সন্মাননা” (বিশেষ ধরনের পাগরি)প্রদান করেন এবং তুষারপাত-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভিজে ভিজে তারা আমাদেরকে বিদায় জানান।
বড় বড় প্রায় সকল মাদরাসায় আমাদের পোগ্রাম হয়। তলাবা ও ওলামা হজরতগণ লম্বা সারিতে দাড়িয়ে তকবির ধ্বনি দিয়ে আমাদের জামাতকে এস্তেকবাল করেন। এবং মাশায়েখগণ তাদের হাদীসের আসন ছেড়ে দিয়ে দাওড়া,তাফসীরের তলাবাদের সামনে আমাদের জামাতের উলামাদের কথা বলার সুযোগ করে দেন।আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় সমস্ত তলাবা দাড়িয়ে সালের নিয়ত করেন। তাই যদি বলা হয়, আফগানিস্তানে বর্তমান তবলিগের বিপ্লব চলছে, অত্যুক্তি হবেনা।আল্লাহ পাক এমন একটি দেশ ও জাতিকে তবলিগের মেহনতে নিজামুদ্দিনের পাশে পাহাড়ের মত দাড় করিয়ে দিয়েছেন, যাদের রক্ত,অস্হি-মজ্জায় মিশে আছে বাহাদুরি,ভদ্রতা,আভিজাত্য, আতিথিয়েতা ও সরলতা। যাদের পরিবেশজুড়ে আছে মদীনার সেই নুরানি আবহ। প্রতিটি ঘরকে মনে হবে ইসলামের মারকাজ।

তিনি আরো জানান, এদেশের মানুষ ও প্রশাসন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের প্রচুর ভালোবাসে। নিজামুদ্দিনের হজরতগন ও অল আফগানিস্তানের আমির, জনাব খান জাহান সাহেব বরাবর তাকিদ দেন,যেন বাংলাদেশ থেকে লাগাতার আফগানিস্তানে জামাত আসে। আল্লাহ করেন,যদি ভিসার সহজ ব্যবস্হা হয়ে যায়,বিপুলহারে আফগান জামাত বাংলাদেশে আসতে প্রস্তুত,যারা পাচ কাজ ও মসজিদ আবাদির মেহনত দেখে দেখে শিখতে চায়।

ঢাকার কাকরাইল মসজিদের ইমাম মুফতী আজীমুদ্দীন আজ বাদ জুমআ কাকরাইল মসজিদে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি গত মে মাসে আফগানিস্তানে সফর করে এসেছি। উম্মাহর র্বতমান পেক্ষাপটের আলোকে আফগানিস্তানে তাবলীগ জামাতের এই ইজতেমা মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে গুরুত্বর্পূন ভুমিকা পালন করবে। তিনি আরো জানান কাবুল ইজতেমা ছাড়াও আরো আটটি ছোট বড় ইজতেমা হবে। এসবের তারিখও র্নিধারন করা হয়েছে। তিনি বলেন , গত কয়েকদিন আগে আমরা আমেরিকা থেকে এসেছি সেখানেও দেখলাম আফগান ইজতেমায় আসার জন্য প্রস্তুতি চলছে।এবং একমাত্র দেশ আফগানিস্তান,যে দেশ পুরা নিজামুদ্দিনের এতাআতে ব্যাপকভাবে দাওয়াতি কাজ করছে। তাবলীগ জামাতের ব্যাপারে কোন ধরনের মতানৈক্য নেই। সবাই তবলিগের মেহনতকে ভালবাসে এবং সাপোর্ট করে।

এছাড়া নিজামুদ্দিনের বিশ্ব মারকাজের তত্ত্বাবধানে আফগানিস্তানে আরো কিছু জোড় ও ইজতেমা সমুহের তারিখ র্নিধারণ করা হয়েছে,
২৬-২৭ আগষ্ট , ২০২১: পাকতিয়া শহর ইজতেমা
২-৩ সেপ্টেম্বর , ২০২১: বালদাক জোড়
৯-১০সেপ্টম্বর ২০২১ কান্দাহার ইজতেমা
১৩-১৪ সেপ্টেম্বর২০২১ শান্দেদ বালসাওয়ালি জোড়
১৬-১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১ হেরাত ইজতেমা
২৩-২৪ সেপ্টেম্বর২০২১: খোস্ত প্রাদেশিক ইজতেমা
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ গনি খেইল ইজতেমা
৭-৮ অক্টোবর ২০২১: কুনার ইজতেমা
২৮-৩০ অক্টোবর ২০২১ জালালাবাদ ইজতেমা
Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com