শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

তাবলীগ নিয়ে দেওবন্দকে ভারতের শীর্ষ বুজুর্গের চিঠি

তাবলীগ নিয়ে দেওবন্দকে ভারতের শীর্ষ বুজুর্গের চিঠি

হিন্দুস্তানের সমস্ত আকাবিরদের মাঝে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় বুজুর্গ হিসাবে যিনি খ্যাত, সর্বজন শ্রদ্ধেয় পীরে কামেল, এককথায় বর্তমান সময়ে আকাবিরগনের মাথার তাজ যাকে বলা চলে, শায়খুল হাদীস জাকারিয়া কান্ধালভি রহ এর একমাত্র ছাহেবজাদা ও খলিফা ওলীয়ে কামেল, হজরত মাওলানা তালহা কান্দলভি (দাঃবাঃ)। তিনি তাবলীগের  চলমান সংকট নিয়ে দারুল উলূম দেওবন্দকে নিচের চিঠিটি লেখেছেন।

মুক্কাররামীন ও মূহতারামীন শূরা সদস্যবৃন্দ, দারুল উলূম দেওবন্দ
السالم علیکم و رحمة هللا و بركاته

এই বান্দা বেশ কয়েক বছর যাবৎ সুস্থ নয়। যে কারণে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও দারুল উলূমের শূরাতে (মাসোয়ারায়) অংশগ্রহণ করতে পারছি না। এ বছর আমি আগের তুলনায় খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছি। আপনাদের নিকট দুআর আবেদন রাখলাম।

গত শনিবার মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল সাহেব আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। তিনি এই অধমকে জানালেন, “শূরার সদস্যগণ আগামী কাল (রোববার) পরামর্শে বসছেন। যদি আপনার কোন বার্তা থাকে আমি পৌঁছে দিতে পারি।”

সেখানে অনেক লোক হাজির থাকায় বেশি কিছু বলা যায়নি। তাই এই কয়েকটি লাইন লিখছি। আশা রাখি আপনারা গুরুত্বর সাথে দেখবেন।

তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ অনৈক্য আমাদের সকলের জন্যই অস্বস্তির কারণ। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এই বান্দার কাছে আসে এবং তাদের এলাকার অবস্থা ব্যাখ্যা করে। কিছু কিছু এলাকার খবর আমার কাছে এসেছে যে, সেখানে শূরার পক্ষের লোকজন অজাহাতি জোড়ের নাম দিয়ে বিভিন্ন জোড়ের আয়োজন করছে এবং সেখানে আলেমদের দ্বারা সেই চিঠি পড়াচ্ছে যা দারুল উলূম কিছুদিন তাঁদের “ঐক্যবদ্ধ অবস্থান” শিরোনামে প্রকাশ করে ছিল। এটা প্রত্যেক মসজিদেই বিশৃঙ্খলার কারণ হচ্ছে।

এছাড়াও হজের সফরে বাংলাদেশ থেকে কিছু তাবলীগের সাথী আমার সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের কিছু কারগুজারী জানান। তারা জানালেন কোন এক জোড়ে বাংলাদেশের কিছু উলামা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, মাওলানা সাদ সাহেবের সাথে যারা আছে তারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত থেকে বের হয়ে গেছে। এবং এটা করার সময় তাঁরা দারুল উলূমের ফতোয়া ব্যবহার করছে।

এই বান্দা দারুল উলূমের ফতোয়ার এমন ব্যবহার যথাযথ বলে গণ্য করে না। এই প্রেক্ষিতে এই বান্দা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আপনাদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে লিখবে। কিন্তু সুযোগ হয়ে উঠেনি।

বুঝা যাচ্ছে চিঠিটি আমার সম্মানিত আত্মীয় সাদ সাহেবকে (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুক) তাঁর কিছু বয়ানাতের কারণে সংশোধনের জন্য দেয়া হয়েছিল, যেগুলো থেকে তিনি একবার নয় বরং বহুবার রুজু করেছেন। তিনি সেই রুজুর চিঠিগুলো আমার কাছেও পাঠিয়েছেন এবং দারুল উলূম বরাবরও পাঠানো হয়েছিল।

এখন দারুল উলূম থেকে খুবই স্বচ্ছ কিছু লেটারহেড প্রকাশ করা জরুরী যাতে এই ফিৎনা প্রশমিত হয় এবং কোন পক্ষই দারুল উলূমের কোন চিঠি নিজস্ব ফায়দার কাজে ব্যবহার করতে না পারে।

আশা করি আপনারা আমার এই সুপারিশ রাখবেন। এই বান্দাও আল্লাহর কাছে দুআ করে যাতে উম্মতের মধ্য থেকে সকল ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সন্দেহ দূর হয় এবং আমাদের মাদ্রাসা, গ্রন্থাগার, খানকাহ ও দ্বীনী জামাতসমূহ হেফাজত করেন।
আমীন।
ওয়াস সালাম
মুহাম্মাদ তালহা কান্ধালাভী
৪ সফর ১৪৪০ হিজরী
লেখক বান্দা জাহিদ নাজীব
চামপারান

রুকন শূরা মাওলানা আব্দুল আলীম ফারুকী সাহেবের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে লেখা চিঠি

মুহতারাম বুযুর্গ
জনাব আব্দুল আলীম ফারুকী সাহেব
আসসালামু আলাইকুম।
আশা করি ভালো আছেন। বহুদিন যাবৎ আমি শারীরিক দূর্বলতায় ভুগছি। পায়েও ব্যথা আছে। এ কারণে বিছানা থেকে ওঠাও কষ্টকর হয়।

গতকাল মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল এসে বললেন যে দারুল উলূমের পরামর্শ সভা হতে যাচ্ছে। যদি কোন বার্তা থাকে তিনি পৌঁছে দিবেন।

তাই তাঁদের তেহরিকের ব্যাপারে আমার যা কিছু মনে এসেছে লিখেছি। আপনার সাথে আমার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তাই আপনার কাছেও একটি কপি পাঠাচ্ছি যাতে জলসার সময় চিঠিটি পড়া হয়। ফলাফল কি হয় আমাকে জানাবেন।

ফাকত ওয়াসসালাম
মুহাম্মাদ তালহা কান্ধালাভী
৪ সফর ১৪৪০ হিজরী

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!