বুধবার, ০৩ Jun ২০২০, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন

মাদরাসার ছাত্রদের ধারালে অস্ত্রের আঘাতে মূলধারার ১জন তাবলীগী সাথী নিহিত

মাদরাসার ছাত্রদের ধারালে অস্ত্রের আঘাতে মূলধারার ১জন তাবলীগী সাথী নিহিত

অনলাইন ডেস্ক : আজ টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে মূলধারার তাবলীগ জামাতের জোড়ে বাধা প্রদান ও তাবলীগের সাথীদের উপর মাদরাসার ছাত্রদের দারালো অস্ত্রের  আঘাতে মোঃ ইসমাইল মন্ডল মন্ডল (৭০) নামে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের নিজামুদ্দিনের অনুসারী একজন তাবলীগের মুরুব্বী নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

নিহত ইসমাইল মন্ডলের ছেলে জাহিদ হাসান বলেন, তাঁর বাবা আলুর ব্যবসা করতেন। তিনি তাবলীগের পুরানো তিনচিল্লার জিম্মাদার সাথী। জাহিদ হাসানের সঙ্গে আজ সকালে তিনি টঙ্গী আসেন। জাহিদ হাসানও তাবলীগের তিনচিল্লার সাথী। বাপ বেটা ৫ দিনের জোড়ে অংশ নিতে আজ সকাল মাঠে এসেছিলেন। তাঁর বাবা মূলধারার নিজামুদ্দিন অনুসারী । তিনি দুপুরে মাঠে অবস্থান করছিলেন।   মাদরাসার উগ্রপন্থী  ছাত্ররা ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করেন তাঁকে। তাদের নির্মম আঘাতেই তার নিরস্ত্র বাবা শাহাদত বরন করেন। তিনি বলেন, নবীওয়ালা হকের মেহনতে এসে আমার বাবা জীবন দিয়ছেন এটাই আমার বিশ্বাস। এজন্য আমি শহীদের সন্তান হিসাবে গর্বিত।

এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ৩ শতাধিক মুসল্লি আহত হয়েছেন। আহতদের টঙ্গী হাসপাতালসহ স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে এবং গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

 

শনিবার সকাল ৮টার তাবলীগের সাথীদের ৫দিনের জোড়ে প্রবেশ করতে চাইলে মাদরাসার ছাত্ররা বাঁধা দেয়। পরে তাবলীগের সাথীরা মাঠের বাহিরপ অবস্থান নিলে মাদরাসার ছেলে ও ক্বারী জুবায়েরর অনুসারী পাকিস্তান কথিত শুরাপন্থীরা মাঠের টয়লেরের উপরে উঠে তাদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এভাবে চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। (ছাত্রদের ইট পাটকেল মারার ভিডিও এখন ভাইরাল সবর্ত্র)

 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাঠের বাটা গেট ও টিনশেট মসজিদসহ মাঠের প্রবেশ পথগুলো দিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তাবলীগের সাথীরা মাঠে প্রবেশের চেষ্টা করে।  তখন ভিডিওতে দেখা যায় সাথীরা প্রবেশের সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাদরাসার ছাত্ররা তাদের উপর হামলে পরে।

 

পাকিস্তানী শুরাপন্থী ও ছাত্রদের হামলায় শনিবারের হামলায় তাবলীগের শতাধিক সাধারণ সাথী আহত হয়েছেন। তখন কিছু মাদরাসার ছাত্রও আহত হয়। তবে মাদরাসার ছাত্রদের একরামের সাথে তাবলীগের সাথীরা মাঠ থেকে বিদায় করপছে এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

 

আহতদের তাদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় রক্তাক্ত হয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে অনেককে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ফজরের পর থেকে ইজতেমা মাঠের গেটগুলো জড়ো হতে থাকেন মূলধারার তাবলীগের সাথীরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাদের ভীড় বাড়তে থাকে। তা কয়েক লাখে ছাড়িয়ে যায়।

 

বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে তারা বাটা গেট ও টিনশেট মসজিদ গেঠের ভিতর থেকে ছাত্ররা আক্রমন করলে শান্ত পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠে। তখন  তাবলীগের সাথীরা গেট ভাঙ্গতে শুরু করে একই সময় একযোগে সবগুলো গেটে টেলে তারা ময়দানে প্রবেশ করেন।

 

ছাত্রদের হামলার সময় পুলিশ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করে। সকাল থেকে পুলিশ পাহারা থাকলেও ছাত্রদের উগ্রপন্থী আচরণে  কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

পরিস্থিতি সংঘর্ষের দিকে যাচ্ছে দেখেও পুলিশ কেন তাদের মাঠের ভিতরে পূর্ব থেকে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই। সময় টিভিকে তেমন কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি তারা।

 

এখন অবশ্য পুলিশ প্রশাসন উভয় পক্ষকে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। শনিবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক আহবান করা হয়েছে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!