শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

তাবলীগওয়ালারা আলেম বিদ্বেষী নয়, এসব ছিল ক্রমাগত জুলুমের বিস্ফোরণ

তাবলীগওয়ালারা আলেম বিদ্বেষী নয়, এসব ছিল ক্রমাগত জুলুমের বিস্ফোরণ

সৈয়দ ইসমত |অতিথি লেখক, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম |৷ স্বাধীনতার পর পর আলেমরা বেশ কিছুদিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন । বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিব কি আলেমবিদ্বেষী ছিলেন ?   নাকি স্বাধীনতার রক্তঝরা দিনগুলিতে কওমী আলেম ও জামাতের ভুমিকাই বাঙালীকে সেদিন আলেমবিদ্বেষী করে দিয়েছিলো ?

 

উদাহরণ স্বরূপ বলিঃ  ভারতবিদ্বেষী বলতে কি বুঝায় ?  বুঝায় এইটা যে , যতই গুন থাকুক একজনের , কিন্তু  যদি সে ভারতীয় হয় তাহলেই তার প্রতি আমি বিদ্বেষী হবো । আলেমবিদ্বেষী বলতে কি বুঝায় ? বুঝায় যে একজন যতই ভালোমানুষ হোক,  কিন্তু যদি সে আলেম হয় তাহলেই তার প্রতি আমি বিদ্বেষী হবো।

 

তাবলীগওয়ালারা যদি আলেমবিদ্বেষীই  হবো তাহলে আমাদের প্রতিটি মসজিদের নেতৃস্হানীয় সাথীরা প্রায় সবাই  তাদের সন্তানদেরকে মাদ্রাসায় কেন পড়ায় ? নিজ সন্তানের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করতে চায় তারা ?

 

টঙ্গীর এই ঘটনা অনেকদিন যাবত নিপিড়িত বিড়ালের মত তাড়া খেয়ে খেয়ে চলার ফলশ্রুতি ।  ঢাকা জেলার এস্তেমা প্রথম ডেমরা , তারপর সাভার , তারপর মীরপুর….. তারপর কেরানীগঞ্জ। সবর্ত্র বাধাঁ আর উগ্রতা ছলছিল। একের পর ধর্মের দোহাই দিয়ে গত ১বছর ধরে সারাদেশে চালানো হয়েছিল, ক্রমাগত নির্যাতনের স্টিম রোলার।

জেলায় জেলায় ইজতেমা করতে বাঁধা!! মারকাজ দখল, মসজিদে জামাত উঠতে বাধা। আল্লাহর রাস্তার মেহমানদের নির্মম মারধর। যত সামান্য উদাহরণ মাত্র এটি।

 

তারপরও , আমরা ১বছর পূর্বের নিধারিত তারোখে  শুধু ই মাঠে চেয়েছি , তাও সর্তকতা হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেযে সাংবাদিক সম্মেলন করেছি কয়েকদিন আগে। কিন্তু কোন প্রচেষ্টাই তাদের উগ্রতাকে ধমীয়ে রাখতে পারে নি। ভেতরে  আমাদের জোড়ের আমল করতেই চেয়েছি । কিন্তু ঢুকতে দেওয়াতো অনেক দুরের কথা , ইটের বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো । ঢোকার পরে যেভাবে লাঠি , বটি আর দা’ নিয়ে আক্রমণ হলো…..।

 

এখন উল্টো আলেম উলামাদের ব্যাকমেইল করে চলছে নানান বক্তৃতা বিবৃতি। যাতে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করা যায়।

আমাদের এক সাথীকে শহীদ করে দেয়ার পরও — হয়তো শুধুমাত্র মাদ্রাসার ছাত্র বলে — সাথীরা অনেক উদারতা দেখিয়েছে । অনলাইনে অসংখ্য ভিডিও ভাইরাল আছে সাথীরা কতোটা একরাম করেছে। আজ আবার সারাদেশে গুজব ছড়িয়ে সাথীদের মারধর করা হচ্ছে।

 

আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো ঘুরে দাঁড়ানো দরকার ছিলো আরও আগে । বড়রা কি নির্দেশ দেবেন জানিনা । তবে যাই দেবেন , আমাদের মানতে হবে , ইনশাআল্লাহ মানবো ।

 

সারা দুনিয়ায় বিভক্তি এসেছে , ইমারাত নাকি শুরাইয়াত — এর ভিত্তিতে । বাংলাদেশে কিভাবে আলেম আর আওয়াম — এই ভিত্তিতে বিভক্তি এলো ?  এই ডিজাইনটা কার ?  উত্তর হলো — আমাদেরকে সহজে  কোণঠাসা করার এইটাই সহজ উপায় দেখেছেন যুবায়ের সাহেবরা । নিজেদের ওজন বুঝে ফেলেছিলেন , তাই দ্রুত সাপোর্টার জোগাড় করার উদ্দেশ্যে  “আলেম-আওয়াম”  বিভক্তির ডেঞ্জারাস পথে জাতিকে নিয়ে গেছেন তিনি এবং তার  co – conspirator  রা ।  ধূয়া তুলেছেন —- “আলেম নাকি আওয়ামের পক্ষে আপনি” ?

 

কিন্তু মাওঃ যুবায়ের সাহেবরা এতবড় গাদ্দারী করার পরেও সাথীরা তাদের বাচ্চাদের মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করেনি । তবে হাঁ , এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে গতানুগতিক এই মাদ্রাসা সিস্টেম সাহাবাওয়ালা আলেম গড়ার তাকাযাকে পুরা করতে পারবে না ।

 

মাওলানা সা’দ সাবের বিরুদ্ধে উঠানো অভিযোগগুলি >>>  ১) জালিয়াতি  ২) তথ্য বিকৃতি  ৩) ব্যাখ্যা বিকৃতি  ৪) আপন ইলমী সল্পতার দলীল  ৪)  6/9  ( অর্থাৎ একদিক থেকে দেখলে  6 অন্যদিক থেকে দেখলে 9 ) এর ইখতিলাফ ।  কিন্তু কেন তাঁর বিরুদ্ধেই এত ষড়যন্ত্র হবে ?  কারণ তাঁর পতন না ঘটালে  “আলমী শুরা”  নিরংকুশ হবে না । তিনি হলেন প্রধানতম বাধা ।

 

আমার দ্বীনী মেহনতের আমীরের উপর যখন মিথ্যা বদনাম দিয়ে চরিত্রহনন করার চেষ্টা হয় , সমাজে লাঞ্ছিত অপদস্থ করে ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয় তখন তাঁর প্রটেকশনের জন্য তাঁর চারিদিকে শীশাঢালা প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়াই হলো আমার ঈমানের তাকাযা , আমার ইলমের তাকাযা।

 

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!