মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

টঙ্গীর মাঠের সংঘর্ষ: আসলে কে দায়ী? সংক্ষেপে সত্য ঘটনা জেনে নিন

টঙ্গীর মাঠের সংঘর্ষ: আসলে কে দায়ী? সংক্ষেপে সত্য ঘটনা জেনে নিন

নুরুর রহমান কিরন | কেউ কেউ বলছেন মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ  এ লিপ্ত। কথাগুলো আসলেই অনেক ফানি। কারন-  হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র এবং ওস্তাদরা একজোট হয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসা দখল করছে। এই কথাটি যে বলবে, নিঃসন্দেহে সে একজন উন্মাদ অথবা কোন গোষ্ঠীর দালাল। এই সহজ কথা পৃথিবীর সব মানুষই বুঝে।

ঠিক তদ্রুপ আজকে বলা হচ্ছে, আজকে ৬০ বছর ধরে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে মেহনত করেনেওয়ালা মূলধারার তবলিগ জামাতের ওলামায়ে কেরাম এবং তিন চিল্লা সাথীদের ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে,মূলধারার তাবলীগ জামাতের ওলামায়ে কেরাম এবং তিন চিল্লার সাথীরা তাবলীগ জামাতের টঙ্গী ইজতেমা ময়দান দখল করেছে। এরকম কথা যারা ফেসবুক বা এলাকার জনসাধারণকে বলে বিভ্রান্ত করছে, তারাও একই রকমভাবে হয় উন্মাদ, না হয় কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দালাল।”

বিগত ৬০বছর যাবৎ দিল্লীর নিজামুদ্দিন মারকাজ ও কাকরাইলের মুরুব্বীদের তত্বাবধানে তাবলীগের বিশ্ব ইজতেমা জোড় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিগত ১বছর আগে ৩০নভেম্বর ২০১৮ সালের জোড়ের ফায়সালা হয়েছে। বাংলাদেশের তাবলীগের মূলধারার মুরুব্বীগন এই বছরের ৫দিনের জোড় করার ব্যাপারে চুড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করলে মাদরাসার ছাত্রদের হেফাজত ইসলামের নেতারা মাঠ দখলে রাখতে এবং মূলধারার তাবলীগের সাথীদের জোড়ে বাঁধা  প্রদান করে।

৩০ শে নভেম্বর থেকে ৪ঠা ডিসেম্বর নিজামউদ্দিনের অনুসারী সাথীদের পাঁচ দিনের জোর ছিল ও অপর পক্ষ পাকিস্তান শূরাপন্থীরা আগামী ৭ ডিসেম্বর জোড়ের ঘোষনা দেন। কিন্তু মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে ৩০তারিখের জোর বন্ধ করতে টঙ্গী জমা করে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়। সেদিন সকাল ৮টার তাবলীগের সাথীদের ৫দিনের জোড়ে প্রবেশ করতে চাইলে মাদরাসার ছাত্ররা বাঁধা দেয়। পরে তাবলীগের সাথীরা মাঠের বাহিরে অবস্থান নিলে মাদরাসার ছাত্ররা ও ক্বারী জুবায়েরর অনুসারী পাকিস্তান শুরাপন্থীরা মাঠের টয়লেরের উপরে উঠে তাদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তখন মূলধারার তাবলীগের সাথিরা রাস্তায় বসে তালিম করছিল ও প্রশাসনের সহযোগিতার অপেক্ষায় ছিল, হঠাৎ করে ভিতর থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দিতে চাইলে তারা প্রতিহত করতে গেলে তখন আমাদের একজনকে জঙ্গী কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ( বাহিরে অবস্থান রত নিরিহ মুসল্লিদের উপর ছাদ থেকে ছাত্রদের ইট পাটকেল মারার ভিডিও এখন ভাইরাল সবর্ত্র)

 

এই উস্কানিমূলক কাজে কিছু আলেম ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতে লাঠি, ইট, পাথর ইত্যাদি জিনিস তুলে দিয়েছে এবং জিহাদের অপব্যবহার শিক্ষা দিচ্ছিল।আর এই ছাত্ররাই কিন্তু আমার আপনার ভাই,ছেলে, ভাগিনা, ভাতিজা।

 

এখন যেহেতু সাথীদের ৫ দিনের জোড়- তাই ৩০ ই নভেম্বর থেকে (শুক্রবার থেকে) ছাত্রদের বুঝানো হচ্ছে ময়দান ছেড়ে এলেম শিক্ষার জন্যে মাদ্রায়াস চলে যাওয়ার জন্যে । কিন্তু তারা কোন মতেই যাবে না।   বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় নাগরিক হিসাবে আমাদের মৌলিক  অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সুষ্ঠুভাবে ইজতেমা জোড় করার দাবীতে, ও ছাত্রদের মাঠ থেকে যেন বিদায় হয়, সে আব্দার জানিয়ে  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে গত ২৭ নভেম্বর মঙ্গলবার  রাজধানীর সোগুন বসগিচায় “ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিট (ডিআরইউ) সাগর- রুনি মিলনায়তন ‘ সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়।

 

বিগত বিশ্ব ইজতেমার সময়ের পর থেকে ১১মাস ধরে গোটা বাংলাদেশে মূলধারার তবলিগ অনুসারীদের তাদের স্বাভাবিক ধর্মীয় কর্মসূচি এবং কার্যক্রম চালাতে বাধা দান করছে, জেলা ইজতেমাতে বাঁধা,  মারকাজ মসজিদগুলো দখল, মসজিদে মসজিদে মাদরাসার ত্বোলাবা /ছাত্রদের শরীরে কাপনের কাপড় পরিয়ে তাবলীগ জামাতের সকল ধর্মীয় কাজে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সকল ধর্মাবলম্বী বাধাহীনভাবে ধর্মচর্চা ও অনুসরণ করবেন- এটি সংবিধানের বিধান এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যও বটে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৪১ এর ১ (ক) তে সুস্পষ্টভাবে আরও উল্লেখ আছে ” প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে; “।

 

পূর্বের নির্ধারিত তারিখ শনিবার সকল সাথীরা ময়দানে আসতে শুরু করলো। ময়দানের আশে পাশে সকল সাথী জমা হতে শুরু করলো। সাথীরা তালিম, দোয়া এহতেমাম করতে ছিল। শনিবার সকাল থেকেই তাদের বুঝানো চেষ্টা করা হচ্ছিল কিন্তু না। তারা কোন মতেই যাবে না। আস্তে আস্তে যখন জোড়ের সাথী বাড়তে ছিল তখন সবাই গেইটের কাছাকাছি আসলো। কিন্তু ভিতর থেকে মাদ্রাসার ছাত্রদের জিহাদের অপব্যাখ্যা দিচ্ছিল কিছু নামধারী শিক্ষক।

 

যার কারনে কিছু ছাত্র ইট, পাথর মারতে শুরু করলো সকল সাথীদের উপর। অনেকে আহত হয়েছে। এমতাবস্তায়- ৫ দিনের জোড়ের সাথীরা ছাত্রদের আক্রমন প্রতিহত করতে তাদের ধাওয়া দেয়। সাথীদের উদ্দেশ্য কোন এমন ছিল না যে- ছাত্রদের আঘাত করবে। কিন্তু কে শুনে কার কথা !!! ছাত্ররা আরও বেশী করে ইট পাথর মারতে শুরু করলো। (সবাই কে একটা প্রশ্ন করতে চাই – ক্যামেরার সামনে সবাই দেখেছেন গেইট ভেঙ্গে তারা ময়দানে প্রবেশ করেছে। আপনেরাই বলুন — কতক্ষন ইট, পাথরের আঘাত সহ্য করা যায় !!!)

 

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ থেকে দেখা গিয়েছে- কিছু আলেমদের উস্কানিমূলক কথায় – ছাত্ররা প্রথমেই ৫ দিনের জোড়ে তিন চিল্লা বা আমজনতার উপর ইট, পাথর, লাঠি দিয়ে আক্রমন করেছিল। এখন আপনরাই বলুন — দোষটা কার ??? ছাত্ররা এতটাই আক্রমনাত্মক হয়েছিল যে- মাওলানা সাদ দা.বা. এ অনুসরনকারীদের একজনকে মেরেই ফেলল। তাছাড়া আরও কত সাথীদের জখম করেছে তা বলাই বাহুল্য। অর্থাৎ এরা কিনা আমাদের সন্তান,ভাই। এটাও সত্য যে- কিছু ছাত্র আহত হয়েছে- তারাও আক্রমনের শিকার। এখন প্রশ্ন হলো- তাদের আঘাত করার কোন ইনটেনশন সাথীদের ছিলো না। কিন্তু তারা এতটাই মারমুখী হয়েছিল যে- শুধুমাত্র সাথীরা প্রতিহত করেছে।

 

আরেকটা কথা- একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রে মাওলানা সাদ দা.বা. কে কেন্দ্র করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এমনকি ইন্ডিয়াতেও না। প্রমাণস্বরুপ- ইন্ডিয়ার – ভুপালে প্রায় কোটি মানুষের ইজতেমা হয়ে গেল কোন রকম সংঘাত ছাড়া।

ধর্মীয় সংঘাতময় কাজে এভাবে শিশু কিশোরদের ব্যবহার করা সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, মানবিক ও শিশু আইনে মারাত্বক অপরাধ ও অন্যায় গর্হিত কাজ বলে বিবেচিত।  মাদরাসার ছাত্রদের রাজনৈতিক হীনস্বার্থে উস্কে দিয়ে এমন দুঃঘটনা , সংঘর্ষ , সংঘাতের  এরদ্বায়ভার অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কওমী মাদরাসা  শিক্ষাবোর্ড,  মাদরাসার উস্তাদ, মুহতামিম, কতৃপক্ষকেই নিতে হবে।

 

পরিশেষে- আমাদের সবার উদ্দেশ্য জান্নাত অর্থাৎ আল্লাহ পাককে রাজী-খুশি করানো। সো, আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে ফেতনা থেকে হেফাজত করুন। (আমিন)

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com