মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

জুলুমে স্বীকার হওয়া মুমিনের জন্য তোহফা | মোহাম্মদ শামসুদ্দীনের কলাম

জুলুমে স্বীকার হওয়া মুমিনের জন্য তোহফা | মোহাম্মদ শামসুদ্দীনের কলাম

প্রথমতঃ আল্লামা শফীর সাক্ষর  জাল করে মামলার চিঠিটি ভুয়া। আর মামলার ভয় দেখিয়ে কি লাভ। আমরাতো জানি আমরা কোন অন্যায় করিনি। আপনারা নির্মমভাবে আমাদের উপর হামলা করলেন, উপর থেকে পাথরের বৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন, আমদের এক দ্বীনী ভাইকে পেশবিক আক্রমন করে শহীদ করলেন। আবার উল্টো আমাদের উপত সারা দেশে হামলা মামলা করছেন। এই জুলুমের শেষ কোথায় আল্লাহই জানেন। আল্লাহর সাহায্য মজলুমের সাথেই থাক। মুসিবত মুমিনের জন্য তোহফা হয়।

দ্বিতীয়তঃকি হবে  মামলা করলে? বড় জোড় জেলে যাব। জেলে কি কোন নবীরা আগে যাননি? আল্লহ তায়ালা হয়ত চাইছেন কোন কোন সাথীর দ্বারা এই সুন্নতটিও আদায় হোক, যেমন আল্লাহ তায়ালা একজনের দ্বারা আল্লাহর রাস্তার হাকিকি শাহাদাত নসীব করালেন। আল্লাহ যদি এই তোহফা দেন, এর দ্বারা যদি ইউসুফ আলাইহিস সালামের কাতারে দাঁড়ানো যায় তাহলে ভয় কিসের? আমাদের কি কোন যোগ্যতা ছিল নবীদের কাতারে দাঁড়ানোর? আল্লাহ মেহেরবানী করে যদি এই তোহফা দেন ভয় কিসের?

তৃতীয়তঃ আল্লাহ কুরবানী চান কিন্তু কুরবানী নেন না। গত এক তারিখেও কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সেভাবে কুরবানী নেন নি, কিন্তু সব সাথীই কুরবানী দিতে তৈরি ছিল। আমাদের ইস্তেকামাত দেখেই ওরা পালিয়েছে। যিনি শহীদ হয়েছেন, তার দীর্ঘদিনের বাসনা ছিল আল্লাহর রাস্তায় যেন তাঁর মউত হয়, এটা তাঁর ছেলের সাক্ষাৎকার থেকেই বের হয়ে এসেছে। তাই তিনি কবুল হয়েছেন। বাকি সাথীদের মধ্যে খুব সামান্যই আহত হয়েহেন। প্রায় ৩ লক্ষ সাথীর মধ্যে মাত্র ৫০০ আহত হয়েছেন। পার্সেন্টিজ হিসাব করলে কত আসে বলুন?

চতুর্থতঃ এটা খুবই চমৎকার সিদ্ধান্ত ছিল মুরুব্বীদের ময়দানে যাওয়া। এর দ্বারা ওদের মনবল ভেঙ্গে গেছে। সকলের নজরে এসেছে। অনেক অভিভাবক এলার্ট হয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা ওরাও চূড়ান্ত ভাবে বাতিলের পথ ধরেছে। আল্লাহর আজাবে চূড়ান্ত ভাবে প্রবেশ করেছে। এ যেন ফেরাউনের লশকর লোহিত সাগরে প্রবেশের মত। যখন সব  লোহিত সাগরে ঢুকে পড়বে তখন আল্লাহ রাস্তা মিলিয়ে পানি ছেড়ে দিবেন। তাই একটু ধৈর্য ধরে সবকে লোহিত সাগরে প্রবেশ করতে দেন। এত তাড়াহুড়ার কিছু নেই।

পঞ্চমতঃ ওরা এখন মহল্লায় মহল্লায় সাথীদের উপরে হামলা করছে। এর দ্বারা ওদের উগ্রতা, নগ্নরূপ মহল্লায় মহল্লায় উন্মোচিত হচ্ছে। মহল্লাবাসী এই সব কাঠ মোল্লাদের চিনে না। চিনে যে ওরা বছরে একবার আসে চাঁদা কালেকশনে। কিন্তু তাবলীগের সাথী ভাইদের যুগ যুগ ধরে চিনে। মহল্লাবাসী দেখবে যে, আরে এই লোকটা তো ভালো মানুষ। এই লোকটাকে কেন মারা হল? এই লোকটাকে কেন মামলা দেয়া হল? এতে ওদের প্রতি জনরোষ বাড়বে। উদাহরণ আমাদের পল্লবীর মাহফুজ ভাই। পুরা পল্লবী এবং আশেপাশের লোকজন জানে, মাহফুজ ভাই খুবই ভালো মানুষ। সারা জীবনে কখনো কারো সাথে মিষ্টি কথা ছাড়া বলেন নি। মহল্লায় তাঁর আইসক্রিম বা চিপস না খেয়ে কোন কিশোর বড় হয় নি। মাহফুজ ভাইয়ের রান্না করা বিরিয়ানী খায়নি এমন স্থায়ী বাসিন্দা পল্লবীতে নেই বললেই চলে। (যারা কখনো মসজিদে আসে না তাদের কথা আলাদা।) মাহফুজ ভাইকে যদি মারা হয় বা মামলা দেয়া হয়, এটা কি কেউ ভালো ভাবে নিবে? যদি বলা হয় এই লোকটা খুনি, এই লোকটা অমুক অমুককে মেরেছে এটা কেউ বিশ্বাস করবে না।   এই হালত তাই আমার দৃষ্টিতে ১০০% নিয়ামত। এর কদর করা। পরিস্থিতি বুঝে হেকমতের সাথে চলা। আর আল্লাহর কাছে দুআ করা, আল্লাহ আর কয়টা দিন একটু সবর করার তৌফিক দেন। আর যদি কোন তোহফা পাঠানোর ফয়সালা করেই থাকেন তাহলে হাসিমুখে গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com