বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা. হযরতজীর চারপাশের মানুষগুলো (পর্ব-১) সকল তবলিগি মামলা আট সপ্তাহে শেষের নির্দেশ ভারত সুপ্রিম কোর্টের!  যে ৭ শ্রেণীর মানুষ আরশের ছায়া পাবে
অবোধ প্রাণী হবেন না ‘মানুষ’ — শাপলা থেকে টঙ্গী

অবোধ প্রাণী হবেন না ‘মানুষ’ — শাপলা থেকে টঙ্গী

যারওয়াত উদ্দীন সামনূন : বর্তমান পরিস্থিতির সাথে হেফাজতে ইসলামের ২০১৩ সালের আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতির সাথে অনেক মিল আছে। সেই একই রকম হুজুগে মাতাল সবাই, চিহ্নিত গলাবাজ ধোঁকাবাজদের আস্ফালন – কী নেই? পরিস্থিতি যে আজকের এই পর্যায়ে এসে দাঁড়াবে তা তো ঠাণ্ডা মাথায় ভাবলেই টের পাওয়া যেতো। কওমী অঙ্গনের দুষ্প্রাপ্য বোদ্ধা সমাজের অনেকে এই বিষয়ে লিখেছিলেনও।

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার ঐতিহাসিক পথযাত্রার কথা আমার মনে পড়ে, তখন এই আপনারাই ছড়িয়ে ছিলেন আমরা নাকি মাওলানা সা’দ কান্ধলবী দা.বা. এর পক্ষে মাঠে নেমেছি। এমনকি আপনাদের প্রচারের আধিক্যে প্রচুর তাবলীগী সাথীরা পর্যন্ত মনে করেছিলো এমনটাই। আমি ভৈরবে, হবিগঞ্জে এমন বেশ কয়েকজন আলেম ও সাধারণ সাথীদের সাথে কথা বলেছি। উভয় গ্রুপই এসেছে যাচাই করতে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. কিছু বলেন কি না মাওলানা সা’দ সাহেবের পক্ষে। হ্যাঁ বলেছেন, কি বলেছেন? ‘আলেম-জনতার’ ঐক্য চাই। বিভেদ নয়। কেউ কাউকে প্রতিপক্ষ বানাবেন না, তাবলীগের কাজ তাবলীগের মত করেই চলুক। এভাবেই একসময় সব ঠিক হয়ে যাবে। মসজিদে নিয়ে আসার দায়িত্ব আপনাদের, বের করে দেয়ার নয়।

মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাইফী সাহেব দা.বা. এর ভরাট গলা এখনো কানে ভাসে, উলামায়ে কেরাম! আপনার পোষাকের মালিক আপনি, আপনার কিতাবপত্রের মালিক আপনি, আপনার সম্পত্তির মালিক আপনি, কিন্তু যে ইলম আল্লাহ্‌ আপনাকে দান করেছেন সেই ইলমের মালিক এই উম্মত। হাতজোড় করে অনুরোধ করি, উম্মতকে প্রতিপক্ষ বানাবেন না…। কিন্তু না, আপনারা একজন নাসিহুন আমীনের উম্মতের তরে ব্যাথাতুর আহ্বান মানতে রাজি ছিলেন না। উল্টো আরও তাঁর এই আহ্বানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছেন।

অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সময় নিয়ে আজকের পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছে। বিখ্যাত একটা কথা আছে, একটা মিথ্যা দশবার বললে সেটা সত্যের মত শোনায়। আপনাদের এই অপপ্রচারের উপর ভর করেই ফাহিম সিদ্দিকী একটা মিথ্যাচারের ভিত্তি দিতে পেরেছে। নাহ, নেতা হওয়ার মত মাথা তার নেই, সেও গোটা পরিকল্পনার কেবল একটা পুতুল। সা’দ সাহেবের অনুসারীদের মাঝেও বিপরীতে কিছু উল্টো কথা ছড়ানো হয়েছে।

কিন্তু আবারো যে ৫ মে’র মত নেতারা সব মুহূর্তেই আড়ালে চলে যাবেন সেটা তারা ভাবেনি। আপনারা আজকে এই ঘটনার বিচার চান, হেফাজতকে যারা বিক্রি করেছিলো তাদের বিচার চেয়েছেন কখনো? চেয়েছেন? চান নাই। সেদিন যদি তাদের বিচার করতে পারতেন, তাহলে আজকে পরিস্থিতি এই এসে দাঁড়াতো না। স্বার্থান্বেষী নেতা হলে কর্মীর ইখলাস দিয়ে ফল আসে না ভাই।

সেদিন একজন আক্ষেপ নিয়ে বললেন, আপনারা নিজেদের দেওবন্দের অনুসারী দাবি করতেন; আর আজ কি হলো আপনাদের? আমাদের আবার কই কি হলো! আমরা তো আমাদের মতই আছি। দেওবন্দ কি বলেছে, দেওবন্দ কি করছে– এসব সামনে রেখে বাংলাদেশের তথাকথিত জমহুরদের কাজকারবার আর কথাবার্তা বিচার করুন, আর আমাদেরও বিচার করুন। স্বার্থবাজ আর ধান্ধাবাজ ছাড়া আর কেউই এমন অন্ধ না যে এসবের যোগফল বের করতে পারবে না।

দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ অমুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে পুরো পৃথিবীর মাঝে শ্রীলংকাতেই সবচেয়ে বেশি। গতকাল (মঙ্গলবার) সেখানকার একজন শীর্ষস্থানীয় আলেম বলছিলেন, বাংলাদেশে কি আপনারা ছাড়া আর এমন কোন আলেম নেই যে দেওবন্দের মতামত সামনে রেখে ইফরাত-তাফরিত ছেড়ে দেওবন্দের মত মধ্যমপন্থায় কাজ করতে পারে? ভাবলাম, এই দুরবস্থা কেন বাংলাদেশে!

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা.কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় কারা? তাঁর প্রতি অনাস্থা তৈরী করতে পারলে কাদের লাভ আদতে? ভাবুন। বাংলাদেশ মানে উত্তর গেইট আর টঙ্গীর ময়দান না, বাংলাদেশ মানে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া। কিন্তু এক ফেইসবুকে এসে গোটা বাংলাদেশ এক বিন্দুতে মিলে যায়। সবাই সবার কথা জানছে, বলছে। আপনি যদি এতোটাই সুফি-দরবেশ হোন যে, আপনি ভুলে যান আর কয়েক সপ্তাহ পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাহলে আপনাকে কে বলেছে দরস ছেড়ে বাইরে এসে দুনিয়া নিয়ে চিন্তা করতে? একেবারে আয়োজন করে, শান্ত-সুনিবিড় স্থানে চুপচাপ একাকী বসে, ধ্যানমগ্নতার সাথে ভাবুন, কেন একই লোকগুলো আজ আবার আস্ফালনে মেতে উঠেছে? কেন সেই চিহ্নিত নেতারাই আবার নেতৃত্বের মঞ্চে? কেন প্রতিপক্ষ সেই একই মানুষটা? তাঁর দিকে আঙুল তুলে কাদের কে আড়াল করা হচ্ছে, কারা সরে যাচ্ছে উলামায়ে কেরামের সতর্ক দৃষ্টির সামনে থেকে? কেন কোন প্রমাণ না থাকার পরও আরোপিত পরিবেশে মানুষকে উস্কে দেয়া হচ্ছে? কেন দুইয়ে দুইয়ে ‘চার’ না মিলিয়ে ‘বাইশ’ মিলানো হচ্ছে? বিরোধিতার মূল কেন এতই অন্ধ যে, প্রশ্ন করতে-জানতে চাওয়াও আজ অপরাধ বলে গণ্য করা হচ্ছে?

এদিকে আরেক পক্ষ, জামায়াতে ইসলামীর যখন বাঁচা-মরার প্রশ্ন এই নির্বাচনে, তখন ২০ এর অধিক আসনে নির্বাচন করতে চেয়েও কোথায় আজ তারা? হঠাৎ করেই গোটা জামায়াত-শিবির উধাও হয়ে গেল অনলাইনে? তাবলীগের আজন্ম প্রতিপক্ষ এই সময়ে এসে কোথায় মুখ লুকালো? অথচ এই সময় তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি সব গরম হয়ে থাকার কথা! কিন্তু গরম হয়ে আছে কাদের পাতা? ভাবুন, অনেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন। কেবল একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি গরু না। আপনি মানুষ। কেউ যেন আপনাকে দড়ি দিয়ে না ঘুরাতে পারে।

আপনি জাতির বিবেক না। সবকিছুতেই আপনার কথা বলতে হবে, কোন এক পক্ষ বেছে নিতে হবে তা না। আপনি সাধারণ কর্মী। রক্ত আপনার যাবে, নেতার তো নয়ই নেতার আপনার বয়সী পুত্রেরও না। কার পালে হাওয়া দিচ্ছেন ভেবে নিয়েন। জলজ্যান্ত ইতিহাস-প্রমাণ-শিক্ষা রয়েছে ২০১৩ সালের।

নাকে দড়ি নিয়ে গরুর মত খেটে-কষ্ট করে অপরের জমিতে হাল দিবেন নাকি মানুষ হয়ে রইবেন – সিদ্ধান্ত আপনার

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com