শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

যে পাঁচ কারণে সাদ কান্ধলভী বিরোধী আন্দোলন

যে পাঁচ কারণে সাদ কান্ধলভী বিরোধী আন্দোলন

তাবলিগ নিয়ে নাগরিক ভাবনা

————

সৈয়দ মবনু

————

মাওলানা আব্দুল্লাহ আল-মানসুর, সিলেট কোরআনিক গার্ডেনের প্রিন্সিপাল। তরুণ এবং চিন্তক আলেম। আমার অফিসের সামনেই তার সাথে মোলাকাত। তিনি যাবেন মিরবক্সটুলা আর আমি যাবো দরগাহ মহল্লা। হাটতে হাটতে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হলো। এক পর্যায়ে তাবলিগের বর্তমান সমস্যা নিয়ে কথা শুরু হয়ে যায়। তিনি জানতে চাইলেন, এ সমস্যার উৎপত্তি কোথায় এবং সমাধান কি?

আমি বললাম, সমস্যার উৎপত্তির বহুমাত্রিকতা রয়েছে। দীর্ঘদিনের সংগঠন, অনেকগুলো সমস্যা এখানে জটা বেঁধেছে। আমরা যদি বড় করে দেখতে যাই তবে এখানে প্রথম সমস্যা হলো, সাহরানপুর আর দেওবন্দের প্রতিষ্ঠানিক চিন্তাগত সমস্যা। দেওবন্দ ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সুনাম অর্জন করলেও সাহরানপুর সুনাম অর্জন করেছে তাবলিগের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রেখে। এখলাসের কারণে পূর্বযুগে তা খুব অনুভব না হলেও বর্তমানে স্পষ্ট হয়ে দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া মাওলানা সাদের নানা শায়খুলহাদিস আল্লামা জাকারিয়া (র.)।  মাওলানা সাদ সাহেবের সময় প্রতিষ্ঠানিক আরেকটি সমস্যা এখানে যুক্ত হয়েছে, নাদওয়াতুল উলামা। দেওবন্দের শিক্ষা পদ্ধতি আর নাদওয়াতুল উলামার শিক্ষা পদ্ধতিতে দিন-রাত ব্যবধান, যদিও উভয় একই চিন্তার অধিকারি। মাওলানা সাদ হলেন আল্লামা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী (র.)-এর খলিফা, যা চিন্তাগত দূরত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেওবন্দী অনেকের ধারণা তারা ছাড়া বাকি কেউ আহলে হক নয়। এই হলো একগ্রুপের সমস্যা।

 

দ্বিতীয় সমস্যা : ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে পাকিস্তান ভারতের সাথীদের মধ্যে মারকাজ নিয়ে টানাটানির সমস্যা ছিলো। এই বিষয়টিও এখানে কাজ করছে। পাকিস্তানী গ্রুপ এখানে কিছুটা সফল হয়েছে।

 

তৃতীয় সমস্যা : গোজরাটিদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো নিজামুদ্দিন মারকাজ। তারা এই মারকাজকে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র বানিয়ে নিয়েছিলো। মাওলানা সাদ এসে একটা নিয়ম তৈরি করে নিয়ন্ত্রণকে ভাগ করে দিয়ে তা ভেঙে দেওয়ায় তাবলিগের গোজরাটি গ্রুপ বিদ্রোহ ঘোষণা করে আহমদ লাট সাহেবের নেতৃত্বে।

 

চতুর্থ সমস্যা : বাংলাদেশের আলেমরা দেওবন্দকে অন্ধভাবে অনুসরণ করেন। তারা দেওবন্দের নাম শোনলে তাহকিক ছাড়াই যেকোন জিনিষ মেনে নেন। দারুল উলূম দেওবন্দের শায়খুলহাদিস আল্লামা সাঈদ পালনপুরী চিন্তাগত দিকে সর্বদাই তাবলিগ জামায়াতের বিরোধী। তিনি এমনি তাবলিগের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। এখন সুযোগটা তিনি আরেকটু লজ্জত লাগিয়ে ব্যবহার করছেন। আল্লামা সৈয়দ আরশদ মাদানী প্রমূখ সাদ বিরোধীদের দ্বারা কিছুটা প্রভাবিত, তবে তারা এত কট্টর নয় যতটুকু কট্টর বাংলাদেশের দেওবন্দিরা। মাওলানা মাহমুদ মাদানী, আল্লামা সুলতান মনসুরপুরী প্রমূখরা সাদ সাহেবের পক্ষেই কথা বলছেন এবং পরিবেশকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন।

 

পঞ্চম সমস্যা : বাংলাদেশের আলেমদের কোন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই। আল্লামা শাহ আহমদ শফিকে যদিও বলা হচ্ছে নেতা, কিন্তু বয়সের কারণে তিনি অনেক জিনিষ নিজের মতো করতে পারছেন বলে মনে হয় না। ফলে এখানে কোন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা নেই এবং তা দেওয়ার মতো যোগ্যতাও কারো নেই। এখানে সবাই নিজ নিজ স্থানে রাজা। কারো প্রতি কারো পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য নেই। ফলে যার যা ইচ্ছে তা বলে যাচ্ছে।

 

আরও ছোট ছোট সমস্যা তো আছেই। এই সমস্যা থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পথ একটিই উভয়পক্ষ সংযমি হওয়া, ধৈর্য্য ধারণ করা, নিজেদের অহংকারগুলো বাদ দিয়ে আল্লাহর দ্বীনের গৌরবের দিকে দৃষ্টি দেওয়া। মানুষের আবেগকে ক্রয় করার জন্য মিথ্যাচারের আশ্রয় না নিয়ে ঈমানের দিকে দৃষ্টি রাখা।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com