শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

তাবলীগের সংঘর্ষে ‘জামাতে ইসলাম’ জড়িত; আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (বিস্তারিত)

তাবলীগের সংঘর্ষে ‘জামাতে ইসলাম’ জড়িত; আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (বিস্তারিত)

তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম |তাবলীগের সংকট নিয়ে ওজাহাত করলেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ  ।  তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন,  আমার ফাঁসি চাওয়ার বিরোদ্ধে লিফলেট পোষ্টার করে টাকা খরচ আর মিছিল করার দরকার নেই। একটি ফাঁসির মঞ্চে তৈরি করে আমাকে ডাক দিন, আমি নিসংকোচে হাজির হয়ে যাব। তিনি ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষ সম্পর্কে বলেন, আমি আগেও বলেছি এটি তৃতীয় পক্ষের কাজ। আর আজ স্পষ্ট করে বলছি  আর সেই তৃতীয়পক্ষ হল জামাতে ইসলামী। নিবার্চনে তারা ২২আসনে দাড়িয়েছে। তাদের কুকর্ম থেকে ধর্মপ্রাণ জনগনকে অনৈ দিকে মূখ ফিরিয়ে   নিবার্চনের বৈতরণী পারের এটি একটি সুগভীর নীল নকশা। এতেই না বুঝে  পা দিয়েছেন কিছু জমহুর আলেম।

আল্লামা মাসঊদ ও তার সহচর কয়েকজনের ফাঁসির দাবি নিয়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়াসহ সর্বত্র সরব একশ্রেণির আলেমগণ। মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮ রোববার বাদ মাগরিব, জামিআ ইকরা বাংলাদেশ মিলনায়তনে বক্তব্যে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন,দারুল উলুম দেওবন্দের উলামায়ে কেরাম কখনো সমাজে ফিতনা ছড়ায় না। আমাদের দেশে এখন যারা ফেতনার মূল চাবিকাঠি তারা দেওবন্দ যায়নি, গিয়েছেন পাকিস্তান। আর পাকিস্তানের জন্ম ফেতনার উপর। তারা সবসময় ফেতনা ছড়াবে। আমাদের বাংলাদেশে যারা ফেতনা ছড়াচ্ছে, মিথ্যা প্রচার করছে আমি তাদের নাম ধরে ধরে বলতে পারি। তারা কোথা থেকে পড়ে এসেছে এটা সবার জানা। কিন্তু তারা দেওবন্দের নাম প্রচার করে বেড়ায়, তাদের অন্তরে বিন্দুমাত্র দেওবন্দের প্রতি ভালোবাসা নেই।

আমি আমার সাক্ষাৎকারেও বলেছি, টঙ্গির ইজতেমার মাঠে এই হাঙ্গামা-মারামারির পিছনে তৃতীয় পক্ষের হাত আছে। এই তৃতীয় পক্ষই হলো জামায়াতে ইসলামী। যারা আমার ভাষা বুঝে তারা তখনই বুঝে নিয়েছে, আমি তৃতীয় পক্ষ বলে কাদেরকে বুঝিয়েছি। আমি নির্বাচনে তাদেরকে বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছি, তাই মানুষের দৃষ্টি এখন জামায়াতের দিকে। তারা টঙ্গীতে এই ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের দৃষ্টি তাদের থেকে সরিয়ে নিয়েছে। আর এই হাঙ্গামা-মারামারি দোষ আমার এবং ইকরার উপর চাপিয়ে দিয়েছে। তাই তারা প্রচার শুরু করেছে, ফরীদ মাসঊদের ফাঁসি চাই। ফরীদ মাসঊদের ফাঁসি চাই। কিন্তু তাদের এই বিষয়টা সব উলামায়ে কেরাম বুঝতে পারে না, যেমনিভাবে সব ডাক্তার সব রোগ ধরতে পারে না।ব্যাপারটা হলো এখন টঙ্গীতে ইজতেমার মাঠে যে ঘটনাটা হয়েছে, ওই ঘটনায় দুই পক্ষর মাঝেই জামায়াতে ইসলামীর চেহারা বদলেছিল। যেমনটা মোনাফিকরা জঙ্গে জামালে করেছিল।

আমরা কিছুদিন আগে একাদশ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীকে বর্জন করার জন্যে একটা আহ্বান জানিয়েছি। তোমরা তো সেটা শুনেছো। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির ২২ জন দাঁড়িয়েছে, যদি একজনও পাশ করে আসে, তাহলে সারা পৃথিবীতে তারা প্রচার করবে আমরা ঠিক আছি। বিরোধিতা করে আমাদের কিছু করা যাবে না। সে টার্গেটেই তারা এগোচ্ছে।

আল্লামা মাসঊদের বক্তব্য বিস্তারিত…

তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া। আমি আমার জীবনে ২৯টা কাজ এমন করেছি, যে ২৯টা কাজের ক্ষেত্রে সবাই আমার বিরোধিতা করেছে কিন্তু আল্লাহ তাআলা কাউকে বিরোধিতায় জয়ি হতে দেন নাই। আমিই জয়ি হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। আমি যে ২৯টা কাজে করেছি তার শেষ কাজটা হলো কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি। যা কিছু দিন আগে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে একজন সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করলো, আপনার শেষ স্বপ্ন কী? আমি বললাম, আমার শেষ স্বপ্ন বলতে কিচ্ছু নাই। আমি মৃত্যুর আগেও একটা স্বপ্ন দেখবো এবং সেটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। তাই আমার কাজের শেষ নেই। এই জন্য এখন বলতে পারছি না, আমার শেষ স্বপ্ন কী। কিন্তু মৃত্যু আগ পর্যন্ত আমি এই জাতি ও এ দেশের উলামায়ে কেরামের কল্যাণের জন্য স্বপ্ন দেখবো এবং সেটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো।

বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম আমাকে দিয়েছে নাস্তিক খেতাব, আর দুবাইতে রাবেত আল ইসলামি আমাকে দিয়েছে ‘আল মুফতি আল আম মিন বাংলাদেশ’ খেতাব। কোন হামলা, ভয়ভীতি, আশংকা, কোন খেতাবে আমি ভয় পাই না। শুনো, হিম্মত হারানোর কোন প্রয়োজন নাই। ফরীদ মাসঊদ হিম্মত ওয়ালা, হিম্মতের সাথে চলছে। হিম্মতপুর সাথে থাকবে। ঈমানের সাথে থাকবে। হিম্মতের সাথে দুনিয়াতে থাকবে। লাখো লোককে দুনিয়াতে চ্যালেঞ্জ করছি, কোন বাপের বেটা আছে আমাকে ফাঁসিতে ঝুলাবে, আসো, আমি গলা বাড়িয়ে দিবো, পারলে আমাকে ফাঁসি দিয়ে দাও। বাংলাদেশের এসব ইঁদুরের বাচ্ছাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

 

আমি দুবাইতে সবসময় চিন্তা করলাম, কী করে আমাদের উলামায়ে কেরাম এবং ছাত্রদের উন্নতি করা যায় এবং এই বিষয়ে দুবাই-এর অনেকের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু বাংলাদেশে এসে বিমান থেকে নেমেই শুনি আমার নাকি ফাঁসি চাওয়া হচ্ছে। ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই বলে চিল্লাচিল্লি করা হয়েছে। আমাকে ফাঁসি দেয়ার জন্যে মিছিল, পোস্টার, লিফলেট তৈরি করে টাকা খরচ করার কোন প্রয়োজন নাই। ফাঁসি একটা মঞ্চ তৈরি করো। আমি মঞ্চে এসে হাজির হবো।

শুনো, তোমাদের কোন পেরেশানির কিছু নেই, অসুবিধারও কিছু নেই, চিন্তারও কিছু নেই, ক্ষুব্ধ হওয়ারাও কিছু নেই, হিংসা হওয়ার কিছু নেই। শুধু বলো ‘কুল আমানতু বিল্লাহি ছুম্মাসতাকিমু’। তোমার পেরেশানি, তোমার ভয়, তোমার সবকিছুই আল্লাহ তাআলা তার হাতে নিয়েছেন। সুতরাং মুমিনের পেরেশানির কিছু নেই। বাংলাদেশের জমহুররা মিলে আমার ফাঁসির দাবি করাতে তোমরা কী ভয় পেয়ে গেছো নাকি?

জমহুর হলেই তাদের সবকিছু ঠিক ও সত্য হয়ে যায় না। তার তিনটা কাহিনী তোমাদেরকে শোনাই।

১. হযরত মারিয়াম আ.। সব জমহুররা মিলে এত তাহেরা, আবেদা মহিলাকে ৫৭০ বছর পর্যন্ত অবাঞ্ছিত করেছে। সবাই এটাই জানতো। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসার পরে, ইসলাম আসার পরে কুরআন শরীফে হযরত মারিয়াম আ.-এর পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়েছে।

২. হযরত আয়শা রা.। সব জমহুররা মিলে তাঁর ওপর অপবাদ আরোপ করলো। রাসূল সা. ও প্রতিবাদ করতে পারছিলেন না। কিন্তু কী লাভ হলো? আল্লাহ তাআলা তার পবিত্রতার বর্ণনা দিয়ে কুরআন শরীফে আয়াত নাযিল করলেন। কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ এই আয়াত তেলাওয়াত করবে।

৩. হযরত হোসাইন রা.। তিনি একা একা চলেছেন, জমহুরের সাথে ছিলেন না। হযরত আলী রা. একশত বছর পর্যন্ত জুমার নামাজের খুতবায় দাঁড়িয়ে এই জমহুররা হযরত আলী রা.-এর উপর লানত করতো। উমাইয়াদের আমলে হযরত আলী রা. দুনিয়াতে নেই। মসজিদে দাঁড়িয়ে তার উপর লানত করা হত। কিন্তু কোন মুসল্লীর কিছু বলার ছিল না। জমহুররা মিলে হযরত হোসাইন রা. ও হযরত আলী রা.-এর কিছু করতে পেরেছে?

যে জমহুররা হযরত ঈসা আ.-কে ছাড়ে নাই, এই জমহুরদের সাথে আমি থাকবো! যেই জমহুররা হযরত আয়েশা রা. হযরত আলী রা. হযরত হোসাইন রা.-কে ছাড়ে নাই, এই জমহুরের সাথে আমি থাকবো! শুনো মিথ্যা হলো আগাছা। আগাছার শুধু ছড়ায়। কিন্তু কোনদিন মিথ্যার জয় হয় না। সত্য সবসময় জয়ী। আর মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লানত। লানতুল্লাহি আলাল কাজিবীন।

দারুল উলূম দেওবন্দ আমাদের মূল মারকায। আল্লাহ তাআলা এই প্রতিষ্ঠানটাকে বড় আজীবভাবে কবুল করেছেন। দারুল উলুম দেওবন্দের উলামায়ে কেরাম কখনো সমাজে ফিতনা ছড়ায় না। আমাদের দেশে এখন যারা ফেতনার মূল চাবিকাঠি তারা দেওবন্দ যায়নি, গিয়েছেন পাকিস্তান। আর পাকিস্তানের জন্ম ফেতনার উপর। তারা সবসময় ফেতনা ছড়াবে। আমাদের বাংলাদেশে যারা ফেতনা ছড়াচ্ছে, মিথ্যা প্রচার করছে আমি তাদের নাম ধরে ধরে বলতে পারি। তারা কোথা থেকে পড়ে এসেছে এটা সবার জানা। কিন্তু তারা দেওবন্দের নাম প্রচার করে বেড়ায়, তাদের অন্তরে বিন্দুমাত্র দেওবন্দের প্রতি ভালোবাসা নেই।

তোমরা হয়ত জানো, আমার কথা ৫০ বছর আগে যা ছিল, এখন তাই। আমার কথায় কোন পরিবর্তন হয় না। আমার ইতিহাসে পাবে না আলহামদুলিল্লাহ আমি আমার কোন কথা থেকে ফিরে এসেছি বা আগে এক কথা বলেছি পরে অন্য কথা বলেছি। আমি কোন দিন আমার কথা থেকে তওবা করে ফিরে আসিনি। আমি যা করেছি জেনে বুঝে করেছি। আমি জীবেন এমন কোন কাজ করি নাই যেটা থেকে আমার তওবা করে ফিরে অাসতে হয়েছে।

 

জামিআ ইকরা বাংলাদেশ এবং আমার নামে যে মিথ্যাচার হয়েছে, সেটা তো তোমাদের চোখের দেখা। শুনো, মিথ্যার জয় নাই, সত্যের পরাজয় নাই। মিথ্যার উসওয়া হলো শয়তান, সত্যের উসওয়া হলেন নবী-রাসূলগণ। আমাদের এই মসজিদ মহল্লার মসজিদ। এই মসজিদ সবার জন্যে উন্মুক্ত। সবাই আসতে পারবে। কারো জন্যে কোন বাঁধা নেই। জেনারেল শিক্ষিত লোকেরাও এত মিথ্যা কথা বলে না, যতটা মিথ্যা কথা ছাত্ররা ও উলামায়ে কেরাম বলেছে।

 

আমার শৈশবে আমার নামে মিথ্যা ছড়ানো হয়েছে। আমার যৌবনে আমার সম্পর্কে মিথ্যা বলা হয়েছে। শাপলা চত্বরের সময় আমার নামে মিথ্যা ছড়িয়েছে। এখন আমার সম্পর্কে মিথ্যা বলছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা মিথ্যার জয় হতে দেন নাই। জমহুর এক দিকে উনি আরেক দিকে। শুনো, জমহুর বলতে কিচ্ছু নাই। আল্লাহ ফরজ করেছেন সত্যের সঙ্গে থাকার। জমহুরের সঙ্গে না। রাসূল সা. যদি জমহুরের চিন্তা করতেন, তাহলে ইসলাম প্রচার করতে পারতেন না। কারণ জমহুর তো রাসূল সা.-এর ইসলাম প্রচারের সময় মুশরিক ছিল। শরীয়তে জমহুরের কোন শর্ত নাই। শরিয়তের মাপকাঠি হলো সত্য। আর আল্লাহ তায়াআল ইত্তেহাদের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘ফা’তাসিমু বি হাবলিল্লাহী জামিয়া’ এখানে আল্লাহ শুধু ফা’তাসিমু বলেন নাই, বি হাবলিল্লাহ-এর শর্ত করেছেন। এখন হাবলুল্লা-এর সাথে একশত কোটি মানুষ থাকলেও সত্য। একজন মানুষ থাকলেও সত্য। হযরত যাকারিয়া আ.-এর সঙ্গে জমহুর ছিল না, হযরত ইবরাহিম আ.-এর সঙ্গে জমহুর ছিল না, হযরত নুহ আ.-এর সঙ্গে জমহুর ছিল না।

আমরা শুধু সাহাবায়ে কেরামকে মিয়ারে হক মানি না, সাহাবায়ে কেরাম ও নবী রাসূলগণ তো অবশ্যই মিয়ারে হক। এমনকি প্রত্যেক যুগের জাহেলদের জন্যে ওই যুগের হক্কানি উলামায়ে কেরাম মিয়ারে হক। আর বর্তমানে আমরা দারুল উলূম দেওবন্দকে উলামায়ে কেরামের জামাত বলে ইয়াকীন করি, মিয়ারে হক মানি।

আমি তাবলীগের এই দ্বন্দ্বের শুরু থেকেই বলছি, মাঝেও বলছি, আজও তোমাদেরকে বলছি, আমরা তাবলীগের এই দ্বন্দ্বে কোন পক্ষের সাথে নাই। আমরা দেওবন্দের পক্ষে। আমি কোনদিন এই কথা বলি নাই, আমি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর পক্ষে। কোন দিন আমি এই কথা বলে নাই, আমি শূরার পক্ষে। আমি বলছি, দারুল উলুম দেওবন্দ মাওলানা সাদ কান্ধলবী ব্যাপারে যে কথা বলছে আমি এই কথার সাথে একমত। তবে দারুল উলূম দেওবন্দের উপরে যারা বাড়াবাড়ি করে আমি তাদের সাথে নাই। কারণ আমি দেওবন্দকে মিয়ার মনে করি। আজকে যদি দেওবন্দ বলে মাওলানা সাদ কাফের হয়ে গেছেন, আমি এখন বলবো— মাওলানা সাদ কাফের হয়ে গেছেন। আজকে যদি দেওবন্দ বলে মাওলানা সাদ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে খারেজ হয়ে গেছেন, আমি এখনই বলবো— মাওলানা সাদ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে খারেজ হয়ে গেছেন। ওরা মনে করছে কী, আমার পক্ষে না থাকলে তুমি আমার শত্রু।

তোমাদের যে মাওলানা আব্দুল মালিক আছে না, তার উস্তাদ মাওলানা তাকী উসমানী কীভাবে আমার সাথে দেখা করেছেন, তাওয়াজুর সাথে হাসি মুখে কথা বলেছেন। অব্যশই তাকী উসমানী বিনয়ী মানুষ, অত্যন্ত ভালো মানুষ, কিন্তু যদি তিনি আমাকে পছন্দ না করতেন তাহলে এইভাবে আমার সাথে কথা বলতেন না, আমার প্রতি তার বিরূপের ছাপ কিছুটা হলেও তার চেহারায় ফুটে ওঠতো।

 

মাওলানা তাকী উসমানীকে আমি জিজ্ঞাসা করি নাই, আরেকজন জিজ্ঞাসা করলো, মাওলানা সাদ কান্ধলবীর ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দ যে ফতওয়া দিলো, এই বিষয়ে আপনার মতামত কী? তখন মাওলানা তাকী উসমানী বললেন, দারুল উলুম দেওবন্দর এটা কোন ফতওয়াই হয় নাই। অবশ্যই আমি মাওলানা তাকী উসমানী সাথে একমত নই। আমি দেবন্দের সাথে একমত। তাকী উসমানী বললেন, দারুল উলুম দেওবন্দের এটা কোন ফতওয়াই হয় নাই। কিন্তু আমাদের দেশে তাকী উসমানীর ছাত্র, তার ভক্তছেলেগুলো তাদের উস্তাদ থেকে বড় হয়ে ফতওয়া দেয়।

 

তাকী উসমানী বললেন, দারুল উলুম দেওবন্দ মাওলানা সাদ কান্ধলবী বিষয়ে যে ফতওয়া দিয়েছে, তা ফতওয়ার উসুল অনুযায়ী ফতওয়া হয় নাই। ফতওয়া না হওয়ার অনেক কারণ বর্ণনা করলেন, এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো, নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ফতওয়া দেয়া যাবে না। ফতওয়ার কিতাবগুলো পড়লে তোমরা জানতে পারবে ফাতওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ নেই। তাই এটাকে শরীয়তের দৃষ্টিতে ফতওয়া বলা হবে না। এই কথাটা কী আমার! এই কথাটা মাওলানা তাকী উসমানীর। আমি আবার বলছি, আমি তাকী উসমানীর সাথে একমত নই।

আমি কিন্তু মাওলানা সাদ কান্ধলবীর ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দের ফতওয়াকে কখনো ফতওয়া বলি নাই। আমি বলছি, সতর্কবাণী। দেওবন্দ মাওলানা সাদ কান্ধলবীর বিরুদ্ধে ফতওয়া দেয়নি, তাকে সতর্ক করেছে। আর এটা আমি মাওলানা তাকী উসমানীর সাথে দেখা হওয়ার আগেই বলেছি। দারুল উলূম দেওবন্দের এই অধিকার আছে, সে তার কোন আবনাকে, তার কোন অনুসারীকে সতর্ক করতে পারে। তার মুরব্বী হিসেবে এই অধিকার আছে। আর দারুল উলূম দেওবন্দ এমনটা করে তার দায়িত্ব পালন করেছে, এটা তার উচিত ছিল তাই করেছে। যে মাওলানা আব্দুল মালেক তার উস্তাদকে মানে না, সে আবার মুফতি হলো কেমনে? মুতাকাব্বির। উস্তাদকে মানে না বেয়াদব।

 

মাওলানা আবিদুল মালিককে আমি আমার সমালোচনারও যোগ্য মনে করি না। শুধু তোমাদেরকে জানানোর জন্য কথাটা বললাম। পাঁচটা লাইন আরবি বলতেও পারে না, লিখতেও পারে না, এই যে, সে কী এটা বলছিল, ওইটার মধ্যে দেখলাম একটা ছেলে ৬টা না কয়টা ভুল ধরে ফেলেছে। সুতরাং তোমাদেরকে এখন তাবলীগের এই দ্বন্দ্বে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে বলবে, আমরা কোন পক্ষের সাথে নাই। আমরা দারুল উলূম দেওবন্দের পক্ষে। দারুল উলূম দেওবন্দ মাওলানা সাদ কান্ধলবীর বিষয়ে যতটুকু বলছে, আমরা এতটুকু বলি, এর থেকে বেশি কিছু বলি না। আমরা দারুল উলূম দেওবন্দের সাথে একমত। মাওলানা সাদ কান্ধলবীর ভুলগুলো শোধরান কোন কঠিন বিষয় ছিল না, কিন্তু বর্তমানে এটাকে মুশকিল থেকে মুশকিলতর বানিয়ে ফেলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মাওলানা সাদ-এর ভুলগুলো ক্ষমা করুন। তাকে ভুলগুলো থেকে রুজু করার তাওফিক দান করুন। আমাকে আমাদের সবাইকে ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত রাখুন, ক্ষমা করুন।

 

পেরাশানির কিছু নাই, ভয়ভীতির কিছু নাই, আশংকার কিছু নাই। আল্লাহ তাআলাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমার জীবনে অনেক তাজরেবা আছে, আমি দেখেছি, আল্লাহ তাআলাই আমার জন্যে যথেষ্ট হয়েছেন। তাই এখন দুনিয়ার কারো দিকে নজর দিতে আমার মনেই চায় না,

শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, ট্রাম্প— কী এমন মানুষ আমি তাদেরকে গিয়ে আমার কথা বলবো। আমার সব কথা আমি আল্লাহকে বলবো। ‘ইন্নামা আশকু বাছসি ও হুজনি ইলাল্লাহ’। মাবুদ আমার যত ব্যথা-বেদনা, আমার যত রাগ-অনুরাগ, আমি আমার সবকিছু তোমার কাছে পেশ করলাম।

 

তোমরা যদি আমাদের এই চেতনার সাথে একমত না হতে পারো, তাহলে তোমরা আমার মাদরাসা থেকে চলে যেত পারো। আমার কোন আফসোস থাকবে না বরং আমি খুশি হবো। কিন্তু থাকতে হলে বাসিরাতের সাথে থাকতে হবে। আলহামুদিল্লাহ, আমি দুনিয়াতে আজ পর্যন্ত কারো পরওয়া করি নাই। আমি একমাত্র আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী। আমি কোন মাদরাসা করার প্রয়োজন মনে করি নাই কখনো। আমার হাইসিয়ত এমন ছিল যে, কোন মাদরাসাওয়ালা আমাকে পেলে তারা সেটা সৌভাগ্যের মনে করতো। বলতো, হুজুর এক ঘণ্টা সময় হলে এক ঘণ্টাই পড়ান। আমার ছোট থেকে নিয়ে এই পর্যন্ত আমি কারো সাথে ঝগড়া করি নাই, মারামারি করি নাই। গালিগালাজ করি নাই। আল্লাহ তাআলা আমাকে এই ভাবেই বড় করেছেন। এখন যদি আমাকে নিয়ে তোমাদের কোন আশংকা হয়, ভয় হয়, তাহলে তোমরা আমার মাদরাসা থেকে চলে যেত পারো। আমি তোমাদেরকে হাসিমুখে বিদায় দিব।

 

আলহামদুলিল্লাহ। আমার অনেক ভুল আছে, আমার অনেক ত্রুটি আছে, আমলের ক্ষেত্রে ত্রুটি, নিয়তের ক্ষেত্রে ত্রুটি কিন্তু আমি যে সব কাজগুলো করেছি, ওইগুলো নিয়ে আমি বিন্দুমাত্রও অনুতপ্ত নই। অনুশোচিত নই। কারণ আমি বাসিরাতের সাথে কাজ করেছি। আমি কোন জোসজযবার সাথে কোন কাজ করিনি।

 

তাবলীগের এই দ্বন্দ্বে আমাদের একটা মাত্র জবাব। আমরা এই বিভক্তিতে সন্তুষ্ট নই। আমরা আছি দারুল উলুম দেওবন্দের সাথে। এর থেকে বেশি কিছু বলব না। এর থেকে বেশি কিছু বললেই বিপদে পড়বে। মাওলানা সাদ-এর সবচেয়ে বড় মসিবত-বিপদ হলো তিনি ছয় নাম্বারের বাইরে কথা বলতে গিয়েছিলেন। আর এই জন্যেই ভুল করেছেন। বেচারার মুলত আল্লাহ, রাসূলগণ নিয়ে খারাপ কোন আকীদা নেই, বেচারা মসিবতে পড়েছেন হেকমত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে। আমি নিজে একদিন মাওলানা সাদকে বলছিলাম, আপনি হেকমত বাদ দিয়ে সোজা কথা বলবেন, তাহলে মসিবতে পড়বেন না।

 

বর্তমান তাবলীগের এই দ্বন্দ্বে কারো সাথে কখনো বিতর্ক করবে না। শুধু এইটুকু বলবে, দারুল উলূম দেওবন্দ যতটুকু বলছে, আমরা এতটুকুর উপর আছি। এরপর অতিরিক্ত কথা বলতে চাইলে সালাম দিয়ে চলে আসবে।

 

আমি দারুল উলুম দেওবন্দে গেলাম একবার। তখন আমাকে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়ার জন্যে বলা হলো। এই সময় সব বাঙালি ছেলেরা আমার বিরুদ্ধে দরখাস্ত দিল, যদি আমাকে বক্তব্য দিতে দেয়া হয়, তাহলে ছাত্রদের মধ্যে ইন্তেশার পয়দা হবে। দেওবন্দে মারামারি সৃষ্টি হবে, কারণ আমি নাকি হাফিজ্জী হুজুর রহ.—এর বিরুদ্ধে কথা বলবো। অথচ আমি কিচ্ছু জানিও না। তো মাদরাসাওয়ালারা তাদের কথাবার্তা শুনে নাই। আমি উমুমে নবুয়তের উপর বক্তব্য দিলাম প্রায় দেড় ঘণ্টা। বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মাওলানা আরশাদ সাহেব দাঁড়ালেন, তখন আরশাদ সাহেব দারুল উলূম দেওবন্দের নাজিমে তালিমাত ছিলেন। তখন উনি বললেন, তোমরা যারা অভিযোগ করেছিলে, এখন বলো? তিনি কোন কোন কথা হাফিজ্জী হুজুর রহ.-এর বিরুদ্ধে বলেছেন। তারপর আমি এই সব কিছু জানতে পারলাম। এই বাংলাদেশের মাওলানারা দেওবন্দেও আমার বিরোধিতা করেছে। তো আমার কথা তোমরা বুঝতে পারলে? কোন পেরাশানি আছে তোমাদের। ইকরাতে পড়তে হলে গালি শুনা লাগবে, হুমকি শুনা লাগবে, সমালোচনা শুনা লাগবে। এসব ঝড়ের বাতাসের মত। কোনটাই স্থায়ী নয়। ক্ষণিকের জন্যে আসে। আবার চলে যায়।

 

আমরা কিছুদিন আগে একাদশ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীকে বর্জন করার জন্যে একটা আহ্বান জানিয়েছি। তোমরা তো সেটা শুনেছো। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির ২২ জন দাঁড়িয়েছে, যদি একজনও পাশ করে আসে, তাহলে সারা পৃথিবীতে তারা প্রচার করবে আমরা ঠিক আছি। বিরোধিতা করে আমাদের কিছু করা যাবে না।

 

ব্যাপারটা হলো এখন টঙ্গীতে ইজতেমার মাঠে যে ঘটনাটা হয়েছে, ওই ঘটনায় দুই পক্ষর মাঝেই জামায়াতে ইসলামীর চেহারা বদলেছিল। যেমনটা মোনাফিকরা জঙ্গে জামালে করেছিল। ওই জামায়াতে ইসলামীরা দুই পক্ষ থেকে নিজেরা হাঙ্গামা-মারামারি লাগিয়ে দিয়েছে। এদের একপক্ষ আরেক পক্ষের উপর পাথর মেরেছে। এতে করেই হাঙ্গামা-মারামারি লেগে গেছে।

 

আমি আমার সাক্ষাৎকারেও বলেছি, টঙ্গির ইজতেমার মাঠে এই হাঙ্গামা-মারামারির পিছনে তৃতীয় পক্ষের হাত আছে। এই তৃতীয় পক্ষই হলো জামায়াতে ইসলামী। যারা আমার ভাষা বুঝে তারা তখনই বুঝে নিয়েছে, আমি তৃতীয় পক্ষ বলে কাদেরকে বুঝিয়েছি। আমি নির্বাচনে তাদেরকে বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছি, তাই মানুষের দৃষ্টি এখন জামায়াতের দিকে। তারা টঙ্গীতে এই ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের দৃষ্টি তাদের থেকে সরিয়ে নিয়েছে। আর এই হাঙ্গামা-মারামারি দোষ আমার এবং ইকরার উপর চাপিয়ে দিয়েছে। তাই তারা প্রচার শুরু করেছে, ফরীদ মাসঊদের ফাঁসি চাই। ফরীদ মাসঊদের ফাঁসি চাই। কিন্তু তাদের এই বিষয়টা সব উলামায়ে কেরাম বুঝতে পারে না, যেমনিভাবে সব ডাক্তার সব রোগ ধরতে পারে না।

 

টঙ্গীতে ইজতেমার মাঠে হাঙ্গামা-মারামারি মূলত চক্রান্ত জামায়াতে ইসলামীর। আমাদের উলামায়ে কেরাম, ছাত্র ভাই ও তাবলীগের সাথীদের কোন দোষ নেই। জামায়াতে ইসলামীর উপর সমস্ত মাখলুকাতের লানত, আল্লাহর লানত, আম্বিয়া কেরামদের লানত, সাহাবায়ে কেরামদের লানত, আকাবিরদের লানত। ওদের দ্বারা ইসলামের কোন লাভের আশা করা যায় না। ওরা ইসলামের ক্ষতি করতে চায়। তোমরা এসব নির্লজ্জ মিথ্যাচারে ধোঁকা খাবে না। এসব মিথ্যাচার তো তোমাদের চোখে দেখা। তোমরা পেরাশান হবে না, ভয় পাবে না, তাদের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য আসবে। মিথ্যাচারীদের উপর আল্লাহ তাআলার লানত। ওরা কোন দিন জয়ী হতে পারবে না।

 

আমি কোনদিন কারো বিরুদ্ধে কেন কথা বলিনি, আমি শুনলাম, তোমাদের মনে প্রশ্ন আসছে। তোমরা যাতে মনোবল না হারাও, শুধু তোমাদের জন্যে আমি আজ এইসব কথা বললাম। তোমরা আল্লাহর উপর ভরসা করে বসে থাকো। আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জু হও। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করো। তোমাদের যা কিছু বলার সবকিছু আল্লাহর কাছে বলো। ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তেমাদেরকে হেফাজত করবেন। তোমাদের ইজ্জত মান-সম্মানের হেফাজত করবেন। বর্তমান অবস্থা, পরিস্থিতি ও বাতাসকে আল্লাহ তাআলা ভালো বানিয়ে দিবেন।

 

ফাঁসির দাবি নিয়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়াসহ সর্বত্র সরব একশ্রেণির আলেমগণ। মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮ রোববার বাদ মাগরিব, জামিআ ইকরা বাংলাদেশ মিলনায়তনে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো। বক্তব্যটি গ্রন্থনা ও সাজানোর কাজটি করেছেন পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সহযোগী সম্পাদক মাসউদুল কাদির ও সহসম্পাদক আদিল মাহমুদ। -ব্যবস্থাপনা সম্পাদক

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com