শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসার সামনে পুলিশের সতর্ক অবস্থান : রুহিকে গনধোলাই কেন হাটহাজারী মাদরাসা ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল? হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন
দেওবন্দে সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে কোন ফতোয়াই হয়নি | মুফতী ত্বকী উসমানী

দেওবন্দে সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে কোন ফতোয়াই হয়নি | মুফতী ত্বকী উসমানী

নিউজ ডেক্স, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম |  আন্তর্জাতিক ইসলামিক ফিক্বাহ একাডেমী, sponsored by OIC, জেদ্দার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও স্থায়ী সদস্য,  মুফতীয়ে আজম আল্লামা ত্বকী উসমানী বলেছেন, মাওলানা সাদ কান্ধলবীর ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দ যে ফতওয়া দিলো, , দারুল উলুম দেওবন্দর এটা কোন ফতওয়াই হয় নাই। আমি এটিকে ফতোয়া বলতে নারাজ। এটি ফতোয়ার কোন ক্যাটাগরি ও উসুলের মাঝেই পরে না।

 

কে আল্লামা মুফতি  ত্বকী উসসানী?

(তিনি বিশ্বখ্যাত জ্ঞানতাপস ফকীহ। বিদগ্ধ পন্ডিত। প্রতিতযশা আলেমেদ্বীন। পড়েছেন ল বিষয়। চীপ জাস্টিস ছিলেন। মাদরাসার শায়খুল হাদীস। সুলেখক। সুবক্তা। বিশ্বখ্যাত  পর্যটক। সারা দুনিয়াতে নানা  বিশ্ববিদ্যালয় ও জামেয়াতে  তার রচিত গ্রন্থ পাঠ্য বই। পৃথিবীজুড়ে যার অগনিত ছাত্র।  একজন স্বার্থক নববী উত্তরাধিকার। পৃথিবীব্যাপি যার জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিস্তৃতি। কাজ করেন নানান অঙ্গনে। দুনিয়াজুড়ে যার কাজেন ব্যাপক পরিধি। নানান বিশ্ব সংস্থার সাথে জড়িত। যার লিখিত গ্রন্থ পৃথিবীজুড়ে নানান ভাষায় অনুদিত। আরবী, ইংরেজি ও উর্দুভাষায় তার রচিত বইয়ের সংখ্যা ৬০এরও অধিক। বাংলাসহ বিশ্বের প্রায় ৭০টি ভাষায় তার বই অনুদিত। জাস্টিস মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী বিশ্বের একজন প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ আদালতের এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারক ছিলেন। তিনি ইসলামী ফিকহ্ ,হাদিস, অর্থনীতি এবং তাসাওউফ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ। তিনি এক ঐতিহ্যবাহী খান্দানের মনীষা। তার রক্ত ধারায় এক শরাফতি স্রোতধারা বহমান। বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “মাআরিফুল কোরআন”এর রচয়িতা মুফতি শফী উসমানীর সন্তান এবং বিখ্যাত দুই ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা রফী উসমানী ও মাওলানা ওয়ালী রাজীর ভাই।  বর্তমানে তিনি দারুল উলুম করাচীতে সহীহ বুখারী, ফিকহ এবং ইসলামী অর্থনীতির দরস দেন। এছাড়া করাচি কলেজ ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত অর্থনীতির ক্লাসে অধ্যাপনা করান। তিনি তাঁর ‘ইসলাহী খুতুবাত’এর কারণে ব্যাপক প্রসিদ্ধ এবং পরিচিত।)

গত সাপ্তাহে দুবাইয়ে একটি আন্তর্জাতিক  কনফারেন্সে যোগ দিতে বিশ্বের অনন্য দেশের মনীষীদের  সাথে বাংলাদেশ থেকে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ ও পাকিস্তান  থেকে মুফতী ত্বকী উসমানী শরীক হন। সেখানে উভয়ের মাঝে তসবলীগের চলমান সংকট ও মাওলানা সাদ কান্ধলভীকক নিয়ে কথা হয়। আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ  জমেয়া ইকরায় এসম্পর্কে বলেন,

মাওলানা তাকী উসমানীকে আমি জিজ্ঞাসা করি নাই, আরেকজন জিজ্ঞাসা করলো, মাওলানা সাদ কান্ধলবীর ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দ যে ফতওয়া দিলো, এই বিষয়ে আপনার মতামত কী? তখন মাওলানা তাকী উসমানী বললেন, দারুল উলুম দেওবন্দর এটা কোন ফতওয়াই হয় নাই। অবশ্যই আমি মাওলানা তাকী উসমানী সাথে একমত নই। আমি দেবন্দের সাথে একমত। তাকী উসমানী বললেন, দারুল উলুম দেওবন্দের এটা কোন ফতওয়াই হয় নাই। কিন্তু আমাদের দেশে তাকী উসমানীর ছাত্র, তার ভক্তছেলেগুলো তাদের উস্তাদ থেকে বড় হয়ে ফতওয়া দেয়।

তাকী উসমানী বললেন, দারুল উলুম দেওবন্দ মাওলানা সাদ কান্ধলবী বিষয়ে যে ফতওয়া দিয়েছে, তা ফতওয়ার উসুল অনুযায়ী ফতওয়া হয় নাই। ফতওয়া না হওয়ার অনেক কারণ বর্ণনা করলেন, এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো, নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ফতওয়া দেয়া যাবে না। ফতওয়ার কিতাবগুলো পড়লে তোমরা জানতে পারবে ফাতওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ নেই। তাই এটাকে শরীয়তের দৃষ্টিতে ফতওয়া বলা হবে না। এই কথাটা কী আমার! এই কথাটা মাওলানা তাকী উসমানীর। আমি আবার বলছি, আমি তাকী উসমানীর সাথে একমত নই।

আমি কিন্তু মাওলানা সাদ কান্ধলবীর ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দের ফতওয়াকে কখনো ফতওয়া বলি নাই। আমি বলছি, সতর্কবাণী। দেওবন্দ মাওলানা সাদ কান্ধলবীর বিরুদ্ধে ফতওয়া দেয়নি, তাকে সতর্ক করেছে। আর এটা আমি মাওলানা তাকী উসমানীর সাথে দেখা হওয়ার আগেই বলেছি। দারুল উলূম দেওবন্দের এই অধিকার আছে, সে তার কোন আবনাকে, তার কোন অনুসারীকে সতর্ক করতে পারে। তার মুরব্বী হিসেবে এই অধিকার আছে। আর দারুল উলূম দেওবন্দ এমনটা করে তার দায়িত্ব পালন করেছে, এটা তার উচিত ছিল তাই করেছে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com