বুধবার, ০৩ Jun ২০২০, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন

ইতিহাসঃ জমহুরগন দিনশেষে তার পথেই হাটেন!

ইতিহাসঃ জমহুরগন দিনশেষে তার পথেই হাটেন!

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ | এটাই ইতিহাস। তিনি কাজ শুরু করেন। তিনি গাছ লাগান, অন্যরা ফল ভোগ করেন পরম তৃপ্তির সাথে। তিনি যা কয়েক বছর আগে চিন্তা করেন, তাঁর বিরোধিতাকারীরা জমহুররা সমালোচনার তীর নিক্ষেপ করতে করতে, গালি দিতে দিতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে সে কাজেই ঝাপ দেন নিসংকোচে একদা। তিনি যা আগে বুঝেন, অন্যরা বুঝেন ঠিকই তবে তা কয়েক বছর পরে।

তিনি কাজ শুরু করেন আর আবেগী, হুজুগী মৌলবীর দল তখন বুঝে না বুঝে তার কাজের বিরোধীতাকে করাকেই কাজ মনে করেন । কিছু দিন পর সেই বিরোধীতাকারীরা আবার তার দেখানু পথেই চলতে থাকেন। তাঁর কাজটা শত বাঁধা প্রতিকূলতা আর সমাসলোচনা ডিঙ্গিয়ে সফলভাবে হয়ে গেলে, এর ফায়দা লুটতে জমহুরদের তখন পিছে থাকতে দেখা যায়নি। কখনো বা এতো বিরাট ও মহান কাজ ছিলো, যার দ্বারা সরাসরি দেশ ও জাতি উপকৃত হয়েছে, কারো ইচ্ছা না থাকলেও। সে-ই যখন স্বীকার করেন, সে-ই যখন সুফল ভোগ করেন, তবে কেন পিছে থাকা!

বলেছিলাম,আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) এর কথা।

তিনি যখন ১৯৭১সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়, দেশের স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করেন। তখন মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধীতাকারী আলেমের সংখ্যা এদেশে জমহুর ছিল। কিন্তু দেশের স্বাধীনতার পর আলেমরা জমহুরিয়তের ভুল বুঝতে পারলেন। যদিও সংখ্যাটি তখন খুবই কম ছিল। পরে তিনি এনিয়ে একটি আন্দোলন ঘরে তুললেন আলেম সমাজ যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন।

দেশ স্বাধীনের পর স্বাধীনতার পর রাজধানী জমহুররা মাদরাসা-মসজিদ যখন বন্ধ ছিলো, তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আমরা তো মুক্তযুদ্ধ করেছি। পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, জিতেছি। মাদরাসাবন্ধ হয়ে থাকবে কেন? মসজিদে আজান হবে না কেন? বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, মসজিদে আজান দিন, মাদরাসার দরজা আপনারা খুলে দিন। আমরা মুসলমান। হযরত কাজী মুতাসিম বিল্লাহ রহ. ও আল্লামা ফরীদ মাসউদ তখন পায়ে হেঁটে হেঁটে জমহুররা আলেমদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। মসজিদ ও মাদরাসার দরজা খুলে দেন। এই সত্যাসত্য গল্পের পরতে পরতে বাংলার জমহুর আলেম সমাজকে ঘুরে দাড়াতে একজন সিপাহসালার ছিলেন আল্লামা মাসঊদ।

আপনারা তো পারলেন না আপনাদের বিএনপি-জামায়াত জোটের মাধ্যমে কওমী সনদের স্বীকৃতি আনতে। তাদের পক্ষে একদা জমহুর কায়েম করেছিলেন। জামাত বিএনপি ঘরনার আলেমগন চেয়েছিলেন কখনো আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সনদের সরকারী স্বীকৃতি আনবেন না। এই স্বীকৃতির জন্য শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক জোটে থেকেও জোট সরকারের কাছে দাবী জানিয়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে লাগাতার কয়েকদিন অনশন করলেন, তবু কাজ হলো না। জমহুররা তখন জোট সরকারকে দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন কেন বিজ্ঞাপনও জারি করতে পারেননি, তা কি ভুলে গেলেন? ওরা কেবল মূলা ঝুলিয়ে জমহুর আলেমদের ক্ষমতার সিড়ি হিসাবে ব্যবহার করেছিল। শেষ পর্যন্ত শায়খুল হাদিস জোট থেকে বেরিয়ে কওমীর সনদের স্বীকৃতি সহ বিভিন্ন বিষয়ের চুক্তিতে আওয়ামীলীগের সাথে জোট করতে বাধ্য হলেন। যদিও সেই জোট দীর্ঘস্থায়ী থাকেনি আওয়ামীলীগের নির্বাচনি কৌশলের কারণে।

পরে আল্লামা মাসউদ যখন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার অনুষ্টানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এনে কওমি সনদের জোড় দাবী জানালেন। তখন কওমি আলেমদের জমহুররা পক্ষ থেকে বৃবিতি এল, “স্বীকৃতি দিলে লাখ লাখ লাশ পরবে।” আপনাদের জমহুরিয়ত হুংকারকে পরোয়া না করে আল্লামা মাসউদ কাজ শুরু করলেন। একদিন আপনারা ঠিকই জমহুররা হয়ে তাঁর সাথে, তাঁর দেখানু পথে গনভবনে সদলবলে গেলেন, খেয়ে দেয়ে হেসে মেতে কওমি সনদের সরকারী স্বীকৃতি নিয়ে এলেন। এখন সেই ফল ভোগে আপনারা জমহুরিয়ত আনন্দ মিছিল করেন রাজপথে। মধ্যখানে খামাকা তাঁর বিরোধীতা করে আবোল তাবোল পাগলের প্রলাপের মতো দালাল দালাল বলে থাকে গালাগালি করে নিজের ঈমান আমলের ক্ষতি করলেন।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে যে যাই বলুন, তিনি একজন প্রাজ্ঞ আলেম। তাখর চিন্তার ধারে কাছে এদেশে বিচক্ষন আরেকজন আলেম নেই। তাই তাকে কখনো পরাজিত হতে হয় নি। তিনি যখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একলাখ আলেমের ফতোয়া নিয়েছেন তখন জমহুর আলেমরা তাঁকে দালাল বলে চিহ্নিত করেছেন। গুলশানের ঘটনার পর সবাই স্বীকার করেছেন, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ যদি একলাখ আলেমের ফতোয়া না নিতেন তবে সম্পূর্ণ দোষ প্রথমেই চলে আসতো মাদরাসাগুলোর উপরে। তিনি জঙ্গিবাদের তকমা থেকে, কওমি মাদরাসা নিয়ে দেশি বিদেশি চক্রান্ত তিনি নৎসাত করে দিয়েছেন। তার ফতোয়ার কাটনে সরকারের উচ্চ মহল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে কওমি মাদরাসয় জঙ্গি নেই একথা বলতে বাধ্য হয়েছে। পরে যেই জঙ্গি বিরোধী ফতোয়ার জন্য আপনারা আল্লামা মাসউদকে গালাগালি করলেন অকথ্য ভাষায় জমহুর হয়ে, সেই আপনারা কিছুদিন পরে বেফাক আর হেফাজতের পক্ষ থেকে তাঁর দেখানু পথেই জঙ্গিবাদ বিরোধী মানববন্ধন সভা, সমাবেশ। মিছিল করলেন। বুঝেছেন, তবে একটু পরে, জল ঘোলা করে।

 

শাপলা চত্তর নিয়ে এদেশে যেদিন হেফাজতের জমহুর হয়েছিল আল্লামা আহমদ শফির নাম নিয়ে, সেদিন হেফাজতের তের দফা ও জামাত কানেকশনের অভিযোগে আল্লামা মাসউদ বিরোধীতা করেছিলেন। পরে শাপলার ক্রাকডাউনের পর হেফাজত নেতাদের আন্ডারগ্রাউন্ড লেনদেনের পাল্টা পাল্টি বক্তব্য সেটি বেরিয়ে আশে কিভাবে কিছু মোনাফেকদের ব্যবহার করে জমহুর আলেমদের ব্যবহার করে হেফাজতের লাশের সিড়ি বেয়ে ক্ষমতায় যেতে চেয়পছিল। হেফাজতের উপর সারা দেশে হাজার হাজার মামলা আজ তার প্রচেষ্টায় নিস্ক্রিয়। আল্লামা আহমদ শফি দা.বা. শাপলা চত্বরের ঘটনার পরে জামায়াত-বিএনপি জোটের খপ্পর থেকে তার পরামর্শে বেরিয়ে যেভাবে রক্ষা করেছিলেন এদেশের অসংখ্য মাদরাসাকে, তেমনি মাওলানা মাসউদ সর্বদা জাতীর অতন্দ্র প্রহরীর মতো হাজারো বিরোধীতার স্লাইকোনের মোকাবেলায়, রক্ষা করেছেন আলেম, উলামা এবং মাদরাসাগুলোকে।

 

সৈয়দ মবনু ভাইর ভাষায়, মাওলানা মাসউদের মধ্যে আমি দেখি স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের যোগ্যতা। মাওলানা আজাদকে নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকার পরও আজ দীর্ঘদিন পরে স্বীকার করতে হবে তিনি ভারতের জন্য যে শিক্ষানীতি, পদ্ধতি চালু করেছিলেন তা গোটা ভারতবর্ষের কোন দেশই আজ পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারেনি। আমার বিশ্বাস, মাওলানা মাসউদ কওমী মাদরাসার জন্য এমন একটি সেলেবাস তৈরির যোগ্যতা রাখেন যার মধ্যে ঈমান-আকিদা যেমন পূর্ণাঙ্গরূপে থাকবে, তেমনি থাকবে দুনিয়ার সাথে প্রতিযোগিতা করার মতো যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা।

 

ঐভাবে আল্লামা মাসউদের দেখানো পথেই বাংলাদেশের জমহুর আলেমরা বারাবার হেটেছেন বা হাটতে বাধ্য হয়েছেন। আজকে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এর নেতৃত্বে  দিন শেষেে আগামীতে জমহুররা আল্লাহ চাহেতো ভুল বুঝে এপথেই হাটবেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!